20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সরকারি অফিসে ‘মাজার’

হবিগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অফিসে কথিত মাজার। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি অফিসে ‘মাজার’

কিছু জায়গাজুড়ে কয়েকটি নিশান টাঙিয়ে সকাল-সন্ধ্যা মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন রেনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি, সেখানে ‘কালা শাহ্’ নামে এক জিন্দাপীরের কবর রয়েছে।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে জিন্দাপীরের কবর রয়েছে দাবি করে সেখানে মাজার স্থাপন করেছেন রেনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি।

কিছু জায়গাজুড়ে কয়েকটি নিশান টাঙিয়ে সকাল-সন্ধ্যা মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, সেখানে ‘কালা শাহ্’ নামে এক জিন্দাপীরের কবর রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, চার বছর ধরে রেনু মিয়া ওই কবর দেখাশোনা করছেন। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সেটি উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু পুনরায় তিনি সেখানে কবর আকৃতির একটি স্থাপনা তৈরি করে লাল-সবুজ নিশান টানিয়ে দেন।

আগে রেনুর এই উৎপাত কম থাকলেও সম্প্রতি বেড়ে গেছে। কেউ মাজারের বিরোধিতা করলে তিনি তাকে মারতে উদ্যত হন। কার্যালয়ের গেট বন্ধ থাকলে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকেন। মাঝেমধ্যে কার্যালয়ের গেটে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন।

সরকারি অফিসে ‘মাজার’
মাজারের নিশান অফিসের বাইরে থেকেও দেখা যায়

রেনু মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৯শ বছর আগে থেকে এখানে জিন্দাপীর কালা শাহের কবর রয়েছে। এক সময় আমার দাদা সেটি দেখাশোনা করতেন। গেল ২৭ বছর ধরে আমি দেখছি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাধা দিচ্ছে। অনেকবার কবরটি ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কবরের পাশে একটা বিশাল ছাতিম গাছ ছিল। সেটি যখন কাটা হয়, তখন আমি তাদের হাতে পায়ে ধরেছি। বলেছি, গাছের যত দাম আছে আমি এর ডাবল দেব। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেন নি।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ উল্লাহর বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে উপজেলা প্রশাসন গাছ কেটে নতুন ভবন নির্মাণ করে। তবে কোনো কবর আমাদের চোখে পড়েনি বা আমরা শুনিনি।’

প্রায় একই কথা বলেন বৃদ্ধ সৈয়দ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এখানেই বড় হয়েছি। কখনও এখানে কবর থাকার কথা শুনিনি। তবে গাছটিকে সাধারণ মানুষ অন্য দৃষ্টিতে দেখত।’

লাখাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেডেরিনারি সার্জন শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করেছি মাত্র আট মাস হয়েছে। আসার পরই দেখলাম এখানে কবর রয়েছে। মাঝেমধ্যে একটা লোক এসে সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালাত। কিন্তু ৪/৫ দিন ধরে তার উৎপাত বেড়ে গেছে। সকাল-সন্ধ্যা তিনি এখানে এসে এটা-ওটা করে। প্রায় সময় কার্যালয়ের গেটে লোহার রড জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করে। এতে গেটের বেশ ক্ষতিও হয়েছে।’

সরকারি অফিসে ‘মাজার’
কথিত মাজারের খাদেম রেনু মিয়া

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছেন।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘যেহেতু রেনু মিয়া এখানে কবর রয়েছে বলে দাবি করছেন, সেহেতু চাইলেই তাকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে না। এটি একটি সেনসিটিভ বিষয়। তাই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রেনু মিয়া উপজেলার পূর্ব বামৈ গ্রামের মৃত মারাজ উল্ল্যাহর ছেলে। স্থানীয় লোজনের কাছে তিনি রেনু পাগলা নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ও চার মেয়ে রয়েছে।

তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘পরিবারের খরচ তিনি দেন না। এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলে ‘কালা শাহ্’ অনেক সোনা-গহনা নিয়ে আসছে। কয়েকটা দিন কষ্ট কর, তিনি আমাদেরকে রাজা বানিয়ে দেবেন।’

রেনুর মা সাবেনা খাতুন বলেন, ‘সারাদিন কোথায় থাকে কী করে কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাত ১২টার পর বাড়ি ফেরে। সারাদিন কয়েকটি কুকুর নিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়। তবে কারও কোনো ক্ষতি করে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য