রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হয়ে যাবে

রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হয়ে যাবে

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা। বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীর বাস। গত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপও ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে আসছে।

আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশে স্থায়ী হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও নোয়াখালীর ভাসানচরে আশ্রয় নেয়া ‘মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক’ বা রোহিঙ্গারা। স্থায়ী হচ্ছে রোহিঙ্গাসংকটও।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘সাময়িক আশ্রয় গ্রহণকারী’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা স্পষ্টত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের হিসাব কষছে।

মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের স্রোত বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তী বেশ কয়েক দিনে ৫ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবেশ করে বলে ইএনএইচসিআরের এক হিসাবে বলা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ দফায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে আসে ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আসা আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ার বালুখালী ও টেকনাফের উনচিপ্রং ও শাপলাপুর ক্যাম্পে রয়েছে। কিছু রোহিঙ্গাকে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে।

রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হয়ে যাবে

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ক্যাম্প। ফাইল ছবি

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু গত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। দেশটি টালবাহানা করে প্রত্যাবাসন শুরুতে দেরি করছে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাবাসন এখন আরও সুদূরপরাহত বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল।

এমন বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের নাগরিক অধিকার দেয়ার যে প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকসহ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা, তা এসব আশ্রিতদের স্থায়ী জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনার শামিল বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব মূলত বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার স্বপ্ন দেখছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা বাংলাদেশের কাছে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা দেয়ার কথা তুলেছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে জমি ক্রয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, ভ্রমণ স্বাধীনতা দেয়ার দাবি করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের ওপর চাপ দেয়ার নৈতিক অধিকার রাখে না। তবুও বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব একটা বড় ধরনের সংকেত।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনই হতাশ হতে চান না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গার চেয়েও এখন বড় সমস্যা করোনাভাইরাস মহামারি। বর্তমানে মিয়ানমারে এই মহামারি আরও বেড়ে গেছে। মহামারি কমে গেলে…একদিন না একদিন সমাধান হবেই। এর সমাধান না হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আসিয়ান ফোরামে তো আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা ফেরাতে যে চুক্তি হয়েছে, সে চুক্তিতেই বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চায়। যতক্ষণ তা না হয়, ততক্ষণ তো অপেক্ষা করতেই হবে।’

ড. ইমতিয়াজ বলেন, ‘যেহেতু অং সান সু চি এখন ক্ষমতায় নেই, মিয়ানমার সরকারও দুর্বল তার ঘরের ভেতরেই। সু চির দল কিন্তু রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

‘তারা বলেছে, ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গাদের অধিকার দেবে। সময় লাগছে হয়তো, তবে এই ডেভেলপমেন্টগুলো বলে দিচ্ছে, একসময় সমাধান হবে। মহামারি গেলে নজর দেয়া যেতে পারে মিয়ানমারের ওপর।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, কেবল কূটনৈতিক চাপ দিয়ে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা ফেরাতে রাজি করানো যাবে না। অন্য বিকল্পগুলোও বিবেচনা করতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ তো যুদ্ধে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের কূটনীতির মূল নীতিও সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার বাস্তবতা নেই। তাদের ফেরত যেতেই হবে। তা ছাড়া মিয়ানমার কিন্তু কখনো বলেনি তারা তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে না, তবে দেশটির বর্তমান অবস্থা রোহিঙ্গা ফেরাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।

‘সেখানে সামরিক শাসন চলছে এবং গৃহযুদ্ধের মতো একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে করোনা মহামারিও তাদের জন্য সুবিধা করে দিয়েছে। কারণ এর দোহাই দিয়ে তারা বহির্বিশ্বের চাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারছে। আমাদের এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গাদের বোঝা আজীবন বহন করা সম্ভব নয় বলে গত ৬ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন বা ১৯৬৭ সালের প্রটোকলের স্বাক্ষরকারী নয়। তারপরও শুধু মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ১ দশমিক ১ মিলিয়ন (১১ লাখ) রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এ জন্য ৬ হাজার ৮০০ একর সংরক্ষিত বনভূমি নষ্ট করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশের পক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। এ অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমনের জন্য রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা জরুরি।’

রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হয়ে যাবে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বৈঠক হয় জুনের মাঝামাঝি সময়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মিয়ানমার সর্বশেষ যা বলেছিল

রোহিঙ্গা ফেরাতে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর রাজধানী নেপিডোতে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চুক্তির আগে সে সময়ের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বৈঠক করেন অং সান সু চির সঙ্গে। ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ চুক্তিতে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও সু চির কার্যালয়ের মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সুয়ে।

চুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

গত ৭ আগস্ট আসিয়ান ফোরামের ভার্চুয়াল বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান মং লুইন দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমসা সমাধানের কথা বলেন।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সে সময়ের সু চি সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী কাইয়া টিনকে চিঠি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

ওই চিঠির জবাবে ২০ জানুয়ারি কাইয়া টিন চিঠি দেন মোমেনকে। এতে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৭ সালে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

কাইয়া টিন লেখেন, বাংলাদেশসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে মিয়ানমার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের সমাধান করতে চায়।

মিয়ানমারের মন্ত্রী পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৭২ ও ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

১৯ জানুয়ারি চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

রোহিঙ্গা ফেরাতে যত উদ্যোগ

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ফেরাতে নেপিডোতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের পরও একজন রোহিঙ্গাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি কেবল মিয়ানমারের অনিচ্ছা ও অসহযোগিতার কারণে। চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমারের প্রতিদিন ৩০০ করে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার কথা ছিল।

প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারার জন্য বাংলাদেশ সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার যথাযথ দায়িত্ব না নেয়াকে দায়ী করেছেন সেই সময়ের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ফেরাতে আমাদের একটা চুক্তির দরকার ছিল এবং তা হয়েও ছিল। কিন্তু তারপর যেন সবার দায় শেষ হয়ে গেল।

‘বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোণ ছিল খুবই লঘু এবং হতাশার। এ ক্ষেত্রে সে সময়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ রোল প্লে করে নাই। আবার জাতিসংঘ ও তার সব সংস্থা ও সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা নেয় নাই। দুই দফায় প্রত্যাবাসন শুরুর দিনক্ষণ ঠিক করেও কাউকে প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে নেয়া যায়নি।’

৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছরের ১২ জানুয়ারি সর্বশেষ ২ লাখ ৩৭ হাজার নামের তালিকা হস্তান্তর করেছে ঢাকা।

এর আগে দেয়া হয় ৫ লাখ ৯৩ জনের তালিকা। মিয়ানমার দৃশ্যত এসব তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের নামে কালক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে।

তিন বছরে তারা মাত্র ৪২ হাজার রোহিঙ্গার বিষয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১৪ হাজারের কোনো তথ্য তাদের জাতীয় তথ্যভান্ডারে নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হয়ে যাবে
বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর নানামুখী চাপ তৈরি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা ফেরাতে চীন-রাশিয়ার উদ্যোগ

রোহিঙ্গা ফেরাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন। ২০১৭ সালে সেনাচৌকিতে হামলার কথা বলে মিয়ানমারের রাখাইনে যে নজিরবিহীন হামলা করে সে দেশের সেনাবাহিনী, তার বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব সোচ্চার হলেও এ ঘটনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বর্ণনা করে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ও রাশিয়া। তাদের ভেটোতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আনা সব প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাসখন্দে আমার সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ল্যাভরভের বৈঠক হয়েছে। তাদের কাছে আমি এই বিষয়ে কথা বলেছি। আমি তো রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, রোহিঙ্গা ফেরাতে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেছে; আরও বলবে।

‘অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, দ্রুত সময়ে তিন দেশের ফিজিক্যাল মিটিংয়ের (সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক) উদ্যোগ নিচ্ছি। সমস্যা হয়েছে ১ ফ্রেব্রুয়ারি সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর থেকে তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আলোচনার লাইন কেটে গেছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তির জন্য জরুরি বলেও স্বীকার করেছে চীন।’

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা

‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা

টেকসই উন্নয়নের ওপর নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

জেফ্রি স্যাকস বলেন, ‘আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। তার কারণও আছে। আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, তখন দেখতে পাই, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ আখ্যায়িত করেছে আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর সময় ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সম্মেলনটির আয়োজক আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক।

সম্মেলনে অংশ নেয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাকস।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই সম্মেলনে অংশ নেয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার সঙ্গে একসঙ্গে হতে পেরে আমরা উদ্বেলিত। শুরুতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি আসলে উদযাপনের সময়। যদিও বিশ্বজুড়ে মহামারির ভয়াবহতা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় আমরা শুভেচ্ছা জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে নিজের ব্যাকুলতাও প্রকাশ করেন জেফ্রি স্যাকস।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। তার কারণও আছে। আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, তখন দেখতে পাই, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

এসডিজি অর্জনে এই অগ্রগতির স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এসডিজি অর্জনে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশকে দেয়া হয় ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড।’

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে জেফ্রি স্যাকস বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত এবং সম্মানিত অনুভব করছি, বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটা আমরা দিতে পারছি। এসডিজি অর্জনে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সম্মাননাটি গ্রহণ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এই পদক গ্রহণ করে আমি খুবই সম্মানিত। এই পদক দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে সম্মানিত করায় আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে আমাদের যে কর্মসূচি এবং এগিয়ে চলা, এই পদক তার স্বীকৃতি। এসডিজি অর্জনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে একটি মানুষও বঞ্চিত না থাকে।’

পদকটি পরে দেশের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের প্রতি আমি এই পদক উৎসর্গ করতে চাই। স্বাধীনতা অর্জন থেকে আজকের যত অর্জন, সব হয়েছে দেশের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য।’

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: কাদের

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: কাদের

নির্বাচন চলাকালে সহিংসতায় দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন এবং পৌরসভা নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি দুঃখজনক ঘটনা, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত। এ কথা সত্য যে গতকালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বেড়েছে, দেখা গেছে স্বতঃস্ফূর্ততা।’

সারা দেশে সোমবার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন আরও কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন এবং পৌরসভা নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি দুঃখজনক ঘটনা, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত। এ কথা সত্য যে গতকালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বেড়েছে, দেখা গেছে স্বতঃস্ফূর্ততা।’

সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলেও জানান সরকারের এই মন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে, জবাবদিহির সুযোগ বাড়ায় এবং এর ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।’

আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে বিএনপি

শীর্ষ নেতাদের ‘হঠকারিতা’ আর সরকারের বিরুদ্ধে ‘অতিমাত্রায় কৌশল’ করতে গিয়ে বিএনপি আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘দলীয় শীর্ষ নেতাদের হঠকারিতা আর সরকারের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় কৌশল করতে গিয়ে বিএনপি এখন আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে। তাই তারা এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।’

কাদেরের ভাষ্য, এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও নেতিবাচক আর দূর-নিয়ন্ত্রিত রিমোট কন্ট্রোলের রাজনীতি নিজেদের সংকটকে আরও গভীরে নিমজ্জিত করেছে বিএনপিকে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথা শুনলে মনে হয় দেশে একমাত্র তারাই গণতন্ত্রের ধারক, বাহক ও রক্ষক। তারাই গণতন্ত্রের সোল এজেন্ট।’

দলটি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের দ্বারা গণতন্ত্র হত্যার অতীত ভুলে গেছে, ভুলে গেছে সাংবাদিক হত্যার ইতিহাস। ভুলে গেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের চলমান অগ্রযাত্রায় পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কথা। মুখে জনগণের অধিকার আর গণতন্ত্রের কথা বললেও নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির স্পষ্ট দ্বিচারিতা।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

কাদের বলেন, ‘যিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান না, অথচ জনগণের অধিকারের কথা বলেন, এ থেকে বোঝা যায় তাদের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। বিএনপি চর্চা করে দ্বৈতনীতি। এ কারণে তাদের প্রার্থীদের ওপর ভোটারদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।’

ভরাডুবি এড়াতে বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে সরে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাওয়া মানে জনগণ থেকে দূরে সরে যাওয়া, যা প্রকারান্তরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।’

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মানববন্ধন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা লাঘবে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশের সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এমন চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার সচিবালয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল-বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে, সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, ‘সরকার অবশ্যই যেকোনো কারণে হিসাব তলব করতে পারে, ব্যাংক হিসাবও তলব করতে পারে। তবে আমি মনে করি, এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, তাদের আমি চিনিও জানি। তাদের অনেকের আর্থিক অবস্থাও আমি জ্ঞাত।’

বিষয়টি নিয়ে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান ফখরুল।

তার পরদিনই এ প্রসঙ্গে কথা বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধপ্রবাহে বিশ্বাসী। করোনাকালে কিংবা আগে পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সুখে-দুঃখে জননেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় পাশে ছিলেন, আছেন।’

বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অন্ধকারসম ছিল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘অসংখ্য সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন তখন। যাদের হাত সাংবাদিকদের রক্তে রঞ্জিত, আজ তারা সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না করছে।’

বিএনপি মহাসচিব সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নিপীড়নের মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে বিএনপির কুম্ভীরাশ্রু প্রদর্শন মাছের মায়ের পুত্র শোকের মতো।’

বিএনপি কখনও অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতার।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করে অবাধ গুজবের প্রবাহে। তারা বিশ্বাস করে অবাধ অপপ্রচারে। কোনোভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পেরে, দেশ-বিদেশে অর্থ বিনিয়োগ করে সরকার এবং দেশের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) এর সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।

সংস্থার আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার অর্জন করে বিনা।

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দুটি হস্তান্তর করেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা গত কয়েক বছর ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মিউটেশন ব্রিডিং-এ অসাধারণ অবদান রাখার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

ক্যাটাগরিগুলো হলো: আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অনন্য অবদান এবং তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার।

এ বছর ১৭৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিং ক্যাটাগরিতে ১০ জন নারী বিজ্ঞানী ও তরুণ বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে ৭ জন তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার পেয়েছেন।

এর আগেও ২০১৪ সালে বিনার বর্তমান মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসাধারণ সফলতা পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় বিনার মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল জানান, বিনার বিজ্ঞানীরা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে মিউটেশন ব্রিডিং (কনভেনশনাল ব্রিডিং ও অন্যান্য উন্নত কলাকৌশলের সংমিশ্রণ) প্রয়োগ করে এখন পর্যন্ত ১৮টি ফসলের ৮৩টি মিউট্যান্ট জাতসহ সর্বমোট ১১৭টি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে।

এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিনা ও বিনার বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা হতে পুরস্কৃত হয়েছেন বলে জানান মোফাজ্জল।

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

লোভনীয় বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার নিষ্ক্রিয় কেন: হাইকোর্ট

লোভনীয় বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার নিষ্ক্রিয় কেন: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্যসচিব, বাণিজ্যসচিব, সংস্কৃতিসচিব এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

লোভনীয় ও অসত্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন পরিবেশন ঠেকাতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এসব বিজ্ঞাপনদাতাকে কেন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্যসচিব, বাণিজ্যসচিব, সংস্কৃতিসচিব এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়ে রিসোর্টে ঢাবি শিক্ষক

অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়ে রিসোর্টে ঢাবি শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে তারা উত্তরা ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, এটা জানতাম। সাভারের বিরুলিয়ায় যাওয়ার কথা না। শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের কথা বলে তারা অন্য কোথাও গেলে কী আর করা যায়।’

অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাবির ২০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষকরা সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামে যাওয়ার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি মিনিবাসের অনুমতি নেন।

তবে কোনো ধরনের অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামে অংশ না নিয়েই তারা সাভারের একটি রিসোর্টে ঘুরতে যান।

নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে কী কারণে ব্যবহার করা হবে, কত সময় ব্যবহার করা হবে, গাড়ির গন্তব্য কোথায় হবে- এসব বিষয় একটি রিক্যুইজিশন স্লিপে লিখে অনুমোদন নিতে হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসের জন্য ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান আবেদন করেন। সেখানে অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম উল্লেখ করে বাস উত্তরা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা লিপিবদ্ধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিয়াবাড়িতে আমাদের একটি অ্যাকাডেমিক ওয়ার্কশপ ছিল। প্রথমে সেখানে গিয়েছি। পরে সাভারের বিরুলিয়া রিসোর্টে যাই। সেখান থেকে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল থেকে বাসটি যাত্রা করে। বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ঘুরে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরের সামনে দিয়ে নিউ মার্কেট হয়ে সরাসরি সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ‘কৃষিবিদ ওয়েস্ট ওয়ে’ রিসোর্টে পৌঁছায়।

বাসটি উত্তরা বা দিয়াবাড়ির কোথাও যায়নি৷ রাতে সাভার থেকেই বাসটি শিক্ষকদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

বাস উত্তরাতে কোথাও থামেনি জানালে জাহিদুল ইসলাম তাদের সঙ্গে যাওয়া অন্য শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে ফোন দিলে কথা বলতে রাজি হননি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন? আইন বিভাগের নকীব নসরুল্লাহ স্যার এটির আয়োজন করেছেন। উনাকে ফোন দেন।’

আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে অনেকবার ফোন করলে ও খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস পেতে ওই শিক্ষকদের সহযোগিতা করেছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে তারা উত্তরা ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, এটা জানতাম। সাভারের বিরুলিয়ায় যাওয়ার কথা না। শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের কথা বলে যদি তারা অন্য কোথাও যায়, তাহলে কী আর করা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামানকে বিষয়টি অবগত করালে তিনি কোনো মন্তব্য না করে 'ঠিক আছে' বলে ফোন রেখে দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সানা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু হোসেন মুহাম্মদ আহসান, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রভাষক মেহেদি হাসান।

এ ছাড়া রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের প্রভাষক কাজী মো. জামশেদ, একরামুল হুদা, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল করীম, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সিস্টেম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান, ক্রিমোনোলজি বিভাগের প্রভাষক এ বি এম নাজমুস সাকিব, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমিয় সৃজন সাম্য, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক জাকিউল আলম ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বাকি চারজন শিক্ষকের নাম জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চুল্লি স্থাপন আইএইএকে জানাল বাংলাদেশ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চুল্লি স্থাপন আইএইএকে জানাল বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন। ফাইল ছবি

আইএইএকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, সরকারের স্বচ্ছ পরমাণু নীতি, জাতীয় অংশীজনদের অক্লান্ত শ্রম, দ্বিপক্ষীয় অংশীজনের সহায়তা এবং সর্বোপরি আইএইএ-এর অকুণ্ঠ সমর্থনে বাংলাদেশ সফলভাবে পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই খাতে নবাগত যেকোনো দেশের জন্য অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে বাংলাদেশ।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল বা পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরুর বিষয়টি আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) অবহিত করেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সোমবার সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনে বিষয়টি অবহিত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

তিনি বলেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর থেকে রূপপুরে প্রথম ইউনিটের রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল ইনস্টলেশন শুরু করেছেন প্রকৌশলীরা। আশা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে এখানকার দ্বিতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে।’

সারা বিশ্বে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে ওয়াচ ডগ হিসেবে কাজ করে জাতিসংঘের সংস্থা আইএইএ।

নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে বাংলাদেশ পরমাণু অবকাঠামোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

২০২৩ সাল নাগাদ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রেখে প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডের (জ্বালানি ভরা সংক্রান্ত) আগেই বাংলাদেশ আইএইএ-এর নির্দেশনা পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘সরকারের স্বচ্ছ পরমাণু নীতি, জাতীয় অংশীজনদের অক্লান্ত শ্রম, দ্বিপক্ষীয় অংশীজনের সহায়তা এবং সর্বোপরি আইএইএ-এর অকুণ্ঠ সমর্থনে বাংলাদেশ সফলভাবে পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই খাতে নবাগত যেকোনো দেশের জন্য অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তিকে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে সফল প্রযুক্তি হিসেবেই বিবেচনা করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করেই এগিয়ে যেতে চায়।’

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চুল্লি স্থাপন আইএইএকে জানাল বাংলাদেশ
আইএইএর সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়েও আইএইএকে অবহিত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে এই কেন্দ্রের ইউনিট-১ এর কংক্রিট ঢালাই এবং ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এই দিনগুলোকে বাংলাদেশের পরমাণুর জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও সাবধানতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন ইয়াফেস ওসমান।

আইএইএ-এর ৬৫তম সাধারণ সম্মেলন শুরু হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এই সম্মেলন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পাঁচদিনের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে দিচ্ছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন, রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শৌকত আকবর, রূপপুর প্রকল্পের অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অলোক চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন:
বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: ৪ দিনে ভাসল ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ
বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি: আরও ৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন