শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

হামলায় আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

হামলায় অন্তত সাত জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের পাঁচ জন ছাত্রী ও দুজন ছাত্র। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজশাহীর বেসরকারি শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের পাঁচ জন ছাত্রী ও দুজন ছাত্র। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনীর জানান, শিক্ষার্থীরা থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে এ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজে ২২৫ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণলয় কলেজটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য যেকোনো মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয় এই আবেদন গ্রহণ করেছে।

এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের একটি দল শনিবার (কাল) কলেজটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।

হামলায় আহত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিন রায়হান জানান, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও এটি আবারও চালু হওয়া না-হওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টিম (দল) আগামীকাল শনিবার মেডিক্যাল কলেজটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।

‘এ বিষয়টি জানার পর আমরা এমনিতেই পরিস্থিতি দেখতে ১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসে যাই। সেখানে মূল ফটকে আমাদের আটকে দিয়ে কলেজের কর্মচারীরা বলেন ক্যাম্পাস বন্ধ। ডিসেম্বর মাসের আগে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়’-বলেন তহসিন।

তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে কর্মচারীরা গেট (ফটক) খুলে দেয়। আমরা গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর সেখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হামলা করেন। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শিক্ষার্থীদের আহত করেন।’ তারা এটি পরিকল্পিতভাবেই করেছেন বলে অভিযোগ এই শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে ওসি সিরাজুম মুনীর বলেন, ‘করোনার কারণে এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ। দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। ঘটনা শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী মামলা করতে থানায় এসেছেন। তাদের অভিযোগ শোনা হচ্ছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিত ঘটনা। শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল আসছে বলেই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। মূলত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধ ক্যাম্পাসে যান।’

ঘটনার পর শুক্রবার রাতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের টিম আসার সময় নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য