‘এনআইডি দেয়ার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা উচিত’

‘এনআইডি দেয়ার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা উচিত’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র আর ভোটার আইডি কার্ড এক বিষয় নয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। পৃথিবীর সব দেশে এই জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় স্বরাষ্ট্র অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি নির্বাচন কমিশন করে না। নির্বাচন কমিশন শুধু ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করে।’

বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ দেখবে।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র আর ভোটার আইডি কার্ড এক বিষয় নয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। পৃথিবীর সব দেশে এই জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় স্বরাষ্ট্র অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি নির্বাচন কমিশন করে না। নির্বাচন কমিশন শুধু ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করে।’

বাংলাদেশে যখন শুধু ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রকল্প ছিল, তখন সেটি যৌক্তিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখন যখন ভোটার তালিকা নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র করা হচ্ছে, তখন পৃথিবীর সব দেশের মতো এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত।’

‘এনআইডি দেয়ার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা উচিত’

নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার জন্য সকল তথ্য-উপাত্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট দেয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদেরকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট দেয়। তাদেরকেও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই সিদ্ধান্ত।’

আর জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নের পর ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখানে নির্বাচন কমিশন থেকে যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে অমূলক এবং এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত।’

বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এটা তো অনেক আগের সিদ্ধান্ত। আমাদের কাছে সিদ্ধান্তটা কনভে করা হয়েছে। আমরা অ্যালোকেশন অব বিজনেস দেখছি। এরপর প্রয়োজন হলে আমরা আবার মিটিং করব। দেখি, কী হয়।’

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ‘শিগগিরই’

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ‘শিগগিরই’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিমান নিয়ে এসেছেন। এটি চার্টার্ড ফ্লাইট হতে পারে, কিন্তু তারা তো বিমানকে অ্যালাউ করেছে। আমি সে জন্য আশা করি, আগামীতে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালু হবে। সঠিক তারিখ জানি না। দোয়া করবেন, তাড়াতাড়ি হলে ভালো।’

জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের এমন সফরের মধ্য দিয়েই কাটতে পারে দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা। শিগগিরই চালু হতে পারে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউইয়র্কের হোটেল লোটে প্যালেসে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনেক বছর পর বাংলাদেশের ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ায় সন্তোষ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকাবাসী খুব খুশি হবে যদি বাংলাদেশ থেকে এখানে বিমানের ফ্লাইট চালু হয়। প্রধানমন্ত্রী বিমান নিয়ে এসেছেন। এটি চার্টার্ড ফ্লাইট হতে পারে, কিন্তু তারা তো বিমানকে অ্যালাউ করেছে। আমি সে জন্য আশা করি, আগামীতে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালু হবে। সঠিক তারিখ জানি না। দোয়া করবেন, তাড়াতাড়ি হলে ভালো।’

ড. মোমেন বলেন, ‘বহু বছর আগে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমানের ফ্লাইট পরিচালিত হতো। তারপর বিমানটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার আমাদের বিমান এখানে এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা যে, আগামীতে বাংলাদেশ বিমানের নিউইয়র্ক-ঢাকা এই লাইনটা চালু হবে।’

ফ্লাইট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে খুশি হবেন, এরই মধ্যে এখানকার ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে। এটা বেশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। সে জন্য আমরা আশাবাদী হতে পারি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইমেজ, বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বহু বছর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম নিজ দেশের বিমান নিয়ে এসেছেন।’

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের (এফএএ) ক্যাটাগরি-১ ছাড়পত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোনো দেশের এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে না। এই ছাড়পত্র না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। বিমানের ফ্লাইট চালু করতে এরই মধ্যে ফেডারেল এভিয়েশনের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। তাতেই ধরে নেয়া হচ্ছে দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চালু হবে ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট।

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন তিনি।

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রথম দিনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাপী মহামারির কারণে এবার সাধারণ পরিষদ অধিবেশন হলে অনুমোদিত প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত হবে। এর আগে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সদর দপ্তরে ভ্রমণের পরিবর্তে ধারণ করা ভাষণে উৎসাহিত করা হয়েছিল।

অধিবেশনে প্রায় ১০০ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

প্রথম আলো থেকে শতকোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে রুল

প্রথম আলো থেকে শতকোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে রুল

নাইমুল আববার। ছবি: সংগৃহীত

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ‘আবরার হত্যায় তার বাবা আদালতে এসেছিলেন। তাদের আবেদন শুনে আদালত রুল জারি করেছেন। আবরারের বাবা এ রিট আবেদন করেন। রিটে ৫০ কোটি টাকা কলেজের জন্য এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা নাইমুল আবরারের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাওয়া হয়েছে।’

প্রথম আলোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডে‌ন্সিয়াল মডেল ক‌লে‌জের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

রুল জারির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যায় তার বাবা আদালতে এসেছিলেন। তাদের আবেদন শুনে আদালত রুল জারি করেছেন। আবরারের বাবা এ রিট আবেদন করেন। রিটে ৫০ কোটি টাকা কলেজের জন্য এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা নাইমুল আবরারের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাওয়া হয়েছে।’

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম আব্দুর রউফ।

তিনি জানান, ওই ঘটনায় কলেজের সুনাম ক্ষু্ণ্ন হয়েছে। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথম আলোর সঙ্গে অনুষ্ঠানের যে চুক্তি করে সেখানে কার কী দায়দায়িত্ব সেটি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার দায়িত্ব ছিল প্রথম আলোর আয়োজকদের। এ কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে ৫০ কোটি এবং আবরারের পরিবারকে ৫০ কোটি টাকা দিতে এ রিট করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ১ ন‌ভেম্বর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাত নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওই দিন বিকেলে বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর আবরারকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই বছরের ৬ নভেম্বর নাইমুল আবরা‌রের বাবা ম‌জিবুর রহমান প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কি‌শোর আলোর প্রকাশক ম‌তিউর রহমা‌নের বিরু‌দ্ধে মামলা করেন।

২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ওই ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে আদেশ দেয়া হয়েছে এরা হলেন মতিউর রহমান, কবির বকুল, শুভাশিষ প্রামাণিক শুভ, মুহিতুল আলম পাভেল, শাহ পুরান তুষার, জসিম উদ্দিন তপু, মোশারফ হোসেন, মো. সুমন ও কামরুল হওলাদার। আসামিদের সবাই জামিনে রয়েছেন।

তবে অপর আসামি কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

পরে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মতিউর রহমান। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মতিউর রহমানের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট।

২০১৯ সালেই ওই কলেজের সাবেক ছাত্র ওবায়েদ আহমেদ ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেছিলেন। তখন আদালত বলেছিলেন, ক্ষতিপূরণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত যেকোনো টিকা নেয়ার পর মালয়েশিয়া যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ আদেশ কার্যকর হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়া বাংলাদেশিদের জন্য মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

মালয়েশিয়ান হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ আদেশ কার্যকর হবে।

অবশ্য দেশটিতে যেতে কিছু শর্ত মানতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে মালয়েশিয়ার বৈধ ভিসা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়া করোনার টিকা নেয়া ব্যক্তিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

পাশাপাশি ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন হবে করোনা নেগেটিভ সনদ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ামানুসারে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুকদের সে দেশে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি হাজার হাজার শ্রমিক করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশে এসেছিলেন। তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দেশটিতে প্রবেশ। করোনার টিকা নেয়ার পর এখন যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

আরও দুই মামলায় জামিন হেলেনার

আরও দুই মামলায় জামিন হেলেনার

আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চার মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন পেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তার জামিন এখনও হয়নি। এ জন্য তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না।’

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আরও দুই মামলায় জামিন দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত গুলশান থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং পল্লবী থানার প্রতারণা মামলায় এ জামিনের আদেশ দেয়।

এর আগে পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১৭ আগস্ট হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দেয় ঢাকার সিএমএম আদালত।

তবে তিন মামলায় জামিন মিললেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না হেলেনা। কারামুক্ত হতে হলে তাকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেতে হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চার মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন পেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তার জামিন এখনও হয়নি। এ জন্য তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না।’

২৯ জুলাই র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১-এর অভিযানে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

অভিযানে বিদেশি মদ, ক্যাঙ্গারুর চামড়া, হরিণের চামড়া, চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দের কথা জানায় র‍্যাব।

ওই দিনই হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান চালায় বাহিনীটি। পরে বিটিআরসির সহযোগিতায় অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করা হয়।

এসব ঘটনায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চারটি আলাদা মামলা হয়। এই মামলাগুলোতে বিভিন্ন মেয়াদে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা

‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা

টেকসই উন্নয়নের ওপর নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

জেফ্রি স্যাকস বলেন, ‘আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। তার কারণও আছে। আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, তখন দেখতে পাই, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ আখ্যায়িত করেছে আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর সময় ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সম্মেলনটির আয়োজক আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক।

সম্মেলনে অংশ নেয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাকস।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই সম্মেলনে অংশ নেয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার সঙ্গে একসঙ্গে হতে পেরে আমরা উদ্বেলিত। শুরুতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি আসলে উদযাপনের সময়। যদিও বিশ্বজুড়ে মহামারির ভয়াবহতা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় আমরা শুভেচ্ছা জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে নিজের ব্যাকুলতাও প্রকাশ করেন জেফ্রি স্যাকস।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। তার কারণও আছে। আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, তখন দেখতে পাই, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

এসডিজি অর্জনে এই অগ্রগতির স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এসডিজি অর্জনে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশকে দেয়া হয় ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড।’

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে জেফ্রি স্যাকস বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত এবং সম্মানিত অনুভব করছি, বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটা আমরা দিতে পারছি। এসডিজি অর্জনে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সম্মাননাটি গ্রহণ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এই পদক গ্রহণ করে আমি খুবই সম্মানিত। এই পদক দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে সম্মানিত করায় আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে আমাদের যে কর্মসূচি এবং এগিয়ে চলা, এই পদক তার স্বীকৃতি। এসডিজি অর্জনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে একটি মানুষও বঞ্চিত না থাকে।’

পদকটি পরে দেশের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের প্রতি আমি এই পদক উৎসর্গ করতে চাই। স্বাধীনতা অর্জন থেকে আজকের যত অর্জন, সব হয়েছে দেশের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য।’

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: কাদের

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: কাদের

নির্বাচন চলাকালে সহিংসতায় দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন এবং পৌরসভা নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি দুঃখজনক ঘটনা, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত। এ কথা সত্য যে গতকালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বেড়েছে, দেখা গেছে স্বতঃস্ফূর্ততা।’

সারা দেশে সোমবার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন আরও কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন এবং পৌরসভা নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি দুঃখজনক ঘটনা, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত। এ কথা সত্য যে গতকালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বেড়েছে, দেখা গেছে স্বতঃস্ফূর্ততা।’

সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলেও জানান সরকারের এই মন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে, জবাবদিহির সুযোগ বাড়ায় এবং এর ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।’

আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে বিএনপি

শীর্ষ নেতাদের ‘হঠকারিতা’ আর সরকারের বিরুদ্ধে ‘অতিমাত্রায় কৌশল’ করতে গিয়ে বিএনপি আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘দলীয় শীর্ষ নেতাদের হঠকারিতা আর সরকারের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় কৌশল করতে গিয়ে বিএনপি এখন আস্থাহীনতার ফাঁদে পড়েছে। তাই তারা এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।’

কাদেরের ভাষ্য, এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও নেতিবাচক আর দূর-নিয়ন্ত্রিত রিমোট কন্ট্রোলের রাজনীতি নিজেদের সংকটকে আরও গভীরে নিমজ্জিত করেছে বিএনপিকে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথা শুনলে মনে হয় দেশে একমাত্র তারাই গণতন্ত্রের ধারক, বাহক ও রক্ষক। তারাই গণতন্ত্রের সোল এজেন্ট।’

দলটি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের দ্বারা গণতন্ত্র হত্যার অতীত ভুলে গেছে, ভুলে গেছে সাংবাদিক হত্যার ইতিহাস। ভুলে গেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের চলমান অগ্রযাত্রায় পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কথা। মুখে জনগণের অধিকার আর গণতন্ত্রের কথা বললেও নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির স্পষ্ট দ্বিচারিতা।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

কাদের বলেন, ‘যিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান না, অথচ জনগণের অধিকারের কথা বলেন, এ থেকে বোঝা যায় তাদের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। বিএনপি চর্চা করে দ্বৈতনীতি। এ কারণে তাদের প্রার্থীদের ওপর ভোটারদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।’

ভরাডুবি এড়াতে বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে সরে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাওয়া মানে জনগণ থেকে দূরে সরে যাওয়া, যা প্রকারান্তরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।’

আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা সিইসির
‘এনআইডি স্বরাষ্ট্রে গেলে ইভিএম মুখ থুবড়ে পড়বে’
এনআইডির দায়িত্ব হারাচ্ছে ইসি
‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন