× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Whats in the 700 year old marriage market?
hear-news
player
print-icon

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

কী-আছে-৭০০-বছরের-পুরনো-বিয়ের-বাজারে?
বিহারের মধুবনী জেলায় হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানের সাথে লোকেরা 'সৌরথ সভার' জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছবি: আল জাজিরা
মধুবনী জেলায় একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে বর জনসাধারণের প্রদর্শনীতে দাঁড়ায় এবং কনের পুরুষ অভিভাবকরা তাদের বিয়ের জন্য বেছে নেন।

পূর্ব ভারতের বিহার রাজ্য। জুলাইয়ের এক বিকেলের তীব্র গরমে মধ্য ত্রিশের এক লোক মাঠের কোনায় দাঁড়িয়ে আছেন। ভীষণ নার্ভাস দেখাচ্ছে তাকে। পরনে গোলাপি শার্ট, কালো ট্রাউজার। কিছুর প্রত্যাশায় এই অপেক্ষা।

নির্ভয় চন্দ্র ঝার বয়স ৩৫। বেগুসরাই থেকে মধুবনী জেলায় আসতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ১০০ কিলোমিটারের বেশি (৬২ মাইল) পথ। জেলার সৌরথ গ্রামে আজ বসেছে অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘বর বাজার’। নির্ভয় চন্দ্র নিজের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খোঁজার আশায় এখানে উপস্থিত হয়েছেন

যেকোনো মুহূর্তে একটি মেয়ের পরিবার তার কাছে আসবে, যৌতুকের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী বর ৫০ হাজার টাকার ট্যাগ নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন।

নির্ভয় বলেন, ‘বয়স যদি কিছুটা কম হতো তবে সহজেই ২-৩ লাখ টাকা চাইতে পারতাম।’

নির্ভয় একজন মৈথিল ব্রাহ্মণ। এরা বিহারের মিথিলাঞ্চল অঞ্চলে বাসকারী হিন্দু ব্রাহ্মণদের একটি উপগোষ্ঠী। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় হলো জটিল হিন্দু বর্ণের শ্রেণিবিন্যাসের মধ্যে প্রভাবশালী সামাজিক গোষ্ঠী। তারা ঐতিহাসিকভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করে আসছে।

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

নির্ভয় চন্দ্র ঝা পাত্রীর খোঁজে ইভেন্টে এসেছেন। ছবি: আল জাজিরা

হিন্দু এন্ডোগ্যামি নিয়মগুলো সাধারণত একই বংশের মধ্যে বিয়েকে সীমাবদ্ধ করে। মানে তারা একই বর্ণ-গোষ্ঠীর মধ্যে জোটকে উত্সাহিত করে; কারণ এ ধরনের বন্ধনগুলোর বেশির ভাগ পরিবার দ্বারা ‘বিন্যস্ত’ হয়।

নির্ভয় একটি কারখানায় ম্যানেজার পদে আছেন। এটা তার জন্য বড় অ্যাডভানটেজ। কারণ তার আয় স্থিতিশীল। এ জন্য ভালো এবং উপযুক্ত কনে পাওয়ার আশায় আছেন তিনি।

যৌতুক যদিও ভারতে বেআইনি, তবে এটা প্রচলিত এবং এর সামাজিক স্বীকৃতি রয়েছে। বিশেষ করে বিহার এবং পার্শ্ববর্তী উত্তর প্রদেশ রাজ্যে এই চর্চা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে বছরে যৌতুকের অর্থ প্রদানের মোট মূল্য ৫ বিলিয়ন ডলার; যা জনস্বাস্থ্যের ভারতের বার্ষিক ব্যয়ের সমান।

অন্তত ২০ জন পুরুষ গাছের নিচে বসে ‘সৌরথ সভা’র এই মৌসুমে বরের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। এটিকে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের প্রাচীনতম বিয়ে সাইটগুলোর একটি।

যদিও এ ধরনের ঐতিহ্যগুলো ভারতে অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে মধুবনীতে এটি টিকে আসছে সাবলীলভাবেই।

বর বাজার

এটা প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য। এখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বররা নিজেদের প্রদর্শনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কনের পুরুষ অভিভাবকরা সাধারণত বাবা বা ভাই বেছে নেন বর। সাধারণত কনের এ ক্ষেত্রে কিছু বলার থাকে না।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এটা অনেকটা কেনাকাটার মতো। বর পছন্দ হলে উপযুক্ত যৌতুক দিয়ে এখানে বিয়ে ঠিক করা হয়ে থাকে।’

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

একজন পঞ্জিকার বা ঐতিহ্যবাহী রেকর্ড-রক্ষক, কয়েক শতাব্দী ধরে পারিবারিক রেকর্ড রাখে। ছবি: আল জাজিরা

মৈথিল ব্রাহ্মণদের কাছে এটি পবিত্র অনুষ্ঠান। স্থানীয়রা বলছেন, সম্ভাব্য কনের পরিবার তাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা না দিয়েই গ্রামে আসে। দূর থেকে গোপনে পুরুষদের পর্যবেক্ষণ করে। পছন্দ হলে নির্বাচিত বরের ওপর একটি মিথিলা গামছা, একটি লাল শাল পরিয়ে দেয়। এটার মাধ্যমে নির্বাচনের বিষয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়া হয়।

মধুবনীর বাসিন্দা জ্যোতি রমন ঝা বলেন, ‘এটা বাসের সিটে রুমাল রাখার মতোই। যেমন গণপরিবহনে আগে আসলে আগে সিট পাবেন।’

প্রচলিত আছে, আগে বরদের জন্য উন্মুক্ত বিডিং হতো। বরের পেশা যত বেশি মর্যাদাপূর্ণ, যৌতুকের দাবি তত বেশি। প্রকৌশলী, ডাক্তার এবং সরকারি কর্মীদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং শহরে স্থানান্তর অনেক ভারতীয়কে পারিবারিক জমি থেকে উৎখাত করেছে। অভিভাবকদেরও এখন তাদের সন্তানদের বৈবাহিক পছন্দের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনেক কম। সস্তায় ইন্টারনেট সুবিধার সঙ্গে সাজানো ম্যাচমেকিংগুলো অনলাইনে এখন অহরহ। ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈবাহিক ওয়েবসাইটও রয়েছে।

সৌরথ সমাবেশের অনুষ্ঠানটি গ্রামের একটি পুকুরের পাশে হয়, যেখানে আছে বট ও আমগাছ। পাশেই একটি বিশাল অব্যবহৃত কূপ, যেটি পুরোনো দিনের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পুকুরের পাশেই প্রাচীন হিন্দু একটি মন্দির।

গাঢ় লাল রঙে হিন্দিতে লেখা ‘সৌরথ সভা’। একটি উজ্জ্বল হলুদ ব্যানারের নিচ দিয়ে আগন্তুকরা সেখানে প্রবেশ করেন। কিংবদন্তি আছে, এক লাখ ব্রাহ্মণ এখানে এলে, প্রাচীন বটগাছটির সব পাতা ঝরে পড়বে।

স্বরাজ চৌধুরী নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘আগে জনগণকে এখানে আনার জন্য রাজ্যজুড়ে বাসসুবিধা ছিল। এখন অনুষ্ঠানে খুব কম মানুষের আনাগোনা হয়।’

যৌতুকের হুমকি

শেখর চন্দ্র মিশ্র এই সভার অন্যতম উদ্যোক্তা। এ আয়োজনের এমন পতনের জন্য মিডিয়া এবং রাজনীতিবিদদের দায়ী করেছেন তিনি৷

শেখর বলেন, ‘মিডিয়া আমাদের সভাকে এমন একটি বাজার হিসেবে চিত্রিত করেছে, যেখানে বলা হয় পুরুষদের গবাদিপশুর মতো বিক্রি করা হয় এখানে।’

শেখর অবশ্য স্বীকার করতে পিছপা হননি যে এই ঘটনা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উন্মুক্ত যৌতুকের সংস্কৃতি প্রচার করে আসছে।

তিনি বলেন, ‘আজকাল যৌতুককে সদয় দৃষ্টিতে দেখা হয় না। তবুও তা টেবিলের নিচেই হয়। যদি বাবা-মা তাদের ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার বানানোর জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে তারা বিনিয়োগ ফেরত চান। যৌতুককে এটি করার অন্যতম উপায় হিসেবে দেখা হয়।’

বিহারে যৌতুক একটি বড় হুমকি। বিভিন্ন সরকার যৌতুকবিরোধী প্রচারাভিযান শুরু করলেও যৌতুকের কারণে মৃত্যু ও হত্যা কমছে না। ২০২০ সালের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, বিহারে এক হাজারের বেশি যৌতুকের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে; যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

পঞ্জিকারদের দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা পারিবারিক রেকর্ডের একটি বই। ছবি: আল জাজিরা

বিহার সরকারের একটি সাম্প্রতিক প্রচারাভিযান জনগণকে তাদের বিয়ের কার্ডে যৌতুকবিরোধী ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসের দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

এই হুমকি অঞ্চলে একটি অদ্ভুত প্রবণতার জন্ম দিয়েছে। এটিকে বলা হয় ‘পাকদওয়া বিভা’ বা বন্দি বিয়ে। এ ক্ষেত্রে যৌতুক এড়াতে বন্দুকের মুখে বিয়ে করার জন্য কনের পরিবারের দ্বারা পুরুষদের অপহরণ করা হয়। এখনও এ ধরনের অপহরণের খবর প্রায়শই পাওয়া যায়।

ইভেন্টের লোকেরা সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন, যখন হাজার হাজার বর লাল জামা পরে আসতেন, যৌতুকের আলোচনার পর বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত হতেন।

বিহারের দারভাঙ্গার মনীশ ঝার বয়স ৩১। তিনি তার বর্ণের বাইরে বিয়ে করেছেন। একজন রাজপুত নারীর সঙ্গে বিয়ে তার পরিবার এবং সম্প্রদায় মেনে নিতে পারেনি। অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে সবকিছু স্বাভাবিক করতে।

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

‘বর বাজারে’ দর্শকদের স্বাগত জানানো একটি ব্যানার। ছবি: আল জাজিরা

তিনি বলেন, ‘একবার আমাকে বন্দুকের মুখেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে অনেক ভালোবাসতাম। মৃত্যুর হুমকির মধ্যেও তাকে বিয়ে করেছিলাম। আমাদের এখন একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

‘সমাজের নতুন প্রজন্ম নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। তারা যাকে ভালোবাসে তাকে বিয়ে করতে চায়, তাদের জাত যাই হোক না কেন।’

হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

এসব সত্ত্বেও মনীশ বিশ্বাস করেন, সৌরথ সভাকে মিথিলাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সত্তা হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘এটি দরিদ্রদের রাজস্ব তৈরিতেও সহায়তা করে। সভা চলাকালীন অনেক লোক পরের কয়েক মাসের জন্য যথেষ্ট উপার্জন করে থাকেন।

ঘনশ্যাম একজন কাঠমিস্ত্রি। নিম্ন হিন্দু বর্ণের ঘনশ্যাম সভাস্থলের কাছে চা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘আগে দোকানদাররা এই সভার অপেক্ষায় বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকতেন। আমার বাবা বলতেন, এই সভা চলাকালীন বেচাবিক্রি করে ছয় মাস টিকে থাকার মতো সঞ্চয় করা যেত। কিন্তু এখন উপস্থিত লোকের সংখ্যা কম।’

সোনু নামে আরেক দোকানদার বলেন, ‘ইভেন্ট চলাকালীন বিক্রি একপর্যায়ে বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। আজকাল তা খুব একটা হয় না।’

সমাবেশে উপস্থিত কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, ইন্টারনেট ম্যাচমেকিংয়ের সহজতা তাদের খুব একটা আকৃষ্ট করে না।

একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী বরের বাবা মুক্তিনাথ পাঠক। তিনি বিশ্বাস করেন সৌরথ সভায় বিয়ে তার ছেলে অমরজিতের জন্য একটি বৈবাহিক ওয়েবসাইটের চেয়ে অনেক নিরাপদ।

তিনি বলেন, ‘যখন অনলাইনে বিয়ে হয়, তখন বিচ্ছেদের ঝুঁকি থাকে। তবে যখন ঐতিহ্যগুলো মানা হয়, সে আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসে।’

সৌরথ সভার পদ্ধতিটি বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক এগিয়ে বলে দাবি করেন আয়োজকরা। কারণ এখানে স্থায়ী নিয়ম হলো একই বংশের মধ্যে বিয়ে এড়ানো। মনুস্মৃতির প্রাচীন হিন্দু পাঠে বলা আছে, একই বংশের মধ্যে বিয়ে ‘অশুদ্ধ’ সন্তানের জন্ম দেয়।

মধুবনীর বাসিন্দা জ্যোতি বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইভেন্টে একটি ম্যাচ খুঁজে পেতে একজনকে প্রথমে একজন পঞ্জিকারের কাছে যেতে হবে। একজন ঐতিহ্যবাহী রেকর্ড-রক্ষক বা রেজিস্ট্রার যিনি মৈথিল ব্রাহ্মণ পরিবারের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই তা নিশ্চিত করার জন্য শতাব্দী ধরে রেকর্ড রাখেন।’

পঞ্জিকার পদ্ধতি কঠোরভাবে নির্দেশ করে যে বর এবং কনে তাদের পিতার পক্ষে সাত প্রজন্ম এবং মায়ের পক্ষ থেকে পাঁচ প্রজন্মের জন্য রক্তের সম্পর্কযুক্ত হতে হবে না।

প্রমোদ কুমার মিশ্র একজন পঞ্জিকার। তিনি সভার কাছে একটি তাঁবু স্থাপন করেছেন। প্রমোদ বলেন, ‘আমি বিয়ে করেছিলাম ২০০৩ সালে। আমাকে আমার স্ত্রীর পরিবার বেছে নিয়েছিল। আমরা এখন সুখে বসবাস করছি।’

কী আছে ৭০০ বছরের পুরনো বিয়ের বাজারে?

মেহেক পান্ডে (ডানে), ইভেন্টে তার ভাই এবং মায়ের সঙ্গে বসে আছেন। ছবি: আল জাজিরা

পঞ্জিকাররা এখনও রেকর্ডের একটি মোটা বই সঙ্গে রাখেন। ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম ও মৃত্যু লিপিবদ্ধ করতে তারা বাড়ি বাড়ি যান। ঐতিহ্যবাহী এ কাজের চাহিদা তেমন না থাকায়, তারা আয়ের বিকল্প পথ খুঁজছেন। তাদের সন্তানরা অন্য কাজের সন্ধানে রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছেন।

কানহাইয়া কুমার মিশ্র নামে একজন বলেন, ‘আমরা সম্ভবত পঞ্জিকারদের শেষ প্রজন্ম।’

সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এ সময় এক নারী সভায় এসে উচ্চ স্বরে ঘোষণা দেন, ‘আমার ভাইয়ের জন্য পাত্রী চাই।’

মেহেক পান্ডে উত্তরপ্রদেশ থেকে তার স্বামী এবং মায়ের সঙ্গে তার ৩৩ বছর বয়সী ভাই সুমিত মোহন মিশ্রের জন্য পাত্রী খুঁজতে এসেছেন। জুনে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, তবে কনের পরিবার পিছিয়ে যাওয়ায় তা আর হয়নি।

শহরে উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে না পেয়ে তারা সভায় যোগদানের জন্য ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাস এবং ট্রেনে করে মধুবনীতে এসেছেন।

মেহেক বলেন, ‘আজকাল অনলাইন বৈবাহিক অ্যাপের ওপর নির্ভর করতে পারবেন না। কারণ এখানে অনেক ভুয়া কিছু থাকে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
The dog is walking around with a fan on in the intense heat

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার অ্যান এবং নন বিশেষ ফ্যানে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য। ছবি: সংগৃহীত
ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে হিকারু উজাওয়ার এই বিশেষ ফ্যান। ১ জুলাই দোকানটি উদ্বোধনের পর অন্তত ১০০টি অর্ডার পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এবং ইতালি থেকেও আসছে চাহিদা।

জলবায়ু পরিবর্তনে পুড়ছে বিশ্ব। মানুষ, পশু-পাখি, গাছপালা কিছুই রেহাই পাচ্ছে তীব্র গরম থেকে। কদিন আগেই, ব্রিটেনের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শূকরদের গরম থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন মাখিয়েছিল খামারিরা।

ইউরোপের হাওয়া লেগেছে পূর্ব এশিয়াতেও। গ্রীষ্মের অসহ্য গরমে শীতল থাকার জন্য কুকুরের গায়ে আটকানো যায় এমন ফ্যান (ওয়ারেবল ফ্যান) কেনায় মেতে উঠেছেন জাপানের কুকুর মালিকরা

ওয়ানসি নামের ফ্যানটি একটি জালের সাথে সংযুক্ত। এটি পোষা প্রাণীর পশমের নিচের স্তরও ঠান্ডা রাখে।

হিকারু উজাওয়া সুইট মাম্মি নামে একটি মাতৃকালীন পোশাকের দোকানমালিক। তিনি বলেন, ‘আমার কুকুর বাইরে হেঁটে আসার পর হাঁপাত। অসহ্য গরমে সে দুর্বল হয়ে যেত। এ ফ্যান ব্যবহারের পর সে হাঁপানো বন্ধ করে দিয়েছে।’

ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে হিকারু উজাওয়ার এই বিশেষ ফ্যান। ১ জুলাই দোকানটি উদ্বোধনের পর অন্তত ১০০টি অর্ডার পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এবং ইতালি থেকেও আসছে চাহিদা।

কেবল কুকুরের শরীর ঠান্ড রাখে, তা কিন্তু নয়। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও ঠিকঠাক আপনাকে জানিয়ে দেবে হিকারুর এই বিশেষ ফ্যান।

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর

জুলাইয়ের শুরুতে রাজধানী টোকিওর বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। অবস্থা বেগতিক দেখে দিনের বেলা বাইরে যাওয়া এবং ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণকে অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষ।

সারা বিশ্বেই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ডে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়; যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জারি হয় ‘চরম তাপ সতর্কতা’। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপজনিত মৃত্যুর কারণে শত শত মানুষ মারা যেতে পারে।

হিকারু বলেন, ‘গরম থেকে বাঁচাতে আমার চিহুয়াহুয়া ও সোয়ানের (কুকুর) জন্য বহনযোগ্য পাখা তৈরি করেছি।’

হিকারুর এ ধরনের ফ্যানের ধারণা আসে তিন বছর আগে, ২০১৯ সালে। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন গ্রীষ্মে হাঁটার পর সোয়ান অনেক ক্লান্ত হয়ে যায়।

হিকারু বলেন, ‘কাজের সময়সূচির কারণে আমার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা কঠিন ছিল। তাই মধ্যাহ্নের গরমেই ওদের হাঁটাতে নিয়ে যেতাম।

পশু চিকিৎসকদের সাহায্যে এই ফ্যান তৈরি করেন হিকারু। এখন পাঁচটি ভিন্ন আকারের ফ্যান বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটির দাম নিচ্ছেন ৯ হাজার ৯০০ ইয়েন; অর্থাৎ ৭৪ ডলারের কাছাকাছি।

হিরোকো মুরায়ামা তার দুটি ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার অ্যান এবং ননের জন্য ওয়ানসি কিনেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম যে ফ্যানের ঘূর্ণায়মান শব্দ তারা অপছন্দ করতে পারে। তবে এমনটা হয়নি। প্রতিদিন সকালে হাঁটার সময় তারা এগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকে।’

হিকারু বলেন, ‘চাহিদা থাকায় আরও দুটি পরিধানযোগ্য ফ্যানের মডেল তৈরি হচ্ছে। একটি শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত, অন্যটি পরিধানযোগ্য। এখন কুকুররা উত্সবে গেলেও শান্ত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চান প্রধানমন্ত্রী
নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং
জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ
গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

মন্তব্য

জীবনযাপন
True friendship will change the world
বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব প্রকৃত বন্ধুত্ব সব সীমাবদ্ধতা, সংকীর্ণতা ও শ্রেণিবৈষ্যমের উর্ধ্বে। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধুত্বকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববারকে বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে। এই বছর এটি ৭ আগস্ট পড়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হয় ৩০ জুলাই।

বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অন্যতম পবিত্র একটি বন্ধন। প্রকৃত বন্ধু এমন একজন যিনি সমর্থন ও উৎসাহ দেন এবং প্রতিটি যাত্রা ও ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করে তোলেন।

এই বন্ধনকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে। এই বছর এটি ৭ আগস্ট পড়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হয় ৩০ জুলাই।

কোনো একটি কাজ একা যতই চ্যালেঞ্জিং মনে হোক না কেন, সময়মতো পাশে একজন বন্ধু থাকলে তিনি এটিকে সহজ করে তুলতে পারেন।

এমন বন্ধুত্ব সব সীমাবদ্ধতা ও শ্রেণিবৈষ্যমের ঊর্ধ্বে। তরুণ থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কেউ এই সম্পর্ককে লালন ও ধারণ করার পাশাপাশি যত্ন নিলে এটি তাকে শৈল্পিক ভালোবাসারও শিক্ষা দেবে।

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব

জাতিসংঘ গুরুত্ব দিয়ে জানায়, সহিংসতা, দারিদ্র্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সমস্যায় জর্জরিত গোটা বিশ্ববাসী এসব বাধা উতরে যেতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলো মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শান্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে নষ্ট করে।

এসব বাধাবিপত্তি অতিক্রম ও মানবজাতির মধ্যকার সংহতি বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে কাজ করে বন্ধুত্ব। এটি দ্বিধাবিভক্ত চেতনাকে সারিয়ে তুলতে সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব

মানবজাতি এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসের দৃঢ় বন্ধন তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে এমন বন্ধুত্ব।

যাতে আমরা একযোগে একটি শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারি। এটি একটি উন্নত ও মানবিক বিশ্বের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ আবেগ তৈরি করে, যেখানে একটি মহান উদ্দেশের জন্য সবাই একত্রিত হয়।

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব

ইতিহাস

বন্ধুত্বের ধরন যেমনই হোক না কেন, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন হয় বন্ধু দিবস।

২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ ডে) হিসেবে ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

তবে ভারত, বাংলাদেশসহ কিছু দেশ আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘জয়েস হল’ ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে সবাইকে কার্ড পাঠাতেন।

প্রকৃত বন্ধুত্ব বদলে দেবে বিশ্ব

১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

করোনা মহামারিতে কয়েক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বন্ধু তৈরিতে পড়ে যায় বাধা। সেই বাধা ফের উতরে নতুন যাত্রার পথ চলল মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মনের বন্ধুর আন্তর্জাতিক পুরস্কার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Myanmar generals allowed to go to ASEAN meeting

মিয়ানমার জেনারেলদের আসিয়ানের বৈঠকে যেতে মানা

মিয়ানমার জেনারেলদের আসিয়ানের বৈঠকে যেতে মানা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং। ফাইল ছবি
আসিয়ানের এবারের আঞ্চলিক বৈঠকগুলো হয়েছে কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে। সেসব বৈঠকে ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় একমত হন।

শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) বৈঠকে অংশ নিতে পারছেন না মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আসিয়ানের সিরিজ আঞ্চলিক বৈঠক শেষে স্থানীয় সময় শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সখন।

আসিয়ানের এবারের আঞ্চলিক বৈঠকগুলো হয়েছে কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে। সেসব বৈঠকে ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় একমত হন।

সংবাদ সম্মেলনে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেনারেলদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে বোঝা যায় শান্তি পরিকল্পনায় অগ্রগতি হয়েছে।

২০২১ সালের এপ্রিলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে তথাকথিত পাঁচ দফা ঐকমত্যে পৌঁছেছিল আসিয়ান। ১৫ মাসেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

আসিয়ানের বৈঠক চলাকালে শুক্রবার ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছরের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন না হওয়ার নিন্দা জানান। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আসিয়ানের আঞ্চলিক সম্মেলনের আগে মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বাধীন স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে (এসএসি) ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন তারা।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে আটক করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে অস্থিরতা চলছে মিয়ানমারে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে অসহযোগ আন্দোলন, দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানবিরোধী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ দেখে মিয়ানমার।

নৃশংস কায়দায় বিরোধীদের সে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দমন করে সামরিক জান্তা। অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাদের হাতে প্রাণ হারান ২ হাজার ১৫৮ জনের মতো মানুষ।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরও ৬ মাস
মিয়ানমারকে চাপ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
সু চির দলের এমপিকে ফাঁসিতে ঝুলাল জান্তা
মস্কোর দুয়ারে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান
গৃহবন্দি সু চি এখন জেলে

মন্তব্য

জীবনযাপন
China has decided to break diplomatic relations with the United States

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন চীনের

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন চীনের বেইজিংয়ের বেই বিল্ডিংয়ে বৈঠকের সময় কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্র (বামে) ও চীনের শীর্ষ জেনারেল ও দেশ দুটির প্রতিনিধিরা। ফাইল ছবি
চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা, ফৌজদারি বিষয়ে আইনি সহায়তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করা হবে।

কয়েকটি সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিল বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়।

মন্ত্রণালয় এমন কিছু ক্ষেত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে চীনা ও আমেরিকান কর্মকর্তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ থাকবে না। এর মধ্যে রয়েছে থিয়েটার কমান্ডার স্তরে সামরিক যোগাযোগ এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা নীতি সমন্বয় আলোচনা।

চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা, ফৌজদারি বিষয়ে আইনি সহায়তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করা হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রাজনীতিক পেলোসি এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বেইজিংয়ের আপত্তি সত্ত্বেও পেলোসি গত মঙ্গলবার তাইওয়ান সফর করেন। স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ দাবি করে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০-এর দশক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন’ নীতি স্বীকার করে আসছে।

বেইজিংয়ের কূটনৈতিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করার পরও ওয়াশিংটন তাইপের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কয়েক বছর ধরে আমেরিকান প্রশাসন তাইওয়ানের সরকারকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখে আসছে।

বেইজিং বলছে, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে স্থিতাবস্থা নষ্ট করছে এবং তাইওয়ানে বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে।

যদিও হোয়াইট হাউস পেলোসির অবস্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছিল, তাইওয়ান যাওয়ার সিদ্ধান্ত পেলোসির ব্যক্তিগত।

চীনের কর্মকর্তারা এ দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা পরিণতির হুমকিও দিয়েছিলেন। শেষমেশ সব জল্পনা উড়িয়ে তাইওয়ান সফর করেন পেলোসি।

জবাবে চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাইওয়ানের চারপাশে বৃহস্পতিবার থেকে বড় মহড়া শুরু করে, যা শেষ হচ্ছে রোববার। একে চীনা মিডিয়া পূর্ণ অবরোধের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাইওয়ানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও দেয় চীন।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল চীন
চীনের ড্রোন লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ছুড়ল তাইওয়ান
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প

মন্তব্য

জীবনযাপন
Taiwan deploys missiles to counter China

চীনকে মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন তাইওয়ানের

চীনকে মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন তাইওয়ানের তাইওয়ানের হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
মেডিয়ান লাইন হলো চীনের মূল ভূখণ্ড ও স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে পৃথককারী সীমানা। সাধারণত চীন ও তাইওয়ান কেউই এই সীমানা অতিক্রম করে না। তবে চীনের চলমান সামরিক মহড়ায় এই সীমান্ত মানছে না বেইজিং। এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকেন্দ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে তাইওয়ান।

তাইওয়ানের চারদিক ঘিরে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন। স্বশাসিত দ্বীপটির উপকূলেও এসে পড়ছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

আগেই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি জানিয়েছিল তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার চীনকে মোকাবিলায় ভূমিকেন্দ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে তাইওয়ান।

চলমান মহড়ায় বারবার চীনের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মেডিয়ান লাইন অতিক্রম করার কারণে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ নেয়া হলো।

তবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাইপে কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে চলমান উত্তেজনায় লড়াইয়ের প্রস্তুতি বাড়াবে।

মেডিয়ান লাইন হলো চীনের মূল ভূখণ্ড ও স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে পৃথককারী সীমানা। সাধারণত চীন ও তাইওয়ান কেউই এই সীমানা অতিক্রম করে না। তবে চীনের চলমান সামরিক মহড়ায় এই সীমান্ত মানছে না বেইজিং।

চীন তাইওয়ানকে ঘিরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। এরই মধ্যে তাইওয়ানের অনেক বাণিজ্যিক বিমানের ফ্লাইট স্থগিত হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়েছে।

এদিকে জাপান বলছে, মহড়ায় ছোড়া চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জলসীমায় এসেও পড়ছে। চীনের প্রতি অবিলম্বে এই মহড়া থামানোর আহ্বান জানিয়েছে টোকিও।

আরও পড়ুন:
সেপ্টেম্বরে দুয়ার খুলবে যুক্তরাষ্ট্র
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প
কী কারণে পেলোসি তাইওয়ানে, চীনের জ্বলুনি কেন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Are Chinas drills preparing to attack Taiwan?

চীনের মহড়া কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি

চীনের মহড়া কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। ছবি: এএফপি
চীনের মূল ভূখণ্ডের সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে যে আভিযানিক পরিকল্পনার মহড়া চলছে, ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সেটি সরাসরি সমর অভিযানে রূপ নিতে পারে।’ এ ধরনের বক্তব্যের পরও বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাইওয়ানে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ চায় না চীন কিংবা তাদের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়ায় স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। এর অংশ হিসেবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও রণতরি মোতায়েন করে বৈশ্বিক পরাশক্তিটি।

তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ মনে করে চীন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দ্বীপরাষ্ট্রটিতে পেলোসির সফরকে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মারাত্মক, বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ রক্ষায় তাদের দৃঢ়সংকল্প প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মহড়াটির আয়োজন করা হয়েছে, যেটি শেষ হবে আগামী রোববার।

এমন বাস্তবতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে সেগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

চীনের সামরিক মহড়া কতটা উদ্বেগজনক

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, তাইওয়ানের আশপাশে ছয়টি অঞ্চলে ১৮০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে সমুদ্র ও আকাশপথে এ মহড়া হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে যুদ্ধ, বোমারু বিমানসহ শতাধিক উড়োজাহাজ ও ১০টি রণতরি।

মহড়ার সমালোচনা করে তাইওয়ান বলেছে, এটি তাদের জলসীমায় অনুপ্রবেশ এবং সমুদ্র ও আকাশপথ অবরোধের শামিল।

মহড়ার প্রথম দিনে তাইওয়ানের জলসীমার আশপাশে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন, যেটি ১৯৯৬ সালের পর প্রথম। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন, যেগুলো দংফেং ব্যালিস্টিক অস্ত্র।

তাইওয়ান সীমান্তবর্তী দেশ জাপান বলেছে, চীনের ছোড়া কমপক্ষে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) পড়েছে। দেশটি চীনের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মহড়াস্থলের আশপাশে থাকা জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলোকে বিকল্প পথ বেছে নেয়ার তাগিদ দিয়েছে তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তাইপের তাওইউয়ান বিমানবন্দরে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চীনের মহড়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাইওয়ানগামী কোরিয়ান এয়ার এবং এশিয়ানা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সর্বোচ্চ দুই দিন পর্যন্ত বাতিল রাখা হয়েছে।

চীন কি তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে

চীনের নজিরবিহীন মহড়ায় দেশটি আসলেই তাইওয়ানে হামলা চালাতে চায় কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য নিচ্ছে, যাদের একজন মহড়াকে ‘চীনের পুনঃএকত্রীকরণের’ প্রদর্শনী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

চীনের মহড়া কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি

চীনের মূল ভূখণ্ডের সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংকে উদ্ধৃত করে সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে যে আভিযানিক পরিকল্পনার মহড়া চলছে, ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সেটি সরাসরি সমর অভিযানে রূপ নিতে পারে।’

এ ধরনের বক্তব্যের পরও বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাইওয়ানে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ চায় না চীন কিংবা তাদের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক বনি গ্লেজার আল জাজিরাকে বলেন, ‘চীনের চূড়ান্ত সীমাকে চ্যালেঞ্জ করে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা না নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাইছে চীন।

‘তাইওয়ানের ওপর অবরোধ আরোপ করতে তারা (চীন) সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, তবে (প্রেসিডেন্ট) শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তিনি তাইওয়ানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেননি।’

সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক বাহিনী থাকা চীন গায়ের জোরে তাইওয়ান দখল করতে চাইলেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে পড়বে। সে ক্ষেত্রে চীনকে লক্ষাধিক সেনা নিয়ে তাইওয়ান প্রণালি পাড়ি দিতে হবে। সে পথে বিমান ও নৌবাহিনীর গোলায় পড়তে হবে চীনাদের।

পর্যবেক্ষকরা আরও বলছেন, তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করে দেশটির উপকূলে চীনের সেনারা পৌঁছাতে পারলেও আরেকটি বিপত্তিতে পড়তে হবে তাদের। তাইওয়ানের অমসৃণ সমুদ্রতীরজুড়ে খুব কম সৈকতই আছে যেখানে চীনারা তাদের সশস্ত্র সেনা, ট্যাংক কিংবা কামানের মতো অস্ত্র খালাস করতে পারে।

তাইওয়ানে যেকোনো ধরনের হামলা চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে সাহায্যে বাধ্য আমেরিকা। চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ানে চীনের যেকোনো আক্রমণকে সামরিকভাবে প্রতিহত করা হবে।

ভবিষ্যৎ কোনো হামলার ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি বাইডেন শুধু মূল্যবোধতাড়িত হয়েই বলেননি। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দ্বীপরাষ্ট্রটি কৌশলগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘এটা এ কারণে যে, পিপলস লিবারেশন আর্মির (চীনের সামরিক বাহিনী) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য বিবেচিত প্রথম কয়েকটি দ্বীপের একটি এটি (তাইওয়ান)’, বলেন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুন তেউফেল দ্রেয়ার।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের দখল নেয়ার মানে হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কাওহসিউংয়ে প্রবেশাধিকার পাওয়া। এ বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড গুয়ামে যাওয়া যাবে।

পেলোসির সফর নিয়ে চীনের সমস্যা কী

চীন কখনও তাইওয়ান শাসন করেনি, তবে দেশটি ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ভূখণ্ডটিকে নিজেদের অংশ মনে করে।

ওয়াশিংটন ও তাইপের মধ্যে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের খোলাখুলি বিরোধিতা করে আসছে চীন সরকার। বৈশ্বিক পরাশক্তিটি পেলোসির সফরকে উসকানি ও তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।

পেলোসি এমন এক সময়ে তাইওয়ান সফর করেছেন, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ২০তম সম্মেলনে বসবেন চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। ওই সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলাপকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনংপি ‘তাইওয়ান নিয়ে আগুনের খেলা’ না খেলতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে দেন।

শি আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং স্বশাসিত দ্বীপটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও পেলোসির এ সফরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। এটি একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
চীনের ড্রোন লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ছুড়ল তাইওয়ান
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প
কী কারণে পেলোসি তাইওয়ানে, চীনের জ্বলুনি কেন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Stop military drills quickly China to Japan

সামরিক মহড়া দ্রুত বন্ধ করুন: চীনকে জাপান

সামরিক মহড়া দ্রুত বন্ধ করুন: চীনকে জাপান তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। ছবি: এএফপি
চীনের সামরিক মহড়াকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছে জাপান। দেশটির ভাষ্য, এ ধরনের মহড়া তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর হুমকি।  

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাপান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার এ আহ্বান জানান পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

চীনের প্রবল বিরোধিতার মুখেও মঙ্গলবার তাইওয়ানে যান ন্যান্সি পেলোসি। তার এ সফরের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার নজিরবিহীন সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। ওই মহড়ায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

চীনের এমন আচরণকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছে জাপান। দেশটির ভাষ্য, এ ধরনের মহড়া তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর হুমকি।

টোকিও জানিয়েছে, ‍চীনের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র দৃশ্যত জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পড়েছে। এর মধ্যে চারটি তাইওয়ানের ওপর দিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ন্যান্সি পেলোসির সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তার সঙ্গে নাশতা সেরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (পেলোসি) বলেছি যে, আমরা (চীনের) সামরিক মহড়া দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি।’

কিশিদা জানান, তিনি ও পেলোসি ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া পরিস্থিতি।

তিনি আরও জানান, দুই নেতা পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়া নিয়েও কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে বৃহস্পতিবার রাতে জাপানে যান পেলোসি। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে তিনি পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত এলাকায় যান।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প
কী কারণে পেলোসি তাইওয়ানে, চীনের জ্বলুনি কেন
অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের পাশে উত্তর কোরিয়া

মন্তব্য

p
উপরে