মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি আছে, চিত্রকর্মের খোঁজ নেই

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান

মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি আছে, চিত্রকর্মের খোঁজ নেই

নড়াইলের সুলতান কমপ্লেক্সে শিল্পীর আরও পাঁচটি ছবি নষ্ট হওয়ার পথে। বেহাল সংরক্ষণ ও দীর্ঘদিন বদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার কারণেই চিত্রকর্মগুলোর এমন দুর্গতি।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের নষ্ট হয়ে যাওয়া তিনটি পেইন্টিং সুলতান কমপ্লেক্স থেকে প্রায় এক বছর আগে পুনরুদ্ধারের জন্য ঢাকায় নেওয়া হলেও এখনও তা ফিরে আসেনি।

নড়াইলের সুলতান কমপ্লেক্সে শিল্পীর আরও পাঁচটি ছবি নষ্ট হওয়ার পথে। বেহাল সংরক্ষণ ও দীর্ঘদিন বদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার কারণেই চিত্রকর্মগুলোর এমন দুর্গতি।

শিল্পীর সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার এমন অবহেলার মধ্যেই শনিবার পালন হচ্ছে এসএম সুলতানের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।

দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে আছে সকালে সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে কোরআনখানি, শিল্পীর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ।

১৯৯৪ সালে শিল্পীর মৃত্যুর নয় বছর পর ২০০৩ সালে নড়াইল শহরের কুরিগ্রামে পৌনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সুলতান কমপ্লেক্স নির্মিত হয়। সুলতানের শিল্পকর্ম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয় মূলত ২০১১ সালে।

তবে অপরিকল্পিত গ্যালারিতে নেই চিত্রকর্ম সংরক্ষণের উপযোগী পরিবেশ। প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবে দিন দিন দুর্গতি বাড়ছে অতি মূল্যবান চিত্রকর্মগুলোর।

S M Sultan image

এমন অবস্থায় পুনরুদ্ধারের জন্য গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকায় পাঠানো হয় তিনটি চিত্রকর্ম – ‘জমি কর্ষণ’, ‘ধান মাড়াই’ ও ‘চর দখল’। চটের ক্যানভাসে তেল রঙে ছবি তিনটি এঁকেছিলেন এসএম সুলতান।

এর বাইরে আরো ২২টি চিত্রকর্ম আছে সংগ্রহশালায়, যার মধ্যে পাঁচটি প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। এগুলো হলো: ‘ফসল সংগ্রহ’, ‘মাঠ পরিষ্কার’, ‘কলসি কাঁখে নারী’, ‘জিয়া’ (কাইজ্যা) এবং ‘মাছ শিকার’।

নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এসএম সুলতানের শিষ্য নিখিল চন্দ্র দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএম সুলতানের ছবি হচ্ছে রেখা প্রধান। এসব ছবির রেখা মার খেলে আর কিছুই থাকে না।‘

নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘রেস্টোরার (চিত্রকর্ম পুনরুদ্ধার শিল্পী) দিয়ে ২০১৬ সালে শিল্পীর সবচেয়ে বড় ৩৬ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা এবং ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি চওড়া চিত্রকর্ম “সভ্যতার ক্রমবিকাশ” ছবিটি সংস্কার করা হয়। তবে অনভিজ্ঞ রেস্টোরার ছবির রঙ এবং রেখা ঠিকমতো দিতে পারেননি।’

সুলতানের ছবি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার বিরোধিতা করে তিনি ছবির প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) প্রদর্শনের পক্ষে মত দেন। নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘তা না হলে এসব ছবি সংস্কার করেও লাভ নেই। ১০-১৫ বছরের মধ্যে সব ছবি নষ্ট হয়ে যাবে।‘

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান কমপ্লেক্সের কিউরেটর ও জেলা কালচারাল অফিসার হায়দার আলীও শিল্পকর্ম সংরক্ষণে দুর্বলতার অভিযোগ স্বীকার করছেন।

তবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শিল্পকলা একাডেমি থেকে সুলতান কমপ্লেক্সে যেখানে যেভাবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আলো-বাতাস এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,আমরা সেভাবেই চেষ্টা করছি।‘

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা নিউজবাংলাকে বলেন, চিত্রকর্মগুলো রিপেয়ারের কাজ চলছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।‘

ঢাকায় পাঠানো চিত্রকর্মগুলো কেন ফিরছে না- সে বিষয়য়ে কোনো তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

তবে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস, ‘শিগগিরই সেগুলো সুলতান কমপ্লেক্সে আনা হবে। বাকি চিত্রকর্মগুলোও ধাপে ধাপে রিপেয়ার করা হবে।‘

শেয়ার করুন

মন্তব্য