‘চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ নেই, বিএনপি জানে না?’

‘চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ নেই, বিএনপি জানে না?’

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শোক দিবসের আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে যে মারামারি করল বিএনপি, তারা জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই, জিয়া নাই ওখানে, জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন? খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে।’

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তার মরদেহ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিষয়টি বিএনপি নেতারা জানেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আয়োজনে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে যে মারামারি করল বিএনপি, তারা জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই, জিয়া নাই ওখানে, জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন? খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে।

‘খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবে তারা তাদের (স্বামী ও) বাবার লাশ দেখেছে? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তারা কি দেখেছে কখনো বা কেউ কি কোনো ছবি দেখেছে কখনো? দেখেনি। কারণ ওখানে কোনো লাশ ছিল না। ওখানে একটা বাক্স আনা হয়েছিল। সেখানে ওই বাক্সের ফাঁক দিয়ে যারা দেখেছে, সেই এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, কমব্যাট ড্রেস পড়া ছিল। জিয়াউর রহমান তখন প্রেসিডেন্ট। সে তখন কমব্যাট ড্রেস পড়ে না। এটা কি বিএনপির লোকরা জানে না?’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের মারামারি, ধস্তাধস্তি করার চরিত্র তো এখনও যায়নি। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী চক্র, দেশি ও আন্তর্জাতিক একটি সমর্থন তাদের সবসময় ছিল, এটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের।’

‘জিয়া ফিল্ডে যুদ্ধ করেছে এমন ইতিহাস নেই’

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও জিয়াউর রহমান সরাসরি ময়দানে যুদ্ধ করেছেন এমন ইতিহাস নেই বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ২৫ মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করে দেয় প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ ফাঁড়ি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানায় তখন ইপিআর হেডকোয়ার্টারে।

‘পূর্ব থেকে যেহেতু প্রস্তুতি ছিল, স্বাধীনতার যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা ওই ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমেই সেটা প্রচার করে দেয়া হয়। যখন তারা আক্রমণ শুরু করে তার পরবর্তীতে যে চারজন সেখানে ছিলেন, সুবেদার মেজর শওকত আলীসহ তারা কিন্তু পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন অত্যাচার করে তাদের হত্যা করা হয়।’

মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সেই সোয়াত জাহাজ থেকেই অস্ত্র আনতে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চের ঘোষণার পরেও কিন্তু জিয়াউর রহমান পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবেই কাজ করছিল। চট্টগ্রামে আমাদের নেতা-কর্মী যারা ব্যারিকেডে দিচ্ছিল, তার হাতে কিন্তু অনেকেই নিহত হয়েছে।

‘জাতির পিতার ঘোষণাটা ২৬ তারিখ দুপুরবেলা চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক হান্নান সাহেব প্রথম পাঠ করেন। এরপর একে একে আমাদের সেখানে যারা নেতৃবৃন্দ তারা সবাই পাঠ করেন। সে সময় নেতাদের মধ্যেও একটি কথা ছিল যে একজন সামরিক অফিসারকে দিয়ে যদি ঘোষণাটা পাঠ করানো যায়, তাহলে যে যুদ্ধ হয়েছে, সে যুদ্ধ যুদ্ধ মনে হবে। তখনই জিয়াউর রহমানকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়।’

তিনি বলেন, ‘মেজর রফিক তার বইয়ে স্পষ্ট লিখেছেন। প্রথমে তাকে বলা হয়। কিন্তু তিনি তখন পাকিস্তান আর্মির সাথে যুদ্ধ করছেন এবং অ্যামবুশ করে বসে আছেন। তিনি বলছেন, আমি যদি সরে যাই তাহলে ওরা এটা দখল করে নেবে। জিয়াউর রহমানকে যখন ধরে আনা হলো কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাকে দিয়ে ঘোষণাটা পাঠ করানো হলো। সেভাবেই জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ।

‘এ কথাটা সত্যি যে জিয়াউর রহমান যে কোনো ফিল্ডে বা কোথাও যুদ্ধ করেছে এমন ইতিহাস শোনা যায় না। আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধারা আহত হয়েছে; বিভিন্ন ফিল্ডে যুদ্ধ করেছে কিন্তু তার (জিয়া) কিন্তু এমন কোনো ইতিহাস নেই।’

‘জিয়াই ছিলেন মোশতাকের ক্ষমতার উৎস’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতায় আসা খন্দকার মোশতাক জিয়াউর রহমানকে নিয়েই ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকেই পেয়েছিল খন্দকার মোশতাকরা দোসর হিসেবে। সেই ছিল তার মূল শক্তির উৎস। কারণ ক্ষমতা যদি এভাবে দখল করতে হয় আর হত্যাকাণ্ড চালাতে হয় তাহলে সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

‘সেই মোশতাক-জিয়া মিলেই চক্রান্তটা করেছিল। মোশতাক, জিয়ার ওপর নির্ভর করে যে রাষ্ট্রপতি হয়েছিল আপনারা যদি একটু লক্ষ্য করেন সে কতদিন থাকতে পেরেছিল? থাকতে কিন্তু পারে নাই। মীরজাফরও পারে নাই। কারণ বেইমানদের ব্যবহার করে সবাই। তাদের কেউ বিশ্বাস করে না, রাখে না। জিয়াউর রহমানও সে কাণ্ডই করেছিল। মোশতাক কিন্তু তিন মাসও পূর্ণ করতে পারে নাই, তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। জেলখানায় যে হত্যাকাণ্ড হয়, সেটাও কিন্তু জিয়াউর রহমানের নির্দেশে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩২ নম্বরে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যটাই ছিল, খুনি রশিদ-ফারুকদের কথাই আছে, বঙ্গবন্ধুর রক্তের যেন কেউ না থাকে। এই ৩২ নম্বরেই কিন্তু আমি একটি বাসার দোতলায় ভাড়া থাকতাম। সেখানেও কিন্তু আর্মি গিয়েছিল। আমি যেহতু বিদেশে ছিলাম…আমার একটি ফ্রিজে কিন্তু গুলির দাগও ছিল। মাত্র ১৫ দিন আগেই তো আমরা দেশ ছাড়ি। তখন তো ভাবতেও পারিনি যে এভাবে এক দিনের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে।

‘কিন্তু ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত যে হচ্ছে, এটা শোনা যেত। আব্বা তো সেটা বিশ্বাস করতেন না। তিনি তো বাংলাদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এমনকি ইন্দিরা গান্ধী নিজেও বলেছেন। উনি বলেছেন ওরা আমার ছেলে; আমার সন্তানের মতো। ওরা আমাকে কেন মারবে? উনার একটা অন্ধ বিশ্বাস, এ দেশের মানুষের প্রতি ছিল যে, উনার গায়ে কেউ হাত দেবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা হাতে পেয়েছিলেন দেশ গড়ার। এই সাড়ে তিনটা বছরও কিন্তু তাকে সেভাবে সময় দেয়া হয়নি। যেদিন থেকে তিনি বাংলার মাটিতে পা রাখলেন তার পর থেকেই কিন্তু ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে শুরু করল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা, চেতনাকে ধ্বংস করা, স্বাধীনতার আদর্শকে নস্যাৎ করা এটাই ছিল এদের লক্ষ্য।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমাদের দলের ভেতরে আমার বাবার মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাকসহ যারা জড়িত ছিল, আর তাদেরই মূল শক্তি ছিল। সেনাবাহিনীতে সেনাপ্রধান হয়, কিন্তু উপ-সেনাপ্রধান বলে কেউ হয় না। তবে জেনারেল জিয়াউর রহমান…মুক্তিযোদ্ধা যারাই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবাইকেই অত্যন্ত স্নেহ করতেন।

‘কাজেই তার সংসারটা টিকিয়ে রাখতে তাকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সে কর্মরত ছিল। সেখান থেকে নিয়ে এসে ঢাকায় উপ-সেনাপ্রধান করে তাকে রেখেছিল। কিন্তু সে কখনো বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করত না, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না।’

আওয়ামী লীগের প্রধান বলেন, ‘প্রচার পেয়েছে জিয়া নাকি গণতন্ত্র দিয়েছে। যে দেশে প্রতি রাতে কারফিউ থাকে সেটা আবার গণতন্ত্র হয় কীভাবে? ভোট চুরি থেকে শুরু করে সবকিছুই কিন্তু এই জিয়াউর রহমানই শুরু করেছে। এমনকি সংবিধান লঙ্ঘন করা, সেটাও জিয়াউর রহমান করেছে।

‘যা হোক আমাদের সৌভাগ্য যে হাইকোর্টের একটা রায় যে, জিয়ার ক্ষমতা দখল, এরশাদের ক্ষমতা দখল, মার্শাল ল’ দিয়ে যে ক্ষমতা দখল সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

‘কেউ এগিয়ে আসেনি কেন?’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যার রাতে ফোন করেও বঙ্গবন্ধু বাইরে থেকে কোনো সহযোগিতা কেন পেলেন না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ঘাতকের দল এই হত্যাকাণ্ড করে বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়েছিল রেডিওতে প্রথম। বাংলাদেশ বেতার হয়ে যায় রেডিও বাংলাদেশ, পাকিস্তানি কায়দায়। এভাবে সব নামগুলি একসময় পরিবর্তন করে দেয়।

‘তবে তা ধরে রাখতে তারা পারেনি। কারণ এই অন্যায় কখনো আল্লাহও মেনে নেয়নি; বাংলাদেশের মানুষও মানেনি। তেব হ্যা সেদিন বাংলাদেশে এটা ঠিক যে এরকম একটি ঘটনার পর আমাদের দল, সমর্থক, মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভূমিকা ছিলো তা হয়তো তারা করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এটা আপনারা জানেন, যখনই বাড়ি আক্রমণ শুরু হয় প্রথমে সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় বা শেখ মনির বাসায় এবং আমাদের বাসায় যখন গুলি শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু কিন্তু সবাইকে ফোন করেছিলেন। আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা হয়, তোফায়েল আহমেদের সাথে কথা হয়, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহর সাথে কথা হয়।

‘সেনাবাহিনীরও যার যা ভূমিকা ছিল, তারাও কিন্তু সঠিকভাবে করে নাই। এর পেছনের রহস্যটা কী, সেটাই কথা।’

‘দেশে ফিরে চেনা মুখ পাইনি’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ১৫ দিন আগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই স্মৃতিচারণ উঠে আসে। কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আওয়ামী লীগ আসার পরেও যতটুকু উন্নতি হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যদি থাকতেন তাহলে ৪০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেত। বাংলাদেশের জনগণকে কিন্তু সেখান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

‘জানি না, আল্লাহ হয়তো বাঁচিয়েও রেখেছিলেন। আমার তো বাবা, মা, ভাই সব হারিয়ে যেদিন বাংলার মাটিতে পা দিলাম… আমাকেও তো আসতে অনেক বাধা দিয়েছে। তারপরেও জোর করেই এসেছি। হ্যাঁ, আমি সেই চেনা মুখগুলো পাইনি। বনানীতে সারি সারি কবর পেলাম।’

পরিবার হারিয়ে প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগ ও দেশের মানুষকেই আপনজন মনে করার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘পেয়েছি লাখো মানুষ, আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তাদের ভালোবাসা, আস্থা, বিশ্বাস। এ জন্য আমি বলতে পারি আওয়ামী লীগটাই আমার পরিবার, বাংলাদেশটাই আমার পরিবার।

‘আমি সেইভাবেই বাংলাদেশের মানুষকে দেখি। যতটুকু কাজ করতে পারব মনে হয়, আমার আব্বা, আম্মা তারা নিশ্চয়ই দেখবেন, হয়তো তাদের আত্মাটা শান্তি পাবে। আমি সেই চিন্তা করেই সব কাজ করি। এ জন্য আমার কোনো মৃত্যু ভয়ও নেই, কোনো আকাঙ্ক্ষা বা চাওয়া-পাওয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘নিজের জন্য আমি কিছু করবই না, করতেও চাই না। আমি শুধু এটুকু চাই, যড়যন্ত্রকারীরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের উদ্দেশ্য তো ছিল বাংলাদেশ ফেইলড রাষ্ট্র হোক। সেটাই করতে দেবো না।

‘যে নাম তারা মুছে ফেলেছিল ২১ বছর, আজকে সেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখন আর কেউ তা মুছতে পারবে না।’

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

সদরঘাট থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

চট্টগ্রামে নালা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকা থেকে রোববার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় জানা যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। পরনে শুধু লুঙ্গি ছিল।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন সকালে নালায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ওই এলাকার কেউ তার পরিচয় জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয়রা তাকে সারা দিন খালি গায়ে এলাকায় ঘুরতে দেখতেন। তাদের ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

রোববার জবিতে ছয়টি পাণ্ডুলিপির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

ছয়টি পাণ্ডুলিপি প্রকাশে লেখকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি লেখকদের এই চুক্তি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

স্বাক্ষরিত ছয়টি পান্ডুলিপি হলো সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিপ্রা সরকার রচিত ‘বাংলাদেশের একটি গ্রাম: জাতিবর্ণ ব্যবস্থা’, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দিন রচিত ‘Taxation in Bangladesh’।

এছাড়া অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. শামীম আরা রচিত ‘মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কবিতা: বিষয় বৈচিত্র ও শিল্পরূপ’, সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী এফ এম রেজোয়ান রচিত ‘রাগ-সন্দর্শন’ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস রচিত ‘সাব- অল্টার্ন তত্ত্ব: উদ্ভব, বিকাশ ও প্রভাব’।

পাণ্ডুলিপি লেখকদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটু মূল্যায়ন’ বইটি সম্পর্কে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামীমা বেগম।

এছাড়াও জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের প্রধান ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা অধ্যাপক পরিমল বালা, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরা। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য কাজ করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রসকে (আইসিআরসি) আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন রোববার নিউ ইয়র্কে রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরার সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউ ইয়র্কের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য সঠিক উপায় বের করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

‘রোহিঙ্গারা যেন মর্যাদার সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, আইসিআরসিকে সে জন্য একটি টেকসই উপায়ে কাজ করতে হবে।’

আইসিআরসির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

এর আগে ৪ মিনিটের ভিডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের তোপের মুখে আছেন মেয়র। তিনি সে ভিডিওটিকে কারসাজি বলেছেন। তবে এবার ৫০ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, তাতে তার এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।

৪ মিনিটের একটি ঘরোয়া আলোচনার ভিডিও ফাঁসের পর বেকায়দায় পড়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এবার ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৪ মিনিটের ভিডিওটি এই ৫০ মিনিটের ভিডিও থেকেই কেটে ফেসবুকে ছাড়া হয়। তাতে মুক্তিযুদ্ধের শহিদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য থাকার অভিযোগ তুলে মেয়রের শাস্তির দাবিতে গত বুধবার থেকে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওতে গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে।

সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। বুধবার রাতে দেশে ফিরে এক ভিডিওবার্তায় তিনি ভিডিওটিকে বানোয়াট বলে দাবি করেন। পরে শুক্রবার এক সমাবেশে তিনি ‘চক্রান্তকারীদের’ মুখোশ উন্মোচনের ঘোষণা দেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিরোধীরা সমাবেশ ডাকলে নিজের শক্তি দেখান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

তবে মেয়রবিরোধী বিক্ষোভ থামছে না আর এর অংশ হিসেবে শনিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ৫০ মিনিটের পুরো রেকর্ডটি। এই রেকর্ডে আগের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন কিছু কথা মেয়রবিরোধী সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

মেয়র জাহাঙ্গীর এই ভিডিওটিকেও বানোয়াট বলে চাপ এড়াতে চাইছেন।

যা আছে ৫০ মিনিটের নতুন ভিডিওতে

ভিডিওটির ২৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন মেয়র। ২৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের দিকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায় জাহাঙ্গীরকে।

২৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সেই ব্যক্তি মেয়রকে বলেন, ‘আপনি আগুনকে (আজমত উল্লাহ খান) পানি বানাইয়া ফেলছেন। কীভাবে করলেন?

তখন মেয়র আজমত উল্লাহ খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

৩২ মিনিটের সময় মেয়র বলেন, তিনি ৭০০ কিলোমিটার সড়ক করেছেন, ড্রেন ও এলইডি লাইট লাগিয়েছেন।

ভিডিওর ৩৩ মিনিটে মেয়র সেদিনকার তারিখ ও সময় বলেন। ভিডিওটি যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ধারণ করা হয় সেটি এখানে স্পষ্ট বোঝা যায়।

৩৩ মিনিটের দিকে প্রতিমন্ত্রী রাসেলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর।

৩৪ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলর মামুন মন্ডলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। মামুন পৃথিবিতে সবচেয়ে অসুখি মানুষ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সে যে কোনো সময় মানুষের দ্বারা বা দুর্ঘটনায় মারা যাবে।’

মামুন মণ্ডল নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়রবিরোধী সাম্প্রতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘তার কাউন্সিলর পদ আমি ৫ মিনিটে ডইলা দিতে পারি। এমনকি ভিডিওর ১৭ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলরের জন্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলম যার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি নাম প্রকাশ করবেন না।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
মেয়রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

তার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর কার্যত তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বলেন, ‘আমাকে প্রত্যেকদিন মাইরা ফেলানো উচিত, আমাকে মাইরা ফেলা দরকার, অথবা আমাকে অন্য মানুষ মাইরা ফালাইব। আমি মারা যাব। হেয় কি ভাড়াটিয়া খুনি নিয়োগ করছে কি না যে খুনিরা আমারে মারব সে নিশ্চিত জানে। আল্লাহতাআলা ভবিষ্যৎ জানে। সে তো জানার কথা না। তিনি কি ভবিষ্যৎ জানার জন্য আবার নতুন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করছে কি না?’

মামুন বলেন, ‘কথা পরিষ্কার, আমার কিছু হলে দায়ভার তার নিতে হবে। আমি বহু আগেই তার (মেয়র) বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় জিডি করে রাখছি।’

জাহাঙ্গীর যা বলছেন

৫০ মিনিটের এই ভিডিওটির ব্যাপারে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন ভিডিওটি শুনিনাই। এগুলা কারা করতেছে, কী করতেছে আমি তো জানি না৷

‘অনেকের মেয়র হওয়ার খায়েশ, তারা এগুলো করতেছে হয়ত। তবে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের বলেছি জিনিসটা বাহির করুক।’

ভিডিওতে কণ্ঠে পুরোপুরি মিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘অনেকে দেখা যায় কণ্ঠ মিলাইয়া ফেলে। হুবহু শব্দ দেখা যায় মিলায়। এগুলো যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা এটা যাচাই-বাছাই করুক।’

ভিডিওটিতে মেয়র যার সঙ্গে কথা বলছেন, তিনি গাছা এলাকার এক তাঁতী লীগ নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘আমি কনফার্ম না হয়ে কিছু বলতে পারছি না। আমি আরেকজনের যে বলব তার কিনা সেটাও জানি না। আমার নির্বাচনকে ধরে আমার পার্টির সেক্রেটারি ও মেয়র হওয়া নিয়ে তারা এটা সবসময় করে। আজকে এটা নতুন না।‘

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার ঢাকা-গাজীপুর রেল চলাচল বন্ধ ছিল বেশ কিছু সময়। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমার জানা মতে তিনি ৩০-৩৫টি মামলার আসামি। আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মীর হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। তার সঙ্গে আমার তেমন একটা কথা হয় না।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অনুসারীরাও বিক্ষোভ করেছেন, এই বিষয়টি তুলে ধরলে মেয়র বলেন, ‘উনি সবাইকে ফোন করে আসতে বলছেন বলে আমি জেনেছি। বাকিটা উনারাই জানে, আমি সঠিকটা জানি না।’

বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানাবেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। দলের সভাপতিও (শেখ হাসিনা) দেশের বাহিরে। এখন বিষয়টি কেন্দ্রে জানানোর জন্য প্রস্তুত আছি। সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাব।’

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

করোনায় দেশের পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবার নতুন কৌশল অবলম্বণের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটক টানতে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২১’ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার পর পর্যটন আকর্ষণে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা, পর্যটনকে নিয়ে একটা প্ল্যানড ওয়েতে অগ্রসর হওয়া।

‘করোনা শুরুর আগে আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে তা বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে। মাস্টার প্ল্যান শেষ হওয়ার পরই আমরা কাজে হাত দেব।’

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যটন দিবসে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে আলোচনা ও পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে কুকিং শো অনুষ্ঠিত হবে। একটি ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রা পর্যটন ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিভ্রমণ করে পর্যটন বিষয়ক প্রচারণা চালাবে। ২০টি সুসজ্জিত রিকশার একটি শোভাযাত্রা হবে রাজধানীর গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায়। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।

এ ছাড়া ২ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর একটি পর্যটন। বর্তমানে দেশে করোনার সংক্রমণ কমার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পট গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ কারণে পর্যটন সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এ শিল্পেও গতি ফিরছে।’

প্রস্তুতি সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আ. হান্নান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. কাইয়ুম ও হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করোনায় পর্যটন খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণের জটিলতার বিষয়ে এক প্রশ্নের পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যটন শিল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন খাত, উপখাতে ভাগ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে এটা দ্রুত দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব সহসাই এটা প্রদান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশ চালু থাকবে।

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার টি-টোয়েন্টিফোর (আর-টেন) থেকে (আর-নাইনটিন) আপগ্রেডেশনের কারণে এটি হবে বলে রোববার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন বা কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশও চালু থাকবে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের ফলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তৃতীয় প্রজন্মের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেশব্যাপী ১৫০টি শাখা ও ১৯টি উপশাখা রয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি শাখায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকের ১৮৭টি এটিএম বুথ, ২০টি সিডিএম এবং ১২৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন সাগরের মা নিলুফা। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।’

কমিউটার ট্রেনের ছাদে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত জামালপুরের সাগরের বাড়িতে গত তিন দিন ধরে রান্না হয়নি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা।

বৃহস্পতিবার সাগরের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের দেয়া খাবার খাচ্ছেন তার মা, বাবা, ভাই, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

ওই ঘটনায় নিহত জামালপুরের নাহিদের পরিবারকে শনিবার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দিলেও সাগরের পরিবার এখনও কোনো সহায়তা পায়নি।

রোববার বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা শয্যাশায়ী মা হনুফা বেগম। সাগরের ছবি দেখে মাঝে মাঝেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি। ছেলের আচার বিক্রির সরঞ্জাম গুছিয়ে দিন কাটছে তার।

স্বামীকে হারিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিমার কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। দুই মেয়ে আর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় যেন রাজ্যের মেঘ জমেছে তার মুখে।

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের মৃত্যুতে দুই মেয়ে ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যের চিন্তা এখন মুসলিমার। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।

‘পাড়ার লোকেরা যা দিতাছে তাই খাইয়ে বাঁইচে আছি। এহন সরকার যদি সাহায্য না করে তাইলে আঙ্গর মরণ লাগব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবারে যারা মারছে তাগোর সবার ফাঁসি চাই। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয়। আমার বাবারে হারায়ে আমি যেমন পাগল হয়ে গেছি। আর কেউ যাতে এমন পাগল না হয়।’

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। দুই মেয়েরে বিয়ে দিয়ে দিছি। বড় ছেলে সাগর কামাই কইরে সংসার চালাইত।

‘বুধবার আমার বড় মেয়ে হাসি আক্তারকে ঢাকায় রেখে বৃহস্পতিবার সাগর জামালপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাতে না আসলে পরে আমরা খবর নিয়ে দেখি হাসপাতালে লাশ পইড়ে আছে। আমি আমার বাবারে সারা জীবনের জন্য হারায় ফালাইছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন দিন ধইরে প্রতিবেশীরা যা দিতাছে তাই খাইতাছি। প্রতিবেশীরা আর কত দিন এইভাবে খাওয়াব। আমার পক্ষেও রোজগার করা সম্ভব না। এহন সরকার যদি আঙ্গরে সাহায্য না করে, তাহলে আঙ্গর সবার মরা ছাড়া উপায় নাই।’

সাগরের স্ত্রী মুসলিমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আগে থেকেই এতিম। আমার বাবা-মা কেউ নাই। এহন আমার দুইটা মেয়েবাচ্চাও এতিম হয়ে গেল। আমার গর্ভের সন্তানটা ওর বাবার মুখ দেখবার পাইল না। এই দুঃখ আমি কই রাখমু। আমার এত বড় ক্ষতি যে করল তাগোর ফাঁসি চাই।’

পরিবারটির প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘সাগর মরার পরে আমরাই এই পরিবারকে খাওয়া দিতাছি, কিন্তু এইভাবে আর কতদিন দিব। আমরাও তো গরিব মানুষ। এহন সরকারের উচিত এই পরিবারটারে সাহায্য করা।’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের ছবি হাতে মা হনুফা

জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় দেখি স্থানীয় প্রশাসন খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করে। ঘটনার পরদিন দেওয়ানগঞ্জের নাহিদের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে জামালপুরে সাগরের পরিবারকে এখনও কোনো সহায়তা করা হয়নি। আমরা অতি দ্রুত সাগরের পরিবারকে সহায়তার দাবি জানাই।’

জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত সাগরের পরিবারকে আমরা আর্থিক সহায়তা দেব। আগামীকাল সদরের এমপি মোজাফফর স্যারের উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি চাল সাগরের পরিবারকে দেয়া হবে। এমপি স্যার একটু ব্যস্ত থাকায় আজ দেয়া সম্ভব হয়নি।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি রাতে ময়মনসিংহে পৌঁছালে ট্রেনের ছাদে থাকা দুর্বৃত্তদের আঘাতে প্রাণ হারান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের নাহিদ ও শহরের বাগেরহাটা এলাকার সাগর।

ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাগরের মা হনুফা ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশ দুজনকে এবং র‌্যাব পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন:
সরকারি কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা, পরিচয় বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন