আমাকে ‘অ্যাবিউজ’ করা হচ্ছে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন। ফাইল ছবি

আমাকে ‘অ্যাবিউজ’ করা হচ্ছে: তসলিমা নাসরিন

ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক টুইট করার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন তসলিমা নাসরিন। বুধবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘‘টুইটারে হাজার হাজার এবিউজবিরোধী সেনা আমাকে এবিউজ করছে, আমার দোষ কেন আমি মইন আলীকে “এবিউজ” করেছি। এর মানে মইন আলীকে এবিউজ করা ঠিক নয়, আমাকে এবিউজ করা ঠিক।’

ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলীকে নিয়ে বেকায়দা মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবার বললেন, তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেয় করা হচ্ছে।

ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বুধবার তসলিমা নাসরিন লিখেছেন: ‘টুইটারে হাজার হাজার এবিউজবিরোধী সেনা আমাকে এবিউজ করছে, আমার দোষ কেন আমি মইন আলীকে “এবিউজ” করেছি। এর মানে মইন আলীকে এবিউজ করা ঠিক নয়, আমাকে এবিউজ করা ঠিক।’

৫ এপ্রিল ইংরেজি ভাষায় লেখা এক টুইটে তসলিমা লিখেছিলেন: ‘মঈন আলী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত না হলে সিরিয়াতে গিয়ে আইএসে যোগ দিতেন।’

তার এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া জানান ইংলিশ টিমের কয়েকজন ক্রিকেটার।

মঈন আলীর বাবা মুনির আলী বিষয়টিকে ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন। তবে বেশি প্রতিক্রিয়া চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে।

তসলিমা নাসরিন নিজের করা আলোচিত টুইট দ্রুত সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দাবি করেছেন, মঈন আলীকে নিয়ে করা টুইটটি ব্যঙ্গাত্মক ছিল। কিন্তু এখন তাকে অপমান করার হাতিয়ার হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বুধবার করা ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমা বলেছেন, ‘অপমান অসম্মান অত্যাচার জীবনে কম দেখিনি। যত দিন বাঁচি তত দিন দেখতে হবে জানি। ঝাঁকে ঝাঁকে মুসলিম মৌলবাদী, ফেক বাম, আমাকে না-পড়া লোক, আমার কিছুই না জানা লোক, পঙ্গপালের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, লক্ষ শকুন যেন জীবন্ত আমাকে খুবলে খাচ্ছে। পকেটমার সন্দেহে গরিব নিরীহ ছেলেকে উন্মত্ত জনতা যেমন পিটিয়ে মেরে ফেলে, সে রকম মনে হচ্ছিল আমার, যেন আমি সেই গরিব নিরীহ ছেলেটি। দোষটা কী ছিল আমার?’

তসলিমা আরও লেখেন: ‘আজান পড়লে যে মানুষ মাঠেই নিজের জায়নামাজ পেতে নামাজ পড়েন, খেলা চলতে থাকলে নাকি আম্পায়ারকে বলে চলে যান নামাজ পড়তে, বিজয়ের শ্যাম্পেন খুললে দ্রুত সরে যান দূরে, বিয়ার কোম্পানির লোগো থাকলে সেই জার্সি পরবেন না বলে জানিয়ে দেন, পয়গম্বরের আদেশমাফিক গোঁফ ট্রিম করতে থাকেন, দাড়ি বড় করতে থাকেন, কোনো মেয়ে সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিলে মুখের দিকে একটিবারও না তাকিয়ে সাক্ষাৎকার দেন -- তাঁকে নিয়ে যদি কৌতুক করিই, তাহলে কি টুইটারের অ্যাকাউন্ট উড়ে যাবে? হ্যাঁ এমনই থ্রেট এসেছে।’

তসলিমা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাকে যারা গতকাল থেকে এবিউজ করছে, তারা তো অনেকেই শার্লি আব্দোকে সমর্থন করে। শার্লি আব্দো তো মস্করা করে বিখ্যাত লোকদের নিয়ে, তাহলে সেটা সমর্থন করে কীভাবে? নাকি ওরা ফরাসি বলে ওদের সমর্থন করা চলে!’

আক্ষেপ করে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘কেউ জানল না আমার স্ট্রাগল, আমার দীর্ঘ বছরের সংগ্রাম। মানবতা, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সমতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরবধি আমার লেখালেখি। সবাই মনে করতে লাগল আমি সারা জীবন ওই এক লাইনের একটা টুইটই লিখেছি, আমার আর কোনও কন্ট্রিবিউশন নেই, তাই আমাকে শায়েস্তা করা উচিত। মৌলবাদীদের দুদিনব্যাপী উৎসব চলছে। কারণ, বড় বড় ক্রিকেটার আমাকে গালি দিচ্ছেন, বামপন্থী গালি দিচ্ছেন, নামীদামি লোক গালি দিচ্ছেন, তাদের আনন্দ আর আর ধরছে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মৃত দুই তিমি যাবে সাফারি পার্কে

মৃত দুই তিমি যাবে সাফারি পার্কে

কক্সবাজারের হিমছড়ি পয়েন্টে মৃত তিমি। ছবি: নিউজবাংলা

সমুদ্র দূষণের কারণে তিমির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন পরিবেশবাদীরা। এক থেকে দুসপ্তাহ আগে তিমির মৃত্যু হলে তা ভেসে আসে সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে। প্রাপ্তবয়স্ক এসব তিমি ব্রাইডস হোয়েল জাতীয় বলে জানা গেছে।

সাগরে ভেসে আসা দুটি মৃত তিমির কঙ্কাল কক্সবাজারের চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে তিমি দুটিকে সাফারি পার্কে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিমি দুটিকে আগে সমুদ্র থেকে কিছু দূরে সরিয়ে রাখা হবে। পরে তিমি দুটির কঙ্কাল সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হবে। মৃত তিমি ব্রাইডস হোয়েল জাতীয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। মৃত তিমির একটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৩ ফুট প্রস্থ ১৪ ফুট। এটি ১৫ দিন আগে মারা যেতে পারে বলে ধারণা কারা হচ্ছে। শনিবার হিমছড়ি পয়েন্টে পাওয়া দ্বিতীয় তিমির মৃতদেহ পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা জানান।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে পাওয়া যায় একটি তিমির মৃতদেহ। তিমিটির শরীরে বেশকিছু জখমের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বনবিভাগ ও মৎস্য প্রণী সম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করে।

শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টের কাছাকাছি স্থানে আরেকটি মৃত তিমি পাওয়া যায়। দুটি তিমি ‘ব্রাইডস হোয়েল’ জাতের বলে শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল হক।

তিনি জানান, তিমিটি প্রাপ্তবয়স্ক। এটির বসবাস বঙ্গোপসাগরে। এটি নীল তিমিরই একটি জাত। তিমিটির দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৬ ফুট। যার ওজন আনুমানিক ২০ টন। অন্তত এক সপ্তাহ আগে এই তিমিটি মারা গেছে বলে ধারণা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা এর কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল বলেন, ‘সমুদ্র দূষণের কারণে বা প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে তিমির মৃত্যু হতে পারে। এসব হজম করতে না পেরে পরিপাকতন্ত্র বিকল হয়ে তিমির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্র দূষণের কারণে সামুদ্রিক জীব‌বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন-আল পারভেজ বলেন, ‘তিমির মৃতদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাতে মনে হচ্ছে সাগরের তলদেশে কোথাও কয়েকদিন আগে তিমির মৃত্যু হয়েছে। আমরা দ্রুত সমাহিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছিল বড় আকারের একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। এরপর গত বছর জানুয়ারিতে সেন্টমার্টিন উপকূল ঘেঁষে ভাসতে দেখা যায় আরেকটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। জুন মাসের মাঝামাঝি টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপে পাওয়া যায় আরেক তিমির মৃতদেহ। সর্বশেষ গত দুদিনে হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে এসেছে দুটি মৃত তিমি।

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউন: আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত

কঠোর লকডাউন: আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত

১২ ও ১৩ এপ্রিল যে দুদিন লকডাউন নেই, সে সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে রোববার।

১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা এলে ঢাকা থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান। তবে প্রথম দফা লকডাউন শেষে এবং পরের দফার কঠোর লকডাউনের মাঝখানের দুটি দিন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলবে কি না, তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

গত ৪ এপ্রিল লকডাউন নিয়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর পরের দিন থেকে শুরু হয় সাত দিনের লকডাউন। লকডাউন শেষ হচ্ছে রোববার।

৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে আন্তঃজেলা বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট। তবে কয়েকটি রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকে।

গণপরিবহন বন্ধ রেখে কল-কারখানা চালু রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। অফিসমুখী মানুষ গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করে। এমন বাস্তবতায় লকডাউনের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ৭ এপ্রিল থেকে খুলে দেয়া হয় শহরের ভেতরের গণপরিবহন।

এই লকডাউনের মধ্যেই শুক্রবার ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, এ সময় বন্ধ থাকবে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কমপ্রেসড লকডাউন হয় ১৪ তারিখ থেকে, তাহলে আমাদের হয়তো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বন্ধ করে দিতে হতে পারে।’

করোনার সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে সরকারের ঘোষণা করা সাত দিনের লকডাউন শেষ হচ্ছে রোববার। এরপর থেকে আভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলবে কি না, তা ঠিক করতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে বেবিচক। নিয়ন্ত্রক এ সংস্থার চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘সরকার আন্তঃজেলা গণপরিবহন সেবা খুলে দিলে চালু হবে আভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটও।’

৪ থেকে ১১ এপ্রিল ও ১৪ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে যে দুদিন (১২ ও ১৩ এপ্রিল) লকডাউন নেই, সে সময় আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা এখনো আসেনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘এটা কাল (রোববার) জানা যাবে, যে কী হবে। লকডাউন উইথড্র হবে নাকি এক্সটেন্ড করবে এটা কাল জানিয়ে দেবে।

‘যদি আন্তঃজেলা উইথড্র হয়ে যায়, তাহলে আমরা খুলব। তাহলে হয়তো ১৪ তারিখ থেকে আবার বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ডিপেন্ড করছে সরকারের কী সিদ্ধান্ত আসছে, সেটার ওপর। যদি আন্তঃজেলা পরিবহন না চলে, তাহলে ডমেস্টিক ফ্লাইট চলার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

গত বছর মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের ফ্লাইট। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে জুলাই থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে চালু হয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো।

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে গত ৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বেবিচক। এটি ছাড়াও বিশ্বের আরও ১২টি দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া বাংলাদেশে ফ্লাইট বন্ধ আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ব্রাজিল, চিলি, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পেরু, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও উরুগুয়ের।

শেয়ার করুন

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ গ্রেপ্তার

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ গ্রেপ্তার

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ রেজাউল হক।

রেজাউল বর্তমান জেএমবির একমাত্র শুরা সদস্য। দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে তিনি সদস্য ও অর্থ সংগ্রহ করেন। নিষিদ্ধ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কারাবন্দি সদস্যদের পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি। অনলাইনে সদস্যদের জন্য নিয়মিত উগ্রবাদ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ রেজাউল হক ওরফে রেজাকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। তিনি তানভীর মাহমুদ শিহাব ওরফে আহনাফ নামেও পরিচিত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের বোম্ব ডিজপোজাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ রহমত উল্যাহ চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, গ্রেপ্তার রেজাউল হক বর্তমান জেএমবির শীর্ষ নেতা। তিনি ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। ভারপ্রাপ্ত আমিরের পাশাপাশি সংগঠনটির দাওয়া ও বায়তুল মাল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল।

পুলিশের দাবি, জেএমবির শীর্ষ নেতা পলাতক সালাহউদ্দীন সালেহীনের নির্দেশে বাংলাদেশে জেএমবির কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন রেজাউল। ২০০৫ সালে সারা দেশে ঘটে যাওয়া সিরিজ বোমা হামলায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরে ২০১৭ সালে তিনি জামিন পেয়ে ফের জেএমবির কার্যক্রমে যুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জিআরপি ও বিমানবন্দর থানার দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

সিটিটিসি জানায়, জেএমবির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় ভারপ্রাপ্ত আমির রেজাউল জেএমবির একমাত্র শুরা সদস্য। দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে তিনি সদস্য সংগ্রহের জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সারা দেশের জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে সংগঠনের ফান্ড (বায়তুল মাল) সমৃদ্ধ করছিলেন।

এ ছাড়া তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কারাবন্দি সদস্যদের পরিবারের কাছে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সারা দেশে থাকা জেএমবির সদস্যদের কাছে অনলাইনে নিয়মিত উগ্রবাদ বিষয়ে বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে রেজাউলের বিরুদ্ধে।

শেয়ার করুন

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

ফোন করলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ২৫ জুন ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তখন থেকে এভাবেই রাতদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন তারা। ফোন করলেই বাসায় পৌঁছে দেয়া হয় সিলিন্ডার। বিনিময়ে কোনো টাকা নেয়া হয় না। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই সেবা চলছে৷

বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ূন কবীরের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন লাগবে। করোনার এই সময়ে অক্সিজেন পাওয়া কঠিন।

তবে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে শুনতে পারেন এক বিশেষ উদ্যোগ ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার’ কথা। সেখানে ফোন দিতেই ঘরেই পৌঁছে গেল সিলিন্ডার।

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় অক্সিজেন আসার পর অবাক এই মুক্তিযোদ্ধা।

সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক তানভীর আলম চৌধুরীকে সামনে রেখে ছেলের কাছে এই মুক্তিযোদ্ধা প্রশ্ন রাখেন, দাম হিসেবে কত টাকা দিতে হবে।

তবে তানভীর বলেন, ‘আংকেল, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।’

মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর তাকে বলেন, ‘বাবা, পাকিস্তান আমলে আমিও ছাত্রলীগ করেছি। শেষ বয়সে এসে আমার প্রাণের সংগঠনের কাছ থেকে এমন কার্যক্রম আর উপকার পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

করোনাকালে অক্সিজেন লাগতে পারে যখন তখন। জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার স্বেচ্ছাসেবকদের তাই আয়েশের সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমীন জাহান বুধবার রাতে নিজের ফেসবুকে লিখেন, ‘জরুরি একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতা চাচ্ছি।’

রাত দুইটায় তার বাসাতেও পৌঁছে দেয়া হয় বিনামূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার।

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

গত বছরের ২৫ জুন এই সেবা কার্যক্রম শুরু করেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তখন থেকে এভাবেই রাতদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন তারা। বর্তমানে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই সেবা চলছে৷

গত বছরের জুন থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে এই অক্সিজেন সরবরাহ করেছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

কেবল অক্সিজেনের জন্য কারও কাছে টাকা নেন না তা নয়, কেউ আর্থিক সহায়তা করতে চাইলেও কারও কাছ থেকে নগদে অর্থ নেয়া হয় না। সহায়তা করতে আগ্রহীদেরকে অক্সিজেন কিনে দিতে বলেন ছাত্রলীগ নেতারা।

তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।

তারা ‘অক্সিজেন ফেরিওয়ালা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

কেন শুরু এই উদ্যোগ?

সাদ বিন কাদের তাদের এই সেবা কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষাপট জানান নিউজবাংলাকে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর মার্চ মাসে করোনা শুরু হয়। জুন, জুলাইয়ে প্রকট আকার ধারণ করলে বাজার থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও হয়ে যায়। পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, এক শ্রেণির মানুষ অক্সিজেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ মিনিটের অক্সিজেন সেবার দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। তখনই মূলত আমরা এই সেবা কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা করি।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন ১২টা অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ঢাকাতে আমাদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আমাদের ৯০টি সিলিন্ডার আছে। সারা বাংলাদেশে ১৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। এদের প্রত্যেককে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি কীভাবে অক্সিজেন চালাতে হয়।

এই সেবা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন বলে জানান সাদ।

শুরুর ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ছয়টি নিজেদের টাকা দিয়ে কেনেন তিন ছাত্রলীগ নেতা। বাকি ছয়টি এক ‘বড় ভাই’ উপহার দেন।

শুরুর দিকে প্রত্যেকটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা৷ পরে এগুলোর দাম কমে।

সাদ বলেন, ‘সংকট বাড়লে রিফিল সেন্টারগুলোও সংকট তৈরি করে৷ ফলে প্রতিটি সিলিন্ডার রিফিল করতে ৩০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্তও আমাদের খরচ হয়েছে।’

যেভাবে জোগাড় হয় অর্থ

এই টাকাটা কীভাবে যোগাড় হয় -জানতে চাইলে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা কারও কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেয়া নিরুৎসাহিত করি। তবে কেউ রিফিল কস্ট (খরচ) দিতে চাইলে আমরা তাদের রিফিল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেই। তারা সেখানেই মূল্যটা পরিশোধ করেন।

‘মাঝে মাঝে রোগীরা সিলিন্ডারগুলো ফেরত পাঠানোর সময় রিফিল করে দেয়। এছাড়া আমাদের এ কাজে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এগিয়ে আসে। এসব আমরা প্রতিমাসে ফেইসবুক লাইভে হিসাব দেই। তারপরও কোনো সময় কোথাও আটকে গেলে ছাত্রলীগ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সাহায্য করা হয়।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

সাদ বিন কাদের বলেন, ‘শুরুর দিকে আমাদের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। আমরা যখন শুরু করি তখন মানুষের মাঝে বিরাজ করছিল করোনার মারাত্মক ভীতি। কোনো বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে গেলে আশপাশের মানুষের হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। এমনও হয়েছে অক্সিজেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ছেলে সামনে আসেনি। তার বাবাকে আমরাই অক্সিজেন সেট করে দিয়ে এসেছি।’

বেশি ফোন রাতে, তাই ঘুম শুরু সকালে

অক্সিজেন সরবরাহ শুরুর পর থেকে ঘুমের রুটিন পাল্টে গেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

সাদ বলেন, ‘রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে যখন অক্সিজেনের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখনই মূলত আমাদের কাছে বেশি ফোন আসে। আর সেজন্য আমরা অনেকে সকাল হলে তারপর ঘুমাতে যাই, আর বাকিরা তখন সজাগ থাকে৷ এভাবে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা আমাদের এই সেবা চলছে।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

গভীর রাতে অক্সিজেন সেবা পেয়ে ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঢাকার তানভীর রহমান। তিনি লেখেন, ‘গত রাতে কিছুক্ষণের জন্য হঠাৎ করেই মনে হচ্ছিল মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছি। হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন নেয়াটা জরুরি হয়ে পরে। ফোন দেই জয়বাংলা অক্সিজেন সার্ভিসের সাদ বিন কাদের ভাইকে।

‘কিন্তু কোনো সিলিন্ডার ফাঁকা ছিল না, অনেকক্ষণ চেষ্টার পর আমার বাসায় সিলিন্ডারটি পৌঁছে দেয়া হয়। অক্সিজেন নেয়ার পর আমি এখন স্বাভাবিক।’

কখনও অক্সিজেন সংকট হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাদ বলেন, ‘শুরুর পর থেকে এ বছরের এপ্রিল মাসের আগ পর্যন্ত শুধু এক রাতের জন্য আমাদের অক্সিজেন সংকটে পড়েছে। তবে পরের দিন আমরা সেটি রিকাভার করে ফেলি।

‘তবে এই এপ্রিল থেকে আমাদের প্রচুর সংকট৷ যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সে অনুপাতে আমরা পেরে উঠছি না। তবে খুব জরুরি হলে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা অক্সিজেন ভাড়া নিয়ে রোগীকে সেবা দেই। আর আমরাই টাকাটা পরিশোধ করি।’

করোনারা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেড়েছে চাহিদা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা যখন বেড়ে চলেছে, তখন অক্সিজেনের চাহিদাও তুঙ্গে।

সাদ বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ১৭ জনকে সেবা দিয়েছি। আজ ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ১১টা কল পেয়েছি। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। কারণ, আমাদের সব সিলিন্ডার বিভিন্ন রোগীদের কাছে৷ তাদের কাছ থেকে নিয়ে আমরা বাকিদের কাছে পৌঁছাব।

‘এমনও হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছে, আমরা সেখানেও আমাদের সেবা পৌঁছিয়ে দিয়েছি৷’

সেবার নামে জয় বাংলা কেন?

অক্সিজেন সেবার এই নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে সাদ বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে৷ ‘জয় বাংলা’ আমাদের শক্তি৷ ‘জয় বাংলা’ মানে মুক্তি। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য আমরা ‘জয় বাংলা’ নামটা ব্যবহার করেছি।”

শেয়ার করুন

বারবার রুলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক: প্রধান বিচারপতি

বারবার রুলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ফাইল ছবি

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যেখানে নির্দেশ পালনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে কেন আমাদের আবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কন্টেম্পট (অবমাননার রুল) করে করে হয়রান।’

সংবিধান অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা পালনে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

রায় কার্যকর করতে বারবার কেন আদালত অবমাননার রুল জারি করতে হবে, সে প্রশ্নও করেছেন তিনি।

দুই বিচারপতির লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শনিবার এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

অনুষ্ঠানে ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন প্রশ্ন করেন, ‘হাইকোর্ট গত এক দশকে বেশ কিছু যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। কিন্তু সে রায়গুলো কার্যকর কতটা হচ্ছে?’

ওই সময় রায় সঠিকভাবে কার্যকর হয় কি না, তা দেখভালের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলেন তিনি।

তার এ বক্তব্যের রেশ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রফেসর মুনতাসীর মামুন একটা কথা বলেছেন, আমাদের রায় কার্যকর হচ্ছে না। এ জন্য একটা সেল করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবাই সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কাজ করবে।

‘যেখানে নির্দেশ পালনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে কেন আমাদের আবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কন্টেম্পট (অবমাননার রুল) করে করে হয়রান। কন্টেম্পট করেও প্রপ্রারলি (যথাযথভাবে) রায় কার্যকর যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবে হচ্ছে না। এটা এখন দুঃখের বিষয়।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি তো আসলে সরকারি না। সম্পত্তির মালিক হলো জনগণ। সরকার হলো সংরক্ষণকারী। জনগণের পক্ষে সরকার সম্পত্তি সংরক্ষণ করে। এই সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ করা কিন্তু সকলের দায়িত্ব।

‘আমি বলতে চাই, আমাদের যেসব রায় হচ্ছে আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রত্যেকটা রায় বাস্তবায়িত হবে।’

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কথা সামনে আনতে হবে’

বক্তব্যে ভিন্ন একটি বিষয়ের অবতারণা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সেদিন বঙ্গভবনে মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন যারা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক তাদের কী বিচার হয়নি? তখন আমি তাকে বলেছি, এদের বিচার হয়েছে। সাধারণ আদালতেই এদের বিচার হয়েছে। এদের বিচারের রায় হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বলবৎ থেকেছে। পরে খুনিদের ফাঁসি হয়েছে। যারা পলাতক রয়েছে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে তাদের ধরে আনার।

‘আমার কথা হলো, এই যে আমাদের যে একটা বিশাল অর্জন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এই কথা তো যারা বিদেশি মেহমান এসেছে, তাদেরকে বলতে পারিনি এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা এসেছে তাদের কাছে এসব বিষয় তুলে ধরতে পারিনি। সুতরাং আমি বলব, এসব বিষয়ে আরও বেশি নজর দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি জাগ্রত করতে হয় তাহলে কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কথা আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো খুনিদের দেশ নয়; এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ। বঙ্গবন্ধুর এই সোনার দেশ অবশ্যই আমরা রক্ষা করব। বিচার বিভাগ এ বিষয়ে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে আপনাদের কথা দিতে পারি।’

আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রচিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প এবং অন্যান্য’ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য’ নামে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বই দুটি প্রকাশ করে মাওলা ব্রাদার্স।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূর, অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ ও কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি সবসময় কর্তব্যবোধ ও সম্মানবোধ এবং মহামান্য রানির শক্তি ও সামর্থ্যের স্তম্ভ হয়েই থাকবেন।’

ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং শোকবার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ ও কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি সবসময় কর্তব্যবোধ ও সম্মানবোধ এবং মহামান্য রানির শক্তি ও সামর্থ্যের স্তম্ভ হয়েই থাকবেন।

‘আমরা মহামান্য রানির বাংলাদেশে দুটি ঐতিহাসিক সফর স্মরণ করছি যেখানে ডিউক অফ এডিনবরা তার সঙ্গী হয়েছিলেন। তার প্রয়াণে বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি একজন সত্যিকারের বন্ধু ও সহযোগীকে হারাল। মহামান্য রানি, রাজপরিবারের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের জনগণকে সর্বশক্তিমান এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার সাহস ও শক্তি দিন।’

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর সংবাদ শুক্রবার জানায় বাকিংহ্যাম প্যালেস। উইন্ডসর প্রাসাদে সকালে স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তার।

ফিলিপের বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ১৯৪৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফিলিপ। এই রাজ দম্পতির চার সন্তান। রয়েছে আট নাতি-নাতনি, যাদের ঘরে আছে ১০ সন্তান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে বাকিংহ্যাম প্যালেসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, মহামান্য রানি জানিয়েছেন, তার প্রিয়তম স্বামী ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু হয়েছে। উইন্ডসর প্রাসাদে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেন্ট্রাল লন্ডনের কিং এডওয়ার্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ফিলিপকে। এরপর লন্ডনের আরেক হাসপাতাল সেন্ট বার্থলোমিউস হাসপাতালে তার হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা হয়। এক মাসের চিকিৎসা শেষে ২৬ মার্চ বাসায় ফেরেন তিনি।

ফিলিপের জন্ম ১৯২১ সালে কর্ফুর গ্রিক আইল্যান্ডে। তার বাবা ছিলেন গ্রিস ও ডেনমার্কের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, যিনি ছিলেন হেলেনেসের রাজা প্রথম জর্জের ছোট ছেলে।

শেয়ার করুন

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্র

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্র

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার বিকেলে জন কেরিকে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরির সফর শেষে এক টুইটে বাংলাদেশের বিষয়ে মন্তব্য করে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশ্নে বিশেষভাবে নাজুক দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরির সফর শেষে এক টুইটে এ কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস।

কেরির সংক্ষিপ্ত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের আয়োজনে রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের আনুষ্ঠানিক বাসভবনে গোলটেবিল বৈঠক হয় শুক্রবার।

এতে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরি।

তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ২১তম জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২১) প্যারিস চুক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জলবায়ু অর্থায়নবিষয়ক এ গোলটেবিল বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে কেরি ও ঢাকাস্থ কূটনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস।

বৈঠকে জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশসহ নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি বলে মত দিয়েছেন জন কেরি।

শুক্রবার দুপুরের ওই বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, জাপানের রাষ্ট্রদূত, জার্মানের রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, আইএমএফের প্রতিনিধি, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিনিধি ও এডিবির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কেরির সফর বিষয়ে সিরিজ টুইট বার্তা দিয়েছে আমেরিকান দূতাবাস।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে দূতাবাসের টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জলবায়ু দূত কেরির সভায় যোগ দিয়ে সম্মানিত। দুর্বল দেশগুলোর কথা শুনতেই হবে।

‘তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লিডার্স ক্লাইমেট সামিটে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬-এ বাংলাদেশের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশ্নে বিশেষভাবে নাজুক দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে অন্য টুইটে উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাস।

এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের এই অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে লড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির আলোচনাবিষয়ক টুইট বার্তায় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের পক্ষে দূতাবাস জানায়, কেরির সঙ্গে জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য এ কে আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা সীমার নাগালে রাখতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাব মানিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে নাজুক দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রতিজ্ঞা করে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকবিষয়ক টুইটবার্তায় দূতাবাস বলে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরি ও ঢাকায় অবস্থানরত কূটনৈতিক অংশীদারের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে। জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ইইউ দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে সিনেটর কেরির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। বড় বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবে ফিরে এসেছে।’

দিনভর বৈঠক

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একের পর এক বৈঠকে অংশ নেন জন কেরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ছাড়াও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী এম শাহাব উদ্দিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তার।

কেরির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসা জলবায়ু পরিবর্তন কূটনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকের পর যৌথ সম্মেলনে কেরি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন প্যারিস চুক্তির আলোকে আবারও বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে চায়। সে কারণে ভবিষ্যতের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ আশা করছি।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান এমপি, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে কেরি সংবাদ সম্মেলনের শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি এখানে এসেছি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আবার প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের নাগরিক এবং দেশগুলোকে সুরক্ষার জন্য এসব প্রচেষ্টা।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা কোনো একক দেশ সমাধান করতে পারবে না। সংকট যে আছে এ নিয়ে কোনো দেশের সন্দেহ নেই।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দুর্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরে মানব ইতিহাসের কঠিন দিন, কঠিন সপ্তাহ, মাসগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমরা।

‘বিশ্বব্যাপী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেখেছি। ভাইরাস, খরা, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু দেখছি। ইতিমধ্যে জলবায়ুর কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র যাওয়া শুরু করেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি সবাইকে একসঙ্গে কাজে নামতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বড় অর্থনীতির দেশ ও অংশীদারদের নিয়ে সামিট আহ্বান করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তাগুলো তৈরি করা যায়, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তিগুলো সবার মাঝে পৌঁছে দেয়া যায় সেটিই মুখ্য। প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নয়ন, আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য এই সম্মেলন খুবই কার্যকর হবে।’

কেরি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু ইস্যুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার এই সফরের কারণ হচ্ছে এসব দেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ভবিষ্যতের ক্লিন এনার্জি গড়ে তুলতে তাদের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।’

শেয়ার করুন