বরগুনার ওসির বালিশের কভার কাণ্ড

বরগুনার ওসির বালিশের কভার কাণ্ড

কিছু সময় পরই পুলিশের গাড়ি নিয়ে কাপড় পট্টিতে ঢুকে ‘গালাগাল’ দিতে শুরু করেন। দোকনীদের আসবাবপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে এক দর্জিকে মারধর করে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে নিজেকে ‘এককালের ছাত্রলীগ কর্মী’ পরিচয় দিয়েও শাসিয়েছেন ব্যবসায়ীদের।

দোকান থেকে কাপড় কিনেছিলেন বরগুনা থানার ওসি। তা দিয়ে তিনি একটি বিছানার চাদর ও চারটি বালিশের কভার তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আরেকটি বালিশের কভার দরকার। তাই এসআইকে পাঠিয়েছিলেন আধা গজ কাপড় কিনতে।

কিন্তু আধা গজ কাপড়ে তো একটি বালিশের কভার তৈরি সম্ভব নয়। তাই দোকানি এসআইকে ফিরিয়ে দেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম।

কিছু সময় পরই পুলিশের গাড়ি নিয়ে কাপড় পট্টিতে ঢুকে ‘গালাগাল’ শুরু করেন। দোকনিদের আসবাবপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে এক দর্জিকে মারধর করে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে নিজেকে ‘এককালের ছাত্রলীগ কর্মী’ পরিচয় দিয়েও শাসিয়েছেন ব্যবসায়ীদের।

মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের কাপড় পট্টিতে এমন ঘটনার পর প্রতিবাদে দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা।

গ্রামীণ বস্ত্রালয়ের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার বরগুনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম আমার দোকানে এসে একটি বিছানার চাদর ও চারটি বালিশের কভারের জন্য কাপড় কেনেন। পরে দোকনেরই দর্জি সেলিম খানের কাছে চাদর ও বালিশের কভার তৈরি করেত দিয়ে যান। রোববার একজন পুলিশ এসে বিছানার চাদর ও চারটি বালিশের কভার নিয়ে যান।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আবারও একজন পুলিশ দোকানে এসে আরেকটি বালিশের কভার তৈরির জন্য আধা গজ কাপড় দিতে বলেন। আধা গজ কাপড়ে একটি বালিশের কভার তৈরি করা যায় না। তাই আমি কাপড় বিক্রি না করে বালিশের জন্য এক গজ কাপড় ক্রয়ের পরামর্শ দেই। দর্জি দোকানে এলে কভার তৈরি করে দেব বলে ওই পুলিশ সদস্যকে জানাই।'

কিছু না বলে ওই পুলিশ সদস্য দোকান থেকে চলে যান- জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর পৌনে ২টার দিকে হঠাৎ ওসির নেতৃত্বে চার পাঁচ জনের একদল পুলিশ কাপড়পট্টির পশ্চিম মাথা থেকে গলিতে ঢোকেন। তারা কাপড় ব্যবসায়ীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। চেয়ার, সেলাই মেশিন আসবাবপত্র ছুড়ে সড়কে ফেলে দেন।

‘এক পর্যায়ে আমার দোকানে এসে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং দর্জি সেলিম খানকে চড়থাপ্পড় মারেন।’

বরগুনা টেইলার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম খান বলেন, ‘কোনো কথা ছাড়াই হঠাৎ ওসি এসেই আমার সেলাই মেশিন চেয়ার টেবিলসহ ছুড়ে রাস্তায় ফেলে দেন। আমাকে লাথি-চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন।

‘আমি দোকানে পড়ে গেলে ওসি দোকানদার নজরুল ইসলামকে জঙ্গি বলে আখ্যায়িত করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করে ওসিগিরি করতে এসেছি। এরপর কে কে দোকানদারি করে- সেটাও দেখে নেব বলে চলে যান।’

এ ঘটনার পর শহরের সব বস্ত্র ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। বরগুনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীরের ‘সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে’ ১ ঘণ্টা পর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেন তারা।

দর্জি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, ‘চেম্বার অব কমার্সের অনুরোধে আমরা সাময়িক সময়ের জন্য দোকান খুলেছি। উনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি তারিকুল ইসলাম প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বলেন, ‘কাপড়ের দোকানি পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেছে শুনে আমি গিয়ে তাদের সতর্ক করে এসেছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য