অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের

অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের

শ্বাসকষ্টের রোগী থাকা এই অ্যাম্বুলেন্সকে ফেলে শুক্রবার ফেরি নিয়ে যান জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

‘এ ধরনের রোগীর জন্য আধা ঘণ্টা কেন, ৫ মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যে রেসপনসিবিলিটি (দায়িত্ববোধ) আর সিনসিয়ারিটির (আন্তরিকতা) অভাব দেখলাম, আমার মনে হয় না এরা মানুষের জন্য ভালো কিছু করছে। তারা রাস্তায় যখন যাচ্ছে তখনও মানুষের অসুবিধা করছে। অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগী যাচ্ছে সেটাও তারা মানছে না।’

পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাটে যে অ্যাম্বুলেন্সটিকে উঠতে না দিয়ে জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমির হাওলাদারের সঙ্গীরা ফেরি নিয়ে চলে আসেন, সেটির হেলপার বারবার রোগীর কষ্টের কথা জানিয়ে অনুনয় করেছেন। কিন্তু কথা শোনেনি সংসদে বিরোধী দলটির কো চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীরা।

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে নুরুল আলিম মিথুনকে নিয়ে স্বজনরা ছুটেছিলেন ঢাকার পানে।

শুক্রবার বিকেলে ফেরিঘাটে আসার পথে সাইরেন বাজাতে থাকায় অন্য গাড়িগুলো একে জায়গা করে দিলে সিরিয়ালে সবার সামনের সারিতেই দাঁড়ানো ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি।

ফেরি তখনও ঘাটে আসেনি। স্বাভাবিক সময়ে তো বটেই সংকটাপন্ন রোগী থাকার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটিকেই সবার আগে ফেরিতে ওঠানোর কথা।

কিন্তু ঘটে উল্টোটা। রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের দুটি গাড়ি ছিল পেছনে। এর মধ্যে ফেরি আসার পর সামনের গাড়ি রেখে পেছনের গাড়িগুলো তুলে দেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সও সে সময় ইমার্জেন্সি হর্ন বাজিয়ে পন্টুনে ওঠে। কিন্তু সেই গাড়িটিকে না তুলে ফেরি ছেড়ে যায়।

জাতীয় পার্টির নেতা ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি পাজেরো তোলার পর আর কোনো গাড়িকে তুলতে দেয়া হয়নি।

এই ফেরিতে নয় থেকে ১২টা গাড়ি ওঠাতে পারে। কিন্তু হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের তিনটি গাড়ির বাইরে কেবল ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি গাড়ি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর ফেরিটি আবার নদীর এ পারে আসার পর অ্যাম্বুলেন্সটি পার হয়। আর গভীর রাতে সেটি রোগী নিয়ে আসে ঢাকায়।

অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর ছিল কিশোর নুরুল আমিন মিথুন। শ্বাসকষ্টে তার অবস্থা ছিল সঙ্গীন

তবে এখনও হাসপাতালে ভর্তি করা যায়নি রোগী নুরুল আমিন মিথুনকে। স্বজনরা জানান, করোনা পরীক্ষার ফল না পাওয়ায় এখনও চিকিৎসা শুরু করা যায়নি।

মিথুনের বড় ভাই নুরে আলম মিশুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওর (মিথুন) যে শ্বাসকষ্টটা এটা এখনও আছে। তবে এখনও হাসপাতালে ভর্তি করতে পারছি না। কারণ, ঢাকায় পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে গেছে। এখন করোনা টেস্ট ছাড়া শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি নিচ্ছে না।

‘আগে আসতে পারলে ডাক্তার দেখাতে পারতাম। এখন তো সেটা মিস করে ফেলেছি।’

মিথুন দশম শ্রেণির ছাত্র। সে পটুয়ালাখীর দুমকী উপ‌জেলার আঙ্গা‌রিয়ায় মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়।

ফেরিঘাটের ঘটনার পর মিথুনের খালা জেস‌মিন আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‌‘মিথুন অসুস্থ‌ অইলে পউট্টাহা‌লি হাসপাতা‌লে নিই। কিন্তু অর শ্বাসকষ্ট বাইর গে‌লে ডাক্তার অরে ঢাকায় নে‌তে কইছে। হেইয়ার জন‌্য ঢাকায় যাইতেছি। কিন্তু ফে‌রি‌তে ওঠ‌তে পারলাম না। এহন এক ঘণ্টা এইহা‌নে বইয়া থাক‌তে অইবে।’

‌‘ফেরিঘা‌টে আইলে পন্টুনেনে উডি। কিন্তু ফেরির লোকজন মো‌গো উঠ‌তে দিল না। মাত্র তিন‌ডা গাড়ি নি‌য়া ফে‌রিডা ছাইড়া দিল।’

‌‘একটা গাড়ি নি‌লে ওনা‌গো কী ক্ষ‌তি অইত?’-আক্ষেপের সুরে বলেন তিনি।

মিথুনের ভাই নুরে আলম মিশুক বলেন, ‘অনেক অনুরোধ করেও ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘লেবুখালিতে পাঁচটা ফেরি চলে। কিন্তু কাল একটা চলছিল। আমার অ্যাম্বুলেন্স সাইরেনও বাজাচ্ছিল। আমাদের প্রচলিত যেটা নিয়ম যে কোনো অবস্থাতেই অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা। এর আগেও এ রকম একটা ঘটনায় একজন মারা গেছে। এরপর আমরা শুনেছি ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল।

‘কালকে যে ভিআইপি (রুহুল আমিন হাওলাদার) পাস হয়েছেন, আমার অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার নেমে রিকোয়েস্ট করেছে যে আমার এখানে রোগী আছে ইমার্জেন্সি আমাকে ছেড়ে দেন। বলার পরেও তার লোকেরা ধমক দিয়ে ফেরি ছাড়তে বাধ্য করেছে। আল্লাহর রহমত ছিল দেখে আমার ভাইটা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু এরচেয়ে খারাপ কোনো রোগী থাকলে কিন্তু সে সারভাইব করতে পারত না।’

রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালীরই একটি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কাছ থেকে যে দায়িত্ববোধ দেখার আশা ছিল, সেটি না পেয়ে হতাশ হয়েছেন মিঠুনের ভাই।

অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
এই ফেরিতে জায়গা থাকা সত্ত্বেও জাপা নেতা হাওলাদারের সঙ্গীরা অ্যাম্বুলেন্সকে উঠতে দেননি

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের রোগীর জন্য আধা ঘণ্টা কেন, ৫ মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যে রেসপনসিবিলিটি (দায়িত্ববোধ) আর সিনসিয়ারিটির (আন্তরিকতা) অভাব দেখলাম, আমার মনে হয় না এরা মানুষের জন্য ভালো কিছু করছে। তারা রাস্তায় যখন যাচ্ছে তখনও মানুষের অসুবিধা করছে। অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগী যাচ্ছে সেটাও তারা মানছে না।’

তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালী থেকে রওয়ানা দিয়ে পাঁচটায় ফেরিঘাটে পৌঁছাই। সাইরেন দেয়ায় অন্য গাড়িও আমাকে রাস্তা করে দিয়েছে। ঘাটে যারা ছিল তারাও সহযোগিতা করেছে। ফেরিটাতে যখন আমরা উঠব, তখনও চার-পাঁচটা গাড়ি ওঠার জায়গা ছিল। এর মধ্যেই তারা ফেরি ছেড়ে দিয়েছে।

‘পরে যখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেনো হলো তখন ঘাটের লোকেরা বলল, ভিআইপি। এজন্য তারা বাধ্য হয়েছে। এর মানে হলো, উনি প্রভাব খাটিয়ে ফেরি নিয়ে গিয়েছেন। আর আমার রোগী আমার কোনো ইমার্জেন্সি নাই।’

মিথুনের জটিলতা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর কয়েকদিন ধরে জন্ডিস ছিল। তারপর ডায়রিয়া হয়েছে। এরপর যখন স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে সেখানেও সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি।

‘এখন যাত্রাবাড়ীতে বাসায় থেকেই রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছি। কাল রিপোর্টটা পেলে আমরা মুভ করতে পারব।’

ফোন ধরছেন না হাওলাদার

এই ঘটনায় শুক্রবার সংবাদ প্রকাশ করেছে নিউজবাংলা। তখনও হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি তিনি ফোন না ধরায়।

দ্বিতীয় দিনও একই ঘটনা ঘটেছে। একাধিকবার কল করা হলে রিং হলেও ফোনটি তোলেননি জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান।

রোগীর অ্যাম্বুলেন্স রেখে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরিচালক জয়দেব ঘটনার দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‌‘আমি উপরে থা‌কি। নিচ থেকে ছাড়ার সংকেত পেলে ঘাট ত‌্যাগ ক‌রি। কে ছিল আমি জা‌নি না। সংকেত পাইছি তাই ছেড়ে গেছি।’

অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার

ফে‌রির লস্কর বাবুল ব‌লেন, ‘‌জাতীয় পার্টির নেতা ও রুহুল আমিন হাওলাদার স‌্যার ছিল, তাই ছেড়ে দি‌ছি। তার সাথে থাকা লোকজন ছাড়ার জন‌্য তা‌গিদ দিয়ে‌ছিল। এ ছাড়াও ওই ফেরিতে এক‌টি টু‌রিস্ট পু‌লিশের ভ‌্যান ছিল। তারাও ফে‌রি‌টি দ্রুত ছাড়তে বলেছে।’

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মে‌হেদী হাসান ব‌লেন, ‘‌‌শু‌নে‌ছি ওই ফেরি‌তে জাপা নেতা রুহুল আ‌মিন হাওলাদার ছিলেন। ওই সময় সেখানকার দা‌য়িত্বরত পু‌লিশ দুপু‌রের খাবার খে‌তে পা‌শে গে‌ছিল। যে‌ কার‌ণে পু‌রো বিষয়‌টি জানা যায়‌নি।’

দুই বছর আগে একই ধরনের ঘটনায় তোলপাড়

২০১৯ সালের আগস্টে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে। সে সময় ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড়ের পর ওই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই ঘটনায় পরে ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, ঘাটের প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়া হয়। এ কারণে তিতাসের মৃত্যুর দায় এই তিনজন কিছুতেই এড়াতে পারেন না।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

প্রতীকী ছবি

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উৎপাদনও হচ্ছে। এরপরও কিছুদিন ধরে রাজধানীর কিছু কিছু এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ায় এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার দেশে আরও পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। তাতে দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে।

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যে অভিযোগ আসছে, তা উৎপাদনজনিত নয়, ত্রুটিজনিত।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা স্বীকার করে নিউজবাংলাকে বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ একটু কমে গিয়েছে। এই সরবরাহ কমে যাওয়াতে একটু প্রেসার পড়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

এ কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে বলেই এটা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কাজ চলছে।’

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫৭টি। সেখানে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন কমে আসে, তেমনি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই বুধবার থেকে পিক আওয়ারে অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও পরে সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি এসে তুলে নেয়া হতে পারে।

গ্যাসের চাহিদার কারণে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, সেটি জানা গিয়েছে আরও একটি মাধ্যম থেকে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার সভা হয়। সভা শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) আলি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশে এখন এলএনজির ঘাটতি রয়েছে, যার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সিএনজির কারণে ৮২ থেকে ৮৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস খরচ হয়। তবে এটা বেশি দিন লাগবে না।

‘নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। আর এই সময়ে এলএনজি দেশীয় সোর্স থেকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করবে। এর মধ্যেই উৎপাদন ঠিক হবে।’

রাজধানীসহ সারা দেশেই লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, লালমাটিয়া, মগবাজার, বাড্ডাসহ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে ধানমন্ডি, গুলশান উত্তরাসহ অভিজাত এলাকাগুলোতেও।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা অনির্বাণ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুব বেশি সময় লোডশেডিং হয় না। হুট করে চলে গিয়ে আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই চলে আসে।’

একই রকম অভিযোগ উত্তরার বাসিন্দা মেহরিন জাহানও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় না হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোল্টেজ কম থাকে।

রাজধানীর খিলগাঁওতে বিদ্যুতের সমস্যা একটু বেশি বলে জানান ওই এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সুমন।

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ২৫ মেগাওয়াট। ওই দিন উৎপাদনও তাই ছিল।

ওই দিন ঢাকায় চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৫৯১ মেগাওয়াট। এ সময় কোনো লোডশেডিং হয়নি। দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোতেও লোডশেডিং হয়নি।

এ সময় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট। এ ছাড়া খুলনায় ১ হাজার ৫১৫ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ৯৯৪ মেগাওয়াট, সিলেটে ৫৭৯ মেগাওয়াট, বরিশালে ৩৬৯ মেগাওয়াট ও রংপুরে ৭০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল।

বিদ্যুতের একই রকম চাহিদা গত কয়েকদিন ধরেই রয়েছে। উৎপাদনও একই রকম। এরপরও বিদ্যুৎবিভ্রাট কেন, তা জানতে চাওয়া হয় পিডিবির জনসংযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাইফুল হাসান চৌধুরীর কাছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখন বিদ্যুতের শতভাগ সক্ষমতা রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এটি আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। আর দেশে গড় চাহিদা দৈনিক ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এ চাহিদা অনুযায়ীই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৪ কোটি। দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা।

পিডিবি জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশে ১৩ হাজার ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা এ যাবতকালে সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বইটিতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করা হয়েছে ‘লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা’ তালিকা থেকে।

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে আসা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার লেখনীতে জীবন্ত হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বইটিতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করা হয়েছে ‘লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা’ তালিকা থেকে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ছোট একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে তুলে ধরা কঠিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা চালু রাখতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন সবদিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু পৃথিবীতে একমাত্র নেতা যিনি তার জীবদ্দশায় একাধারে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও হয়তো আমরা পরাধীন থাকতাম।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অল্প দিনেই বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আর একদিকে শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ্ব সভায় তিনি বাংলাদেশের নেতা হিসেবে কথা বলেননি, বিশ্বনেতা হিসেবে কথা বলেছেন।

‘তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই পয়সা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি উপদেশ দিতেন, বিশ্বের নীতি কী হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল শুরু

ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল শুরু

বেনাপোল স্থলবন্দর। ফাইল ছবি

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আর বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে অনাপত্তি সনদ নেয়ার প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশে ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী চলাচল শিথিল করা হয়েছে। ফলে ১০ স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে যে বিধিনিষেধ ছিল তা শিথিল করার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে ১৪ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয় এমন বিভাগগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য (ssd.gov.bd) ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। মহামারি কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রত্যাশায় রয়েছে।

চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম‍ আছে, তারা বেনাপোল, আখাউড়া ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। সেজন্য তাদের দিল্লি, কলকাতা বা আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন থেকে অনুমতি নিতে হতো। এখন থেকে এটি আর নিতে হবে না।

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আর বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেয়ার প্রয়োজন হবে না।

ছয়টি স্থলবন্দর বেনাপোল, আখাউড়া, সোনামসজিদ, হিলি, দর্শনা এবং বুড়িমারীতে সীমান্তে চলাচলের জন্য আগের মতো চালু হবে। এছাড়াও, আরও পাঁচটি স্থলবন্দর ও স্থল শুল্ক স্টেশন (শেওলা, তামাবিল, ভোমরা, বিরল এবং বাংলাবান্ধা) যাত্রীদের চলাচলের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা হবে।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এবার জাতিসংঘের প্রধান্য দেওয়া ইস্যুগুলোর প্রত্যেকটি বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর উপর যেসব ইভেন্ট আছে বাংলাদেশ তার সব কয়টিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

২ সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় সফরে দীর্ঘ ১৯ মাস পর বিদেশ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ মোট ৮০ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলও তার সঙ্গী হচ্ছে।

সফরে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা ইস্যু, করোনার টিকাসহ নানা বৈষম্য ও বিভিন্ন বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। কোভিড বাস্তবতায় এবারের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল খুব ছোট আকারে গঠন করা হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এবারের অধিবেশনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে কোভিড-১৯ ও পরবর্তী টেকসই পুনরুদ্ধার ও পুনঃনির্মাণ। কোভিড-১৯ থেকে মুক্তিলাভের জন্য, বিশ্বব্যাপী টিকা বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়টি এবারের অধিবেশনে বিশেষভাবে আলোচিত হবে।

এ ছাড়া আসন্ন অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে বলে জানান তিনি।

মোমেন বলেন, ‘এবারের কপ-২৬ থেকে বিশ্ব যাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেতে পারে, সে বিষয়েও এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু বিষয়ে সোচ্চার দেশগুলোকে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

মহামারির মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য-বিভেদ ইত্যাদি আশংকজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিভেদ নিয়ে কখনোই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়টিও এবারের অধিবেশনে আলোচনায় আসবে।’

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবারের সম্মেলন

এবার জাতিসংঘের প্রধান্য দেওয়া ইস্যুগুলোর প্রত্যেকটি বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর উপর যেসব ইভেন্ট আছে বাংলাদেশ তার সব কয়টিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা। সিভিএফ চেয়ার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন দেশ হিসেবে এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরবেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনে সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগের আহবান জানাবেন।

একই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত ‘White House Global Covid-19 Summit: Ending the pandemic and building back better’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদান করবেন।

একই দিনে বাংলাদেশের আয়োজনে ‘Rohingya crisis: Imperatives for a sustainable solution’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও অংশগ্রহণের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ইতোমধ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে ওআইসি, আসিয়ান এবং ইউরোপিয়ান দেশগুলোর পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ওআইসি অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছি। কিন্তু পাঁচ বছরে এক জনকেও মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব হয় নি। অথচ বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন সর্বোচ্চ প্রাধান্যের ইস্যু। ওই সাইড ইভেন্টের মাধ্যমে এই বক্তব্যই আমরা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের খাদ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। খাদ্য খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরার জন্য এই সম্মেলন হবে একটি অনন্য উপলক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী ওই সভায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, খাদ্য বিতরণ এবং সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃত্বকে আহবান জানাতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

একই দিনে UN Common Agenda: Action to achieve Equality and Inclusion শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টেও প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য সম্পর্কে আলোকপাত করবেন। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, নিরাপদ অভিবাসন, করোনা টিকার ন্যায্য বন্টন, টিকার পেটেন্টসহ মেধাস্বত্ব উন্মুক্তকরণ, ফিলিস্তিনি ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে।

প্রতি বছরের মত এবারও, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন। কোভিড মহামারির প্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিবারের ন্যয় বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, ভিয়েতনামের মহামান্য রাষ্ট্রপতি নগুয়েন জুয়ান ফুক, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মাইকেলসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিবারের মতো প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আয়োজনে একটি গোল টেবিল বৈঠকেও অংশগ্রহণ করবেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধার বিষয় সমূহ তুলে ধরবেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের নিকট তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি হবে।

মোমেন বলেন, এবারের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে আমিও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে যোগ দেবার আশা রাখছি। এর মধ্যে পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট এর সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের সভা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অবশ্যই যেকোনো কারণে হিসাব তলব করতে পারে, ব্যাংক হিসাবও তলব করতে পারে। তবে আমি মনে করি এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে তাদের আমি চিনি ও জানি। তাদের অনেকের আর্থিক অবস্থাও আমি জ্ঞাত।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের কিছু দেখছেন না তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে, আমিও পত্রিকা দেখে খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি।

‘সরকার অবশ্যই যেকোনো কারণে হিসাব তলব করতে পারে, ব্যাংক হিসাবও তলব করতে পারে। তবে আমি মনে করি এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে তাদের আমি চিনি ও জানি। তাদের অনেকের আর্থিক অবস্থাও আমি জ্ঞাত।’

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে গত রোববার বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠায়।

চিঠিতে মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল থেকে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ছাড়া অন্য সাংবাদিক নেতারা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ।

ডিজিটাল আইনের পক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সাফাই

ডিজিটাল আইন প্রয়োগ করে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ থাকলেও এই আইনের পক্ষে সাফাই গাইলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তার মতে, কারো চরিত্র হনন করা হলে তিনি এই আইনে প্রতিকার পেতে পারেন। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটি দেশের সকল মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী এ ধরণের আইন আছে, আরও কঠিন আইন আছে। একজন সাংবাদিকের বা একজন গৃহিণী বা যে কারোর চরিত্র ডিজিটাল মাধ্যমে হনন করা হলে তিনি এই আইনে প্রতিকার পাবেন। সেজন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন।

‘একইসাথে এই আইন যেন সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধক না হয়, সেটি দেখতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে আমার স্বাধীনতা যেন অপরের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা আছে, অনেক উন্নয়নশীল দেশেও এরকম স্বাধীনতা নেই।

‘দুর্নীতি, অনাচার প্রতিরোধে, সমাজে শৃঙ্খলা আনতে, সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়ার জন্য, অবহেলিত ব্যক্তির প্রতি সমাজ, রাষ্ট্র, সরকারের দৃষ্টিপাতের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ এখনও সমগুরুত্বে প্রকাশ হয় না।’

গণমাধ্যমকে শৃঙ্খলায় আনতে সাংবাদিকরাই এই দাবি জানিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের একজন হয়ে সেই চোখ দিয়ে বিষয়গুলো দেখার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশৃঙ্খলা দূর করার চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এসেছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

‘বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর ক্রম নিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা ছিল, কেবল অপারেটরদের কাছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে ধরনা দিতে হতো। এখন সম্প্রচার শুরুর তারিখ অনুযায়ী চ্যানেলগুলো দেখানো হয়। পয়লা অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলগুলো যাতে অনুমতি ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপন দেখাতে না পারে সেজন্য আমরা দেশে প্রচলিত আইন কার্যকর করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সেটি ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকেও অবহিত করেছি। কারণ ভারতের প্রচুর চ্যানেল এখানে প্রদর্শিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, যেটি আইন বহির্ভূত। আইপি টিভি’র ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি, রেজিস্ট্রেশন দেয়ার কাজ খুব সহসা শুরু হবে।

‘সংবাদপত্রেও নানা অনিয়ম বিশৃঙ্খলা আছে। ডিএফপিতে পত্রিকার যে প্রচার সংখ্যা, সেটি যুগ যুগ ধরে একটি অবাস্তব সংখ্যা। অনেকে সেটিকে ভৌতিক প্রচার সংখ্যা বলেন। পত্রিকা বের হয় তিন হাজার কিন্তু প্রচার সংখ্যা এক লাখ, পত্রিকা বের হয় পাঁচ হাজার প্রচার সংখ্যা দুই লাখ। আমরা সেখানেও শৃঙ্খলা আনবো। চার ‘শ পত্রিকা গত দুই বছরে একটি সংখ্যাও ডিএফপিতে জমা দেয়নি।’

নিয়মিত প্রকাশিত না হওয়ায় প্রায় ১২০টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এরা বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি করে। যেদিন বিজ্ঞাপন পায়, সেদিন ছাপায়। আর এতে করে যে পত্রিকাগুলো সত্যিকারের অর্থে প্রকাশিত হয় তারা বিজ্ঞাপন বঞ্চিত হয়।

‘বিজ্ঞাপন বঞ্চিত হওয়ার কারণে সেই পত্রিকার সাংবাদিকরা বেতন থেকে বঞ্চিত হয়। সাংবাদিকরা দাবি জানিয়েছেন সেখানে শৃঙ্খলা আনার জন্য। সেই দাবি আমাকে সাহস জুগিয়েছে, আমি সেখানে শৃঙ্খলা আনবো।’

করোনার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনাকালে বাংলাদেশ ছাড়া এই উপমহাদেশে কোথাও সাংবাদিকদের এককালীন সাহায্য দেয়া হয়নি। ২০২০ সালে যখন করোনা দেখা দিলো তখন সাংবাদিকদের এককালীন সহায়তা দেয়ার জন্য আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বরাদ্দ না পেয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত অর্থ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দিয়ে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সাংবাদিককে করোনাকালীন সহায়তা দেয়া হয়েছে।

‘এরপর ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব জেনে ১০ কোটি টাকা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে অনুদান দিয়েছেন। এই সাহায্য চলমান রয়েছে। এই কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যাই স্থাপন করেছেন। এখন শুধু সাংবাদিক নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও চিকিৎসা কিংবা লেখাপড়ায় সহায়তার জন্য নীতিমালার খসড়া হয়েছে, যা চূড়ান্ত হলে সাংবাদিকদের পরিবারও উপকৃত হবে।’

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

জলবায়ু বান্ধব এসি তৈরি হচ্ছে দেশে: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু বান্ধব এসি তৈরি হচ্ছে দেশে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন

পরিবেশমন্ত্রী জানান, ওজোনস্তর সুরক্ষায় চালু হওয়া হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত এয়ারকুলার বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে।

দেশে জলবায়ুবান্ধব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। সরকারের চালু করা হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ এর আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘মন্ট্রিল প্রটোকল মেনে ওজোনস্তর রক্ষা করি, নিরাপদ খাদ্য ও প্রতিষেধকের শীতল বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্যে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

এ সময় পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ওজোনস্তর সুরক্ষায় বাংলাদেশে চালু হওয়া হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ এ জলবায়ু বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত এয়ারকুলার বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে।

‘এ লক্ষ্যে সরকার রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং পণ্য উৎপাদকদের জন্য ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ প্রদান করছে। সরকার রপ্তানি উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরী পোশাক শিল্পের পর অন্যতম সেক্টর হিসেবে রেফ্রিজারেশনকে এগিয়ে নিচ্ছে। রূপান্তরিত এসিগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ওজোনস্তর রক্ষায় গৃহীত ভিয়েনা কনভেনশন এবং মন্ট্রিল প্রটোকলের সফলতার এক গর্বিত অংশীদার। চলমান মহামারি মোকাবিলায় খাদ্য ও টিকা সংরক্ষণে রেফ্রিজারেশন পদ্ধতি যুগোপযোগি ও পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে মন্ট্রিল প্রটোকলের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

‘বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের সকল ধাপ যথাসময়ে সঠিকভাবে অতিক্রম করেছে এবং প্রটোকলের বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন করছে।

হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন এর ওজোনস্তর ক্ষয়ের সক্ষমতা অত্যন্ত কম হলেও এর বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টির ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। তাই বর্তমানে এয়ারকন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপন ও ফোম সেক্টরে ব্যবহৃত এইচসিএফসি ফেজ আউট করার কাজ চলছে।’

পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৬ সালে কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু ওজোনস্তর রক্ষাকল্পেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও মন্ট্রিল প্রটোকল একইভাবে সাফল্য লাভ করবে। মন্ট্রিল প্রটোকল অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ এবং ২০১৭ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্তৃক বাংলাদেশ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।

‘এ ছাড়া ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন, জাতিসংঘ পরিবেশ এবং ওজোন সেক্রেটারিয়েট ২০১৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর- কে পুরস্কৃত করে।’

অনুষ্ঠানে ইনোভেশন পুরস্কার ২০২০, জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২০ এবং পরিবেশ অলিম্পিয়াড পুরস্কার ২০২১ প্রদান করেন পরিবেশমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটোপাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটোপাস

এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হতে অটোপাশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শর্তসাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যেসব শিক্ষার্থী বিধি মোতাবেক অন-লাইন কোর্স সম্পন্ন ও ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আবেদনের ফরম পূরণ করেছেন তাদেরকে তৃতীয় বর্ষে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া ২০১৭-১৮, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের যেসব অনিয়মিত শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষে উন্নীত হয়নি এবং ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে তাদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হতে অটোপাশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন, তাদেরও শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে ক্লাস করার অনুমতি দেয়া হয়।

জানা যায়, ২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬ এবং অনিয়মিত ১৯ হাজার ৫০ জন। আর মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হবেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়
ঈদের আগে বাড়ি যেতে আজও ভিড় শিমুলিয়ায়

শেয়ার করুন