20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
উত্ত্যক্ত যতদিন, যুদ্ধ ততদিন: সাদাত

নড়াইলে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাদাত রহমান সাকিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

উত্ত্যক্ত যতদিন, যুদ্ধ ততদিন: সাদাত

শিশুদের রক্ষায় সচেতনতামূলক অ্যাপ উদ্ভাবনের জন্য গত ১৩ নভেম্বর ‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার পান সাদাত।

অনলাইনে উত্ত্যক্ত (সাইবার বুলিং) বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন এ বছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাদাত রহমান সাকিব।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে নিজ জেলা নড়াইলে ফেরার পর প্রেসক্লাবে অনানুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

অনলাইনে উত্ত্যক্তের ঘটনা রোধে মোবাইল অ্যাপ ‘সাইবার টিনস’-এর উদ্ভাবক সাদাত বলেন, ‘যতদিন সাইবার বুলিং থাকবে, ততদিন পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের সম্মানির পুরো এক লাখ ইউরো অ্যাপটির উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিনকে পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দেন সাদাত। তিনি বলেন, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা না পেলে এত দূর আসতে পারতেন না।

নড়াইলবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে নড়াইল প্রেসক্লাব ও নড়াইল সিটি কলেজের পক্ষ থেকে সাদাতকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়। এ সময় তার বাবা সাখাওয়াত হোসেন, মা মলিনা খাতুন, নড়াইল সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মনির মল্লিক, নড়াইল প্রেসক্লাব সভাপতি এনামুল কবির টুকু, সাদাতের গড়া নড়াইল ভলান্টিয়ার্স ও সাইবার টিনসের বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

শিশুদের রক্ষায় সচেতনতামূলক অ্যাপ উদ্ভাবনের জন্য গত ১৩ নভেম্বর ‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত পুরস্কারটি পান সাদাত। নেদারল্যান্ডসের হেগে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। নেদারল্যান্ডসে উপস্থিত থেকে পুরস্কারটি নেন সাদাত।

শিশুদের অধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা রক্ষায় অসাধারণ অবদানের জন্য ৪২ দেশের ১৪২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সাদাতকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

নড়াইল ভলান্টিয়ার্স ও সাইবার টিনসের হেড অব ক্যাম্পেইন শফিকুল ইসলাম জানান, এই সাফল্য তাদের সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাদাতের মা মলিনা খাতুন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সাদাতের কম্পিউটার ও সমাজ-সামাজিকতার প্রতি ঝোঁক ছিল। এখন সে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। আমাদের এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

সাদাতের বাবা ডেপুটি পোস্টমাস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সাদাত বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরেছে। তার এ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

নড়াইলের ডিসি আনজুমান আরা এবং এসপি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, খুব শিগগিরই সাদাতকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাদাতের অর্জনে উচ্ছ্বসিত নড়াইলবাসী

শেয়ার করুন

মন্তব্য