বাঘখেকো শিয়ালের ছানা

ছবিটি এঁকেছে রবিউল ইসলাম সুমন

বাঘখেকো শিয়ালের ছানা

শিয়ালনি বলল, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’ শিয়াল বলল, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি, এক্ষুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে, তোমরা থামো।’

এক শিয়াল আর এক শিয়ালনি ছিল। তাদের তিনটি ছানা ছিল। কিন্তু থাকার জায়গা ছিল না।

তারা ভাবল, ‘ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে মারা যাবে।’

তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বের করল। কিন্তু গর্তের চার ধারে দেখল খালি বাঘের পায়ের দাগ! তা দেখে শিয়ালনি বলল, ‘ওগো এটা যে বাঘের গর্ত। এর ভেতরে কী করে থাকবে?’

শিয়াল বলল, ‘এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে!’

শিয়ালনি বলল, ‘বাঘ যদি আসে, তখন কী হবে?’

শিয়াল বলল, ‘তখন তুমি খুব করে ছানাগুলোর গায়ে চিমটি কাটবে। তারা তাতে চেঁচাবে আর আমি জিজ্ঞেস করব, ওরা কাঁদছে কেন? তখন তুমি বলবে, ওরা বাঘ খেতে চায়।’

তা শুনে শিয়ালনি বলল, ‘বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ।’

বলেই সে খুব খুশি হয়ে গর্তের ভেতর ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভেতরেই থাকে।

এমনি করে দিন কতক যায়। শেষে একদিন তারা দেখল যে, ওই বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালনি তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। তখন ছানাগুলো যে চেঁচাল, সে আর কী বলব!

শিয়াল তখন খুব মোটা আর বিশ্রী গলায় সুর করে জিজ্ঞেস করল, ‘খোকারা কাঁদছে কেন?’

শিয়ালনি তেমনি বিশ্রী সুরে বলল, ‘ওরা বাঘ খেতে চায়। তাই কাঁদছে।’

বাঘ তার গর্তের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ‘ওরা বাঘ খেতে চায়’ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। সে ভাবল, ‘বাবা! আমার গর্তের ভেতর না জানি ওগুলো কী ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয়ই ভয়ানক রাক্ষস হবে। নইলে কী ওদের খোকারা বাঘ খেতে চায়!’

তখনই শিয়াল বলল, ‘আর বাঘ কোথায় পাব? যা ছিল সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি!’

তাতে শিয়ালনি বলল, ‘তাহলে কী হবে? যেমন করে পারো একটা ধরে আনো, নইলে খোকারা থামছে না।’ বলে সে ছানাগুলোকে আরও বেশি করে চিমটি কাটতে লাগল।

তখন শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা, রোস রোস। ওই যে একটা বাঘ আসছে। আমার ঝপাংটা দাও, এখনই ওকে ভতাং করছি।’

ঝপাং বলেও কিচ্ছু নেই, ভতাং বলেও কিচ্ছু নেই। সব শিয়ালের ফাঁকি।

বাঘের কিন্তু সেই ঝপাং আর ভতাং শুনেই প্রাণ উড়ে গেল। সে ভাবল, ‘মাগো, এই বেলা পালাই, নইলে না জানি কী দিয়ে কী করবে এসে!’

বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, বাঘ লাফে লাফে ঝোপ-জঙ্গল ডিঙিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালনি লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, ‘যাক, আপদ কেটে গেছে!’

বাঘ তখনও এমনি ছুটেছে যে তেমন আর সে কখনো ছোটেনি।

একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে ভাবল, ‘তাই তো, বাঘ এমনি করে ছুটছে। এ তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয়ই ভয়ানক কিছু হয়েছে!’

এই ভেবে সে বাঘকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কী হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছো?’

বাঘ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘সাধে কি আর পালাচ্ছি? নইলে এক্ষুনি আমাকে ধরে খেত!’

বানর বলল, ‘তোমাকে ধরে খায় এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো আমি জানিনে। ও কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।’

বাঘ বলল, ‘সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতুম! দূরে থেকে অমনি করে সবাই বলতে পারে!’

বানর বলল, ‘আমি যদি সেখানে থাকতুম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতুম যে সেখানে কিছু নেই। তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছো।’

এ কথায় বাঘের ভারি রাগ হলো। সে বলল, ‘বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুঝি ঢের বুদ্ধি! চলো তো একবার সেখানে যাই।’

বানর বলল, ‘যাব বৈকি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।’

বাঘ বলল, ‘তাই সই! আমার পিঠে বসেই চলো।’ এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্তের দিকে ফিরে চলল।

শিয়াল আর শিয়ালনি সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে। আর অমনি দেখে বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আসছে। তখন শিয়ালনি তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল। ছানাগুলোও ভূতের মতো চেঁচাতে শুরু করল।

তখন শিয়াল আবার সেই রকম সুর করে বলল, ‘আরে থাম, থাম। অত চেঁচিও না, অসুখ করবে।’

শিয়ালনি বলল, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’

শিয়াল বলল, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি, এক্ষুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে, তোমরা থামো।’

তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বলল, ‘ওই, ওই! ওই যে তোদের বাদর মামা একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কাঁদিসনে; শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!’

বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্তু ঝপাং আর ভতাংয়ের কথা শুনে সে আর বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে দেখতে দেখতে কোথায় পালিয়ে গেল।

আর বাঘের কথা কি আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিলো, দুই দিনের মধ্যে আর দাঁড়ালই না।

তার পর থেকে আর শিয়ালদের কোনো কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাদুর গাছে আম পেকেছে

দাদুর গাছে আম পেকেছে

কার্টুনটি এঁকেছেন কাওছার মাহমুদ

দিনের বেলায় চোখ দুটো ন’য় রাখতে পারে খুলে/ কিন্তু রাতে না ঘুমালে চোখ তো যাবে ফুলে

দাদুর গাছে আম পেকেছে—রাখছে চোখে চোখে,

আমবাগানে দুষ্ট ছেলে কেউ না যেন ঢোকে।

দিনের বেলায় চোখ দুটো ন’য় রাখতে পারে খুলে,

কিন্তু রাতে না ঘুমালে চোখ তো যাবে ফুলে।

তাই তো দাদু দুচোখ বুজে ঘুমিয়ে থাকে রাতে,

রোজ সকালেই দুয়েকটা আম কম পড়ে যায় তাতে।

একরাতে তাই ঘুমোল না, থাকল দাদু জেগে—

দেখব আমি কোন ব্যাটা রোজ আম নিয়ে যায় ভেগে?

গভীর রাতে মড়মড়ামড় আওয়াজ গেলো শোনা,

তার মানে কী?—চোর এসেছে—চোরের আনাগোনা।

লুকোয় দাদু গাছের পাশে, হাতে নিয়ে ছড়ি,

পালিয়ে যাবে?—অত সোজা! এই যে আছে দড়ি।

সরাসরাসর হচ্ছে আওয়াজ গাছের পাতায় পাতায়,

হঠাৎ করে দড়াম করে চোর পড়ে তার মাথায়।

লুটিয়ে পড়ে দুজন দুদিক—ডাকে যে যার মাকে!

আতঙ্কিত দুইজনই—কে সান্ত্বনা দেয় কাকে?

ঘাড় ভেঙে আর কোমর ভেঙে উঠল দুদিক দুজন,

দেখল দাদু চোর মহাশয় তারই নাতি সুজন।

শেয়ার করুন

চোখ নিয়ে কথা

চোখ নিয়ে কথা

বাঘ রাতের বেলা মানুষের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেখতে পারে।

চোখ দিয়ে আমরা মানুষসহ সব পশুপাখি দেখে থাকি। তবে সবার চোখ কিন্তু এক রকম নয়। আজ তোমাদের জন্য থাকছে চোখ নিয়ে মজার কিছু তথ্য।

এক ধরনের গিরগিটি শিকারি প্রাণীকে তাড়ানোর জন্য চোখ দিয়ে রক্ত ছুড়ে দেয়।

Eye_10

উটের চোখের পাপড়ি তিনটি। মরুভূমির ধূলি ঝড় থেকে বাঁচতে এগুলো ওদের সাহায্য করে।

ছাগলের চোখের মণি আয়তকার।

কেঁচোর কোনো চোখ নেই।

স্ক্যালপ নামের একধরনের ঝিনুকের ১০০-এর বেশি চোখ থাকে। এগুলো ওদের খোলের প্রান্তে থাকে।

চার চোখা মাছ একই সঙ্গে পানির উপরে ও নিচে দেখতে পারে।

ডলফিন এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।

ক্যামেলিয়ন গিরগিটি একই সময়ে দুই চোখ দিয়ে দুই দিকে তাকাতে পারে।

উটপাখির চোখ এর মস্তিষ্কের চেয়ে বড়।

বাঘ রাতের বেলা মানুষের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেখতে পারে।

শেয়ার করুন

মামার বাড়ি

মামার বাড়ি

ঝড়ের দিনে মামার দেশে/আম কুড়াতে সুখ

আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা,

ফুল তুলিতে যাই

ফুলের মালা গলায় দিয়ে

মামার বাড়ি যাই।

মামার বাড়ি পদ্মপুকুর

গলায় গলায় জল,

এপার হতে ওপার গিয়ে

নাচে ঢেউয়ের দল।

দিনে সেথায় ঘুমিয়ে থাকে

লাল শালুকের ফুল,

রাতের বেলা চাঁদের সনে

হেসে না পায় কূল।

আম-কাঁঠালের বনের ধারে

মামা-বাড়ির ঘর,

আকাশ হতে জোছনা-কুসুম

ঝরে মাথার ‘পর।

রাতের বেলা জোনাক জ্বলে

বাঁশ-বাগানের ছায়,

শিমুল গাছের শাখায় বসে

ভোরের পাখি গায়।

ঝড়ের দিনে মামার দেশে

আম কুড়াতে সুখ

পাকা জামের শাখায় উঠি

রঙিন করি মুখ।

কাঁদি-ভরা খেজুর গাছে

পাকা খেজুর দোলে

ছেলে-মেয়ে, আয় ছুটে যাই

মামার দেশে চলে।

শেয়ার করুন

বেলুন অ্যানিম্যাল

বেলুন  অ্যানিম্যাল

মাসায়োশি মাতসুমোতো ভাইয়া তার বেলুন অ্যানিম্যালের সঙ্গে

একটা প্রতিকৃতি বানাতে তার দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। তবে একটু জটিলগুলো বানাতে ছয় ঘণ্টাও লেগে যায়।

মাসায়োশি মাতসুমোতো থাকেন জাপানে।

এই ভাইয়াটা তোমাদের মতো বেলুন দিয়ে খেলতে ভালোবাসেন।

তার খেলাটা একটু অন্যরকম।

তিনি বেলুন দিয়ে এটা সেটা বানান।

তার বানানো পশুপাখি, ফুল, লতাপাতাগুলো দেখতে এত সুন্দর যে তোমার চোখ না ধাঁধিয়ে পারবেই না।

হাতিটাকে চিনতে পেরেছো?

মাসায়োশি ভাইয়া সাত বছর বয়স থেকে এসব বানিয়ে আসছেন।

ছোটবেলায় তার পশুপাখি ভালো লাগত।

তখন থেকেই ভাবতেন কিভাবে এদের প্রতিকৃতি বানানো যায়।

হাতের কাছে বেলুন পেয়ে একদিন চেষ্টা করলেন।

দেখলেন, খুব সহজেই পশুপাখি বানাতে পারছেন।

একটা প্রতিকৃতি বানাতে তার দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

তবে একটু জটিলগুলো বানাতে ছয় ঘণ্টাও লেগে যায়।

ইঁদুর আর পাখিটা তোমাদের সঙ্গে খেলতে চাইছে।

ওরে বাবা! ভালুকের পেটটা কত্ত মোটা!

সরে যাও! বিচ্ছুটা রেগে আছে।

বলো দেখি, এটা মোরগ না মুরগি?

তোমরা কখনো টার্কি খেয়েছো?

এর নাম চমরী গাই। বাড়ি তিব্বত।

বানর ঝোলে গাছের ডালে, পোকা নাচে তালে তালে।

ঘাস ফড়িং কি ঘাস খায়?

শিং উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গন্ডার মামা।

মাসায়োশি ভাইয়ার বানানো আরও প্রতিকৃতি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করো।

শেয়ার করুন

চাষী

চাষী

ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে, রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।

সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,

দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।

দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?

পুণ্য অত হবে নাক সব করিলে জড়।

মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,

সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।

ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,

রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।

আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার

তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।

শেয়ার করুন

বনভোজন

বনভোজন

কেউবা বসে হলদি বাটে কেউবা রাঁধে ভাত/ কেউবা বলে দুত্তুরি ছাই পুড়েই গেল হাত

নুরু, পুশি, আয়েশা, শফি সবাই এসেছে

আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে।

রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছ ধুম,

বোশেখ মাসের এই দুপুরে নাইকো কারো ঘুম।

বাপ মা তাদের ঘুমিয়ে আছে এই সুবিধা পেয়ে,

বনভোজনে মিলেছে আজ দুষ্টু কটি মেয়ে।

বসে গেছে সবাই আজি বিপুল আয়োজনে,

ব্যস্ত সবাই আজকে তারা ভোজের নিমন্ত্রণে।

কেউবা বসে হলদি বাটে কেউবা রাঁধে ভাত,

কেউবা বলে দুত্তুরি ছাই পুড়েই গেল হাত।

বিনা আগুন দিয়েই তাদের হচ্ছে যদিও রাঁধা,

তবু সবার দুই চোখেতে ধোঁয়া লেগেই কাঁদা।

কোর্মা পোলাও কেউবা রাঁধে, কেউবা চাখে নুন,

অকারণে বারে বারে হেসেই বা কেউ খুন।

রান্না তাদের শেষ হল যেই, গিন্নী হল নুরু,

এক লাইনে সবাই বসে করলে খাওয়া শুরু।

ধূলোবালির কোর্মা-পোলাও আর সে কাদার পিঠে,

মিছিমিছি খেয়া সবাই, বলে- বেজায় মিঠে।

এমন সময় হঠাৎ আমি যেই পড়েছি এসে,

পালিয়ে গেল দুষ্টুরা সব খিলখিলিয়ে হেসে।

শেয়ার করুন

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’ ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চল দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

এক বনে খরগোশ আর কচ্ছপ পাশাপাশি বাস করত। দুইজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাটি যে হতো না তা নয়।

খরগোশ খুব জোরে ছোটে। যেন বাতাসের আগেই ছুটে চলে।

আর কচ্ছপ? সে চলে ধীরে ধীরে হেলেদুলে।

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’

ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চলো দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

প্রতিযোগিতা! হো হো করে হেসে উঠল খরগোশ।

বলল, ‘প্রতিযোগিতা! তা কার সঙ্গে? তোমার সঙ্গে?’

বলেই আবার হো হো করে হাসতে লাগল, ‘আচ্ছা, তুমি যখন নিজের মুখে বলছ তবে তো রাজি হতেই হয়। তাহলে কত দূর যাওয়ার প্রতিযোগিতা হবে? আর কখন শুরু হবে?’

কচ্ছপ বলল, ‘এখনই শুরু হবে। ওই অনেক দূরে ওই নদীর ধারে একটা অশ্বত্থ গাছ দেখা যাচ্ছে, দেখি ওইখানে কে আগে পৌঁছতে পারে?’

অতএব শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা।

খরগোশ এক দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখতে পেল কচ্ছপ বলতে গেলে সেখানেই পড়ে আছে।

সেদিন রোদের তেজ ছিল বেশি। পাশেই গাছের নিচে একটু ছায়া দেখে খরগোশ ভাবল, ‘একটু বিশ্রাম নিলে ভালো হয়। এখানে পৌঁছতে কচ্ছপের অনেক দেরি আছে। একটু বিশ্রাম নেয়া যাক।’

হঠাৎ ফুরফুর করে হাওয়া বইতে লাগল। গাছের ছায়ায় বসে মিষ্টি ফুরফুরে হাওয়ায় খরগোশের ঘুম পেয়ে গেল।

খরগোশ কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল তা নিজেই জানতে পারল না।

ওদিকে কচ্ছপ কিন্তু একটানা হেঁটে চলছিল। তেজি রোদ গ্রাহ্য না করে সে হেঁটে চলল।

এদিকে বেলা পড়ে এল। খরগোশের ঘুম ভাঙল এবার।

সে তখন আশপাশে তাকিয়ে কচ্ছপকে দেখতে না পেয়ে নদীর তীরের সেই অশ্বত্থ গাছটার দিকে ছুটতে থাকল।

সেখানে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে খরগোশ দেখল তার আগেই সেখানে কচ্ছপ পৌঁছে বিশ্রাম করছে।

গল্পের শিক্ষা : ধীর ও স্থির ব্যক্তিরাই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg