এই খাল নাকি খনন হয়েছে

এই খাল নাকি খনন হয়েছে

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বিজয়পুর দাইদিঘীর পাড় থেকে মিজি বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনর্খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

বাইরে থেকে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে এলাকার ৬৭ জন শ্রমিকের নাম জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জব কার্ড তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠে প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের উপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের এক ফুট মাটিও কাটা হয়নি। ৫-৬ জন শ্রমিক ২-৩ দিন ঘাস, লতা-পাতা ও জংলা পরিষ্কার করেছেন। কাজ না করেই দাইদিঘীর পাড়ে প্রকল্পের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

টাকা এসেছিল খাল খনন করার। কাগজে কলমে কাজও হয়েছে। কিন্তু আদৌ কোনো কাজ হয়নি, বলছে স্থানীয়রা।

এই খাল খননের উদ্দেশ্য ছিল দুটি। খালে পানি প্রবাহ বাড়ানো, আর স্থানীয়দের কর্মসংস্থান। কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। পুরো টাকাটাই পকেটে ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীসাথিদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, খাল খনন না করে ঘাস, লতা-পাতা পরিষ্কার করে প্রকল্পের টাকা লোপাট করেন তিনি।

কেবল স্থানীয়রা না, যাকে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়, যাকে করা হয় সদস্য, তারাও বলছেন কোনো কাজ হয়নি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান গত ২৭ এপ্রিল শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তারের আছে অভিযোগ করেছেন।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইউজিপিপি) আওতায় রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বিজয়পুর দাইদিঘীর পাড় হতে কেরানী সাহেবের বাড়ি হয়ে মিজি বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৮০ হাজার চারশ ঘনফুট মাটি কেটে ৬৭ জন শ্রমিকের জন্য দুইশ টাকা হারে ৪০ দিনের মুজুরি ও সর্দার ভাতা বাবদ ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর শুরু হয়ে কাজ ২৩ ডিসেম্বর শেষ হয় বলে জানানো হয়।

কিন্তু বাইরে থেকে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে এলাকার ৬৭ জন শ্রমিকের নাম জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জব কার্ড তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠে প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের উপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের এক ফুট মাটিও কাটা হয়নি। ৫-৬ জন শ্রমিক ২-৩ দিন ঘাস, লতা-পাতা ও জংলা পরিষ্কার করেছেন। কাজ না করেই দাইদিঘীর পাড়ে প্রকল্পের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

বিজয়পুর গ্রামের বদিউল আলম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ নিজের তত্ত্বাবধানে ২-৩ দিন ৪/৫ জন শ্রমিককে দিয়ে খালের জঙ্গল পরিষ্কার করিয়েছেন। কিন্তু খাল খনন করা হয়নি।’

একই গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি এই প্রকল্প কমিটির একজন সদস্য। ৪০ দিনের কর্মসূচির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান নোয়াখালী থেকে ৬-৭ জন শ্রমিক দিয়ে কয়েকদিন খালের আগাছা পরিষ্কার করিয়েছে। খাল খননের জন্য বরাদ্দ হলেও কোথাও খাল খনন করা হয়নি।’

এই খাল নাকি খনন হয়েছে
অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

খাল খনন প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘কাগজপত্রে আমিই প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান। তবে এই প্রকল্পের ভালোমন্দ কোন কিছুই আমার জানা নেই। চেয়ারম্যান নিজে সব তদারকি করেছেন। তবে ২/১ দিন বহিরাগত কিছু শ্রমিক খালের আগাছা পরিষ্কার করেছেন। ওই সময় চেয়ারম্যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সবুজ মিয়াকে কাজ দেখাতে এনেছিলেন। পরে চেয়ারম্যানের আদেশে আমি বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছি। তবে বিল উত্তোলনের বিষয়ে কিছু জানি না। আমি আমার ওয়ার্ডের কৃষক ও সাধারণ জনগণের পক্ষে এই প্রকল্পের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘পরপর দুই বছর খাল খনন করেছি। প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম নিজে কাজ করিয়েছেন এবং বিল উত্তোলন করেছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। কাজ নিয়ম মতোই করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘খাল খননের কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি নিজে খাল পরিদর্শন করেছিলাম।’

আরও পড়ুন:
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের
২০ কালভার্টে ২৫ লাখ ঘুষ, তবু বিল দিতে গড়িমসি
বাফুফের আর্থিক হিসেবে গড়মিল খুঁজে পেয়েছে ফিফা
দুর্নীতির দায়ে সওজের প্রকৌশলীর কারাদণ্ড
উত্তর ঢাকায় ৮০ লাখ টাকার রোড সুইপার ৬ কোটি টাকায়!

শেয়ার করুন

মন্তব্য