× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Are Chinas drills preparing to attack Taiwan?
hear-news
player
print-icon

চীনের মহড়া কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি

চীনের-মহড়া-কি-তাইওয়ানে-হামলার-প্রস্তুতি
তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। ছবি: এএফপি
চীনের মূল ভূখণ্ডের সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে যে আভিযানিক পরিকল্পনার মহড়া চলছে, ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সেটি সরাসরি সমর অভিযানে রূপ নিতে পারে।’ এ ধরনের বক্তব্যের পরও বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাইওয়ানে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ চায় না চীন কিংবা তাদের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়ায় স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। এর অংশ হিসেবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও রণতরি মোতায়েন করে বৈশ্বিক পরাশক্তিটি।

তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ মনে করে চীন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দ্বীপরাষ্ট্রটিতে পেলোসির সফরকে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মারাত্মক, বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ রক্ষায় তাদের দৃঢ়সংকল্প প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মহড়াটির আয়োজন করা হয়েছে, যেটি শেষ হবে আগামী রোববার।

এমন বাস্তবতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে সেগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

চীনের সামরিক মহড়া কতটা উদ্বেগজনক

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, তাইওয়ানের আশপাশে ছয়টি অঞ্চলে ১৮০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে সমুদ্র ও আকাশপথে এ মহড়া হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে যুদ্ধ, বোমারু বিমানসহ শতাধিক উড়োজাহাজ ও ১০টি রণতরি।

মহড়ার সমালোচনা করে তাইওয়ান বলেছে, এটি তাদের জলসীমায় অনুপ্রবেশ এবং সমুদ্র ও আকাশপথ অবরোধের শামিল।

মহড়ার প্রথম দিনে তাইওয়ানের জলসীমার আশপাশে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন, যেটি ১৯৯৬ সালের পর প্রথম। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন, যেগুলো দংফেং ব্যালিস্টিক অস্ত্র।

তাইওয়ান সীমান্তবর্তী দেশ জাপান বলেছে, চীনের ছোড়া কমপক্ষে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) পড়েছে। দেশটি চীনের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মহড়াস্থলের আশপাশে থাকা জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলোকে বিকল্প পথ বেছে নেয়ার তাগিদ দিয়েছে তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তাইপের তাওইউয়ান বিমানবন্দরে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চীনের মহড়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাইওয়ানগামী কোরিয়ান এয়ার এবং এশিয়ানা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সর্বোচ্চ দুই দিন পর্যন্ত বাতিল রাখা হয়েছে।

চীন কি তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে

চীনের নজিরবিহীন মহড়ায় দেশটি আসলেই তাইওয়ানে হামলা চালাতে চায় কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য নিচ্ছে, যাদের একজন মহড়াকে ‘চীনের পুনঃএকত্রীকরণের’ প্রদর্শনী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

চীনের মহড়া কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি

চীনের মূল ভূখণ্ডের সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংকে উদ্ধৃত করে সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে যে আভিযানিক পরিকল্পনার মহড়া চলছে, ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সেটি সরাসরি সমর অভিযানে রূপ নিতে পারে।’

এ ধরনের বক্তব্যের পরও বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাইওয়ানে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ চায় না চীন কিংবা তাদের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক বনি গ্লেজার আল জাজিরাকে বলেন, ‘চীনের চূড়ান্ত সীমাকে চ্যালেঞ্জ করে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা না নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাইছে চীন।

‘তাইওয়ানের ওপর অবরোধ আরোপ করতে তারা (চীন) সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, তবে (প্রেসিডেন্ট) শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তিনি তাইওয়ানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেননি।’

সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক বাহিনী থাকা চীন গায়ের জোরে তাইওয়ান দখল করতে চাইলেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে পড়বে। সে ক্ষেত্রে চীনকে লক্ষাধিক সেনা নিয়ে তাইওয়ান প্রণালি পাড়ি দিতে হবে। সে পথে বিমান ও নৌবাহিনীর গোলায় পড়তে হবে চীনাদের।

পর্যবেক্ষকরা আরও বলছেন, তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করে দেশটির উপকূলে চীনের সেনারা পৌঁছাতে পারলেও আরেকটি বিপত্তিতে পড়তে হবে তাদের। তাইওয়ানের অমসৃণ সমুদ্রতীরজুড়ে খুব কম সৈকতই আছে যেখানে চীনারা তাদের সশস্ত্র সেনা, ট্যাংক কিংবা কামানের মতো অস্ত্র খালাস করতে পারে।

তাইওয়ানে যেকোনো ধরনের হামলা চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে সাহায্যে বাধ্য আমেরিকা। চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ানে চীনের যেকোনো আক্রমণকে সামরিকভাবে প্রতিহত করা হবে।

ভবিষ্যৎ কোনো হামলার ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি বাইডেন শুধু মূল্যবোধতাড়িত হয়েই বলেননি। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দ্বীপরাষ্ট্রটি কৌশলগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘এটা এ কারণে যে, পিপলস লিবারেশন আর্মির (চীনের সামরিক বাহিনী) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য বিবেচিত প্রথম কয়েকটি দ্বীপের একটি এটি (তাইওয়ান)’, বলেন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুন তেউফেল দ্রেয়ার।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের দখল নেয়ার মানে হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কাওহসিউংয়ে প্রবেশাধিকার পাওয়া। এ বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড গুয়ামে যাওয়া যাবে।

পেলোসির সফর নিয়ে চীনের সমস্যা কী

চীন কখনও তাইওয়ান শাসন করেনি, তবে দেশটি ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ভূখণ্ডটিকে নিজেদের অংশ মনে করে।

ওয়াশিংটন ও তাইপের মধ্যে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের খোলাখুলি বিরোধিতা করে আসছে চীন সরকার। বৈশ্বিক পরাশক্তিটি পেলোসির সফরকে উসকানি ও তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।

পেলোসি এমন এক সময়ে তাইওয়ান সফর করেছেন, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ২০তম সম্মেলনে বসবেন চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। ওই সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলাপকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনংপি ‘তাইওয়ান নিয়ে আগুনের খেলা’ না খেলতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে দেন।

শি আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং স্বশাসিত দ্বীপটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও পেলোসির এ সফরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। এটি একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
চীনের ড্রোন লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ছুড়ল তাইওয়ান
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প
কী কারণে পেলোসি তাইওয়ানে, চীনের জ্বলুনি কেন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Bangladesh Bank gave Tk 10 crore to Prime Ministers relief fund

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ১০ কোটি টাকার চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। ছবি: পিআইডি
বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ১০ কোটি টাকার চেক তু্লে দেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) তহবিল থেকে এ টাকা দেয়া হয়।

গণভবনে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ১০ কোটি টাকার চেক তু্লে দেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

আরও পড়ুন:
দুই মাসের মধ্যে কাটবে অর্থনীতির চাপ: গভর্নর
ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে সংশোধনী আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অনিবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতে সুদ বাড়ল
শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজারবান্ধব আরেক সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Suggestions are being made as to what the new name of Monkeypox could be

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম আহ্বান, দিতে পারেন আপনিও

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম আহ্বান, দিতে পারেন আপনিও
সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মাঙ্কি বা বানরের সঙ্গে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও কিছু দেশে বানরকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আর কোনো উপায় না পেয়ে এবার ভাইরাসটির নাম বদলে দিতে চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের অবিতর্কিত নাম বাছাইয়ের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে পরামর্শ।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ফাদেলা চাইব- এ কথা জানিয়েছেন বলে মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফাদেলা চাইব বলেন, মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের নামকরণ আগেই হয়েছে। এখন অমর্যাদাকর নয় এমন একটি নাম খুঁজছি আমরা।

তিনি বলেন, কোনো জাতিগত গোষ্ঠী, অঞ্চল, দেশ বা প্রাণীর প্রতি যেন কোনো অপরাধ করা না হয়, সে জন্যই ভাইরাসটির নতুন নাম খোঁজা হচ্ছে।

সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১৯৫৮ সালে ডেনমার্কে গবেষণার জন্য রাখা বানরের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয় এক ভাইরাস, যার নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

এত বছর ধরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ততটা গুরুতর না হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মাঙ্কিপক্সকে বিশ্বজুড়ে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। সবশেষ করোনাসহ ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। চিকেন পক্স পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়। বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্সের সঙ্গে গুটি বসন্ত ও চিকেন পক্স উভয়েরই মিল রয়েছে।

মাঙ্কিপক্সে প্রাণহানির সংখ্যা খুবই কম। এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটলেও তা সীমিত। কাঠবিড়ালি, গাম্বিয়ান ইঁদুর, ডর্মিসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বানরসহ কিছু প্রাণীর মধ্যে মাঙ্কিপক্স পাওয়া গেছে।

তবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া কঠিন। এর সংক্রমণ সাধারণত ফ্লুইড ট্রান্সফার, ঘা, দূষিত পোশাক বা দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি যোগাযোগ কিংবা সহাবস্থানের মাধ্যমে ঘটে, যা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।

আরও পড়ুন:
মাঙ্কিপক্স: যুক্তরাষ্ট্রে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভারতে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত বেড়ে ৯
‘মাঙ্কিপক্সে’ ভারতীয় যুবকের মৃত্যুতে তদন্ত শুরু

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The price of fuel oil in the world market is again low

বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে

বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে আবারও ৩ ডলার কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৩২ ডলার বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলে দাম এখন ৮৮ দশমিক ৭৭ ডলার, যা ২ দশমিক ৪ শতাংশ আগের সেশন থেকে কম।

বিশ্ববাজারে আরও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেল ৩ ডলার করে কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরানের পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাবের পর দেশটি থেকে তেল রপ্তানি বেড়ে গেছে। এর ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরেক দফা কমেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারে দাম ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমেছে, যা গত শুক্রবারের চেয়ে দেড় শতাংশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৩২ ডলার বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলে দাম এখন ৮৮ দশমিক ৭৭ ডলার, যা ২ দশমিক ৪ শতাংশ আগের সেশন থেকে কম।

চীন সরকারের এক তথ্য বলছে, গত মাস থেকে দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে ধীর হয়ে এসেছে। এতে তেল শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন দিনে ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।

আইএসজি ব্যাংক তাদের পূর্বাভাসে বলছে, ২০২২ সালে চীনের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে, যা আগে ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সেই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পাশাপাশি করোনাভাইসের কারণে চীনের মূল ভূখণ্ডে কমে গেছে কর্মসংস্থানও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবে ২০১৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ফলে ইরান থেকে তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে। আর সেটি উঠে গেলে ইরান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল আমদানি করতে পারবে।

এমন অবস্থায় বিশ্ববাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং তেলের দাম কমে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরআব্দুল্লাহিয়ান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরমাণু চুক্তি বিষয়ে নেয়া পদক্ষেপে তারা সোমবারই সাড়া দেবে। তবে পরমাণু চুক্তিটি এখানেই রফাদফা হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব রাখে।

আরও পড়ুন:
সমালোচনার মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরার নির্দেশ মন্ত্রিসভার
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাপবে সরকার
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় বেনাপোলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Google will not respond to bad questions

বাজে প্রশ্নে সাড়া দেবে না গুগল  

বাজে প্রশ্নে সাড়া দেবে না গুগল



 
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিষেবা উন্নত করতে ‘বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্নিপেট’ যুক্ত হয়েছে গুগলে। ফলে বোকাসোকা প্রশ্নের উত্তর সহজে আর মিলবে না। 

সার্চ ইঞ্জিন গুগলে কত কি না খুঁজে বেড়ায় মানুষ। গুগলও হতাশ করে না। প্রশ্ন যত উদ্ভটই হোক, গুগলের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে উত্তর দেয়ার। আর এ কাজ করতে গিয়ে বিপত্তিও ঘটে অনেক।

তবে এখন থেকে গুগলকে বাজে প্রশ্ন করে সহজে উত্তর পাওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিষেবা উন্নত করতে ‘বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্নিপেট’ যুক্ত হয়েছে এই সার্চ ইঞ্জিনে। ফলে বোকাসোকা প্রশ্নের উত্তর সহজে মিলবে না।

ধরা যাক গুগলকে আপনি প্রশ্ন করলেন, স্নুপি (কার্টুন চরিত্র) কখন আব্রাহাম লিঙ্কনকে হত্যা করেছিল? জবাবে গুগল এতদিন যেভাবেই হোক একটি বর্ণনা হাজির করত যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সংযোগই নেই। এই দোষটা গুগলের নয়, এটি দায় আসলে অর্থহীন প্রশ্নটির।

এবার সেই অর্থহীন প্রশ্নকে শনাক্ত করে নিশ্চুপ থাকবে গুগল।

গুগলের অনুসন্ধানপ্রধান পান্ডু নায়ক বলেন, ‘আমরা আমাদের সিস্টেমগুলোকে এ ধরনের প্রশ্ন শনাক্তের উপযোগী করেছি। তবে এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে এটি কার্যকর নয়। আমরা ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়েছি।’

২০১৭ সালে ভুয়া খবর প্রচারের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছিল গুগল।

একজন প্রশ্ন করেছিলেন, ওবামা কি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছেন? উত্তরে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট কৌতুক করে বলেছিল, ‘ওবামা আসলে ২০১৬ সালে তার মেয়াদ শেষে একটি কমিউনিস্ট অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

গুগল এখন থেকে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেবে অনেক ভেবেচিন্তে। এ ছাড়া ‘অ্যাবাউট দিস রেজাল্ট’ নামে একটি অপশনও চালু হচ্ছে। এটি ক্ষেত্রবিশেষে আজেবাজে প্রশ্নকারীদের সতর্ক করবে।

পান্ডু নায়ক বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে কোনো সহায়ক তথ্য পাওয়া যাবে না। আপনি সব সময় আপনার প্রশ্নের ফলাফল দেখতে পারেন, এমনকি সতর্কতা জারির পরও।’

সুতরাং পরের বার যখন গুগলকে জিজ্ঞাসা করবেন, কীভাবে ইলুমিনাতির সঙ্গে যোগাযোগ করব?

জবাবে ‘ধনী হতে চান? আজই আবেদন করুন এবং ইলুমিনাতিতে যোগ দিন’- এমন উত্তরের চেয়ে আরও ভালো কিছু আপনাকে জানাবে গুগল।

আরও পড়ুন:
গুগলে চাকরি করার কিছু অবিশ্বাস্য সুবিধা
কোভিড টিকা না নিলে চাকরি যেতে পারে গুগল কর্মীদের
ফেসবুক-গুগলের অ্যালগরিদম খতিয়ে দেখবে অস্ট্রেলিয়া
২৪ বছরে গুগল
লাখ লাখ ফোনে বন্ধ হচ্ছে ইউটিউব, জিমেইল, প্লে স্টোর

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Dhaka is 166th in the list of livable cities

বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা ১৬৬তম

বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা ১৬৬তম
ঢাকার নিচে রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি, পাকিস্তানের করাচি, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, লিবিয়ার রাজধানী শহর ত্রিপোলি, নাইজেরিয়ার লাগোস এবং সবশেষে সিরিয়ার দামেস্ক, যার স্কোর ৩০ দশমিক ৭।

ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বাসযোগ্য শহরের বার্ষিক তালিকায় এবারও একেবারে নিচের দিকে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

ইআইইউ গত বৃহস্পতিবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি অনুযায়ী, ১৭২টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৬৬তম। ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩৯ দশমিক ২।

ঢাকার নিচে রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি, পাকিস্তানের করাচি, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, লিবিয়ার রাজধানী শহর ত্রিপোলি, নাইজেরিয়ার লাগোস এবং সবশেষে সিরিয়ার দামেস্ক, যার স্কোর ৩০ দশমিক ৭।

বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে এবার রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী শহর ভিয়েনা। ভিয়েনার স্কোর ৯৯ দশমিক ১। ৯৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং ৯৬ দশমিক ৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ।

কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘দ্য গ্লোবাল লিভাবিলিটি ইনডেক্স ২০২২’ প্রকাশ করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।

সূচকে ১৬৬ নম্বরে থাকা ঢাকার মোট পয়েন্ট ৩৯.১। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকা পেয়েছে ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে স্বাস্থ্যে ২৯.২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০.৫, শিক্ষায় ৪১.৭ ও অবকাঠামোতে ২৬.৮ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।

২০২১ সালে এ তালিকার ১৪০টি শহরের মধ্যে ১৩৭ নম্বরে ছিল ঢাকা।

এবারের তালিকায় বাসযোগ্য শহরের শীর্ষে থাকা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার পয়েন্ট ৯৯.১। শহরটি স্থিতিশীলতা ও স্বাস্থ্যসেবায় শতভাগ স্কোর পেয়েছে। সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৯৬.৩, শিক্ষা ও অবকাঠামোতেও ১০০ করে পয়েন্ট পেয়েছে।

ইআইইউ বলছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দিতে শহরগুলো কতটা সক্ষম ছিল, সেটি জরিপে এবার অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

যখন এ বছরের জরিপ কাজ শুরু করে তার মাঝামাঝি সময় ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ইআইইউ ইউক্রেনের শহর কিয়েভে শেষ পর্যন্ত আর জরিপ পরিচালনা করেনি। তবে রাশিয়ার মস্কো এবং পিটার্সবার্গে জরিপ পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার রাশিয়ার শহর মস্কো ১৫ এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ ১৩ ধাপ নিচে নেমে গেছে।

অবশ্য রাশিয়ায় চলমান অস্থিরতার কারণে পশ্চিমাদের দেয়া অর্থনৈতিক অবরোধে সেখানে দেয়া বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ সংস্কৃতি ও পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত বছর ১৪০ শহরের ওপর জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এবার ৩৩টি শহর বেশি নেয়া হয়। অবশ্য জরিপ পরিচালনা করার সময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে কিয়েভকে পরে বাদ দেয়া হয়েছে তালিকা থেকে।

আরও পড়ুন:
স্টিল মিলে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪
ঢাকা মেডিক্যালে এক নারীর লাশ ফেলে পালিয়েছেন দুই নারী
শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ
উত্তরায় জার্মানির এক নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
সরকারের উন্নয়ন তৃণমূলে পৌঁছাতে হবে: ছাত্রলীগ সভাপতি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Taslima is shocked by the attack on Rushdie

রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা

রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা তসলিমা নাসরিন ও সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
টুইটে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘এইমাত্র জানলাম, নিউ ইয়র্কে হামলার শিকার হয়েছেন সালমান রুশদি। আমি সত্যিই স্তম্ভিত। এমনটা হবে, তা কখনোই ভাবিনি।’

ভারতে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ-আমেরিকান ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় হামলার শিকার হন রুশদি। এতে গুরুতর আহত লেখককে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে বেশ কিছু পোস্ট করেন তসলিমা।

প্রথম ‍টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘এইমাত্র জানলাম, নিউ ইয়র্কে হামলার শিকার হয়েছেন সালমান রুশদি। আমি সত্যিই স্তম্ভিত। এমনটা হবে, তা কখনোই ভাবিনি।

‘তিনি পশ্চিমে বসবাস করে আসছিলেন এবং ১৯৮৯ সাল থেকেই তিনি সুরক্ষায় আছেন। যদি তার ওপর হামলা হয়, তাহলে ইসলামের সমালোচনা করা যে কেউ হামলার শিকার হতে পারেন। আমি উদ্বিগ্ন।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুকার পুরস্কারজয়ী রুশদিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার ওপর এ হামলার কারণ নিয়ে আরেক টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘লোকজন বলছে, মন্তব্য করার আগে চলুন জেনে নিই কেন হামলা হয়েছে রুশদির ওপর। যেহেতু তিনি ইসলামপন্থিদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, সেহেতু তাকে কোনো ইসলামপন্থি যে হত্যাচেষ্টা করতে পারে, সেটি কল্পনা করা কি খুব কঠিন?’

সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় হাদি মাতার নামের একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এ নিয়ে করা টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘২৪ বছর বয়সী ইরানীয়-আমেরিকান হাদি মাতার রুশদির ওপর হামলা করেছেন। হাদি মাতারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ছবি ছিল, যিনি ১৯৮৯ সালে রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন…এখন হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধারণা করতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক
‘তাহলে কি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেলেন সুস্মিতা?’
ফেসবুকে এবার ‘মৃত’ নয়, ‘সীমিত’ তসলিমা
আনিসুলের কান্নায় তসলিমার কটাক্ষ
আমার কীভাবে করোনা হলো: তসলিমা নাসরিন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Chronology The Satanic Verses to Rushdies Stab

সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত

সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' বই হাতে সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্মকে হেয় করার অভিযোগে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি সালমান রুশদি ও তার বইয়ের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, কেউ রুশদিকে হত্যা করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদ, সে জান্নাতে যাবে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার জয়ী লেখক সালমান রুশদি ছুরি হামলায় আহত হয়ে এখন নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৩৩ বছর আগেই স্যাটানিক ভার্সেস বইয়ে ইসলাম ধর্মকে হেয় করার অভিযোগে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি তার ও তার বইয়ের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, কেউ রুশদিকে হত্যা করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদ, সে জান্নাতে যাবে। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বইটি নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিউজবাংলা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সেপ্টেম্বর ২৬, ১৯৮৮: ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হয়।

ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৮৯: যুক্তরাষ্ট্রে এই বই বিক্রির প্রতিবাদে পাকিস্তানে আন্দোলন শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ১৯৮৯: ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি বিশ্বের সব মুসলিমকে রুশদিকে হত্যা করার আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৮৯: প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী ভারতের মুম্বাইতে ব্রিটিশ হাইকমিশনের দিকে রওনা দিলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি করে। সেখানে পুলিশের গুলিতে ১২ জন মারা যান।

মে ২৭, ১৯৮৯: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের প্রতিবাদে প্রায় ৩০ হাজার ইরাকপন্থি ও ইরানপন্থি জড়ো হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯: ব্রিটেনের প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন পাবলিশার্স যারা রুশদির বইটি প্রকাশ করেছিল, তাদের একটি বইয়ের দোকানের বাইরে ৪টি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল।

জুলাই ৩, ১৯৯১: স্যাটানিক ভার্সেসের ইতালীয় ভাষায় অনুবাদকারী ইত্তোরে ক্যাপরিওলোকে তার ফ্ল্যাটেই ছুরি নিয়ে আক্রমণ করা হয়। আক্রমণকারী ছিলেন একজন ইরানি।

জুলাই ১২, ১৯৯১: বইটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকারী হিতোশি ইগারাশিকে টোকিওতে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয় এবং হত্যাকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হিতোশি ছিলেন তুলনামূলক সংস্কৃতির একজন স্কলার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। যিনি সত্তরের দশকে ইরানে পড়াশোনা করেন।

সেপ্টেম্বর ৭, ১৯৯৫: খোমেনির দেয়া ফতোয়ার ৬ বছর পর লন্ডনে প্রথম জনসমক্ষে বের হন সালমান রুশদি।

ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৯৭: ফতোয়ার ৮ বছর পর ইরানের বিপ্লবী ১৫তম খোরদাদ ফাউন্ডেশন রুশদির মাথার জন্য ঘোষিত পুরস্কার বৃদ্ধি করে ২৫ লাখ ডলার করে।

সেপ্টেম্বর ২২, ১৯৯৮: ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি রুশদির ফতোয়ার বিষয়টি এক অর্থে বাতিল করে দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি শেষ।’

সেপ্টেম্বর ২৪, ১৯৯৮: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রুশদির জীবনের জন্য হুমকি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না ইরান। এমনকি কাউকে এমন কিছু করতে উৎসাহিতও করবে না।

সেপ্টেম্বর ২৮, ১৯৯৮: ইরানের গণমাধ্যম জানায়, ৩ জন ইরানি ধর্মগুরু ইসলামের অনুসারিদের ফতোয়ার অধীনে রুশদিকে হত্যার আহ্বান জানান।

অক্টোবর ৪, ১৯৯৮: ইরানের ১৬০ জন পার্লামেন্ট মেম্বার এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রুশদির বিরুদ্ধে দেয়া ফতোয়া জারি থাকবে।

অক্টোবর ১০, ১৯৯৮: ইরানের ছাত্ররা রুশদির হত্যার পুরস্কার দিতে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলার সংগ্রহ করে।

ফেব্রুয়ারি ৩, ১৯৯৯: মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া রুশদিকে ভারত ভিসা প্রদান করে। সে সময় দেশটির মুসলিমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে।

জুন ১৫, ২০০৭: সাহিত্যে অবদানের জন্য রুশদিকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করেন ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথ। পাকিস্তান, ইরান ও মালয়েশিয়া এর কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়।

জানুয়ারি ২০, ২০১২: ভারতের জয়পুরে একটি সাহিত্য উৎসবে সালমান রুশদির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কয়েকটি মুসলিম গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে তিনি উৎসবে আর যোগ দেননি।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২: ইরানের একটি ধর্মীয় ফাউন্ডেশন তার মাথার জন্য ৩৩ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

জুন ২০, ২০১৪: অন্য লেখকদের সাহায্য করার জন্য এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় তাকে পেনটার (পেন) প্রাইজ দেয়া হয়।

অক্টোবর ১৩, ২০১৫: ফ্রাঙ্কফ্রুট বইমেলায় রুশদির উপস্থিতির জন্য ইরানের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় সেই বইমেলা থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নেয়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬: ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া আউটলেট রুশদিকে হত্যার জন্য ৬ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

জুন ১, ২০২২: ব্রিটিশ রানীর জন্মদিনে রুশদিকে ‘কম্পানিয়ন অফ অনার’ করা হয়।

আগস্ট ১২, ২০২২: পশ্চিম নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালায় এক তরুণ। আহত রুশদির কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি এক মেইলে জানিয়েছেন, সালমান সম্ভবত এক চোখ হারিয়েছেন, তার নার্ভেও আঘাত লেগেছে, তার লিভার ছুরির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

p
উপরে