20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

এ মুহূর্তে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, যা দেশের জন্য অতিরিক্ত বোঝা।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মিয়ানমারে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহায়তা চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মিয়ানমারের উচিত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া। আমরা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চাই এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে স্টিফেন ই বিগান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘায়িত এই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। আমরা এই ইস্যুতে বাংলাদেশে আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ মুহূর্তে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, যা দেশের জন্য অতিরিক্ত বোঝা।'

‘সমস্যাটি মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং আমরা তাদের সাথে আলোচনা করছি। তাদের উচিত নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া,’ বলেন তিনি।

'রোহিঙ্গা ইস্যু একটি সামাজিক সমস্যা এবং মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের একটি বড় অংশ কক্সবাজারের শিবিরে বসবাস করছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মহল তাদের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার জন্য বিভ্রান্ত করতে পারে। সুতরাং তাদের স্বদেশে তাৎক্ষণিক প্রত্যাবাসন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিগান জানান, মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস পর্যালোচনা করছে।

তিনি বলেন, 'কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সেবা আবার চালু করা হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এরইমধ্যে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

‘অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে,’ বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে বিগান বলেন, 'মারাত্মক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

‘তবে আমরা ভ্যাকসিন পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি এবং আশা করি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো বাজারে পাওয়া যাবে।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির প্রশংসা করেন স্টিফেন ই বিগান।

যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশ-বিদেশ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে।

এসময় মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য