দেশি এয়ারলাইন্সের ‘অ‌ক্সিজেন’ অভ্যন্তরীণ রুট

দেশি এয়ারলাইন্সের ‘অ‌ক্সিজেন’ অভ্যন্তরীণ রুট

করোনার সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন এভিয়েশন অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এটিএম নজরুল ইসলাম।

এ বছর এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস মহামারি। বছরের শুরুতেই করোনা সংক্রমণে মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল। তারপর যাত্রী পরিবহন শুরু হলেও তা ছিল নিতান্তই কম। তবে অক্টোবরের পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সামনে এনেছে নতুন সংকট।

এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রুটেই ভরসা রাখছে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো।

করোনার মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই ১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা আয় বঞ্চিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আয়বঞ্চিত হয় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার। অর্থাৎ সক্ষমতা থাকার পরও করোনার কারণে ৮ মাসে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা আয় করতে পারেনি বিমান।

এ কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর দাবির মুখে তাদের সব ধরনের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ মওকুফ করেছে সরকার।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিমান লাভ করেছিল ৪৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমাদের অপারেশনাল লস হয়েছে ৪৯৭ কোটি টাকা।

‘অর্থাৎ ১৪ কোটি টাকা পুরো অর্থবছরে আমাদের লস ছিল। ট্যাক্স যোগ করার পর এটি হয়ে যায় ৮০ কোটি টাকায়। এ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের অপারেশনাল লস হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা।’

মোকাব্বির জানান, করোনার কারণে রুট সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, তাও বাস্তবায়ন করা যায়নি।

‘বিমানের অসুবিধা যা হয়েছে তা করোনার কারণেই। করোনা না আসলে হয়তো লাভের ধারা বহাল থাকত। আমরা একটি পজিটিভ মোমেন্টামে ছিলাম।’

দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা বলছে, করোনার কারণে জুলাই পর্যন্ত প্রতি মাসে অন্তত ১০০ কোটি টাকা আয়বঞ্চিত হয়েছে তারা।

দেশি এয়ারলাইন্সের ‘অ‌ক্সিজেন’ অভ্যন্তরীণ রুট

প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিডের আগে অভ্যন্তরীণে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি আর আন্তর্জাতিকে সপ্তাহে ৯০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে অভ্যন্তরীণের ফ্লাইট অর্ধেকই কমে যায়।

‘তবে গত দুই মাসে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আমরা এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছি। আর আন্তর্জাতিকে এখন সপ্তাহে ৩৮টির মতো ফ্লাইট চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট কমে গেলেও আমাদের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কিংবা গ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটি কিন্তু আগের মতোই আছে। অর্থাৎ আয় কমলেও ব্যয় সংকোচনের আসলে খুব একটা সুযোগ নেই।

‘আমরা টিকে থাকতে স্বল্প সময়ের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কাজ করছি। কিন্তু প্রতি সপ্তাহেই আসলে সেটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কারণ সামনে কী আসে তা আমরা কেউই জানি না।’

কামরুল জানান, করোনা শুরুর সময়ে যাত্রীরা আকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে আস্থাহীনতার মুখে পড়েছিলেন, সে পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভালো।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নতুন বছরে হয়তো আমরা কিছুটা স্বস্তির জায়গায় থাকতে পারব’, বলেন কামরুল ইসলাম।

করোনার সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখে বলে মনে করছেন এভিয়েশন অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এটিএম নজরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বছরের শুরুতেই কোভিডের কারণে সারা বিশ্বে এভিয়েশন খাত ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তারপরও বছরের শেষে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা তাও শেষ করে দিচ্ছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাসের আগে আসলে কিছুই বলা যাবে না, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।

‘এ সময়ে আমরা দেখেছি, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা অব্যাহত থাকলে হয়তো দেশি এয়ারলাইন্সগুলো টিকে থাকতে পারবে।’

তার হিসাবে, করোনার মধ্যে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক রুটে ৬০ ভাগেরও বেশি সক্ষমতা হারিয়েছে। একই অবস্থা হেলিকপ্টার সার্ভিসগুলোরও। তারা সক্ষমতা হারিয়েছে ৫৫ ভাগ পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে বিমানবন্দর নেই, সেসব স্থানে জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার একটি জনপ্রিয় বাহন হতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার চলাচল উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।’

কঠিন সময়ে দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখতে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে রিফুয়েলিং সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন নজরুল। পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোতে প্রথাগত ফ্লাইট নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ফ্লাইট শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।

‘অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে রিফুয়েলিং ব্যবস্থা করা গেলে যেকোনো বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালানো যাবে। এটি হলে এখন যেমন বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ যাত্রী দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করছেন সেটি বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ লাখে পৌছাবে’, মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কার্গো ও চার্টার্ড ফ্লাইটে জোর দিতে এয়ারলাইন্সগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশের পেট্রল পাম্পগুলো ইউরোপ-আমেরিকার আদলে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে সোয়া দুই একর থেকে আড়াই একর। সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা দুই হাজার ৯০৬ বর্গফুট। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। টয়লেট জোন হবে এক হাজার ১৫৫ বর্গফুটের।

মহাসড়কের পাশে পেট্রল পাম্পে উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। এসব পাম্পে থাকবে রেস্টুরেন্ট, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, টয়লেট, চালকদের গোসলের ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার।

আরও থাকবে শিশুদের খেলার স্থান, বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর আলাদা স্থাপনা। থাকবে শপিং ও গিফট কর্নারও।

একই স্টেশনে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি থাকবে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও, থাকবে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের সুযোগ। ব্যাটারি পরিবর্তন, পাম্পিংসহ গাড়ির টুকিটাকি কাজও সেরে নেয়া যাবে এসব পাম্পে।

সরকার এগুলোকে বলছে ‘হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন’। এর একেকটির আয়তন হবে আড়াই একর।

এসব উদ্যোগ পাম্প মালিকের খরচ প্রাথমিকভাবে বাড়ালেও তার আয় বাড়বে বহুগুণ। কারণ, প্রতিটি সেবার বিপরীতে তারা টাকা নিতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, একেকটি পাম্প স্থাপনে খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এই পরিকল্পনা, যা বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেয়া হবে।

প্রথমে তিনটি থেকে ছয়টি পাম্প স্থাপন করবে সরকারি তিনটি তেল বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল। পরে বেসরকারি খাতে করা হবে আরও।

সরকার বলছে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত পেট্রোল পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে ভেজাল তেল বিক্রি, ওজনে কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে পাম্পগুলোর পরিবেশও উন্নত বিশ্ব তো দূরে থাকুক, এশিয়ার মানেরও নয়। তাই সরকার এইসব মাথায় রেখেই একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরকে তাই এ প্রকল্প গ্রহণের বছর হিসেবে নেয়া হয়ছে।

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে
প্রস্তাবিত পেট্রল পাম্পগুলোর মডেল

যেমন হবে মডেল পাম্প

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে সোয়া দুই একর থেকে আড়াই একর। এর মধ্যে হাইওয়ে ব্যবহারকারীদের সুযোগ সুবিধার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৯৫৩ বর্গ কিলোমিটার বা ১০ হাজার ২৫৮ বর্গফুট জায়গা।

সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা ২ হাজার ৯০৬ বর্গফুট। ৮২ জন এই রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। নামাজের স্থান থাকবে ২৪০ বর্গফুট। রান্নাঘরের আয়তন হবে এক হাজার ৪৮৫ বর্গফুট।

পাম্প মালিকের কেবিন থাকবে ৩০০ বর্গফুটের। প্রক্ষালন (ওয়াশরুম) কক্ষের আয়তন হবে ৬৫ বর্গফুট। এটিএম বুথের জন্য থাকবে ২২৫ বর্গফুট।

টয়লেট জোন হবে ১ হাজার ১৫৫ বর্গফুটের। এর মধ্যে পুরুষ টয়লেট ৫৪৮ বর্গফুট (একসঙ্গে ২০ জনের ব্যবহার যোগ্য), নারীদের টয়লেট হবে ২৭০ বর্গফুটের (একসঙ্গে ৯ জন ব্যবহার যোগ্য)। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে ৬৭ বর্গফুট এলাকা।

পাম্পের কাউন্টার এবং লুব্রিকেন্ট স্টোরেজের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩১২ বর্গফুট জায়গা। আট জনের অফিস কক্ষের জন্য থাকছে ৪১৫ বর্গ ফুট, স্টাফ বিশ্রামের জন্য থাকছে ৪৬২ বর্গফুট।

এই পাম্প ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে মোবাইল ফোন চার্জিং পয়েন্ট। ওয়াটার বডি থাকছে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের। থাকছে মেডিক্যাল ইউনিট।

পাম্প শেডের আয়তন হবে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের। এতে একসঙ্গে ২২টি গাড়ি তেল ও গ্যাস নিতে পারবে। থাকবে রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৫৫ বর্গফুটের খোলা স্থান।

সার্ভিস এরিয়া

সার্ভিস এরিয়ায় থাকবে বাস ও গাড়ি ওয়াশিং জোন। এর মধ্যে টুলস রুম থাকবে ২২৬ বর্গফুটের। সেখানে ব্যাটারি পরিবর্তন-চার্জিং ও টায়ার পাম্পিং সুবিধা থাকবে। থাকবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও।

ড্রাইভার জোনের আয়তন হবে ২ হাজার ২৫৩ বর্গফুট। সেখানে ৯৪৩ বর্গফুটের রেস্টুরেন্ট, ৪৯০ বর্গফুটের কিচেন, ৩৮০ বর্গফুটের টয়লেট থাকছে। থাকছে চালকদের গোসলের ব্যবস্থা।

ট্যাংক স্টোরেজ ও পার্কিং ক্যাপাসিটি

হাইওয়ে মডেল পাম্পে অকটেন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি থাকবে ১৮ হাজার লিটার। পেট্রোল স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ১৩ হাজার লিটার। দুইটি হাইস্পিড ডিজেল স্টোরেজ ট্যাংকের মোট স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ৬০ হাজার লিটার। অটো গ্যাস (এলপিজি) ক্যাপাসিটি হবে ২০ হাজার লিটার।

এই পাম্পে ১৩ টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ২০টি বাস ও ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। ফুয়েল আনলোডিং ক্যাপাসিটি থাকবে একটি। একই সঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও থাকছে।

কেন এই উদ্যোগ?

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন) ড. মহ. শের আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পেট্রল পাম্প নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটি জরিপ চালিয়েছিলাম। এই জরিপে মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এতে দেখা যায় দেশের প্রচলিত পাম্পগুলোর ৬২ ভাগই তেল বিক্রি করে লাভ করতে তো পারেই না, উল্টো লোকসানে থাকে।

‘তারা ভেজাল তেল বিক্রি করে ও ওজনে কম দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখে বা সামান্য লাভও করে। এতে দেশের পাম্পগুলোর সেচ্ছ্বাচারিতা ও গ্রাহক ভোগান্তির এক করুণ চিত্র ফুটে ওঠে।’

নতুন ধরনের পাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ হবে-এমন নিশ্চয়তা কী, এমন প্রশ্নে যুগ্মসচিব বলেন, ‘এসব পাম্পে ভেজাল বা ওজন কম দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ, তেল বেচে যদি লাভ নাও হয়, তাহলেও অন্যান্য যে সেবা থাকবে, তাতে মালিকের মুনাফা হবে অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের পেট্রল পাম্পগুলোর ফ্রেশ রুমগুলো অত্যন্ত নোংরা। নেই কোনো রিফ্রেসমেন্ট ব্যবস্থাও। এতে নারী, শিশু ও প্রবীণরা ঝামেলায় পড়েন। চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায়, দুর্ঘটনাও ঘটে।

‘এরপরই সরকার প্রতিকারের বিষয়ে চিন্তা করতে থাকে এবং নতুন করে পেট্রল পাম্পের অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আমরা একটি হাইওয়ে মডেল পাম্পের চিন্তা ও পরিকল্পনা করি। সেই মোতাবেকই একটি ডিজাইনও করা হয়।‘

শের আলী বলেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। মহাসড়কগুলো দুই লেন থেকে চার লেন ও এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবিআইএন চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করবে। ফলে আমাদের পাম্প গুলোও আন্তুর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। আমরা সে ধরনেরই নকশা করেছি।

‘এই পাম্প বাস্তবায়ন হলে এমনিতেই প্রচলিত পাম্প বন্ধ হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নিউজবাংলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন, ভিশন-২০৪১; হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন তারই একটা অংশ।

তিনি জানান, দেশের জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে, কোয়ালিটি সার্ভিস নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য নেয়া হয়েছে বিশ্বমানের নানা কার্যক্রম ও প্রকল্প।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের আদলে পাম্পগুলো বদলে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও পাম্প ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে গ্রাহকরা একই স্থানে অনেকগুলো সেবা পাবেন। মোট কথা অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, অটো গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ চার্জিংয়ের মতো পাঁচটি সেবা, সেই সঙ্গে চাকা ও ব্যাটারি পরিবর্তন ও মেরামতের সুযোগ থাকছে।’

মালিকদের আগ্রহ কম যে কারণে

সরকার উচ্ছ্বসিত হলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত কম। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সারা দেশে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মডেল পেট্রল পাম্প করার প্রথম সমস্যা হচ্ছে এটি করতে প্রায় ১০ বিঘা জমি দরকার, যা ব্যয়বহুল। বিশাল বিনিয়োগ করতে হবে। এটি আমাদের দেশের জন্য উপযোগী নয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক মালিক ঋণ করে পাম্প দেন। সেই ঋণের সুদ দিতেই তাদের গলদঘর্ম হতে হয়। এখন বাড়তি এত কিছুর পেছনে বিনিয়োগ করতে বলাটা অমানবিক বটে।

‘এদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও আমরা ভাবছি। এ রকম সুবিধা থাকলে অনেক লোকই পাম্পে আসবে। পাম্পে নগদ টাকা থাকে। সেটিও বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া এ কাজের জন্য যে জমির কথা বলা হচ্ছে তা হাইওয়ের পাশে পাওয়া আরও কঠিন। জমির দামও বেশি পড়বে। এখন কারোরই এত বড় জমি নেই।’

এই অবস্থার মধ্যে বিপিসি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বলছে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, পদ্মা সেতু এবং মিরেরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নিজস্ব অর্থায়নে এগুলো বাস্তবায়ন করবে।

জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান ওই সভায় বিপিসির এই উদ্যোগে সায় দেন এবং এই বিষয়ে কাজ শুরু করতে গুরুত্ব আরোপ করেন।

জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের ফিলিং স্টেশন নির্মাণের খরচ বেশি। তাই উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম। এই কারণেই এবার বিপিসির অধীন বিপণন সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব জায়গায় মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করবে। এটা দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিপিসির জমি ছাড়াও পূর্বাচলে কয়েকটি স্টেশন নির্মাণের জন্য আমরা জমি চেয়েছি। পেলে সেখানেও নির্মাণ করা হবে।’

চ্যালেঞ্জটা কী?

জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, তারা ৯টি মডেল পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এর মধ্যে ৩টি তেল বিপণন কোম্পানির অর্থায়নে ৫টি আর ৬টি ডিলারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে পদ্মা ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে দুটি করে এবং মেঘনা পেট্রলিয়ামের মাধ্যমে একটি মডেল পাম্প নির্মাণে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

তবে বিপিসির চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘যতদূর জানি এ নিয়ে কাজ চলছে। আমি নতুন। তাই বেশি কিছু জানি না। তবে এটা এমন কোনও বড় বিষয় নয়।’

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

জবি ছাত্রী হলে ‘গোলকধাঁধায়’ প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী উঠবেন কীভাবে?

জবি ছাত্রী হলে ‘গোলকধাঁধায়’ প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী উঠবেন কীভাবে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। ছবি: নিউজবাংলা

প্রভোস্ট বলেন, ‘প্রভোস্টের অফিস রুমে বসে কাজ করতে পারছি না। আমাকে ডিপার্টমেন্টের অফিসে থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। জনবল না থাকায় ডিপার্টমেন্টের অফিস সহায়ককে দিয়েই হলের কাজগুলো করাতে হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একমাত্র হলের নির্মাণকাজ শেষ হলেও হয়নি হস্তান্তর। এরই মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেটে পাস হয়েছে হলের নীতিমালা। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পরই বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর নামে করা বেগম ফজিলাতুন নেছা হলে ছাত্রী তুলতে চলছে আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কাজ।

এমন বাস্তবতায় নিজের কক্ষের সার্বিক কাজ শেষ না হওয়া, জনবলশূন্যতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ছাত্রী হলের প্রতি তলাতেই একজন করে হাউস টিউটর দরকার। সেই হিসেবে ১৩ তলায় ১৩ জন হাউস টিউটর প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হলে একজন হাউস টিউটর আছেন। প্রভোস্টের রুমে আমার বসার জন্য টেবিল-চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র, পর্দা, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলাম গত মার্চের ১৬ তারিখ, যাতে সেখানে বসে ঠিকমতো কাজ করতে পারি।’

তিনি বলেন, “এই যে অফিসের কাজ করতে, টাইপ করতে কম্পিউটার, প্রিন্টারের দরকার হয়, এগুলো করার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টের দরকার। সেখানে বসে কাজ করলে একটা টেলিফোন দরকার। এসব চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তৎকালীন উপাচার্য মীজান স্যার স্বাক্ষর করে লিখেও দিয়েছিলেন ‘জরুরি ব্যবস্থা নিন।’ সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়াও হয়েছিল। তবু কাজ হয়নি।”

‘আবেদন জানানোর পরও কিছু পাই নাই’

প্রভোস্ট বলেন, ‘নতুন ভিসি স্যার আসার পর প্রথম মিটিংয়েই আমি আমার বক্তব্যে এসব বলেছি যে, আবেদন জানানোর পরও এখনও কিছু পাই নাই। তারপর তড়িঘড়ি করে কয়েকটা কাজ হয়েছে। এখনও আমাকে কম্পিউটার দেয়া হয় নাই, পর্দা লাগানো হয় নাই। আমার নেমপ্লেটও লাগানো হয় নাই। গত সপ্তাহে টিঅ্যান্ডটির লাইন লাগানো হইছে। এরপর আবার নতুন করে কিছুদিন আগে আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত সবকিছু পাইনি। বাকি কাজগুলো কবে হবে, সেটাও বলতে পারছি না।

‘প্রভোস্টের অফিস রুমে বসে কাজ করতে পারছি না। আমাকে ডিপার্টমেন্টের অফিসে থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। জনবল না থাকায় ডিপার্টমেন্টের অফিস সহায়ককে দিয়েই হলের কাজগুলো করাতে হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার।’

হল নির্মাণের কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ প্রভোস্টের।

জগন্নাথে কাজ দেরিতে হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই, তিন বছরের মধ্যে ২০-২২ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়ে যায়৷ আমাদের এখানেই শুধু ৮-৯ বছর সময় লাগে। আমাদের নতুন একাডেমিক বিল্ডিংয়েরও একই অবস্থা। এতদিনেও কাজ শেষ হয় না। অন্যান্য জায়গায় এত সময় লাগে না; দ্রুতই বিল্ডিং উঠে যায়।

‘জগন্নাথেই শুধু এতটা সময় কেন লাগে জানি না। ছাত্রী হলের কাজটা আরও আগে শেষ হলে আমাদের ছাত্রীদের জন্য অনেকটাই সুবিধা হতো।’

হলের সিটের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেন প্রভোস্ট।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রীদের তথ্য আইটি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। কাজ চলছে। কাজ শেষ হলেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন-চার দিনের মধ্যেই হয়তো কাজ শেষ হয়ে যাবে। ছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। ৬২৪ জন ছাত্রী হলে সিট পাবে।

‘আমাদের প্রায় ৬-৭ হাজার ছাত্রী। প্রতিটি সিটের জন্য ১০০ জন দাবিদার। আমাদের চেষ্টা থাকবে দূরত্ব ও মেধা অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দেয়া। আমার পছন্দ ছিল যেন প্রতিটি রুমে ব্যাচ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সিট দিতে পারি। তারা তো নিজেদের সমস্যার কথা ভালো বুঝতে পারবে। কিন্তু অন্য কোথাও তো এমন নিয়ম নেই। তাই সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়েই রুমে সিট বরাদ্দ হবে।’

জবির ছাত্রী হলটি নির্মাণের কথা ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। এ সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে হলের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এরপর বাকি থাকা কাজ ২০২১ সালে এসে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

প্রতীকী ছবি

আইএসপিএবি-এর সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে, এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না।’

একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে এয়ার টিকেটিং অফিসার হিসাবে কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকেট বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, তাই অফিসের বাইরেও সারাক্ষণ ইন্টারনেট সংযোগে থাকতে হয়।

মোবাইল ইন্টারনেটে ব্যয় বেশি বলে আরিফ হোসেন বাসায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারসংযোগ নিয়েছেন ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকায়। তবে প্রায়ই দেখা যায়, বাসার ইন্টারনেটে ফেসবুক-ইউটিউব চললেও এয়ার টিকেট বুকিং সফটওয়্যার কাজ করে না, তখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। বাধ্য হয়ে বাড়তি ৩০০ টাকা দিয়ে সংযোগ ১০ এমবিপিএস করে নিয়েছেন। এতে আগের চেয়ে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়লেও তা মন মতো হচ্ছে না।

আরিফের মতো অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ, সর্বনিম্ন রেটের এ ইন্টারনেট ঠিক মতো কাজ করে না। তারা ইন্টারনেটের সঠিক গতি পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রচুর সময় লাগে।

এক রেটে ইন্টারনেট

চলতি মাস থেকে সারা দেশে এক দাম ও সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট পাবার পথ তৈরি হয়েছে। এতে গ্রাম বা শহর সব জায়গাতেই সর্বনিম্ন ৫০০ টাকায় ইন্টারনেট পাবেন গ্রাহকরা। এক রেটে ইন্টারনেট কার্যকার হলেও এই ইন্টারনেটের সত্যিকার গতি কত তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ‘এক রেটে’ ইন্টারনেট সেবামূল্য (ট্যারিফ) চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। গত ১২ আগস্ট বিটিআরসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের নতুন এই ট্যারিফ ঘোষণা করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

নতুন দাম হিসাবে খুচরায় ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৮০০ এবং ২০ এমবিপিএস ১ হাজার ২০০ টাকায় পাবেন গ্রাহক।

এর আগে ৬ জুন ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট ঘোষণা দেয়ার পরে তা বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছিল। ইন্টারনেটের একেক পর্যায়ে একক দর ছিল। তাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তিনটি ধাপে খুচরা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), বেসরকারি নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) অভিন্ন ট্যারিফ চালু করা হয়েছে। এতে আইআইজি ও এনটিটিএন চালু হওয়ার ১২ বছর পর এ সেবামূল্য নির্ধারণ করা হলো।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মূল্য নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে সারা দেশে ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট বাস্তবায়ন হবে। এতে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষও শহরের মানুষের মতো কম দামে ইন্টারনেট সেবা পাবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ দর কার্যকর করতেই হবে।

রেট ৫০০ টাকা, কিন্তু গতি আট ভাগের এক ভাগ

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সরকারের ঘোষণার পর বেশির ভাগ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্যাকেজে পরিবর্তন এনেছে। একই প্যাকেজের মূল্য আগে বেশি থাকলেও তা কমিয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর থেকেই ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডইউথ সেবা দিয়ে আসছে, তবে তা শহরে যেখানে গ্রাহক বেশি সেখানেই সম্ভব ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে গ্রাহকদের ব্যান্ডইউথ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন দরে ইন্টারনেট গ্রাহকরা আরও আগে থেকেই পেয়ে আসছে। কিন্তু এখানে একটি ফাঁক রয়েছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন দরে যে লাইন দেয়া হয়, সেগুলো শেয়ারড লাইন। এখানে গ্রাহক চাইলে তার মনমতো স্পিড পাবে না। কারণ ৫০০ টাকায় যারা প্যাকেজ নিচ্ছে, তাদের এ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে এক জনের ইন্টারনেট সংযোগের গতি আট ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশির ভাগ গ্রাহক এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের ব্যান্ডউইথ ও স্পিডের চাহিদা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে করপোরেট অফিস শেয়ারড ইন্টারনেট দিয়ে চলে না। তাদের ডেডিকেটেড ব্যান্ডউইথ নিতেই হয়। তবে এ ক্ষেত্রে মাসিক চার্জও বেশি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে: এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না। ইউজাররা হ্যাপি থাকবে না। এই খানেই একটু বোঝার ভুল রয়েছে।

‘অনেকে মনে করে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস গতি পাবে। এ ডাটা ৮ জনে শেয়ার করলে তা যে ৬২৫ কেবিপিএস হয়, এ কথা অনেকেই বলে না। মনে করেন কেউ শেয়ারড লাইন নিল। তার বাসায় লোক ৪ জন, তাহলে ৬২৫ কেবিপিএস গতিও চার ভাগ হয়ে যাবে, এ গতি দিয়ে সে কী করতে পারবে? তাই কাজ করতে চাইলে তাকে প্যাকেজে আপডেট করে নিতেই হবে। তখন কিন্তু সর্বনিম্ন দাম থাকবে না।’

সর্বনিম্ন এক রেট কি সম্ভব

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব। তবে তা খুব যে কার্যকর হবে তা নয়। কারণ ৫০০ টাকায় শেয়ারড লাইন ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। সর্বনিম্ন প্যাকেজ যদিও ভ্যাটসহ ৫২৫ টাকা খরচ পড়ে, অপারেটররা ৫০০ টাকাই রাখছেন। তবে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য কেউবা ১ বনাম ৮ এর জায়গায় ১ বনাম ৩ বা ১ বনাম ৪ করছেন। আবার অনেকে ১ বনাম ৮ শেয়ারিং লাইন দিলেও ৫ এমবিপিএসের জায়গায় ৮ এমনকি ১০ এমবিপিএস স্পিডও দিচ্ছে। টাকাও একটু বেশি নিচ্ছে। কারণ, সব গ্রাহকের এক সঙ্গে একই সময় ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে কোনো গ্রাহক ব্যবহার না করলে অন্যরা তখন তুলনামূলক ভালো স্পিড পায়। তবে কেউ বিশেষ কোনো কাজ করতে চাইলে কিংবা বাফারিং (ধীরগতি) মুক্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চাইলে তাকে ডেডিকেটেড লাইন নিতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে বেশি খরচ করতেই হবে।’

এমদাদুল হক বলেন, ‘৫ এমবিপিএস ডেডিকেটেড (এক লাইন এক ইউজার) লাইনে অপারেটরের ২০০০ টাকার মতো খরচ পড়ে। তাহলে সে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস দেবে কীভাবে? কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো বা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে ৮ জনের ক্ষেত্রে ৪ বা ৫ জনকে একটি শেয়ার লাইন দিচ্ছে। গ্রাহকও একটু ভালো গতির ইন্টারনেট পাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

মুক্তিযুদ্ধকালীন জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মূলে রয়েছে একটি চিঠি। পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তার সে সময় লেখা চিঠির প্রসঙ্গটি জাতীয় সংসদেও উঠেছে এবং এ নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

‘তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।’—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় এভাবেই চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওই সময়ের কর্নেল আসলাম বেগ।

এ রকম একটি চিঠি সম্প্রতি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিঠিটি মুক্তিযুদ্ধে ‘বীর উত্তম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ছদ্মবেশে পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। আর দেশের স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুর দিকে।

এ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার লেখা একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সে (জিয়াউর রহমান) কী করেছে, আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল, সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ’৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ওই চিঠি তার কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘কথাটা উঠবে জানলে আমি চিঠিটা নিয়ে আসতাম। একসময় আমি নিয়ে আসব। এটা আমাদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা উচিত।’

সেই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ১৯৭১ সালের ২৯ মে মেজর জিয়াকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন কর্নেল বেগ।

যা লেখা ছিল মূল চিঠিতে

Dacca

Major Zia Ur Rahman, Pak Army

We all happy with your job. We must say, good job. You will get new job soon.

Don’t worry about your family. Your wife and kids are fine.

You have to be more careful about Major Jalil.

Col. Baig Pak Army

May 29. 1971

বাংলায় যা দাঁড়ায়:

ঢাকা

মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি

তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।

তোমার পরিবার নিয়ে চিন্তা কোরো না। তোমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে।

মেজর জলিল সম্পর্কে তোমাকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কর্নেল বেগ, পাক আর্মি

মে ২৯, ১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে দেয়া হয় ‘বীর উত্তম’ খেতাব। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্টর-১ এর দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জিয়া। ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর সেক্টরটির দায়িত্বভার বর্তায় ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাঁধে।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
জিয়াকে উদ্দেশ করে লেখা কর্নেল বেগের সেই কথিত চিঠি


তবে এ চিঠির বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-১ এর কমান্ডার এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনুন। আমি এসব নিয়ে এখন কোনো কথা বলব না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি।’

সেদিন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের কথার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জিয়া যেখানে দায়িত্বে ছিল, সেখানে নাকি বেশি মানুষ মারা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি সব থেকে বেশি। সে একটা সেন্টারে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়েছে।’

জিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া থেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’

গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভা থেকে জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সুপারিশ আনা হয়।

এ বছরের ৬ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় জড়িত এবং আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আত্মস্বীকৃত খুনির বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যারা খেতাব হারিয়েছেন তারা হলেন: লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক গেজেট নং ৩২৯)।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
আসলাম বেগ, যিনি পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিলেন


তবে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

কে এই বেগ?

খোঁজখবর করে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীতে মির্জা আসলাম বেগ নামে একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ’৭১-এ পাকিস্তানের একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেন।

কিন্তু মির্জা আসলাম বেগ ইংরেজিতে নিজের নামের বানান লিখেছেন ‘Beg’। আর যিনি জিয়াউর রহমানকে চিঠি লিখেছেন, তার বানান ছিল ‘Baig’। এ দুজন একই ব্যক্তি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৭১ সালে আসলাম বেগ একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিলেও পরে তাকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে পাঠদান বিষয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ওই সময়টায় তিনি যুদ্ধবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক মারা গেলে পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফের দায়িত্ব পান মির্জা আসলাম বেগ। ১৯৯১ সালে অবসর জীবনে যান বেগ। তার আগ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চার তারকা জেনারেল।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা

বিটিসিএল-এর ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার একটি প্রকল্প আর্থিক অসঙ্গতির কারণে একাধিক বার ফিরিয়ে দেয় পরিকল্পনা কমিশন। ছবি: প্রতীকী

ফাইভ-জির উপযোগী করে বিটিসিএলের নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করতে বিটিসিএলের একটি প্রকল্প ঘুরছে কয়েক বছর ধরে। পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন বলছে, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে সমীক্ষা করা হয়নি। সমীক্ষার পর প্রকল্পের ব্যয় এক ধাক্কায় ২০০ কোটি টাকা কমে গেছে। তবে আরও বেশ কিছু আপত্তি রয়েছে মূল্যায়নে।

ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাবের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিডেটের (বিটিসিএল) ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ৩৬৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ফিরিয়ে দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া অনেকটা ধারণার ভিত্তিতে তিন বছর পর একই প্রকল্প তিন গুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে ১ কোটি ২৬৫ টাকা প্রাক্কলন করে আবার কমিশনে প্রস্তাব পাঠায় বিটিসিএল। এটি ছিল প্রথম প্রস্তাবের প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং ৮৯৬ কোটি টাকা বেশি।

তবে এবারও আপত্তি তোলে কমিশন। মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে আবারও বিস্তারিত সমীক্ষা করার জন্য ফেরত পাঠায় প্রকল্প। এতে দ্বিতীয় প্রস্তাব থেকে ২০১ কোটি টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৬৪ টাকা নতুন ব্যয় প্রাক্কলন করে বিটিসিএল। তৃতীয় প্রস্তাবের ওপরও নানা আপত্তি রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের।

এমন ঘটনা ঘটেছে ‘ফাইভ-জি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে। সম্পূর্ণ দেশি অর্থায়নের এ প্রকল্পটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) বাস্তবায়ন করতে চায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, শুরুতে ২০১৮ সালে এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আসে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল অক্টোবর ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১ এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তখন চীনের অর্থায়নে অন্য একটি প্রকল্প চলমান ছিল। আইসিটি বিভাগের একই ধরনের প্রকল্পও ছিল। তাই বিটিসিএলকে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব না করে চলমান অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এটির কোনো দ্বৈধতা (ওভারল্যাপ) আছে কি না, তা যাচাই করতে এবং এ প্রকল্পে জনবলের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নিয়ে আবার প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলে কমিশন।

পরে ২০২০ সালে আবার প্রস্তাব পাঠায় বিটিসিএল, কিন্তু এবার প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয় জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৩। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হলে তার ওপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিইসির (মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় বলা হয়, যে প্রকল্প শুরুতে ছিল ৩৬৮ কোটি টাকা, তা পরবর্তী সময়ে প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। এ থেকে বোঝা যায়, সমীক্ষা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। কোনো নির্ভরযোগ্য সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তাই পিইসি সভার একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যথাযথ কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করিয়ে পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে।

পিইসি সভার এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সম্ভাব্য সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

বুয়েটের করা সে সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিপিপি পুনর্গঠন করে প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করে এটি অনুমোদনের জন্য আবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এতে প্রকল্পের নতুন ব্যয় আগের প্রস্তাবিত ব্যয়ের চেয়ে ২০১ কোটি টাকা কমে যায়। প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে ৭১৩ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দেবে সরকার। এ ঋণ ৫ শতাংশ সুদে ১৩ বছরে সরকারকে শোধ দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেবামূলক কাজই বেশি করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ সরকারকে করতে হবে। এ জন্য সংস্থাটির সেবার আওতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে ফাইভ-জি ‍সুবিধার অবকাঠামো তৈরি এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ হবে।’

প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম প্রস্তাবের চেয়ে সর্বশেষ প্রস্তাবে কাজের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আগে জেলা শহর পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কথা থাকলেও এখন তা উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নেটওয়ার্ক আধুনিক করার জন্য অনেক যন্ত্রপাতিও কেনা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। তাই ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলছে, বর্তমানে দেশে ৬ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১১ শতাংশ নারী। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মোট আন্তর্জাতিক শেয়ারে বাংলাদেশের ১৬ শতাংশ অবদান রয়েছে, যা সারা বিশ্বে দ্বিতীয়। এই পেশায় নারীদের অবদান বাড়াতে হলে আরও অনেককে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোণে অবস্থানরত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ১৩ শতাংশ, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার জন্য সারা বাংলাদেশে ইন্টারনেটের পেনিট্রেশন প্রায় ৯০ শতাংশ হতে হবে। এ কারণেই পুরো দেশকে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল লিংক সুবিধার আওতায় আনা এবং বিটিসিএলের টেলিযোগাযোগ কাঠামো আধুনিকীকরণসহ উচ্চমানের ট্রান্সমিশন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের যত আপত্তি

কমিশন বলছে, নতুন করে যে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, তাতে কমিশন সন্তুষ্ট নয়। কমিশন থেকে আরও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনার সঙ্গে বুয়েটের সমীক্ষার বিস্তারিত সুপারিশও দাখিল করতে হবে।

প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে ৩০ জনের বিদেশ ভ্রমণ বাবদ ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়ার্কশপের জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন এটির যৌক্তিকতা জানতে চাইবে।

সম্ভাব্য সমীক্ষা প্রতিবেদনে কনসালটেন্সি বাবদ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হলেও ডিপিপিতে তা কমিয়ে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু এ খাতের অবশিষ্ট অর্থ মোট প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ না দিয়ে অন্য অঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ জানতে চাইবে কমিশন।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬ মাসের জন্য ১২টি যানবাহন ভাড়া বাবদ ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ছয়টি মোটরসাইকেলসহ ১১টি মোটরযান ক্রয় বাবদ ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জ্বালানি বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রস্তাব করার কারণ জানাতে হবে।

তিন বছরের প্রকল্পে ৩৯ জনের ভাতা বাবদ ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে কমিশন।

কমিশন বলছে, এ ক্ষেত্রে ৬৪ জেলার মডার্নাইজেশন অফ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রকল্পসহ বিদ্যমান ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি খুবই কম দেখানো হয়েছে। এখানে বরগুনায় ১২ জিবিপিএস, বরিশালে ৬০ জিবিপিএস, ভোলায় ১৩ জিবিপিএস, ঝালকাঠিতে ১১ জিবিপিএস দেখানো হয়েছে। এ প্রকল্পে বরগুনায় ২০০ জিবিপিএস, বরিশালে ৪৫০ জিবিপিএস, ভোলায় ৩০০ জিবিপিএস, ঝালকাঠিতে ২০০ জিবিপিএস বৃদ্ধি করা হবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, আগের প্রকল্পসহ বিদ্যমান ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি এত কম হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পটি নিয়ে অর্থ বিভাগে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জনবল নির্ধারণ কমিটির সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পর্যায়ে ৩৯ জন জনবলের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে জনবল নিয়োগে কোনো অসুবিধা হবে কিনা- এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত প্রয়োজন বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা
বিটিসিএল ভবন

কী থাকবে প্রকল্পে

প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন সর্বাধুনিক টেলিযোগাযোগ ও আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া এবং বর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নতকরণ এবং সম্প্রসারণ করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বলছে বিটিসিএল।

বিটিসিএল এও বলছে, প্রকল্পের মাধ্যমে বিটিসিএলের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য দেশের ৬৪ জেলা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা ব্যাক-আপ অপটিক্যাল লিংক সুবিধার আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরে ব্যাক-আপ লিংক তৈরি করা হবে। বর্তমান ফোর-জি নেটওয়ার্কের চাহিদা বৃদ্ধি ও আসন্ন ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে আধুনিকীকরণের জন্য দেশব্যাপী আটটি ক্লাস্টার (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল) স্থাপন, ক্লাস্টার থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ বিতরণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রাউটার, এসএফপি মডিউল ইত্যাদি স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া ব্যাক-আপ রিং নেটওয়ার্কে রূপান্তরের জন্য দেশব্যাপী ১৪৬টি ওএফসি লিংক (ভূগর্ভস্থ) এবং আটটি ওএফসি লিংক (সাবমেরিন/নদীর তলদেশ দিয়ে) স্থাপন, ওএফসি ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল স্থাপন, ৩ হাজার ১৪৪ কিলোমিটার সাবমেরিন কেব্‌ল স্থাপন ৩৯ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

শেয়ার করুন