অডিও রেকর্ড ‘সুপার এডিট’, নির্দেশ ডিসির: নিক্সন

ফেসবুকে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

অডিও রেকর্ড ‘সুপার এডিট’, নির্দেশ ডিসির: নিক্সন

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে। ডিসির নির্দেশেই এসব কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে।'

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উপনির্বাচন নিয়ে ফেসবুকে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডটিকে সুপার এডিট বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন।

অভিযোগ, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নির্দেশে অডিও রেকর্ডটি এডিট করা হতে পারে।

যদিও যার মোবাইল ফোনে কলটি করা হয়েছিল, সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘একটি দাঁড়িকমাও কেউ এডিট করেনি।’

নিক্সনের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মোবাইলে ফোন দেয়া হলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী বলেন, ‌'স্যার মিটিংয়ে আছেন।'

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে নির্বাচন বিষয়ে একজনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা যায়।

বলাবলি হচ্ছে নিক্সন চৌধুরী চরভদ্রাসন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানার মোবাইল ফোনে কল করে ভাঙার এসিল্যান্ড আল আমিন মিয়াকে গালাগাল করেছেন। কটূ কথা বলেছেন জেলা প্রশাসককে নিয়েও।

সেদিন ভাঙ্গা উপজেলায়ে উপনির্বাচনে ভোট হচ্ছিল। নিক্সন সমর্থন দিয়েছিলেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাওসার হোসেনকে। তিনি নির্বাচিতও হয়েছেন।
অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়া নিয়ে নিক্সন চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন

ভোটের দিন নৌকা প্রতীকের কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয় আর এ নিয়েই তৈরি হয় ঝামেলা।

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে। ডিসির নির্দেশেই এসব কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে।'

নিজের বক্তব্যের পক্ষে ইউএনও জেসমিনকে সাক্ষী মানেন নিক্সন। বলেন, ‘আমার ইউএনওকে জিজ্ঞাসা করেন এই গালিগুলো আমি তাকে দিয়েছি কি না। তাহলেও প্রমাণ হবে।’

‘ভয়েসটা এক জায়গা থেকে কেটে নিয়ে, এডিট করে আমাকে হেয় করার জন্য…।’

এখানে ইউএনওর হাত আছে কি না, এমন প্রশ্নে নিক্সন বলেন, ‘কিন্তু আমি জানি, আমার ইউএনও এই কাজ করতে পারেন না।’

জেসমিনের সঙ্গে মধুর ও ভাই-বোনের সম্পর্ক বলেও দাবি করেন নিক্সন।

জেসমিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেছেন, নিক্সন চৌধুরী ভাঙ্গার এসিল্যান্ডের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফোনটা উনি (নিক্সন) আমাকেই করেছিলেন…যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। ’

‘আমার কাছে মনে হয় উনার ফোন রেকর্ডের একটা দাঁড়ি-কমাও কেউ এডিট করেনি। উনি যা বলেছেন, তাই ওখানে আছে। যা আমি ঘটনা ঘটার দিনও আমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কারণ, নির্বাচনে যে ভাঙ্গার এসিল্যান্ড কাজ করতে এসেছিলেন, তার নিরাপত্তার দেখার দায়িত্ব আমার ওপর ছিল।’

তবে এই অডিও কীভাবে অনলাইনে এসেছে, সেটা জানা নেই বলে জানিয়েছেন ইউএনও জেসমিন।

জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভায় অভিযোগ দেবেন কি না এমন এক প্রশ্নে নিক্সন বলেন, ‘আমি আসলে এটা সারা বাংলাদেশকে জানাতে চাই।’

নিক্সনের দাবি, জেলা প্রশাসক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছেন। বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকি অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে। কিন্তু আইন তো জেলা প্রশাসকও ভঙ্গ করেছেন, তাহলে আমার একার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে?’

বিএনপির প্রার্থীকে জেতাতে অতিরিক্ত ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয় বলেও দাবি করেন নিক্সন।

গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন নিক্সন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য