মস্কোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সোমবার মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।
বৈঠকে সের্গেই লাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।” তিনি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে এবং বৈশ্বিক বিষয়াদিতে এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। লাভরভ আরও উল্লেখ করেন যে, “উভয় দেশই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে” এবং আগামী জানুয়ারিতে দুই দেশের সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের স্থিতিশীল সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দু’দেশের মধ্যে স্থিতিশীলভাবে রাজনৈতিক সংলাপ বিকশিত হচ্ছে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের সম্পর্কের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই ক্ষেত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।” রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের বর্ধমান অংশীদারিত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। এক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও কারিগরি খাতে যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার জন্য নতুন গৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে বাজেট অধিবেশনের বিরতির সময় এই ফুটবলারের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন সরকারপ্রধান। এই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ঋতুপর্ণা চাকমা ও তাঁর পরিবারের কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পূর্বেই পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে ঋতুপর্ণার ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের সুচিকিৎসার জন্য তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহায়তার উদ্যোগ নেয়। সে সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঋতুপর্ণার বাসগৃহে গিয়ে তাঁর মায়ের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১২টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এটি চতুর্থ একনেক সভা এবং চলতি অর্থবছরের ১২তম বৈঠক। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে গতি আনার নির্দেশ দেন।
অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের জন্য মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে এবং বাকি ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে। গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
ভৌত অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও এই সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার সিএমএইচ-এ একটি অত্যাধুনিক ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণের সংশোধিত প্রস্তাবটিও সভায় গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়নেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে আজকের সভায়। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে এমইএমআইএস সাপোর্ট প্রকল্প এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের সংশোধিত প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা বর্ধনের একটি প্রকল্পও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউজ এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আধুনিক লিফট সংযোজনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প পাস হয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন। মূল ১০টি প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যেই অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন পৌরসভায় পানি সরবরাহ, ঢাকার যানজট নিরসন এবং ডাকসেবার আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভাটি সমাপ্ত হয়।
বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমিতে গতকাল (৮-১০ জুন ২০২৬) থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় “Insurance & Insurance Practices in Contract Management” বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী এক শর্ট কোর্স শুরু হয়েছে। আগামী ১০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আজ সকালে আয়োজিত উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব জনাব আলতাফ হোসেন সেখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমির পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মো: জাকির হোসেন চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে চুক্তি ব্যবস্থাপনা (Contract Management) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিমা ঝুঁকি ও তার প্রায়োগিক দিকগুলো সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণ আধুনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ ও সক্ষম হয়ে উঠবেন, যা টেকসই অবকাঠামো বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব জনাব আলতাফ হোসেন সেখ কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণের লব্ধ জ্ঞানকে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব মো: জাকির হোসেন চৌধুরী প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানান এবং চুক্তি ব্যবস্থাপনায় বিমার আইনি ও প্রায়োগিক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
৩ দিনব্যাপী আয়োজিত এই শর্ট কোর্সে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে চুক্তি ব্যবস্থাপনায় বিমার প্রয়োজনীয়তা, বিভিন্ন ধরনের বিমা পলিসি, দাবি উত্থাপন ও নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমসাময়িক বৈশ্বিক ও দেশীয় অনুশীলনসমূহ নিয়ে বিস্তারিত সেশন পরিচালিত হবে।
ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশনা হাইকোর্ট প্রদান করেছিল, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত থাকবে।
হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধানটি বাতিল করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত ছিল। ওই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর অর্পিত হয়েছিল। এছাড়া আদালত ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাটিও অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। রিটকারীদের দাবি ছিল, বর্তমান বিধানের কারণে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী এই রিটটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট রুল জারি করে শুনানি শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন এবং ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।
আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অপরপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৬ জুন আপিল বিভাগে এই বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের ভবিষ্যৎ।
স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফেরাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ করতে করতে আগামী বাজেটে একগুচ্ছ কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা থাকছে। যেসব ব্যবসায় লাইসেন্স ও পারমিশন লাগে, সেগুলো খুব সহজে এবং অল্প সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে– কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে ডি-রেগুলেশনের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইভি ও ইভির চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের ছাড়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেটে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন লাইসেন্স বা ব্যবসা সম্প্রসারণের অনুমোদন চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন অনুমতি (প্রভিশনাল পারমিশন) পেয়ে যাবে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স দিতে ব্যর্থ হলে—ওই ব্যবসায়ীকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। যা প্রচলিত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও অনুশীলনে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এছাড়া, বছর বছর বিভিন্ন লাইসেন্স ও পারমিশন নবায়ন করার ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীদের রেহাই দিতে সব ধরনের লাইসেন্স ও অনুমতির মেয়াদ ৫ বছর করার ঘোষণা থাকছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিরেগুলেশন, সংস্কারের পদ্ধতি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কর ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য অযথা বিলম্ব কমানো, নথিপত্রের পুনরাবৃত্তি দূর করা এবং সামগ্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর নকশা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এর মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনসহ কর প্রশাসনের আধুনিকায়নে ধারাবাহিক কিছু সংস্কার এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা (ক্রেডিট) হবে এবং ব্যাপকভিত্তিক এই অটোমেশনের ফলে কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক বিলম্ব ও হয়রানি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে যত রকমের বাধা সৃষ্টি করা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা এখন তাই করছেন।
আগামী অর্থবছর থেকেই এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু উল্লেখ করে তিনি জানান, কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সব পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলেও, এখন থেকে তারা একটি মাত্র ওয়ান-স্টপ বা সিঙ্গেল এন্ট্রি পয়েন্টের মাধ্যমে তা করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে তা দিতে বাধ্য করা হবে। আসন্ন বাজেটে এই সময়সীমাগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিশেষ বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা খর্ব করা হবে বলে জানান আমির খসরু।
তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব উদ্যোগ : ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই সীমা ৭০ লাখ টাকা হতে পারে। স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ৯ বছরের জন্য কর অব্যাহতি আসতে পারে।
কর প্রদানে হয়রানি কমাতে উদ্যোগ: ডিরেগুলেশনের অংশ হিসেবে কর দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে—অনলাইনে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলিং চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে ই-রিটার্ন দাখিল সুবিধা চালু করতে মোবাইল এপ্লিকেশন চালু করবে এনবিআর।
ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরজুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে—যারা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তারা প্রণোদনার যোগ্য বিবচিত হবেন। পক্ষান্তরে, যারা রিটার্ন জমা দিতে দেরি করবেন তাদের অতিরিক্ত কর দায়ের মুখে পড়তে হবে।
আসন্ন বাজেটে স্পট অ্যাসেসমেন্ট-এর সময় এনবিআর করযোগ্য ব্যবসায়িক আয়ের চারগুণ পর্যন্ত প্রাথমিক মূলধন (অ্যালাউন্স) প্রদানের সুযোগ দিতে পারে এনবিআর। এর ফলে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণ বাড়বে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কর প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি যত ধরনের বাধা আছে প্রায় সবই দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে আগামী বাজেটে।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তায় ইভি ও ইভির চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে। এছাড়া ইভি রেজিস্ট্রেশন ফি বর্তমানে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আছে, যা কমিয়ে অর্ধেক করা হতে পারে।
অন্যদিকে শোধনাগারের জ্বালানি সরবরাহের ওপর উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশ ও প্যাকেজিং উপাদানের ওপর কর ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। একইভাবে পরিবহন, পণ্য বহন ও ভেহিক্যাল রেন্টাল সার্ভিসে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে।
শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাএর ক্ষেত্রেও একই হারে কমতে পারে। অনাবাসীদের (নন-রেসিড্যান্টদের) সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কইএ অর্ধেক করা হতে পারে। অনাবাসীদের পরিশোধ করা বিমা প্রিমিয়ামের উৎসে করও অর্ধেক করা হতে পারে।
একইভাবে অফশোর উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে এ কর ২০ শতাংশ থাকলেও বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এনবিআর অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেটে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আয় ৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। সৌবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্যও কর রেয়াত থাকতে পারে।
রাজস্বসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে সহজ ও দ্রুত করতে শর্ত সহজ করা হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, অগ্রিম আয়কর ও উৎসে কর কমানো এবং অন্যান্য ব্যবসার বাধা অপসারণের যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা যদি সঠিকভাবে বাজেটে প্রতিফিলতি হয় এবং মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বড় সহায়ক হবে। তবে এনবিআর কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যদি সরকারের নীতিগত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
আজকের প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে ভোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেন। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
সোমবার (৮ জুন) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে লিখেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস প্রতি বছর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতি বছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস হিসেবে পালন করে। তিনি লিখেন, দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation’, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬ উদযাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।
তিনি আরও লিখেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করে। অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, এটি দেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এর মাধ্যমে বিএবি বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এ পর্যন্ত বিএবি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী লিখেন, আমি আশা করি, ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। আমি ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
মন্তব্য