20201002104319.jpg
ধর্ষণ মামলা: গ্রেফতার দ্রুত, বিচারে বিলম্ব

ধর্ষণ মামলা: গ্রেফতার দ্রুত, বিচারে বিলম্ব

ফেনীতে নয় মাসে ৩৬ মামলায় ৪৬ আসামির মধ্যে ৪২ জনই গ্রেফতার। আদালতে নির্ধারিত সময়ে ২৩ প্রতিবেদন জমা। কিন্তু বিচারক না থাকায় শুনানি আটকে।

সিলেটে এমসি কলেজে ধর্ষণের অভিযোগে এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রায় সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে। ঢাকার আশুলিয়ায় তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার আগেই।

বলাবলি হচ্ছে, ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় পুলিশ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করেছে। আসলে কি তাই?

ফেনীর অভিজ্ঞতা বলছে, পুলিশ এসব মামলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে দ্রুতই। গত নয় মাসে সেখানে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৩৬টি। আসামি ৪৬ জন। এদের মধ্যে ৪১ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব মামলার ২৩টির তদন্ত শেষ করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ১৩টির তদন্ত চলছে।

একই সময়ে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে ১০টি। গ্রেফতার হয়েছেন আট জন। অভিযোগপত্র জমা পড়েছে নয়টি। তদন্ত চলছে একটির।

পুলিশ বলছে, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টা মামলাগুলো বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এসব মামলায় তদন্তে সময় বেঁধে দেয়া আছে। দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করা হয়।

ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আসামি গ্রেফতার করছি। যেহেতু এসব সময় বেঁধে দেয়া আছে সেহেতু আমরা দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়ে দিচ্ছি।’

পুলিশ সুপার জানান, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। ব্যতিক্রম ছাড়া এই সময়ের মধ্যেই ২৩টি মামলার প্রতিবেদন তারা আদালতে জমা দিয়েছেন। আইনে কোনো মামলায় নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে আরও ৩০ দিন সময় নেয়া যাবে।

তবে এসব মামলার প্রতিবেদন দিলেও আদালতে শুনানি হচ্ছে না। কারণ, সাত মাস ধরে বিচারক নাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। কবে বিচারক আসবেন, সেটা বলতে পারছেন না কেউ।

ফেনী আদালতে বর্তমানে ২৩৯টি ধর্ষণ মামলা চলছে। আইনে মামলাগুলো ১৮০ দিনে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও একটি মামলাও এই সময়ে রায় আসেনি।

ফেনী জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহমদ বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নেই গত ৭ মাস ধরে। এতে জেলা ও দায়রা জজ কিছু গুটি কয়েক মামলা পরিচালনা করছেন। তবে সেটা যথেষ্ট নয়। আর বিচারে বিলম্ব হলে বাদীপক্ষ হতাশ হয়ে পড়ছে।

আইনজীবী শাহজাহান সাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে, তবে সাজার মুখোমুখি হচ্ছে না। এতে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। ধর্ষণ কমাতে হলে দ্রুত বিচার গঠন করতে হবে। ২০ থেকে ৩০ কার্যদিবসে শেষ করতে হবে মামলা। নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে দুইজন বিচারক নিয়োগ করতে হবে।’

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীর অভিজ্ঞতা বলছে, ধর্ষণ মামলায় বিচারে বিলম্ব হয় সাক্ষ্যগ্রহণ কালে। সাক্ষীর পরিমাণ কমালে বিচার দ্রুত হবে।

ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথ বলেন, ‘যদি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে।’

শেয়ার করুন