অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে কী করবেন?

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন সে পরামর্শ দেয়া হয়েছে নিউজবাংলার 'আমার আইন, আমার অধিকার' অনুষ্ঠানে। ছবি: নিউজবাংলা

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে কী করবেন?

‘প্রতারণার মামলা করার জন্য কোনো কিছুর দরকার হয় না। …একটা পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য দিলে সে ক্ষেত্রে সেল অব গুডস অ্যাক্ট আছে। সেখানে বলা আছে, কোনো পণ্য বিক্রির পর যদি তার সঙ্গে না মেলে না অবশ্যই অপরাধ।…কোনো পণ্য কেনার আগে ক্রেতাকে অবশ্যই দেখার সুযোগ দিতে হবে। পণ্য কেনার পর তা যাচাই করার সুযোগ দিতে হবে। এটা ক্রেতার আইনগত অধিকার।’

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন, সে পরামর্শ দেয়া হয়েছে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’ অনুষ্ঠানে।

সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে কী কী আইনে মামলা করা যাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটায় কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, ক্রেতা বা বিক্রেতার কী আইনি অধিকার আছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হয় পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অ্যাডভোকেট আফরিন জাহান খান।

মিতি সানজানা বলেন, ‘করোনাকালে অনলাইন কেনাকাটায় নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনের মুদি সামগ্রী থেকে শুরু করে কাপড়, ইলেক্টনিকসহ নানা ধরনের পণ্যই অনলাইনে কেনাকাটা করেছি আমরা। কিন্তু প্রতারণার শিকার অনেকেই হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘অনলাইনে পণ্যের গুণগত মান বিচারের সুযোগ না থাকায় ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হয়। অনেক সময় পণ্য ভুলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের প্রতারিত করা হয়।’

তবে শুধু ক্রেতা নয় বিক্রেতাও প্রতারণার শিকার হতে পারেন। দেখা যায়, একজন ক্রেতা পণ্য ক্রয় করে দাম পরিশোধ করছে না।

মিতি সানজানা বলেন, ‘ক্রেতাদের পণ্যের গুণগত মান, একটি বলে অন্যটি দেয়া, দামী ব্যান্ডের কথা বলে নকল দেয়ার ঘটনা ঘটে।’

প্রতারিত হলে প্রতিকারের কী কী আইন আছে- উপস্থাপিকার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতারণার শিকার হলে দেওয়ানী ও ফৌজদারী দুই ধরনের মামলাই করতে পারেন যে কেউ। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার আইন এবং ১৮৭২ সালের কনট্রাক্ট আইনে প্রতিকার পেতে পারেন। এ ছাড়া দ্য সেল অব গুডস অ্যাক্ট রয়েছে।’

পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে টাকা পয়সা নিয়ে প্রতারণা করলে দণ্ডবিধিতে শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিতি সানজানা জানান, কনট্রাক্ট আইনে দুই জনের মধ্যে চুক্তি থাকে। যখনই পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কনফার্ম হয়ে গেলে দুই জনের মধ্যে কনট্রাক্ট হয়ে গেল। এ ক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ হলে যে কোনো পক্ষকে আইনের আওতায় আনা যাবে।

মিতি সানজানা বলেন, ‘অনলাইনে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যে পেইজ থেকে পণ্য কেনা হচ্ছে তার জনপ্রিয়তা, রিভিউ কেমন এটা দেখার দরকার। রিভিউটা দেখা খুব জরুরি, এ ক্ষেত্রে প্রতারিত হলে দেওয়ানী মামলা করা যায়।’

অগ্রিম টাকা পরিশোধ নিয়ে এক দশর্কদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফোন নম্বর বা ফেইসবুক আইডি লোকেট করে রেখে দেয়া প্রয়োজন। যে নম্বর থেকে ফোন দেয়া হচ্ছে, তা সেভ করে রেখে দেয়া যেতে পারে।’

অনলাইনে কেনাকাটায় সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনপ্রিয় ব্র্যান্ড না হলে এডভান্স পেমেন্ট করা ঠিক না। এ ছাড়া যে কেউ ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য কেনা-বেচা করতে পারেন।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন ক্রেতা ভুয়া আইডি দিয়ে পণ্য অর্ডার করেন, সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা যেতে পারে। এ ছাড়া এ জন্য ডিএমপির সাইবার ক্রাইমের একটি স্পেশাল ইউনিট রয়েছে। পাশাপাশি ফেইসবুক পেইজে রিপোর্ট করা যেতে পারে।’

কেউ যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন- এটা কীভাবে প্রমাণ করা যাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতারণার মামলা করার জন্য কোনো কিছুর দরকার হয় না। …একটা পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য দিলে সে ক্ষেত্রে সেল অব গুডস অ্যাক্ট আছে। সেখানে বলা আছে, কোনো পণ্য বিক্রির পর যদি তার সঙ্গে না মেলে না অবশ্যই অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘কোনো পণ্য কেনার আগে ক্রেতাকে অবশ্যই দেখার সুযোগ দিতে হবে। পণ্য কেনার পর তা যাচাই করার সুযোগ দিতে হবে। এটা ক্রেতার আইনগত অধিকার। এ ক্ষেত্রে যারা ব্যবসা করছেন তাদের ক্রেতাদের অবশ্যই এ সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে ছবি দেখে পণ্য কেনা হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় হলো স্ক্রিনশট নিয়ে রাখা। এটা প্রতারণা থেকে বাচাঁরও উপায়। এ ক্ষেত্রে মামলা করারও প্রয়োজন হয় না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হেফাজত নেতাদের মুক্তি চান মান্না

হেফাজত নেতাদের মুক্তি চান মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি

মান্না বলেন, হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হেফাজতকে পর্যুদস্ত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে দেশে যে অরাজকতা হয়েছে, রক্তপাত হয়েছে তার দায় একান্তই সরকার, সরকারি দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের।

গণমাধ্যমে মঙ্গলবার পাঠানো নাগরিক ঐক্যের এক বিবৃতিতে মান্না এসব কথা বলেন।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ার বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

এ ঘটনার পর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মামলায় গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার হয় ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা। গত রোববার দুপুরে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে।

হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিবৃতিতে মান্না বলেন, ‘২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হেফাজতের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা করে প্রথমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে তা স্পষ্ট দেখা গেছে।

‘সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার পর দায়ের করা মামলা এবং সেই ২০১৩ সালের মামলাসহ বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা মামলায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ তথা দেশের আলেম সমাজের নেতাদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে।

‘একজন নেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জাতীয় সংসদে যেভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষোদগার করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে সরকারি দল হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদের পর্যুদস্ত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। আমি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত আলেম ওলামাদের মুক্তি দাবি করছি।’

বিবৃতিতে করোনা মোকাবিলায় সরকার উদাসীন উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে অক্সিজেন, আইসিইউ বেড নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুই বেলা খাবার নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মামলা, হামলা, রিমান্ড, অত্যাচার, নির্যাতনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তারা।

‘দেশের সাধারণ জনগণ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তা মেনে নেবে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। অচিরেই গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই জোয়ারে অবৈধ ক্ষমতাসীনরা ভেসে যাবে।’

শেয়ার করুন

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে চারটি কোম্পানিকে বিশেষ বিবেচনায় বিমান চালাতে অনুমতি দিয়েছে বেবিচক। ফাইল ছবি

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সময় বিশেষ বিবেচনায় চীনের সঙ্গে আকাশপথ খুলে দিল বাংলাদেশ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক চিঠিতে চীনের সঙ্গে বিমান চলাচলের কথা মঙ্গলবার জানানো হয়েছে।

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য এর জন্য এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে বেবিচক।

এয়ারলাইনসগুলো শুধু পয়েন্ট টু পয়েন্ট যাত্রী বহন করতে পারবে। করোনা টিকা নেয়া থাকলেও যাত্রীদের যাত্রার নির্ধারিত সময়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড পরীক্ষা সম্পন্ন করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহনে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা না হলেও সুপরিসর উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ বহন করা যাবে ২৮০ যাত্রী। আর বোয়িং ট্রিপল সেভেন বা সেভেন ফোর সেভেন উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩২০ জন।

আর ঢাকায় আসা মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১০০ জনে। আর সুপরিসর উড়োজাহাজে এ সংখ্যা রাখা হয়েছে ১৫০ জন।

এ ছাড়া উড়োজাহাজের ইকোনমি ক্লাসে একটি সারি ও বিজনেজ ক্লাসে একটি কেবিন সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত যাত্রীর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। এই অবস্থা ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু থাকায় তা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কাজে আসেনি।

এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথমে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা চলার কথা থাকলেও সোমবার বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকেই বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট। তবে চিকিৎসা, পণ্যবাহী ও বিশেষ ফ্লাইটকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

অবশ্য পরে প্রবাসী কর্মীদের কথা বিবেচনায় রেখে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে গত শনিবার থেকে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই পাঁচ দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ মোট ১২টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে। এগুলো হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি ও ফ্লাই দুবাই।

শেয়ার করুন

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ফাইল ছবি

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম খান মঙ্গলবার আখতারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের শাহাবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

আসামি পক্ষের এক আইনজীবী সিরাজুল ইসলামও বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার আবেদন জমা দিলেও এর শুনানির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দেয়নি। যেকোনো দিনই এই শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

১৭ এপ্রিল দুই দিনের রিমান্ড শেষে আখতারকে আদালতে হাজির করলে আসামি পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির তার জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করেন। শুনানিতে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন না দিয়ে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশের ওপর হামলা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ১৪ এপ্রিল আখতারকে মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

শেয়ার করুন

লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল নাগাদ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১২ এপ্রিল করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সেটি এখানেও বহাল থাকবে।

ওই বিধিনিষেধ ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

আগের প্রজ্ঞাপনে কঠোর লকডাউনের ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। পরে সংক্রমণ না কমায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ মেনে চলমান লকডাউন ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সবশেষ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বিশেষ ফ্লাইট চলাচল, ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ পূর্বের সকল বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।

তিনি বলেন, ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল এই লকডাউন কার্যকর থাকবে।

সর্বাত্মক লকডাউনে যে ১৩ নির্দেশনা

১. সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান সমুদ্র ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সব পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেলপথ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলো (স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদান সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

১০. সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি করবে।

১৩. উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনের সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

প্রথমে আর্থিক খাত বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

শেয়ার করুন

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সবার জন্য করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যেসব রাষ্ট্র টিকা উৎপাদন করে না, সেগুলোকে সহায়তা দিতে টিকা তৈরিকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধারণ করা এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে প্রচার হওয়া ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সর্বজনীন ভ্যাকসিন কাভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করা।

‘ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সব দেশের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকার, সাম্য এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমরা সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারির আর্থসামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এই প্রভাব এখনও বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘জীবন ও জীবিকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারির বিরূপ প্রভাব কাটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’

বৈশ্বিক এই মহামারির সময় কেউ যাতে পেছনে না পড়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্সের গুরুত্বও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সংকটময় সময় কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল হতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

‘সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মহাদেশটিতে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসঙ্গে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে। একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে।

‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (হলো) আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এ ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সুবিধাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি।’

শেয়ার করুন

৫ মে: নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এবার সক্রিয়

৫ মে: নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এবার সক্রিয়

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর হেফাজতের নেতা-কর্মীরা দুই হাত উঁচু করে বের হয়ে আসে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের একধরনের সমঝোতার কারণে এত দিন ২০১৩ সালের মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামপন্থি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা ২০১৩ সালের পুরোনো ও নিষ্ক্রিয় মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকাজে কোনো সমস্যা দেখছে না পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, তদন্তের জন্য যেসব তথ্যপ্রমাণ ও আলামত দরকার তার সবই রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মামলা পুরোনো হলেও তদন্তকাজ চলমান ছিল। এখন যেহেতু তদন্ত নিষ্পত্তির নির্দেশনা এসেছে, তাই তদন্ত সম্পন্নের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। এজাহারে থাকা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাইবাছাই চলছে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী অবরোধের দিন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালান। জেলায় জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান ধর্মভিত্তিক দলটির নেতা-কর্মীরা। এতে প্রাণ হারান ২০ জনের বেশি। এসব ঘটনায় করা ৬১টি মামলার তদন্ত ফের শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

সে সময় এসব ঘটনায় ঢাকাসহ সাত জেলায় ৮৩টি মামলা করা হয়। মামলাগুলোতে ৩ হাজার ৪১৬ জনকে নামে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এসব মামলার মধ্যে মাত্র ২২টিতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগপত্র দেয়া মামলাগুলোর মধ্যে শুধু বাগেরহাটের একটি মামলায় বিচারিক আদালত রায় দিয়েছে। রায়ে সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

আর স্থবির অবস্থায় পড়ে ছিল ৬১টি মামলা, যেগুলোকে এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

২০১৩ সালের তাণ্ডবের ঘটনায় শুধু রাজধানীতেই মামলা হয় ৫৩টি। এর মধ্যে মাত্র চারটিতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বাকি ৪৯ মামলার মধ্যে ৩৩টির তদন্ত করছে থানা-পুলিশ। ১৬টির তদন্তে আছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এসব পুরোনো মামলা তদন্ত করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব মামলা তদন্তে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

‘মামলা আগেও তদন্ত হয়েছে; এখনও চলছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।’

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের একধরনের সমঝোতার কারণে এত দিন ২০১৩ সালের মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

এদিকে প্রায় আট বছর স্থবির থাকা মামলাগুলোর আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছে কেউ কেউ।

তবে এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত তো বন্ধ হয়ে যায়নি। মামলা আগেও চলছিল, এখনও চলছে। তবে হ্যাঁ, মাঝখানে এর গতিটা একটু স্লো ছিল। তবে এর আলামত নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

‘আমাদের কাছে তো সব আলামতই একটু একটু করে সংগ্রহ করা আছে। সে জন্য এসব মামলার তদন্ত চালাতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না; বরং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেলে মামলার তদন্তে আরও গতি আসবে।’

শেয়ার করুন

‘আল্লাহ এর বিচার করব’

‘আল্লাহ এর বিচার করব’

বাঁশখালীতে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত মো. রায়হান। ছবি: নিউজবাংলা

আবদুল মতিন বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটু ভালো থাকনের আশায় ৬ মাস আগে রায়হান বাঁশখালীর ওই কোম্পানিত চাকরি লয়। সংসারের অভাব ঘুচাইতে গিয়ে আমার ছেলে লাশ হইব, তা জীবনে ভাবিনি।’

‘আমার ছেলে হইলো গরিবের ছেলে, কোম্পানির আন্ডারে কাজ কইরতো। যেখানে ঘটনা অইছে, সেখানে শ্রমিকও ন, কিছু ন। অন্যদের সাথে জামেলায় আমার ছেলে মরি গেছে। আমার আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নাই, আল্লাহ এর বিচার করবো।’

কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আবদুল মতিন। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত মো. রায়হানের বাবা।

ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর অচেতনের মতো পড়ে আছেন মা ছালেহা খাতুন। কারও কোনও সান্ত্বনাই তার মনকে প্রবোধ দিতে পারছে না।

রায়হানের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের উত্তর আদর্শ গ্রামে। সেই বাড়িতে এখন মাতম চলছে। বাবা-মা, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় গোটা গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রায়হানের পিতা আবদুল মতিন একজন কৃষক। আবদুল মতিনের ছয় ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে রায়হান পঞ্চম। পরিবারের অভাব-অনটনের কাছে পরাজিত হয়ে ছয় মাস আগে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্রেনচালক হিসেবে চাকরি নেন রায়হান।

বেতন-ভাতাসহ নানা কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে শনিবার সকালে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে সেখানকার শ্রমিকরা রায়হানকে ক্রেন চালানো বন্ধ করে পরদিন সকালে বিক্ষোভে যোগ দিতে বলেন। ওই বিক্ষোভে যোগ দেন রায়হানও। বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষে নিহত হন রায়হান।

আবদুল মতিন বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটু ভালো থাকনের আশায় ছয় মাস আগে রায়হান বাঁশখালীর ওই কোম্পানিত চাকরি লয়। সংসারের অভাব ঘুচাইতে গিয়ে আমার ছেলে লাশ হইব, তা জীবনে ভাবিনি।’

রায়হানের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল মতিন বলেন, ‘ছেলের জীবনের বিনিময়ে এই টাকা দিয়া কী করমু?

এলাকাবাসী জানান, রায়হান অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। চাকরি করে সংসারের অভাব দূর করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আগেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে তাকে।

রোববার বাদ মাগরিব উত্তর আদর্শ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রায়হানের জানাজায় বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত হন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন