দারুচিনির গুণের খবর জানেন কী?

দারুচিনির গুণের খবর জানেন কী?

প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবেও দারুচিনির ব্যবহার হয়। তাই যখন জ্যাম-জেলি বানাবেন তখন অবশ্যই তাতে দারুচিনির পাউডার যোগ করবেন।

আমাদের সবার রান্নাঘরেই দারুচিনি আছে। এটা খাবারে শুধু সুগন্ধই ছড়ায় না, এর আছে আরও নানা গুণ।

দারুচিনিতে আছে সিনামালডিহাইড নামক একটি যৌগ। এর প্রভাবে আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ক্রমে উন্নত হয় মেটাবলিজম।

এতে পাবেন প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে বাঁচাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কাজ করে। প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবেও দারুচিনির ব্যবহার হয়। তাই যখন জ্যাম-জেলি বানাবেন তখন অবশ্যই তাতে দারুচিনির পাউডার যোগ করবেন।

যাদের শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনের মাত্রা বেশি, যারা নিয়মিত অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন, তারা চা বা কফি খাওয়ার সময় দারুচিনি মেশাতে পারেন।

দারুচিনি ফোটানো পানিও খেতে পারেন চায়ের মতো করে। অনেকে মনে করেন যে ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার, হজমের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে দারুচিনি। এটা বাড়ায় প্রতিরোধ ক্ষমতাও।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনও উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

এখনও উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়; নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেড় মাস ধরে নিম্নমুখী। এমন বাস্তবতায়ও ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়। এ জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সপ্তাহের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পঞ্চগড়ে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৬৮০ জনের দেহে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৮ জন।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়; একজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি।

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়; নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি।

দ্বিতীয় ঢেউ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর। সে সময় বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এ পর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশের বেশি ছিল। দৈনিক মৃত্যু ২৫০ জন ছাড়িয়ে যায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে বিধিনিষেধ ছিল। এর প্রভাব দেখা গেছে করোনা সংক্রমণের ওপর। এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণ হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

৭ জেলায় সংক্রমণ ১০ শতাংশের বেশি

দেশে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ কমে এলেও ৭ জেলা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের যেসব জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকেই মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই হিসাবে করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলায়।

তবে দেশে একমাত্র জেলা পঞ্চগড়ে সংক্রমণ এখনও ২০ শতাংশের বেশি। এ জেলায় সংক্রমণ ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

১০ শতাংশের মধ্যে যেসব জেলায় সংক্রমণ

ভোলা, মেহেরপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, শরীয়তপুর, রাঙামাটি, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, মাগুরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, কক্সবাজার, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, সিলেট, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, ফেনী, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, রংপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়ি, মাদারীপুর জেলায় সংক্রমণ রয়েছে ৫ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশের মধ্যে।

যেসব জেলায় সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের নীলফামারী, চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণা, ঝালকাঠি, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, বরগুনা, কুমিল্লা, পাবনা, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে ভেসে আসা বিষধর রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীয়ায় গড়াই নদীর তীরে আসা রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সব প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিষধর রাসেলস ভাইপারকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। তাদের দাবি, মানুষের জীবন আগে। বিষধর সাপ মেরে ফেলাই মঙ্গল বলছেন তারা।

পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াইয়ের তীরে কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়ীয়া থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধরা হয় রাসেলস ভাইপারটিকে। এটি কাশবনে জড়িয়ে ছিল।

মো. মৃদুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ছোট ঠেলা জাল দিয়ে সাপটিকে ধরে তার বাড়ি নিয়ে যান। তিনি সাপটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করে বিক্রির চিন্তা করছিলেন।

পরে কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এটি রাসেলস ভাইপার; বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন সাপটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন।

শাহাবউদ্দীন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে মঙ্গলবাড়িয়া থেকে রাসেলস ভাইপারটি নিয়ে ভেড়ামারা গোলাপনগরে পদ্মা নদীর ওপারে দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাপটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

তিনি জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
গড়াই নদীতীরের কাশবন থেকে উদ্ধার করা বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীকে শৃঙ্খলে সাজিয়ে রেখেছেন। ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

‘রাসেলস ভাইপারটি তার আবাস ছেড়ে ভুল করে চলে এসেছিল। এ জন্য আমরা আবার তার উপযোগী পরিবেশে ছেড়ে এসেছি।’

কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ শোয়াইব খান জানান, বিলুপ্তপ্রায় সাপটি বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রকৃতি থেকে যেমন ধরা হয়েছে, তেমনি প্রকৃতিতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাস উপযোগী দুর্গম চরাঞ্চলেই সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

এদিকে বিষধর সাপটিকে নিয়ে মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, ‘সবার আগে দরকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। ধর্মেও জীবন রক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানে এত বিষধর সাপ ধরে ছেড়ে দেয়া বোকামি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাপ আবারও পানিতে ভেসে চলে আসতে পারে; মানুষের জীবনহানি করতে পারে।’

স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘এত বিষধর সাপটিকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়ে ভণ্ডামি করা হয়েছে। লোক দেখানো প্রকৃতিপ্রেম।’

আশিক হোসেন সেতু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাপটাকে ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলাই ভালো ছিল।’

এ সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিং করার দাবি জানান খাদেমুল ইসলাম নামের স্থানীয় একজন।

পদ্মা অববাহিকা দিয়ে বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসতে শুরু করেছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। শরীয়তপুরে পদ্মার চরে গত বছর ভারত থেকে আসা সাপের প্রজাতিটির দেখা মেলার পর এ বছর এর আনাগোনা বেড়েছে।

সাপটি দেশে চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনোম রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক ও গবেষক বোরহান বিশ্বাস জানান, ভারত থেকে ২০১০-১১ সালের দিকে পদ্মার অববাহিকা ধরে রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে এসেছে। রাজশাহীতে প্রথম রাসেলস ভাইপারের দেখা মেলে। এরপর পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরে দেখা মিলেছে। চাঁদপুরেও বিষধর সাপটি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, রাসেলস ভাইপার বছরে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এলাকায়ও যেতে পারে। তারা নদীর পানিতে চলার সময় কচুরিপানায় ভেসে থাকে। নদীর তীরবর্তী ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণত আবাস গড়ে এরা। তীরের ধানক্ষেত তাদের থাকার জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। সাধারণত লোকালয়ে যায় না এ সাপ।

সঠিক তথ্য না থাকলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মৌখিক হিসাবে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রাসেলস ভাইপার পাওয়া গেছে।

দেখামাত্রই এসব সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড়ে গত সপ্তাহে একটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হরিপুরে পাওয়া গেছে একটি মরা রাসেলস ভাইপার।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পারে-পানিতে ভাসতে দেখা যায় পর্যটকদের ফেলা বর্জ্য। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন।’

করোনায় দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা প্রকৃতিপ্রেমীরা এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন সাগর থেকে পাহাড়ে। তবে পাহাড় ও জলাশয়ের মিতালি দেখতে দেশের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর। সেখানেই আছে বাংলার কাশ্মীর খ্যাত নিলাদ্রি লেক ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর।

সরকারি বিধিনিষেধ শেষে সেখানে ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড় তো থাকেই, কর্মদিবসেও পর্যটকদের আনাগোনায় চাঙা থাকে এলাকা। তবে যে প্রকৃতি দেখে মানুষ মন জুড়িয়ে নিচ্ছেন, যেখান থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন প্রাণ ভরে, সে প্রকৃতিকে তারাই আবার দূষিত করছেন বর্জ্যে।

টাঙ্গুয়ার হাওর ও নিলাদ্রি লেকে গত দুই দিন ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে-সেখানে পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, নানা খাদ্যপণ্যের প্যাকেট এমনকি মাস্কও। এসব বর্জ্য গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। তাতে যেমন পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

বন্ধুদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান ফাইয়াজ ফাহিম। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রথমবার এসেছি ঘুরতে। সত্যিই সুন্দর জায়গা। এই সৌন্দর্যটা আমাদেরই ধরে রাখতে হবে।

‘তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়, হাওরে অনেক পর্যটক আসেন, আমিও একজন পর্যটক, কিন্তু চিপস খাচ্ছেন সেই প্যাকেটটা পানিতে ফেলছেন, পানি খাচ্ছেন সেই বোতলটা পানিতে ফেলছেন। এটা পরিবেশের জন্য খারাপ। আমরা চাইব এগুলো বন্ধ করা হোক। এসব যারা করবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’

স্থানীয় নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। যার যেখানে ইচ্ছা ফেলতে থাকেন। আমাদের কিছু বলার থাকে না। তারা প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন। আমরা দেখলে না করি, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

নিলাদ্রি লেক এলাকার বাসিন্দা অরিন্দ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ ঘুরতে আসেন, খুব ভালো লাগে। সুনামগঞ্জকে মানুষ চেনেন। তবে আরেক দিকে খারাপ লাগে যে তারা এসে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। টেকেরঘাটের পাড় আর পানির অবস্থাটা দেখেন, কীভাবে ময়লা ফেলে রেখেছে। প্রশাসনের উচিত এখানে নজরদারি বাড়ানো।’

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের সঙ্গে।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কিছুদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছি। এখানে রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, খাবার খেয়ে বর্জ্যগুলো পানিতে ফেলা হয়। এতে করে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

‘আমি মনে করি এখানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একজন সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে, যাতে করে এসব বন্ধ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা-প্লাস্টিক ফেলার জন্য মাঝি ও তার সহযোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি, যেন তাদের মাধ্যমে পর্যটকরা সচেতন হন। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রামসার সাইট হওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে পর্যটকদের আনাগোনাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এখানে অভিযান চালাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবারও আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি।

‘তবে টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশাল হওয়ায় এবং হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পর্যটকরা আসায় নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত এখানে মাইকিং-মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে

দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে

নখ ঢেকে রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করুন। মনের অজান্তে হাত মুখে চলে গেলেও গ্লাভসের কারণে নখ কাটতে পারবেন না।

অন্যমনস্ক হয়ে গেলে, টেনশন হলে কিংবা ইচ্ছা করেই অনেকে দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। এটা একটা বাজে অভ্যাস। কারণ এর মাধ্যমে নখে থাকা রোগ-জীবাণু সহজেই মুখে চলে যেতে পারে।
সাধারণ কিছু নিয়ম মানলে বদ-অভ্যাসটি সহজেই ত্যাগ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেয়া যাক নিয়মগুলো।

নখ ছোট রাখুন

নখ বড় হতে দেয়া যাবে না। সব সময় কেটে ছোট করে রাখতে হবে। নখ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কাটার সুযোগ পাবেন না।

নখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে নিন

ম্যানিকিউর করুন। তাতে হাত ও নখগুলোর সৌন্দর্য বাড়বে। নখগুলো সুন্দর ও চকচক করবে। নখ সুন্দর থাকলে তো দাঁত দিয়ে নখ কাটার কোনো প্রশ্নই আসে না!

গ্লাভস ব্যবহার করুন

নখ ঢেকে রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করুন। মনের অজান্তে হাত মুখে চলে গেলেও গ্লাভসের কারণে নখ কাটতে পারবেন না। চাইলে নখে ব্যবহারযোগ্য স্টিকারও লাগাতে পারেন।

চুইংগাম চিবান

মুখকে ব্যস্ত রাখলে সে নখ কাটার ব্যাপারে আগ্রহ পাবে না। সে জন্য চুইংগাম চিবুতে পারেন। খেয়াল করুন, কোন সময় আপনি নখ বেশি কাটছেন। সেই সময় মুখে চুইংগাম ফেলে দিন। এভাবে মুখকে ব্যস্ত রেখে অভ্যাসটি দূর করতে পারেন।

তেতো নেইল পলিশ ব্যবহার করুন

নখ কাটার অভ্যাস দূর করার জন্য বাজারে তেতো স্বাদের নেইল পলিশ পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করুন। এটি নখ কামড়ানো থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

নিজে কাঁদা আর প্রিয়াকে কাঁদানোর দিন আজ

নিজে কাঁদা আর প্রিয়াকে কাঁদানোর দিন আজ

প্রতীকী ছবি

জীবনের প্রথম প্রেমে সফল হওয়ার নিদর্শন একেবারেই হাতেগোনা। এই প্রেমে প্রাপ্তির চেয়ে বিরহ বেশি, যার রেশ থাকে আজীবন। আজ প্রথম সেই প্রেমকে উদযাপন করার দিন। 

জীবনে প্রেম আসেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সে প্রেম যে কেবল একবারই আসে, তা নয়।

প্রেম জীবনে আসতে পারে অনেকবার, অনেক রূপে। তবে প্রথম প্রেমের অনুভূতির সঙ্গে অন্যগুলোর তুলনা হয় না।

জীবনের প্রথম প্রেমে সফল হওয়ার নিদর্শন অবশ্য একেবারেই হাতেগোনা। তাই প্রথম প্রেমে প্রাপ্তির চেয়ে বিরহ বেশি, যার রেশ থাকে আজীবন।

প্রণব রায়ের লেখা, আর জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে ‘তুমি আজ কত দূরে’ গানে রয়েছে সেই ‘বিরহ-মধুর’ প্রথম প্রেমের মন ছুঁয়ে যাওয়া কথা-

প্রথম প্রেমের এই রীতি হায়

নিজে কাঁদে আর প্রিয়েরে কাঁদায়

দূরে যেতে তাই মন নাহি চায়গো, কাছে কাছে মরে ঘুরে

তুমি আজ কত দূরে?

আজীবন আবেশ ছড়িয়ে রাখা সেই প্রথম প্রেম উদযাপনের দিন আজ।

‘প্রথম প্রেম দিবস’ কীভাবে শুরু হলো তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। বলা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই শুরু হয় এ দিন উদযাপন।

২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন হচ্ছে দিনটি।

প্রথম প্রেম নিয়ে গান-কবিতা কম লেখা হয়নি। অঞ্জন দত্তের রঞ্জনা কিংবা নচিকেতার নীলাঞ্জনার মতো প্রত্যেকের জীবনেই ছাপ রেখেছে প্রথম প্রেম। শুরুর প্রেম এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এটিই প্রথম মানুষের মনে বিপরীত লিঙ্গের কারও প্রতি ভালোলাগার অনুভূতির দোলা ছড়িয়ে দেয়।

প্রথম প্রেমের স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় হয়েছেন অনেকেই। নানা শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি প্রথম প্রেমের স্মৃতিচারণও করতে দেখা গেছে তাদের।

ওয়াহিদ হাসান নামের একজন নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘আজ নাকি প্রথম প্রেম দিবস। আমার প্রথম যে কী ছিল, নিজেই কনফিউজড।’

সোনিয়া আলিম নুর নামে একজন লিখেন, ‘উন্মাদনায় মেতে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বার প্রেম হয়, তবে শেষ প্রেমই জীবনের সব মানে বুঝিয়ে দিয়ে যায়।

‘এরপর আর উন্মাদনায় মাতামাতি হয় না। জীবনের প্রতি ক্ষণে, হৃদয় মন শরীর নিজের ভালো থাকা নিয়ে ভাবে।’

লিমন কবির লিখেন, ‘প্রথম প্রেমের স্মৃতি, ক্যামন করে ভুলি।’

ওমর ফারুক নামের একজন লিখেন, ‘প্রথম প্রেমিকার এখন দুই ছেলে, এক মেয়ে। সুখী সংসার।’

মেহবুবা আফসানা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘প্রথম প্রেম বলতে কিছু নাই। মানুষ যখনই প্রেমে পড়ে, ওইটাই তখন প্রথম প্রেম।’

কামরুল হাসান নামের একজন লিখেন, ‘প্রথম প্রেমে পড়ছিলাম ক্লাস টুতে। তাকে সে কথা বলার মতো সাহস তখন ছিল না।

‘কয়েক বছর পর যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, আশ্চর্যজনকভাবে তার বিয়ে হয়ে গেল।’

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

বিভিন্ন ধরনের জ্বরের লক্ষণ

বিভিন্ন ধরনের জ্বরের লক্ষণ

ম্যালেরিয়া রোগীর প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পর জ্বর থাকবে। সঙ্গে ডায়রিয়া, গায়ে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এবং কাঁপুনি দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেবে।

বছরের এই সময়ে বিভিন্ন কারণে জ্বর হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। সমস্যা হচ্ছে জ্বরটা কী কারণে হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না বলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন। চলুন আজ দেখে নেই, কোন ধরনের জ্বরের লক্ষণ কী রকম।

ডেঙ্গু

জ্বর, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, সারা শরীরে ব্যথা, চোখে ব্যথা, পেশিতে, হাড়ে এবং গিরায় গিরায় ব্যথা- এগুলোই ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ। কারও মধ্যে যদি এ সব লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তার ডেঙ্গু হতে পারে।

কোভিড-১৯

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জ্বর, শুকনা কাশি, ত্বকে ফুসকুরি, সারা শরীরে ব্যথা, গন্ধ ও স্বাদ না পাওয়া, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, বুকে ব্য়থা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

চিকুনগুনিয়া

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ প্রায় একই রকম। চিকুনগুনিয়া হলে সাধারণত জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ঘোরা, তলপেটে ব্যথা, পেশি ও হাটুতে ব্যথা এবং চোখ ব্য়থার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া রোগীর প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পর জ্বর থাকবে। সঙ্গে ডায়রিয়া, গায়ে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এবং কাঁপুনি দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেবে।

ভাইরাস জ্বর

ভাইরাল ফিভার খুব সাধারণ অসুখ। এ ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, গায়ে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেবে।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন

দাগ দূর করার উপায়

দাগ দূর করার উপায়

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন, গাড়ি, সানগ্লাস, চামড়ার জুতায় দাগ পড়ে। অনেকেই ভাবেন, এই দাগগুলো ওঠানো যায় না।

চাইলে সহজ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব দাগ তুলে ফেলতে পারেন।

গ্লাসের দাগ

মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ছাড়াও অন্য যেকোনো কাচের গ্লাসের ওপরে পড়া দাগ তুলতে এক টুকরা সুতি কাপড় অথবা তুলার বলে অল্প টুথপেস্ট লাগিয়ে গ্লাসের স্ক্রিনে ১০ সেকেন্ড ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মাইক্রোফাইবার ক্লথে সামান্য ভেজিটেবল অয়েল লাগিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে। ভেজিটেবল অয়েল না থাকলে ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন।

বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সুতি কাপড়ে সেই পেস্ট নিয়ে মুছলেও দাগ ওঠে যাবে।

চামড়ার দাগ

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

নেইল পলিশ দিয়েও চামড়ার ব্যাগের দাগ দূর করা যায়। চামড়ার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেইল পলিশ নিন। এবার দাগের ওপরে নেইল পলিশ লাগিয়ে দাগ অদৃশ্য করে ফেলতে পারেন।

দাগ তুলতে ব্যবহার করতে পারেন মোমও। সামান্য পরিমাণ মোম আগুনের তাপে গলিয়ে নিন। গলানো মোম ব্যাগ অথবা জুতার দাগের ওপর লাগান। একটি ফ্লানেলের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

কাঠের দাগ

কাঠের দাগ দূর করতে ওয়ালনাট কার্নেল কার্যকরী। অর্ধেকটা ওয়ালনাট কার্নেল নিয়ে আঁচড়ের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন। আঁচড়ের দাগ গাঢ় হয়ে এলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তারপর বার্নিশ করে নিন।

প্লাস্টিকের দাগ

প্লাস্টিকের দাগ দূর করতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন। দাগের ওপরে হেয়ার ড্রায়ার ধরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রয়োজন বুঝে তাপমাত্রা বাড়াতে পারেন। ড্রায়ার শেষে কাপড় দিয়ে পলিশ করে ফেলুন।

মেটালের দাগ

স্টেইনলেস স্টিল বা মেটালের দাগ দূর করতে নেইল বাফার ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে দাগের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন।

দাগ তুলতে সাদা টুথপেস্টও ব্যবহার করা যায়। দাগের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তবে এই পদ্ধতিতে কেবল হালকা দাগ দূর করা সম্ভব।

আরও পড়ুন:
আপনার শরীর কতটুকু রোগ প্রতিরোধী
শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে
কেন আনারস খাবেন
দাঁতের হলুদভাব তাড়ানোর উপায়
জাম্বুরার উপকারিতা

শেয়ার করুন