কেন আসছেন জন কেরি?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা জন কেরি

কেন আসছেন জন কেরি?

জো বাইডেনের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় পা রাখছেন জন কেরি। তবে মনে করা হচ্ছে, আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে দূতিয়ালী করবেন জন কেরি।

শুক্রবার সকালে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা জন কেরি, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জন কেরি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জলবায়ু উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান ইস্যু জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে করোনাকালে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন খাত উদ্ভাবন। আগামী দিনের এই জলবায়ু লড়াইয়ে জয়ী হতে বাংলাদেশকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এ জন্য আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট লিডারস সামিট’ নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দিতে ৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জো বাইডেন।

আবদুল মোমেন বলেন, ‘মূলত এসব কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু বিষয়ক ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে সশরীরে ৯ এপ্রিল ঝটিকা সফরে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি।’

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, যে সম্মেলন ভার্চুয়ালি হবে, এই মহামারির মধ্যে সেটার আমন্ত্রণপত্র হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা নয়। ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বাস্তবায়নেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসনকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন।

এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে ভারত, জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় সামরিক জোট কোয়াডে বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এতে পশ্চিমা এ দেশটির সঙ্গে সমান চেষ্টা চালাচ্ছে প্রধান উন্নয়ন অংশীদার জাপান। চীনের সঙ্গে বিরোধের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত আগে থেকেই সামরিক জোটে নিতে চায় বাংলাদেশকে। এদের সবার লক্ষ্য চীনকে ঠেকানো।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট গত ৩১ মার্চ জানিয়েছে, আসন্ন ক্লাইমেট লিডারস সামিট এবং কপ-২৬ (বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন) সম্মেলনের ভালো অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি ১ থেকে ৯ এপ্রিল আবুধাবি, নয়াদিল্লি ও ঢাকা সফর করবেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে: ‘জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় এই বছর আমরা খুব ভালো অগ্রগতি করতে চাই, যা আমাদের জন্য জরুরি। রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত জন কেরি এ বিষয়ে একাধিক দেশ ভ্রমণে বের হওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা যে অগ্রগতি করতে চাই তা সমন্বয়ের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে আমরা সকলে মিলে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি।

‘কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে যাতে সকলে মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখে, বিশেষ দূত জন কেরির এই সফর তা নিশ্চিতের চেষ্টা করবে। এই সফরে জন কেরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্য আইন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে এই সফরে তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা জেমস দিউয়ে বলেন, ‘যেহেতু এটা করোনাকাল, তাই এই সফরে জন কেরি খুবই সতর্ক থাকবেন। এই সফরে যাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে, তাদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে।’

কূটনৈতিক মহল মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনের নেতৃত্বে রোড অ্যান্ড বেল্ট উদ্যোগসহ একাধিক বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার।

ভৌগলিক অবস্থানই বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বের ২৬ ভবিষ্যত শক্তির মধ্যেও বাংলাদেশ ১৮তম। তাই ১ নম্বর শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই নম্বর শক্তি চীনসহ জাপান, ভারত, অষ্ট্রেলিয়া সবাই বাংলাদেশকে পাশে চায়।

বাংলাদেশ সবার সঙ্গে উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক জোটে থাকতে চাইলেও কোনো সামরিক জোটে আগ্রহী নয় বলে একাধিকবার জানিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসে সবার চাপ ঢাকার ওপর বেড়েছে। মার্কিন একজন উপমন্ত্রী সাম্প্রতিককালে ঢাকা সফরে এসে ইন্দো-প্যাসিফিক জোটে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা আবার জানান। একই সময়ে জাপানের পররাষ্ট্র সচিব দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে তাদের আগ্রহের কথা জানান।

তবে কেরির সফরকে বাংলাদের জন্য গর্বের বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘উনি না আসলেও পারতেন। কিন্তু উনি প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এতে আমরা খুবই গর্ব ফিল করছি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন জলবায়ু ইস্যুকে বড়ই গুরুত্ব দিচ্ছে।

‘বাইডেন শপথ নিয়েই জন কেরিকে তার জলবায়ু উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্যারিস চুক্তি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেছেন। বলতে গেলে তার চেষ্টাতেই ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে জলবায়ু চুক্তি (প্যারিস এগ্রিমেন্ট) হয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আগে একাধিকবার কথা হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘বাইডেন শপথের পরই কেরি আমাকে ফোন কল করেছিল। সেই সময় থেকেই তারা আমাদের সঙ্গে জলবায়ু ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চায় বলে জানান।

‘এরপরও তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার আমেরিকা সফরেও তার সঙ্গে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে বড়ই উদগ্রীব।’

কেরির সফরের সময় বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেবে বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রিতে নামিয়ে আনার বিষয়ে জোর দেব। একইসঙ্গে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নত ও শিল্পন্নোত দেশগুলো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, দূরপাল্লার বাস দেখলেই আটকে দেয়া হচ্ছে, ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কে রোববার থেকে অবাধেই চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বাস।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অবাধেই চলছে দূরপাল্লার বাস। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ফেরা যাত্রীদের নিয়ে গত দুইদিন ধরেই সড়কে বেড়েছে এই বাসগুলোর চলাচল।

মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে রাতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অসংখ্য বাস সেখানে। রোববার সকাল থেকেই মহাসড়ক দিয়ে চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস।

গাজীপুর পরিবহন নামের বাসের চালক মো. মাহিম বলেন, ‘সকালে গাজীপুরের যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসেছি। সরকারিভাবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হলেও পয়সার জন্যই বাস চালাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বাধা পাইনি।’

তবে পুলিশের দাবি, দূরপাল্লার বাস দেখলেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাস আসলেও তাদের ছেড়ে আসা স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

যদিও এই দাবির সত্যতা দেখা যায়নি মহাসড়কে। ঢাকার দিকে যেতে দেখা গেছে যাত্রীবোঝাই অনেক বাসই।

বাস ছাড়াও পিকআপ, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। তবে মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। পরিবহন বাড়ায় ভোগান্তিও নেই যাত্রীদের।

লকডাউনে মহাসড়কে অবাধে চলছে দূরপাল্লার বাস

এবারের ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেকর্ড পরিমান যানবাহন চলাচল করেছে। সেতু সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে চলাচল করেছে ৫২ হাজার যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২৪ ঘণ্টায় এ পরিমাণ টোল এই সেতুতে এর আগে আদায় হয়নি।

লকডাউনে মহাসড়কে অবাধে চলছে দূরপাল্লার বাস

ঈদ যাত্রায় শুরু থেকে যাত্রী চলাচলে ফেরি বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের যাত্রীরা বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে গন্তব্যে যান। যাত্রী চলাচলে পরে ফেরি খুলে দেয়া হলেও ঝামেলা এড়াতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে না গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঘুরেই বাড়ি যান দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার হয়ে যারা চলাচল করে, সেই পথেরও কিছু কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে। এতে সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বাড়ে ঈদের আগে।

শেয়ার করুন

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাবুল আকতরা কীভাবে, কেন, কার কার মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে তার জবানবন্দি লিখিত আকারে নেয়া হয়। সেই মোতাবেক আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা বলা হলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আরও কিছু সময় চেয়ে নেন। পরে রাতে ভেবে-চিন্তে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

পিবিআইয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘সাইকো’ মনে হয়েছে। তিনি আদালতের সামনে গিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালতের কাছে আবার রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে তিনি যে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় বাবুলের। এরপর সর্বশেষ ঢাকায় পোস্টিং হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয় তাদের।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হলে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ তাদের মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আকতারকেই দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার দেয় পিবিআইকে।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

ভোলার চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ার। ছবি: নিউজবাংলা

‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পঞ্চম দফা লকডাউন বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারির আগের দিন খুলে দেয়া হলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জ্যাকব টাওয়ার ও শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক।

ঈদের পরদিন বিকেল থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই দুটি বিনোদন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

রোববার বিকেলে চরফ্যাশনের শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা যায় শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর পার্কের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করছে। এদের কারও মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব দেখা যয়নি।

পার্কের গেটেও রাখা হয়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সুরক্ষা সামগ্রী। এমনকি গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও টিকিট চেক করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের মুখেও ছিল না মাস্ক। পার্কের ভেতরেও একই চিত্র। গাদাগাদি করে দর্শনার্থীরা পার্কের বিভিন্ন রাইডে উঠছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে জ্যাকব টাওয়ারে। সেখানেও দর্শনার্থীরা গাদাগাদি করে লিফটে চড়ে টাওয়ারের চূড়ায় উঠছেন। আবার কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
ভোলার চরফ্যাশনে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক

পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন জানান, ‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘শনিবার ভোলার জেলা প্রশাসক চরফ্যাশন আসায় তার জন্য পার্ক ও টাওয়ারটি খোলা হয়। তিনি যাওয়ার পর আবার বন্ধ করে দেয়ার কথা। তবে এখনও খোলা আছে কি না সেটি আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে আলাপ করব।’

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে ঘুরতে আসা মানুষজনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী জানান, ‘আমরা আসার পর টিকিট কেটে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ করার বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঈদের ছুটি শেষ হতেই আবার রাজধানী মুখী হচ্ছে কর্মজীবীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লকডাউন বা চলমান বিধিনিষেধ তুলে স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে চায় সরকার। এজন্য মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। এমন পরিস্থিতিতে ঈদে হুড়োহুড়ি করে যারা বাড়ি গেছেন, তাদের ফিরতি যাত্রায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে ঈদের আগে খুলে দেয়া হয় শপিং মল ও দোকানপাট। বন্ধ রাখা হয় আন্তজেলা গণপরিবহন, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শপিং মলগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়, মাস্ক ছাড়াই অনেকে করেছেন কেনাকাটা। জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি ঈদবাজার।

বাড়িমুখী মানুষকে গাড়ি বন্ধ করেও ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফেরিতে অগুণতি মানুষের সমাগম যেন তারই প্রমাণ রেখেছে। পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনার পরও আটকে রাখা যায়নি মানুষের স্রোত। এতে সংক্রমণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাসের ছোবলে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন পঞ্চম দফায় আরও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সময় বাড়িয়েছে সরকার। আগের নিয়মে বন্ধ রয়েছে আন্তজেলা বাস, লঞ্চ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

চাকরিজীবীদের ঈদে বাড়তি ছুটি ছিল না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অফিস আদালতে কাজ করছেন, মাত্র তিন দিনের ছুটি, তারা যাননি বললেই চলে। অতএব যারা গিয়েছেন তারা একটু পরে ফিরলেও মনে হয় ক্ষতি হবে না। কিছুদিন পরে যখন আমরা সবকিছু খুলে দেব, তখন ফিরলে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি ফেরা যায় সবচেয়ে ভালো হবে।’

সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ করোনাকে আমরা মোকাবিলা করব। আমরা চাই সংক্রমণ হারকে আরও কমিয়ে ফেলতে।’

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে এভাবে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় শহরবাসীর অনেককে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মাস্ক পরা অভ্যাসে পরিণত করতে চায় সরকার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে পরিস্থিতি বুঝে যত দ্রুত সম্ভব লকডাউন বা বিধিনিষেধ তুলে নিতে চাইছে সরকার। তার আগেই সিটি করপোরেশন, জেলা শহর ও পৌর এলাকাগুলোতে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা খুলে দিতে চাই, আমাদের অবস্থা-পরিস্থিতি বুঝে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকে নিয়েই যেহেতু এগিয়ে যেতে হবে, তাই মাস্ক পরাকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিকে আমরা আরও কমফোর্টেবল অবস্থায় নিতে চাই। তাই আমরা আগাম চিন্তা করছি, যখন আমরা খুলে দেব তখন শহর এলাকাগুলোতে যাতে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়। এটাকে ধরে রেখে আমাদের সমস্ত কাজকর্ম করতে পারব। এটাকে আমাদের একটা পার্মানেন্ট হ্যাভিটের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। নিয়ে এসে সব কাজকর্ম আমরা করতে চাই। আমাদের চিন্তাভাবনাটা এই রকম।’

প্রতিমন্ত্রী বলছেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ সাড়া দিচ্ছেন বলেই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ সাড়া দিলেও ১০ ভাগ মানুষ মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে ধারণা তার। তাই সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সংযুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের কোনো এখতিয়ার নাই, তারা কাউকে কিছু বলবে। আমরা চাচ্ছি পুলিশকে একটু ইনভলভ করতে, যাতে মাস্ক পরার জন্য তারা সবাইকে বলতে পারে।’

সব জায়গায় মোবাইল কোর্ট করা সম্ভব হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের সংখ্যা এত বেশি করাও যায় না। সেজন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের তো সবকিছু ওপেন করতে হবে একসময়। তাহলে যখন আমরা ওপেন করব, তখন যাতে স্বাস্থ্যবিধিটা সকলেই- বিশেষ করে আপনার সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এবং পৌরসভার মধ্যে শতভাগ মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। সেজন্য পুলিশকে এখানে ইনভলভ করার বিষয়টি ভাবছি।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে মাস্ক পরতে আহ্বান জানিয়ে আসছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

জনসমাগম ও সংক্রমণ মাত্রা যেখানে বেশি, সেখানে শতভাগ মাস্ক পরা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা একটু চিন্তাভাবনা করছি। আইনের হালকা একটু পরিবর্তন বা কোনো কিছু যদি করতে হয় তা নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা আমাদের চলছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদে করোনার সঙ্গে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে করোনা যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে এবং ২ শতাংশের মধ্যে থাকে সেটি আমরা চাইব।’

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিতে পুলিশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

কবে নাগাদ বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলমান আছে। এরপর আমরা যখন আস্তে আস্তে সব ওপেন করব... আবার ২২ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত একটা ঝুঁকির ব্যাপার আছে। সেটিও এখন আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। সবকিছু দেখে যখন আমাদের খোলা সম্ভব হবে, তখন যাতে করে আমরা পুলিশকেও কিছু দায়িত্ব দিতে পারি, কারণ মাস্ক পরার ব্যাপারটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। করোনা না যাওয়া পর্যন্ত মাস্ক পরাটাকে আমাদের শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।’

শেয়ার করুন

রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল

রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল

পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য মিলেছে, সেসব আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রাতে। সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

বাবুল আকতারকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে কিনা তাও সোমবারই বলা যাবে বলে জানান সন্তোষ কুমার চাকমা।

বাবুল আক্তার আদালতে মিতু হত্যার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিতু হত্যা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।

বাবুল আকতারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসান উল্লাহ সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমারা নগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, সোমবার বাবুল আকতারকে আদালতে তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত এসব মামলায় জবানবন্দি না দিলে আসামির একাধিকবার রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে বাবুল আকতারের রিমান্ডের আবেদন করলে আমরা বিরোধিতা করব।’

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হলে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিনা ভাড়ায় শহরে আনার পরামর্শ জাফরুল্লাহর

বিনা ভাড়ায় শহরে আনার পরামর্শ জাফরুল্লাহর

‘সরকারকে বলছি আপনারা ভুল করছেন। ভুলের পর ভুল করছেন। সরকারের উচিত হবে ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট বাস-ট্রেন চালু করা ও বিনা পয়সায় ঢাকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা। এবং ঢাকায় ফেরা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য টেস্টের ব্যবস্থা করা।’

ঈদে যারা বাড়ি গিয়েছেন বিনা পয়সায় তাদের ঢাকায় ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল নাগরিক আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

১৯৭৬ সালের এই দিনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ হয়। সেই থেকে দিনটি ফারাক্কা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

জাফরুল্লাহ লকডাউনে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে বলেন, ‘ঈদের আগে গণপরিবহন বন্ধ রাখা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। এতে মানুষের কষ্ট হয়েছে। মানুষ সরকারের ভুলে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। ঈদের সময় মহিলারা ঝুলে ঝুলে বাড়ি যায়, এত বড় অন্যায় কোনোদিন হয় নাই।

‘সরকারকে বলছি আপনারা ভুল করছেন। ভুলের পর ভুল করছেন। সরকারের উচিত হবে ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট বাস-ট্রেন চালু করা ও বিনা পয়সায় ঢাকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা। এবং ঢাকায় ফেরা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য টেস্টের ব্যবস্থা করা।’

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলারও সমালোচনা করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘কয়েক দিন যাবৎ গাজায় শিশু ও মানুষ হত্যা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা চলছে। আমরা কিছুই প্রতিবাদ করতে পারি নাই, অন্তত একটা সিম্বলিক প্রতিবাদও করি নাই।

‘মুসলিম রাষ্ট্রের কেউ কেউ ইহুদিদের নির্মতায় নীরব। এ সময়ে যদি মুসলিম রাষ্ট্রের নিজেদের ঝগড়া ভুলে গিয়ে এক হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেয়া যেত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ভারত খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে আমাদের পানি আটকে রেখেছে। কাজেই এর সমাধান তাদেরই করতে হবে। রাজনৈতিকভাবেই এটাকে মোকাবিলা করতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ, জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ এস আই খান, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরী, নিউনেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুরও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

পুলিশকে অপহৃত যুবকের মেসেজ, গ্রেপ্তার ৫

পুলিশকে অপহৃত যুবকের মেসেজ, গ্রেপ্তার ৫

অভিযোগকারী যুবক মাদকাসক্ত। তার এক কাজিনের সঙ্গে মাদক সেবন করতে অন্য একটি এলাকায় এসেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন বিপথগামী তাদের হেনস্থা করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে। তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আরও টাকা আনতে বলে। মোট ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই যুবক ও তার কাজিন ছাড়া পান।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে এক যুবক বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুক পেজের ইনবক্সে মেসেজ আসে, ‘আমি অপহরণ হইছি, স্যার। আমাকে সাহায্য করেন।’

বাংলাদেশ পু‌লিশের এআই‌জি (মি‌ডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, মেসেজটি পেয়ে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং ওই যুবক ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সিকদারকে নির্দেশ দেয়া হয়।

সোহেল রানা আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযোগকারী যুবক মাদকাসক্ত। তার এক কাজিনের সঙ্গে মাদক সেবন করতে অন্য একটি এলাকায় এসেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন বিপথগামী তাদের হেনস্থা করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে। তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আরও টাকা আনতে বলে। মোট ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই যুবক ও তার কাজিন ছাড়া পান।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন অন্তর, নাইম, র‌নি, শওকত ও র‌কি।

এ ছাড়া অভিযোগকারী যুবক ভবিষ্যতে মাদক সেবন করবেন না বা মাদকের সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা রাখবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন