উপহারের ঘরে ত্রুটি: মাঠে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

উপহারের ঘরে ত্রুটি: মাঠে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে পরিদর্শন দলগুলো।

ভূমিহীন, গৃহহীনদের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বাড়ির মান যাচাইয়ে পরিদর্শনে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একধিক পরিদর্শক দল। শুক্রবার সকাল থেকে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পরিদর্শন শুরু করবে ৫টি দল।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়ির নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে এই পরিদর্শক দলগুলো। এতে নেতৃত্বে দেবেন আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন।

ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্মিত ঘরগুলো পরিদর্শন করা হবে।

আশ্রয়ন-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিটি কেসই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। এজন্য মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিদর্শনে নামছি।

‘আশ্রয়ন প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্ববৃহৎ মানবিক প্রকল্প। এ প্রকল্পের অনিয়ম বা গাফলতি নিয়ে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে যে সব জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে সেসব জায়গায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে যে সব বাড়ি নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি, সেসব বাড়ি সংস্কার অথবা পুর্ননির্মাণে যা যা প্রয়োজন সব কিছু করে দেব।’

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২৩ জানুয়ারি ৬৬ হাজার গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ স্লোগান সামনে রেখে গৃহহীন পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে ঘর করে দিয়েছে সরকার।

২০ জুন দ্বিতীয় দফায় আরও ৫৩ হাজার ৩৪০ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেয়া হয়।

উপহারের ঘরের প্রতিটিতে রয়েছে দুটি করে শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি লম্বা বারান্দা। ঘরের নকশা পছন্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।

প্রতিটি বাড়ির নির্মাণে খরচ হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে এ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের কয়েকটি উপজেলায় এ ঘরগুলো নির্মাণ ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে।

আশ্রয়ন-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘অনেক জায়গায় অতি বৃষ্টি, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুযোর্গে কিছু কিছু জায়গা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সেসব জায়গায় পুনরায় বাড়ি নির্মাণ অথবা সংস্কার করে দিচ্ছি।

‘এই মানবিক প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্টকে বিতর্কিত করতে একটি মহল এটা নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর আস্থা রাখুন। ভূমিহীন-গৃহহীন সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে।’

আশ্রয়ণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতি বৃষ্টি, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুযোর্গে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়নের কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া নির্মাণে ত্রুটির কারণেও বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতে নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি সামনে এলে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার জন্য ৫ জন সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে চলছে তদন্তও।

উপহারের ঘরে ত্রুটি: মাঠে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
অল্প বৃষ্টিতেই মাটি সরে ভেঙে পড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্লোগান হলো- আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার। এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। এর সঙ্গে আমাদের সবার আবেগ জড়িয়ে আছে।

‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৈথিল্যের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তি পেতেই হবে। কাউকেই বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্প: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল
খাবার চেয়ে ঘর পাওয়া লতার জীবনে এ কেমন টানাপোড়েন
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে
‘হাসিনা আপাকে হামার পক্ষ থাকা মেল্যা ধন্যবাদ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য