তরল কোকেন আমদানি: আসামির জামিন বাতিল

তরল কোকেন আমদানি: আসামির জামিন বাতিল

আসামি মেহেদি আলমকে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ওই বছরের ২ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আপিল বিভাগ মামলার শুনানি নিয়ে জামিন স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।

চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ড্রামে তরল কোকেন আমদানির ঘটনায় করা মামলার আসামি সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদি আলমের হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আসামি মেহেদি আলমকে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ওই বছরের ২ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আপিল বিভাগ মামলার শুনানি নিয়ে জামিন স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোকেন মামলায় আসামি মেহেদি আলমের জামিন স্থগিতাদেশ আপিল বিভাগ আজকে বহাল রেখেছেন। এর ফলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা সূর্যমুখী তেলের কনটেইনারে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের নামে চালান আসে।

উরুগুয়ের মন্টিভিডিও বন্দর থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। সূর্যমুখী তেল আনার ঘোষণা দিয়ে আনা ১০৭টি তেলের ড্রামেই কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ জুন বন্দর থানায় খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিক নূর মোহাম্মদ ও প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে একই বছরের ১৯ নভেম্বর আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নুর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদের নাম বাদ দেয়ায় আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে র‌্যাবকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় র‌্যাব-৭।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন লন্ডনে অবস্থানরত বকুল মিয়া ও ফজলুর রহমান, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার একেএম আমজাদ, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদি আলম এবং সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় পুলিশ মেহেদি আলমকে ২০১৫ সালের ১২ জুলাই গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাত জাহান নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আগারগাঁও থানার পুলিশ আসে। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পায়।

পুলিশ জানায়, নুসরাত তার স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকত। নুসরাত খাগড়াছড়ির সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী বলেও জানা যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে নুসরাতের স্বামী পলাতক।

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

ওসি আরও বলেন, মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

‘মামুনের প্ররোচনায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা নুসরাতের আত্মীয়স্বজনদের খবর দিয়েছি।’ তার বাবা অভিযোগ করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ওসি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নুসরাতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনারগাঁ হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনস অফিসের সামনে দেশটিতে গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ভিড়- ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে শ্রমিকদের দেশেই কোয়েন্টিনে রেখে পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলাপও হয়েছে ঢাকার।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবার বিষয়টি নিয়ে ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা দেশে কোয়ারেন্টাইন শেষ করে সৌদি গেলে সেদেশের কোয়ারেন্টাইন থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশি নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে দেশটির সরকার। দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইনস্যুরেন্স করতে হয়। এই ইনস্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ পড়ে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশি শ্রমিকের সৌদি যাওয়ার অনুমতি দেয়ায় ফোলানাপে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান মোমেন।

এ সময় হজ প্রসঙ্গেও কথা হয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অন্য দেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করার সুযোগ পাবেন না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

রোহিঙ্গা বিষয়টিও তুলে ধরেন আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেদেশে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে। এ বিষয়ে তিনি সৌদি আবরের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের করবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

বরিশাল সার্কিট হাউজে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বক্তব্য দেন সিইসি। ছবি: নিউজবাংলা

‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

নির্বাচনের গুরুত্ব আলাদা, করোনার চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে সিইসি এমন মন্তব্য করেন।

দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

দেশ-বিদেশের এমন নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, করোনার চেয়েও নির্বাচনের গুরুত্ব বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সিইসি। বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছেই থাকা উচিত। কেননা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ তারাই করেছে।’

সার্কিট হাউসে ওই বৈঠকে বিভাগীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে আগামী ২১ জুন হতে যাওয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের কথা শোনেন সিইসি।

বৈঠকে মাঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করেন। জানান, অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

এ জন্য প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেবার দাবি জানান তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, দলমত না দেখে আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বরিশা‌লের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বি‌শেষ অতি‌থি ছি‌লেন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআই‌জি এস এম আক্তারুজ্জামান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মেদ খান, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর ভবন। ফাইল ছবি

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

দেশের ৭৫ শতাংশ পৌরসভার কর্মীর বেতন-ভাতা দুই থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের আট দফা দাবি তুলে ধরে। কর্মীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদে পৌরসভাগুলোকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের অন্য প্রশাসনিক ইউনিটের কর্মচারীদের সঙ্গে সীমাহীন বৈষম্য থাকার কারণে পৌরসভার কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

‘সরকারের নির্দেশনা মেনে প্রায় ৩২ হাজার পৌর কর্মচারী রাত-দিন পরিশ্রম করলেও বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: নিউজবাংলা

সাত্তার বলেন, ‘নতুন মেয়ররা স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত হয়েই পুরোনো মাস্টাররোলের কর্মচারীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত বছরের মতো মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

‘জাতীয় বাজেটের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়লেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।’

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আট দাবি হলো-

১. বেতন-ভাতা যেগুলো বকেয়া ছিল, সেটা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৭৯২ কোটি টাকার ৫০ ভাগ বা ৩৪৬ কোটি টাকা সাহায্যে অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগকে সংবিধানের ২০ ধারা মোতাবেক বেতন দিতে আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতের এই আদেশ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. পৌরসভাগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বাজেটে এর কর্মচারীদের বেতন খাত নং ৩৬৩১১০১-এ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করাসহ প্রতিবছর এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন ভাতা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত ৭৯২ কোটি টাকা বেতন খাতে বরাদ্দ করতে হবে।

৪. তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে অবসরকালীন ভাতা দিতে হবে।

৫. পৌরসভার বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান বা অন্য ব্যয় যাতে করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি জোরদার করতে হবে।

৬. রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য এ-সংক্রান্ত কমিটিতে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।

৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়-ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে সব পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৮. নিয়োগে দুর্নীতি রোধে সব ধরনের নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশিষ্টতা বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ৪০ দিনে জামিনে মুক্ত হয়েছে এক হাজার ১৭ শিশু। ফাইল ছবি

ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে সাইফুর রহমান বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের সময় বিগত ৪০ কার্যদিবসে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে ভার্চুয়ালি শুনানি করে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থেকে তাদের মুক্তিও দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশের সকল আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে কিছু কোর্ট খোলা রাখা হয়। যেখানে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোর্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

করোনার কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ প্রথমে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার এক মাস পর ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী।

পরে ওই বছরের ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর দুই দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সে বছরের ১০ মে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান বিচরপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।

ফুলকোর্ট সভায় ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর আওতায় উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুমোদিত হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিত জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসলে ফের নিয়মিত আদালত শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১২ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

লঘুচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর এখন উত্তাল। তাই উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, এ সতর্ক সংকেত শুধুমাত্র সমুদ্রের জন্য। ল্যান্ডের জন্য না। আগামী এক দুই দিন এটা থাকবে।

বর্ষাকালে এমন সংকেত মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের উদ্দেশে দেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ১০ মিনিটা আগেই এই সংকেত দেখিয়েছি। বর্ষাকালে লঘুচাপ হয়ে অনেক সময় নিম্নচাপ হয়। সেক্ষেত্রে ঢেউ হয়। বাতাস থেকে ঢেউ বেশি থাকে। এটা লেখা থাকেই যে মাছ ধরা ট্রলার বা নৌকার জন্য। তারা কোস্টের কাছে যেতে পারবে তবে বেশি গভীরে যেন না যায়।

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি: উইন্ডি ডটকম

‘আমরা বলেই দিই যে গভীর সমুদ্রে মেঘমালা সৃষ্টি হয়। তখন বড় ঢেউয়ের সম্ভাবনা থাকে। তার কারণে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এর আগেও এমন হয়েছে। লঘুচাপ ল্যান্ডে না আসা পর্যন্ত আজ কাল এটা থাকবে। এটা মূলত সাবধানতার জন্য দেয়া হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি হতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সারাদেশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন

শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ

শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ

সরকারের অঙ্গীকার ছিল ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম শূন্যে নামিয়ে আনার। সে মেয়াদ পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর আগে। আইএলও ২০২৫ সালের মধ্যে তা নিরসন করতে চায়।

শুক্রবার সকাল। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে নিউমার্কেটমুখী লেগুনায় এক পায়ে দাঁড়িয়ে ফারুক। বয়স ৯ বছর থেকে বড়জোর ১১। ভেতরে চারজন করে আটজন যাত্রী বসলেও হেলপার হিসেবে সব সময়ের মতোই তার জায়গা লেগুনার পটাতনে।

পাটাতনে আরও দুজন বাড়তি যাত্রীকে জায়গা দিতে এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। সারা দিন খেটে মজুরি ২০০ টাকা।

দেশের শ্রম আইন অনুসারে ফারুকের এমন কাজ করার কথা নয়। কিন্তু ফারুকের মতো এমন শতাধিক শিশু কাজ করছে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যের লেগুনায়। তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায় না। জানা যায় না দেশে মোট কত শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে, কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ খাতেই বা কতজন কাজ করে। দেশ থেকে কবে শিশুশ্রম দূর হবে, তাও সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে গত দুই দশকে ৯০ হাজার শিশুকে শ্রমের বাইরে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় শনিবার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হবে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অ্যাক্ট নাউ: অ্যান্ড চাইল্ড লেবার’ (শিশুশ্রম বন্ধে পদক্ষেপের সময় এখনই)। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আইএলও) বলছে, করোনায় সারা বিশ্বে শিশুশ্রম উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশ্বে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১৬ কোটিতে পৌঁছেছে।

করোনার দেড় বছরে এ নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা করেনি বাংলাদেশ। ফলে, বর্তমানে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কত তা সরকার জানে না। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানেরও গবেষণা নেই। ২০১৩ সালের সর্বশেষ জাতীয় শিশুশ্রম জরিপের তথ্য ভরসা। বিবিএসের ওই জরিপ বলছে, ১৭ লাখ শিশু পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তাদের মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশুই নিয়োজিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এ ছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে সব মিলিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে এক ঘণ্টার কর্মে নিয়োজিত থাকে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু, করোনার এ সময়ে যা আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইনে ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে নেয়া নিষিদ্ধ। ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কাজে নেয়া গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া যাবে না। জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ অনুসারে, ৫-১৮ বছরের শিশু কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারবে না। ৫-১৪ বছর পর্যন্ত শিশুশ্রম নিয়োগকর্তার জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইন শুধু কাগজে-কলমেই।

সরকার ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন-১৮২ অনুসমর্থন করে। সরকারের অঙ্গীকার ছিল ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম শূন্যে নামিয়ে আনার। কিন্তু সে মেয়াদ পার হয়েছে আরও প্রায় ৫ বছর আগে। আইএলও ২০২৫ সালের মধ্যে তা নিরসন করতে চায়। এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের একই লক্ষ্য থাকলেও অগ্রগতি কম।

অনেক উদ্যোগ, ফল কম

আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমই নয়, সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসন হওয়ার কথা। কিন্তু শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, সে কাজের খুব একটা অগ্রগতি আসেনি।

মন্ত্রণালয় বলছে: দেশে ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’ হয়েছে, ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ করা হয়েছে; এ ছাড়া ‘জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ কাউন্সিল’, ‘বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ কাউন্সিল’, ‘জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি’, ‘উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি’, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ এবং সচেতনামূলক বহু কর্মশালাও করা হয়েছে।

কিন্তু গত দুই দশকে মাত্র ১ লাখ শিশুকে শ্রমের বাইরের নেয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কয়টি শিশু শ্রম ছেড়েছে, তার হিসাব নেই মন্ত্রণালয়ের কাছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, শিশুশ্রম নিরসনে চার পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম নিরসন’ প্রকল্পের দুই পর্যায়ে ৪০ হাজার শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ৫০ হাজার শিশুকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ শিশুকে শ্রম থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্য নেয়া হয়। ২০২০ সালের মধ্যে সে কাজ হওয়ার কথা ছিল। শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বেড়েছে।

চতুর্থ পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় এক লাখ শিশুকে ছয় মাস মেয়াদি উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাস মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের একটি প্রস্তাব গত বুধবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৬০ কোটি টাকা।

শিশুশ্রম নিরসনে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কে এম আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ২০১০ সালের নীতিমালার আলোকে সরকার অ্যাকশন প্লান নিয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ঝূঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। আগের ৬টি খাত এবং এ বছর দুটিসহ মোট আট খাতকে শিশুশ্রম মুক্ত করা হয়েছে। চলমান প্রকল্পের আওতায় ১৪ জেলায় কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘তবে এটা শুধু এক মিনিস্ট্রির কাজ না, আমরা, মহিলা ও শিশু, শিক্ষাসহ অনেকগুলো মিনিস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়।’

শিশুশ্রমে কত শিশু নিয়েজিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সঠিক সংখ্যা জানা নেই। কারণ সর্বশেষ জরিপ ২০১৩ সালের। তখন ১.৭ মিলিয়ন শিশু পূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত ছিল। ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যাটা কমে গেছে নিশ্চয়ই। আমরা সামনের বছর একটা সার্ভে করব, তখন দেখব আমাদের প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সংখ্যা কত আছে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করছে বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

৩৮ কাজে ঝঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নয়

ওয়েল্ডিং, মোটর ওয়ার্কশপ, যানবাহনের হেলপার, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক কারখানা, জাহাজ ভাঙা, বিড়ি-তামাক কারখানা, নির্মাণকাজ, ইটভাটা, পাথর ভাঙা, অটোমোবাইল স্টেশন, অ্যালুমিনিয়াম, বর্জ্য অপসারণ, কাচ, সাবান, চামড়ার কারখানা, বিস্কুট কারখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ৩৮টি খাতে শিশুদের শ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথমে জাহাজ ভাঙা শিল্প, ট্যানারি ও চামড়াজাত শিল্প, সিল্ক, কাচ এবং সিরামিক শিল্পকে শিশুশ্রম মুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে।

জিএসপিতেও ঝুঁকি রয়েছে

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুশ্রম বন্ধ না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তীতেও জটিলতায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আইএলও কনভেনশনে ১৩৮ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আর বাংলাদেশ এলসিডির সুবিধা পাবে না। তখন জিএসপি প্লাস সুবিধা ছাড়া অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপে এ দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাক মারাত্মক হুমকিতে পড়বে। তাই এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসারে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে কোনো শিশু শ্রমে থাকতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও এতে স্বাক্ষর করেনি। তবে সরকার এর শর্ত পরিপালনে চেষ্টা করছে। কারণ, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মার্কেটে অ্যাকসেস পেতে হলে এ কনভেনশনে স্বাক্ষর করতে হবে। তার জন্য অতি দ্রুত শিশুশ্রম উঠিয়ে ফেলতে হবে। কারণ কনভেনশন স্বাক্ষর করা মানে আইনগতভাবে তা মেনে চলতে বাধ্য থাকা।

মহামারিতে বিশ্বে বেড়েছে শিশুশ্রম

করোনার শুরুতে গত বছর ইউনিসেফ ও আইএলও আশঙ্কা করেছিল করোনাভাইসের কারণে শ্রম দিতে বাধ্য হবে বিশ্বের লাখ লাখ শিশু।

বৃহস্পতিবার সংস্থা দুটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের শুরুতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়েছে। চার বছরে শিশু শ্রমিক বেড়েছে ৮৪ লাখ। ২০২০ সালের শুরুতে ৭ কোটি ৯০ লাখ শিশু বিপজ্জনক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা চার বছর আগের তুলনায় ৬৫ লাখ বেশি।

যদি দারিদ্র্যের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে প্রায় ৫ কোটি শিশু আগামী দুই বছরে শিশুশ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতি ১০টি শিশুর একটি শিশুশ্রমে যুক্ত।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘নতুন এই হিসাব একটি সতর্ক সংকেত। যখন নতুন একটি প্রজন্মের শিশুদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তখন আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি এবং আমাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। এই অবস্থাকে বদলে দিতে এবং দারিদ্র্য ও শিশুশ্রমের চক্র ভেঙে দিতে নতুন প্রতিশ্রুতি ও শক্তির সম্মিলন ঘটানোর এখনই সময়।’

আরও পড়ুন:
কোকেনসহ গ্রেপ্তার স্প্যানিশ নাগরিক জুলিয়ান কারামুক্ত
কোকেনসহ গ্রেফতার স্পেনের নাগরিককে মুক্তি

শেয়ার করুন