20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
মসজিদের সিঁড়িতে শিশু

ধামরাইয়ের কালামপুর জামে মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। পরে নেয়া হয় হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মসজিদের সিঁড়িতে শিশু

২০ থেকে ২৫ দিন বয়সী শিশুটির পা বাঁকা। ধারণা করা হচ্ছে এ জন্য তাকে ফেলে গেছেন স্বজনরা। তবে শিশুটিকে দত্তক নিতে চান কয়েকজন।

ঢাকার ধামরাইয়ে রাতের আঁধারে একটি মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে কাঁদছিল ২০ থেকে ২৫ দিন বয়সী ছেলে শিশু। তার পায়ে জন্মগত সমস্যা। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে, হয়ত শিশুটিকে ফেলে গেছেন স্বজনরা।

শারীরিক সম্পূর্ণতা নেই বলে অভিভাবক ফেলে গেলেও শিশুটিকে কোলে তুলে নিতে চাইছেন বহুজন। নিতে চাইছেন দত্তক।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কালামপুর জামে মসজিদের বারান্দার সিঁড়ি থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়।

কাঁথায় মোড়ানো শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পান নামাজ পড়তে আসা এক মুসল্লি। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।

শিশুটিকে রাতেই ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহার উপস্থিতিতে শিশুটিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাজধানীর আজিমপুরে বেবি হোমে পাঠানো হয়।

ধামরাইয়ের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহমেদুল হক তিতাস নিউজবাংলাকে বলেন, “শিশুটির পায়ের গোড়ালি বাঁকা, সোজা হয় না। একে মেডিকেলের বাসায় 'কনজিনেন্টাল অ্যারোমেনিক' বলা হয়। শিশুটির হাঁটুতেও কিছুটা সমস্যা আছে। তবে পোলিও কি না সেটা শিশু বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন।”

তিনি বলেন, ‘শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ। সে ঠিকভাবে খাবার খাচ্ছে। তার ফুসফুসও ভালো আছে।’


ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল করিম বলেন, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তার মামা আব্দুল মান্নান। নবজাতকটিকে পেয়ে তাকে ফোন করেন তিনি।

ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জানান, শিশুটির বয়স ২০ থেকে ২৫ দিন। প্রথমে কালামপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেক ও রহিমা বেগম দম্পতির কাছে শিশুটিকে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হয়।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, বেশ কয়েকজন শিশুটি দত্তক নিতে চেয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে আইনি সমস্যা আছে। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট বা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

ধামরাই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, আব্দুল বারেক ও রহিমা বেগম দম্পতি শিশুটির পাশে আছেন। তারাই যত্ন করছেন।

বারেক জানান, তার তিন ছেলে সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। থাকেন আলাদা। নিঃসঙ্গ লাগে। তাই শিশুটিকে দত্তক পেতে চান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য