রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

গ্রেপ্তার চারজনকে সোমবার সোনারগাঁ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজই তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ছবি: নিউজবাংলা

রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর জুরাইন থেকে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টি মামলার প্রধান আসামি মাওলানা ইকবালসহ হেফাজতে ইসলামের চার নেতাকে ঢাকার জুরাইন থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন হেফাজতের সোনারগাঁ থানা শাখা কমিটির সহসভাপতি মাওলানা ইকবাল, সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শিবলী ও কার্যকরী সদস্য মোয়াজ্জেম।

র‌্যাবের ভাষ্য, ঘটনার সময় ইকবাল মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হেফাজত কর্মীদের জড়ো করেছিলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার চারজনকে সোমবার সোনারগাঁ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজই তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

৩ এপ্রিল মামুনুল হক রয়্যাল রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তবে তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা হলেও মামুনুল তাকে নিজের চার সন্তানের জননী স্ত্রী আমিনা তাইয়্যেবা নামে পরিচিতি দেন।

এই বিষয়টি ছাড়াও ফাঁস হওয়া নানা ফোনালাপ এবং ঝর্ণার ছেলে আবদুর রহমানের বক্তব্যে মামুনুলের বিয়ের দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে। এর মধ্যে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মামুনুলের আরও একজন বান্ধবীর কথা প্রকাশ হয়েছে।

মামুনুল অবরুদ্ধ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করেন হেফাজতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুরও চালান।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জামিন জালিয়াতি: হাইকোর্ট থেকে আইনজীবী গ্রেপ্তার

জামিন জালিয়াতি: হাইকোর্ট থেকে আইনজীবী গ্রেপ্তার

আসামিপক্ষে শুনানি করতে এসে হাইকোর্ট থেকে গ্রেপ্তার আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজীব।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোটভাই মশিউল আলম গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় যুবলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনের জামিন নেয়ার একটি ভুয়া আদেশনামা (জামিন আদেশ) তৈরি করা হয়।

ভুয়া আগাম জামিন আদেশ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতির মামলায় বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বগুড়ার ৩০ আসামির জামিন জালিয়াতির ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় সিআইডির তদন্তে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজু, বগুড়ার আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ, রাজু আহমেদ রাজুর ক্লার্ক সোহাগ শেখ, কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ রানাসহ চারজনের নাম উঠে আসে।

‘এর মধ্যে সোহাগ শেখ গ্রেপ্তার হলে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরও কিছু আসামির নাম উঠে আসে।’

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। আদালত তখন অন্যান্য আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেন জানতে চান।

তখন তদন্তকারী জানান, আসামিদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

সে সময় আসামির আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজু হাইকোর্টে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন।

এ সময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আসামিরা হাইকোর্টে এসে পক্ষভুক্ত হতে চায়, আর আপনি আসামিদের খুঁজে পান না?’

আদালত তাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট।

এ মামলায় গত ৯ জুন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত দুই আইনজীবী ও কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ রানাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের জাল আদেশ দাখিল করে বগুড়ার আদালত থেকে জামিন নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় হাইকোর্ট গত ২৪ ফেব্রুযারি এক আদেশে যুবলীগের সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ও কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

এই আদেশ বাস্তবায়ন করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোটভাই মশিউল আলম গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থানায় মামলা করেন।

মামলায় যুবলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনের জামিন নেয়ার একটি আদেশনামা (জামিন আদেশ) তৈরি করা হয়।

আদেশনামায় দেখানো হয়েছে যে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে আসামিদের ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়েছে। এই জামিন শেষে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

এই ভুয়া আদেশের তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আসে। এরপর এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আরজি জানান। পরে হাইকোর্ট এদের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেয়। পরে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন মামলা করে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

সাবেক এমপি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক এমপি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। ছবি: সংগৃহীত

মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের মামলায় খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে চার্জশিটে অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের বিষয়ক উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের ঢাকা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলা করেন সংস্থাটির পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ।

এমপি থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই বছরের ৭ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় তাকে। ১৬ এপ্রিল দুদক কার্যালয়ে মিজানকে প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, এমপি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

এজাহারে বলা হয়, মিজান খুলনার বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজায় ৯০ শতাংশ জমির মূল্য দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করে পরে ২০ লাখ টাকা বিনিময় করে দলিল সম্পাদন করেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে জমি কেনার এই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে, প্রভাব খাটিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য অফিসের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে মিজানের বিরুদ্ধে। ২০১৮ বছরের শুরুতে এই অভিযোগেরও তদন্ত করে দুদকের অনুসন্ধানি টিম।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি নামে-বেনামে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে জমানো মোটা অঙ্কের সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ছিল মিজানের বিরুদ্ধে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে এমপি মিজান অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দুদককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করেন বলে জানান মিজান। কীভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন সেসব প্রমাণও দিয়েছেন বলে দাবি তার।

দুদক বলছে, এমপি হওয়ার পর তিনি ১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিশাল বাড়ি, খুলনা শহরতলিতে ৫০ কোটি টাকার জমি, স্ত্রীর নামে সোনাডাঙ্গায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন তালা বাড়ি করেন। সন্তানদের নামে বিঘা বিঘা জমিও আছে। রাজধানীর গুলশান ও ধানমণ্ডিতে রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট। এর বাইরে বেনামি সম্পদ রয়েছে কোটি কোটি টাকার।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

সংকট নেই আইসিইউ’র

সংকট নেই আইসিইউ’র

এবার আর গতবারের মতো আইসিইউ সংকট নেই। ছবি: নিউজবাংলা

সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লেখিত সংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকাকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুই-ই বেড়েছে।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর দিকে দেশে আইসিইউ নিয়ে যেমন হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল নয় আইসিইউ। সারাদেশে এখন আইসিইউ শয্যার অর্ধেকেরই বেশি ফাঁকা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লেখিত সংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫ হাজার ১৬১টির মধ্যে খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৫২টি। ৮২১টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ৫০৮টি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭০৫টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৩২টি। তবে এখানকার ২০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে কোনোটি খালি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ২৩০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ১৩৪টি। ২০টি আইসিইউর মধ্যে খালি রয়েছে ৩টি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মোট ২৭৫টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ২৯টি, তবে সেখানে থাকা ১০টি আইসিইউ শয্যার কোনোটি খালি নেই। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মোট ৩৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ২৫১টি, ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও ফাঁকা নেই।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের মোট ১৬৯টি শয্যার মধ্যে খালি ১১৩টি। ২৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ১৬টি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৭৪টি শয্যার মধ্যে খালি ১৫৪টি। এখানে ১৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৯টি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ২৬৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭২টি। ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও খালি নেই। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৯০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৬৭টি। ৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ৪টি। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের মোট ৪৭০টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৬৮টি। ১৫ টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৭টি।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ৪৮টি। এন আই সি ভি ডি হাসপাতালের ১২৭টি শয্যার মধ্যে খালি ১০৬টি। টিবি হাসপাতালের মোট ১৮৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭১টি। ৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৪টি। ডিএনসিসি হাসপাতালের মোট ২৫০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি ২৫০টি। ২১২টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ১২৯টি। এন আই ডি সি এইচ মহাখালীর ১১৪টি, এন আই কে ডি ইউ শ্যামলীর মোট ১৫টি শয্যার মধ্যে খালি ১৪টি।

ঢাকার মধ্যে ১২ টি বেসরকারি হাসপতালে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যার সংখ্যা পাঁচ হাজার ১৬১ জন। এরমধ্যে বর্তমানে খালি রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে। এসব হাসপাতালে মোট ৮২১টি আইসিইউ রয়েছে এর মধ্যে ৫০৮ বর্তমানে খালি রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, ঢাকাতে করোনা সেবার জন্য রাখা ৫ হাজার বেডের মধ্যে তিন হাজারই খালি। সংক্রমণ যদি অনেক বেশি হয় তাহলে যেসব হাসপাতালে খালি শয্যাগুলো আবারও সেবার জন্য প্রস্তুত করা হবে। ঢাকাসহ সারাদেশে ১২ হাজারের মতো শয্যা করোনা সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজারের মতো শয্যা এখনও খালি রয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় যেসব হাসপাতাল রয়েছে এসব হাসপাতালের শয্যা খালি নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, সম্প্রতি আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার করোনাভাইরাসের ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এটা ঢাকার জন্য খুবই উদ্বেগের। ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও, জনগণের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে শৈথিল্যও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত দুই সপ্তাহে ঢাকা বাইরে জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিত কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকাতেও তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

তৃতীয় ঢেউ ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সংক্রমণ। এটি প্রতিরোধে পরীক্ষা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

২০২০ সালে এনু-রুপনের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। ফাইল ছবি

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অর্থ পাচার মামলার আসামি গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন শাহরিয়ার কবির বিপ্লব। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

শাহরিয়ার কবির বিপ্লব নিউজবাংলাকে বলেন, দুটি মামলায় জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে একটি মামলা অর্থপাচার এবং আরেকটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

একটি মামলায় বলা হয়েছে, এনুর বাসায় ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা, সঙ্গে ৫ হাজার ১৬৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেছে।

‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা কারো বাসায় পাওয়া যায়, তাহলে দেশের কোন আইন নাই, যে আইন বলে বাংলাদেশি টাকা ঘরে রাখায় কোন অপরাধের মধ্যে পড়ে। এখন অর্থপাচার হতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অথচ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে তাদের রিটার্ন দাখিলে দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকার উপরে। আর পরের বছর দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকার উপরে। এখন কথা হলো বৈধ টাকা ঘরে থাকলে অপরাধের মধ্যে পড়ে কি?’

আরেকটি মামলায় রুপনের বাসায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়ে তার আইনজীবী বলেন, ‘তারও ইনকাম ট্যাক্সে একই রকম রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। এখন কথা হলো, কারো বাসায় যদি টাকা পাওয়া যায় তাহলে অর্থপাচার হয় কী করে? এসব বিষয় আমরা আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছেন।’

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে নাম আসা আলোচিত দুই ভাই এনু রুপন

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

এরপর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম ও এনুর বন্ধু হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, ৮ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তারা কারাবন্দী।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এনুর বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে পাঁচটি মামলা হয়। সেগুলোর মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের সরকার রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে রয়েছে। আমি উল্লেখ করতে চাই, টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কেও সহযোগিতা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিন্তা করলে এ দেশে একটিমাত্র মূল দল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। সেটি হলো আওয়ামী লীগ।

২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে দলের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন দলটির সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতকর্মীরা প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আমরা যদি শহীদের তালিকা দেখি কটা মানুষ জীবন দিয়েছে এদেশের জন্য, একমাত্র আওয়ামী লীগই। আর একটা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আমরা যদি হিসেবে করে দেখি তাহলে এ দেশে কটা রাজনৈতিক দল আছে?

‘অনেকে অনেক কথা বলেন। আমরা যদি জনগণের সংগঠন হিসেবে দেখি, গণমানুষের সংগঠন হিসেবে দেখি, তৃণমুলের মানুষের দ্বারা রচিত একটি সংগঠন, সেটি কিন্তু আওয়ামী লীগ। সেই সাথে আমাদের আরও পার্টি আছে যেমন কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্যান্য পার্টিগুলি আছে, ছোটখাটো। কিন্তু মূল একটি সংগঠনই সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে যে দলগুলো যারা খুব আহাজারি করে তাদের কীভাবে জন্ম? পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে…নিজেদের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। ক্ষমতা দখল করে আর্মি রুলস অ্যাক্ট সব বাদ দিয়ে, সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেদের ঘোষণা দিয়ে তারপর আবার রাজনীতিতে অবতরণ করে।

‘তখন ক্ষমতায় বসে সেই মার্শাল ল জারি অবস্থায় যে দল তৈরি করে সেটাই একটা হলো বিএনপি আর একটা হলো জাতীয় পার্টি। এখন বিএনপি জাতীয় পার্টি তো জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসে নাই বা জনগণের জন্য কাজ করেও উঠে আসে নাই। ক্ষমতা দখলকারীর হাতে সৃষ্টি হওয়া একটি দল। আমি মনে করি যারা সমালোচনা করেন তাদের এটি মনে রাখা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইয়ুব খান যে পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসেছিল, একইভাবে জেনারেল জিয়াউর রহমানও ক্ষমতায় আসে, জেনারেল এরশাদও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

‘কিন্তু এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছে সংগ্রাম করেছে তারা হলো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ সংগ্রাম করেছে বলেই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন সেটাও যদি সেটাও কিন্তু এই আওয়ামী লীগের হাতেই।’

আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তার কারণ একটাই। যেহেতু আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের সংগঠন, মানুষের বঞ্চনা-শোষণ তারা দেখেছে। মানুষের কষ্ট দুঃখ তারা উপলব্ধি করেছে। এই কষ্ট দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই কিন্তু আওয়ামী লীগের সৃষ্টি।

‘আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এই বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যই পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে যদি বিবেচনা করা যায় তাহলে এখানে কিছু বাম দল আছে, কিছু দক্ষিণপন্থি আছে। কিন্তু সত্যিকারের গণমানুষের দল হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একমাত্র দল আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকে অনেক কিছু বলেন কিন্তু এই জিনিসটা কখনো উপলব্ধি করেন না। করবেন কী করে? এদেশে যদি একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বা যখন কোনো অরাজনৈতিক অথবা অগণতান্ত্রিক সরকার আসে তখন তাদের মূল্যটা বারে। কেউ কেউ পাবার আশায় বসে থাকে।

‘এ কারণে তারা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না। তারা ক্ষমতার পেছনে ছুটেন। পদলেহন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে যা করে জনগণের কল্যাণে করে।’

দেশের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এ বছর ৭২ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন ভবনে জন্ম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের রাখা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সে সময় প্রতাপশালী মুসলিম লীগের সঙ্গে লড়াই করে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদ, এরপর জিয়াউর রহমানের সেনাশাসন, পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সেনাশাসন এরপর বিএনপির সঙ্গে লড়াই, প্রতিযোগিতা করে আজকের অবস্থানে এসেছে দলটি।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

সনাতন এই রিকশাগুলোতে লাগানো ব্যাটারি ও মোটর খুলে ফেলতে হবে বলে। ফাইল ছবি

যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই। প্যাডাল চালিত যেসব বাহনে মোটর লাগানো হয়েছে, খুলে ফেলতে হবে কেবল সেগুলো।  

সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধ ঘোষণার তিনদিন পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সরকার। বলা হয়েছে, প্যাডেল চালিত যেসব রিকশা ও ভ্যানে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র লাগানো হয়েছে সেগুলো থেকে ব্যাটারি ও মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই।

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার
স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশাগুলো চলবে আগের মতোই। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক বাহন থেকে মোটর ও ব্যাটারি খুলে ফেলতে হবে। কারণ, গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক রিকশায় মোটর লাগানো হয়েছে। এতে চালকদের কষ্ট কমার পাশাপাশি গতি দ্রুত হওয়ার কারণে, একই সময়ে বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। ফলে আয় ভালো হয়। আর এ কারণে এই চালকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

গত রোববার সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা ও এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কর্ফোসের তৃতীয় সভায় সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্যাডেল চালিত রিকশা ও ভ্যান থেকে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সারা দেশে রিকশা-ভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। সামনের চাকায় শুধু ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নাই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উল্টে যায়। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি হাইওয়েতেও এ রিকশা চলে এসেছে।’

তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘সে জন্য আমরা সারা দেশে, এই ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশাকে যারা ইঞ্জিন দিয়ে রূপান্তর করেছিলেন, সেই সমস্ত রিকশা-ভ্যান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আজকের সভাতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি হবে।’

সরকারের এ ঘোষণার পর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চালকরা।

সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

এ ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট

ঢাকা থেকে গাজীপুরে প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট টঙ্গীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমেদ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ফ্যাক্টরির কথা বললে সেটা আমি অ্যালাউ করব না। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে সার্বিক লকডাউনের কথা।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার দ্বিতীয় দিনে নগরীতে ঢোকার অন্য প্রবেশমুখগুলো থেকে একটু আলাদা চোখে পড়েছে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা।

জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন বা ব্যক্তিকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি গাজীপুরেও প্রবেশ করতে দেয় হয়নি কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যক্তি কিংবা পরিবহন।

টঙ্গীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমেদ বুধবার সকাল থেকেই অবস্থান নেন টঙ্গী বাজারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ সময় তিনি শুধু জরুরি পরিষেবার গাড়ি বা ব্যক্তিকে ছাড় দিয়েছেন।

এতে অবশ্য ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে অনেককে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীতেও শাটডাউন আরোপ করা হয়। এ অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এক সপ্তাহের লকডাউনে সাত জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনে বিধিনিষেধ থাকবে না।

হঠাৎ করে আসা ঘোষণায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ে। বাসের সীমাবদ্ধতা না জেনে অনেকেই ভিড় করেন বাসস্ট্যান্ড ও বাস টার্মিনালগুলোতে। তবে এক দিন পর কিছুটা বদলে যায় সেই চিত্র।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
ঢাকা থেকে গাজীপুর প্রবেশের পথ টঙ্গীতে অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সরেজমিনে দেখা গেছে, আব্দুল্লাহপুর মোড়ের ঢাকার পরিবহনগুলো তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে আবার ঢাকায় ঢুকছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্য পরিবাহী ট্রাক, পিকআপ টঙ্গী ব্রিজ পার হলেও বাধার মুখে পড়ছে পুলিশ চেকপোস্টে।

সেখানে অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ। বেশি কড়াকড়ি আরোপ করায় ব্যক্তিগত গাড়ি বা অফিশিয়াল গাড়িতে একজনের যাতায়াতও বাধা দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প এলাকা বলে বেশির ভাগ ব্যক্তিগত গাড়ির আবেদন তাদের যেন চলতে দেয়া হয়। কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেয়নি প্রশাসন। এ জন্য অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই দেখা যায়, বাটা কোম্পানির একটি গাড়ি আটকে দেন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির। অনুনয় করলেও মেলেনি চলার অনুমতি।

এমন সময় বাটার এক কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

ওই কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রজ্ঞাপনের কথা মনে করিয়ে বলেন, ‘আপনি এভাবে গার্মেন্টস রিলেটেড গাড়ি বা ব্যক্তিকে আটকাতে পারেন না। একটা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এমন আচরণ মানায় না। আমি না গেলে আমার কোম্পানির ক্ষতি হবে।’

উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ফ্যাক্টরির নামে ইনডিভিজুয়াল গাড়ি আমি যেতে দেব না। আপনি চাইলে আবার প্রজ্ঞাপন দেখেন। সেখানে সার্বিক লকডাউনের কথা বলা আছে।’

একটা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ ওই কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় করেন।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
অনেকেই যানবাহন না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

একই রকম সুবিধা পেতে আরেকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্তা মো. সাঈদ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। অবশ্য তাকেও গাড়ি নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।

টঙ্গী ব্রিজের আগে আব্দুল্লাহপুর অংশ থেকে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বেশির ভাগই ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রো। অধিকাংশ গাড়ির ওপরে বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকার লাগানো। ভেতরে একজন বা দুজনের উপস্থিতি ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচলিত করতে পারেনি।

ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ির ক্ষেত্রে আমাদের এখানে অ্যালাউ করা হয়েছে শুধু পণ্যবাহী ও জরুরি পরিষেবা। এখানে অনেকেই আসছেন যে আমাদের ফ্যাক্টরির গাড়ি।

‘আসলে সেগুলোকে জরুরি পরিষেবা বলা যাবে না। বিশেষ ব্যবস্থায় গার্মেন্টস বা শ্রমিকদের যাওয়া-আসার জন্য সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেটা অ্যালাউ করব।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ফ্যাক্টরির কথা বললে সেটা আমি অ্যালাউ করব না। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে সার্বিক লকডাউনের কথা।’

কাল ট্রেনে, আজ হেঁটে

লকডাউনে বেশি বিপাকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। শুধু ঢাকায় ঢোকা বা বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করায় একধরনের ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
পরিবহন সব বন্ধ থাকলেও ভ্যান কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাত্রীরা গাজীপুরে ঢুকছেন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

গতকাল রাতে ট্রেনে ভোটার আইডি কার্ডের কাজে জয়দেবপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন ছোটন। বুধবার থেকে ট্রেন বন্ধ থাকায় তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কোনোভাবে আব্দুল্লাহপুর আসলেও এখন যাওয়ার কোনো রাস্তা তার জানা নেই।

ছোটনের মতো সমস্যায় রয়েছেন মিনহাজুল করিম। সোমবার গাজীপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসেন। এখন যাওয়ার জন্য তাকে যে ধকল পোহাতে হচ্ছে, এতে আরও অসুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।

লকডাউনে কেন তারা ঘরের বাইরে এমন প্রশ্নে মিনহাজ বলেন, ‘অসুস্থতার তো কোনো ঠিক-ঠিকানা নাই। আপনি আমাকে না জিজ্ঞেসা করে এই রাস্তায় আর যারা আছে সবাইকে বলেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এত কষ্ট করে কেউ ঘর থেকে বের হয় নাকি।’

এখন যাত্রায় তাই সঙ্গী সিএনজি আর ভ্যান। ভাড়া দ্বিগুণ দিলেও একটু দূরের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।

নিউজবাংলা খোঁজ নিয়েছে কীভাবে মানুষ গাজীপুর ঢুকছেন। টঙ্গী ব্রিজ পার হলে গাজীপুর যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে গাজীপুরমুখী বাসগুলো আব্দুল্লাহপুর এসে ঘুরিয়ে নিলেও সাধারণ যাত্রীরা এই পাশে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুর চৌরাস্তা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাড়া ২০০ টাকা করে নিচ্ছে।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
ঢাকায় চিকিৎসা করাতে এসে অনেক পরিবার গাজীপুরে ফেরার সময় বিপাকে পড়ে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নিউজবাংলাকে বলেন, যারা গাজীপুর যাবেন তারা এখান থেকে সিএনজিতে উঠছেন। চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনো ঝামেলা থাকে না। আবার ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটেও আব্দুল্লাহপুর হয়ে ভেতর দিয়ে মাইক্রো নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখেন আপনি তো এভাবে কোনো মানুষকে আটকাতে পারবেন না। একটা লোককে তো রাস্তায় রেখে যেতে পারব না। তাদের তো বের হয়া উচিত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?
এবার মামুনুলের ‘তৃতীয় বিয়ের’ সন্ধান
রিসোর্টকাণ্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত ব্যাপার: বাবুনগরী
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি
সোনারগাঁ তাণ্ডবে হেফাজতের সঙ্গী জাপা, দিশাহীন আ. লীগ

শেয়ার করুন