× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Which side of Indias eyes in Sri Lanka without Rajapaksa?
hear-news
player
print-icon

রাজাপাকসেহীন শ্রীলঙ্কায় ভারতের চোখ কোন দিকে?

রাজাপাকসেহীন-শ্রীলঙ্কায়-ভারতের-চোখ-কোন-দিকে?
২০০৫-১৫ সাল পর্যন্ত যে দশকে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে 'স্থিতিশীল কিন্তু শীতল’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এ সময়েই তিনি চীনাদের আরও কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন, আর ভাই গোতাবায়া হন প্রেসিডেন্ট, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাহিন্দার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নামেন।

শ্রীলঙ্কায় প্রবল জনবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তবে এখনও প্রেসিডেন্টের পদ ধরে রেখেছেন মাহিন্দার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে। গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে। চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজাপাকসে পরিবার গত কয়েক মাসে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টায় ছিল। তবে এর পরও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দেয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলেছে, রাজাপাকসে পরিবার নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে এনেছে। ভারত ভালো করেই জানে এমন অবস্থায় কোনো বিশেষ সরকারকে নয়, সহায়তা করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করেছেন এমি জান্নাত।

শ্রীলঙ্কায় ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে সোমবার পদত্যাগ করেছেন। রাজাপাকসের সমর্থকরা কলম্বোয় তার বাসভবনের বাইরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার পর তিনি এই ‍সিদ্ধান্ত নেন। বিক্ষোভের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের এমপিসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। প্রতিশোধপরায়ণ বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের পৈতৃক বাড়িসহ বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন দেয়।

রাতারাতি বিক্ষোভের মাত্রা বাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ত্রিনকোমালির একটি নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহিন্দার ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন, তবে সেটা কতদিন তা স্পষ্ট নয়।

মাহিন্দার এই পদত্যাগের লক্ষ্য ছিল অসম্মানজনক রাজনৈতিক পরাজয় এড়ানো। এর আগে বিক্ষোভ প্রশমনে মাহিন্দার ছেলে ক্রীড়ামন্ত্রী নামাল রাজাপাকসে, ভাই অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে এবং কৃষিমন্ত্রী চমাল রাজাপাকসে মাসখানেক আগে পদত্যাগ করেন। তবে এর পরও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য এবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন।

এর মানে কি শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে রাজাপাকসে পরিবারের দিন শেষ হয়ে আসছে? যে পরিবারটি ৫০ বছর ধরে দ্বীপরাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের শেষ অধ্যায়টি কি বড়ই অন্ধকারাচ্ছন্ন?

ভূরাজনীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার

এখানে দুটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রথমটি ভূরাজনীতিতে বন্ধুত্ব, জোট, শত্রুতা এবং কৌশলগত স্বার্থের বিষয়, যেখানে বলা হয়, ‘স্বার্থের বাইরে কোনো স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই।’ গত কয়েক দশকে ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ককে এর মাধ্যমে সুন্দরভাবে চিত্রিত করা যায়।

২০০৫-১৫ সাল পর্যন্ত যে দশকে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে 'স্থিতিশীল কিন্তু শীতল’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এ সময়েই তিনি চীনাদের আরও কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তিনি চীনকে হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর তৈরি করতে বলেছিলেন, যা পরে পরিচালনার জন্য একটি চীনা কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে ২০১৯ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন, আর ভাই গোতাবায়া হন প্রেসিডেন্ট, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাহিন্দার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নামেন। ভারত জানত, শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক মাত্রায় প্রভাব হারানো বিরোধী দলের কারণে তার সামনে বিকল্প তেমন নেই। মোদির এই প্রচেষ্টা পরে অনেক ফল দিয়েছে।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি ক্ষমতা ভাগাভাগি করার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি গুরুতর খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করে যখন ভাড়াভাগিটা কেবল পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই হয়। সবারই জানা, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই বিস্তৃত, তাহলে শ্রীলঙ্কা কেন এর ব্যতিক্রম হবে?

তবে যখন রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকাররা তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি ক্ষমতা ভোগ করে এবং জাতিগত বিভেদকে জোরদার করলে জটিলতা বাড়বেই। রাজাপাকসেরা গত কয়েক বছরে এটাই করেছেন। বন্দরনায়েকে-কুমারতুঙ্গারাও অতীতে এটা করেছেন, কিন্তু সেখান থেকে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বন্ধন দৃঢ় করতে রাজাপাকসেরা কী শিক্ষা নিয়েছেন?

রাজাপাকসের অবক্ষয়

শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসেদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের শুরু নিঃসন্দেহে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট থেকে। যে সংকটের ফলে তীব্র খাদ্যসংকট, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ৫ কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে এবং দেশটি কিছু বৈদেশিক ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে হাত পেতেছে। এই প্রচেষ্টাকে সহায়তা দিয়েছে ভারত।

তবে সিংহলি ও তামিল সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্তর্নিহিত বিভেদকে আরও উসকে দিয়েছেন রাজাপাকসেরা। এলটিটিইর পরাজয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালে শেষ হওয়া গৃহযুদ্ধের সময় গোতাবায়া ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আর মাহিন্দা ছিলেন প্রেসিডেন্ট। ভারত সে সময় রাজাপাকসেদের সমর্থন করেছিল, কারণ এলটিটিই এক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে (রাজীব গান্ধী) হত্যা করেছিল। মাহিন্দা সে সময় ১৩তম সংশোধনী কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা ছিল ১৯৮৭ সালের ভারত-শ্রীলঙ্কা চুক্তির অংশ। এতে তামিল সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসহ সব প্রদেশকে নিজস্ব ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুলিশি ক্ষমতা দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কিন্তু মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। তিনি এবং তার ভাই সিংহলি জাতীয়তাবাদী বাঘের পিঠে চড়েছিলেন। এলটিটিই নেতা প্রভাকরণকে তার ১২ বছরের ছেলসহ হত্যা করা হয়। এলটিটিইকে পরাস্ত করা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানো হয়েছিল।

এরপর মনমোহন সিং থেকে মোদি পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীরা এসেছেন, কিন্তু রাজাপাকসেরা নমনীয় হননি। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি কার্ডের আশ্রয় নিয়েছিলেন, ক্ষমতাধর ও উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধভিক্ষুরাও যার অন্তর্ভুক্ত (অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বৌদ্ধভিক্ষুরাও এখন রাজাপাকসেদের বিরোধী)। তারা নিজেদের ক্ষমতা চীরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন।

২০০৫ সাল থেকে গোতাবায়া অথবা মাহিন্দা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাঝখানে অবশ্য ২০১৫ সাল থেকে চার বছরের জন্য বিস্ময়করভাবে মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এই পদে আসেন, বলা হয়ে থাকে তিনি ভারতের গোপন সমর্থনপুষ্ট ছিলেন।

২০০৫ সালে যখন মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট হয়ে সংবিধানে ১৮তম সংশোধনী আনেন। এর ফলে একজনের সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে না পারার বাধা অপসারিত হয়। ২০১৫ সালে যখন মাইথ্রিপালা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে ফের সেই দুই মেয়াদের সীমা ফিরিয়ে আনেন। তবে ২০১৯ সালে গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট হয়ে ২০তম সংশোধনীর মাধ্যমে সীমাটি আবার সরিয়ে দেন।

শ্রীলঙ্কার বিভাজিত রাজনীতির সমস্যাটি হলো প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর জুটি অত্যন্ত শক্তিশালী। সবচেয়ে খারাপ দিকটি হলো, বিরোধী দল কোনো ভূমিকা নিতে অস্বীকার করছে। সামাগি জন বালাওয়েগায়া (এসজেবি) দলের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসার ছেলে সজিথ প্রেমাদাসা বলেছেন, তিনি চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হবেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পরিকল্পনা কী সেটাও বলবেন না।

ভারতের এবার বাছাইয়ের পালা

চীন ইতোমধ্যে তার পুরোনো বন্ধু মাহিন্দাকে উদ্ধারের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। নিজ নির্বাচনি এলাকায় হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর এবং এর পাশেই মাত্তালায় একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য এই চীনের সঙ্গেই মাহিন্দা চুক্তি করেছিলেন।

আইএমএফের কাছে শ্রীলঙ্কার ঋণ চাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশটিতে চীনা রাষ্ট্রদূত কিউই জেনহং আপত্তি জানান। তিনি বলেছিলেন, এ ঘটনা ঋণের জন্য কলম্বো এবং বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান আলোচনাকে প্রভাবিত করবে। শ্রীলঙ্কার কাছে চীনের এখনও পাওনা রয়েছে ৬৫০ কোটি ডলার।

তবে মে মাসের শুরুতে রাষ্ট্রদূত কিউই ঝড়ের গতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী আলি সাবরিকে বলেন, চীন আইএমএফের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কাজ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। সম্ভবত বেইজিং দেখেছে, ভারত কীভাবে তার নিজস্ব ঋণ পরিশোধের সময় পিছিয়ে দিয়েছে এবং নিজেকে গ্যারান্টার হিসেবে প্রস্তাব করে আইএমএফের কাছ থেকে শ্রীলঙ্কার ঋণ পাওয়ার চেষ্টাকে সমর্থন করেছে।

শ্রীলঙ্কায় ভারতের কূটনীতি শুধু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ সমালোচকদেরই নয়, গোটা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকেও অবাক করেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গত ছয় মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এর কারণ শুধু এই নয় যে নয়াদিল্লি কলম্বোর খেলাপি ঋণ সংকট দূর করতে ২ কোটি ৪০ লাখ সহায়তা দিয়েছে এবং দেশটিতে কয়েক টন জ্বালানি ও ওষুধও পাঠানো হয়েছে, বরং এর সঙ্গে ত্রিনকোমালেতে একটি তেল ট্যাংক ফার্ম পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও করা হয়েছে।

এমন অস্থির ও বিভাজিত পরিস্থিতিতে ভারত জানে শুধু রাজাপাকসেদের নয়, শ্রীলঙ্কার জনগণকে তাদের সমর্থন করা উচিত। যেমন বুদ্ধ বলেছেন, মাঝপথটি দীর্ঘ এবং কষ্টকর হলেও সেই পথেই হাঁটা উচিত, বিশেষ করে যখন এর শেষটা আলো ঝলমলে হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Our civilization will not last

‘আমাদের সভ্যতা টিকবে না’

‘আমাদের সভ্যতা টিকবে না’ সভ্যতা ধ্বংসের প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে তা নিয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দাপ্রধান কিরিলো বলেন, আগামী আগস্টের মধ্যভাগে একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে পরিস্থিতি। আর বছর শেষে যুদ্ধ হয়ে যাবে। এদিকে জর্জ সরোস বলছেন, রাশিয়াকে দ্রুত পরাজিত করতে না পারলে আমাদের সভ্যতা হুমকিতে পড়বে।

ইউক্রেনে রুশ সেনা পাঠানো সম্ভবত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা এবং আমাদের সভ্যতা সম্ভবত টিকতে পারবে না। ইউক্রেনে সাম্প্রতিক রুশ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এমনটাই মন্তব্য করেছেন হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত বিলিয়নেয়ার, ইনভেস্টর জর্জ সোরোস।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে জর্জ সরোস বলেন, যদি মস্কোকে দ্রুত ইউক্রেনে পরাজিত করা না যায়, তবে সভ্যতা বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাকে পশ্চিমারা শনাক্ত করতে পারবে না।

এ ছাড়া রাশিয়া ও চীনে বর্তমান যে শাসন-পদ্ধতি রয়েছে এবং তাদের বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডমুক্ত সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করেন সরোস।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের বর্তমান লড়াই ও সংঘাতকে তিনি দেখছেন মুক্ত সমাজ ও বদ্ধসমাজের শাসন-পদ্ধতির দ্বন্দ্ব হিসেবে। তবে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আর আগের পর্যায়ে ফিরবে না।

‘আমাদের সভ্যতা টিকবে না’
হাঙ্গেরীয় আমেরিকান বিলিয়নেয়ার জর্জ সরোস

জর্জ সরোস হলেন হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত একজন হাঙ্গেরীয় বিলিয়নেয়ার। যিনি ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি একজন হলোকাস্ট সার্ভাইভার।

৯১ বছর বয়সী সরোস প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের’ মাধ্যমে এ পর্যন্ত তিনি ৩২ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। ফোর্বসের ম্যাগাজিনে তার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে উদার দানশীল’।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধ চলতি বছরের শেষের দিকে থামতে পারে বলে মনে করছেন ইউক্রেনের সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল কিরিলো বুদানভ।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, এ নিয়ে এই প্রথমবারের মতো কথা বললেন ইউক্রেনের কোনো কর্মকর্তা। অবশ্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি।

গোয়েন্দাপ্রধান কিরিলো বলেন, ‘আগামী আগস্টের মধ্যভাগে একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে পরিস্থিতি। আর বছর শেষে যুদ্ধ হয়ে যাবে। অধিকাংশ অভিযানই এ বছরের শেষের দিকে শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে আমরা আবার দোনবাস, ক্রিমিয়াসহ সব জায়গাতেই আমাদের ক্ষমতা ফিরে পাব।’

রাশিয়ায় পুতিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে জানিয়ে এই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধে হেরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান হবে। এটি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

‘আমাদের সভ্যতা টিকবে না’
ইউক্রেনের হামলায় বিধ্বস্ত রুশ ট্যাংক

গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিরিলো বলেন, ‘পুতিন এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় আছেন। তার শরীর খুবই খারাপ।’

শিগগিরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউক্রেন যখন যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে, তখন এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল জয়ের পরও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া।

পূর্বাঞ্চল দখলের চেষ্টারত রুশ বাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনীয়দের তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এমন বার্তা দেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

যদি মস্কোকে দ্রুত ইউক্রেনে পরাজিত করা না যায় তবে সভ্যতা বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাকে পশ্চিমারা শনাক্ত করতে পারবে না।

বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটির ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন যুদ্ধ কি শেষের পথে?
‘ইউক্রেনীয় গোলায় রুশ বেসামরিকের মৃত্যু’
আগামী কয়েক মাসে বিশ্বে খাদ্য সংকট, সতর্কতা জাতিসংঘের
রুশ টিভিতে রাশিয়ার সমালোচনা কর্নেলের
স্টিল কারখানার সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে বলল কিয়েভ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
When is the admission test in any university?

কবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা

কবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। করোনার মধ্যে সীমিতসংখ্যক বিষয়ে নেয়া পরীক্ষায় এবার পাসের হারে হয়েছে রেকর্ড। ৯৫ শতাংশের বেশি পাসের হারের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য এবার চাপ থাকবে বেশি।

উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য লাখো তরুণ-তরুণীর প্রস্তুতির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একে একে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করছে।

কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে। কোনো কোনোটি প্রাথমিক একটি ধারণা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

এরই মধ্যে সেনাবাহিনী পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস ভর্তি পরীক্ষা শেষ করেছে। তবে এখনও ফল প্রকাশ হয়নি। দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনও কমপক্ষে এক মাস সময় রয়েছে প্রস্তুতির জন্য।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। করোনার মধ্যে সীমিতসংখ্যক বিষয়ে নেয়া পরীক্ষায় এবার পাসের হারে হয়েছে রেকর্ড। ৯৫ শতাংশের বেশি পাসের হারের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য এবার চাপ থাকবে বেশি।

এই মুহূর্তে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫২টি। এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজেও ভর্তির সুযোগ আছে।

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১০৮টি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভর্তি পরীক্ষা অবশ্য হয় না। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরে দুটি সেমিস্টারেই ভর্তির সুযোগ থাকে।

২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর যেসব বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এখন দৃশ্যত আর কিছুই নেই। ফলে এবার ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিবেশে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র পরীক্ষা ছাড়াও এবারও দেশের ২০টি গুচ্ছভুক্ত সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৩ জুন। ওই দিন বাণিজ্য অনুষদ তথা ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

পরের দিন হবে কলা অনুষদ তথা ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা। ১০ জুন হবে বিজ্ঞান অনুষদ বা ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ বা ‘ঘ’ ইউনিুটের ভর্তি পরীক্ষা হবে ১১ জুন। চারুকলা অনুষদের লিখিত (অঙ্কন) পরীক্ষা হবে ১৭ জুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়ে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

রাজধানী লাগোয়া সাভারের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক সূচি প্রকাশ করলেও কোন অনুষদে কবে পরীক্ষা হবে, সেই বিষয়টি জানানো হয়নি এখনও। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষা চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।

এই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ছাত্র বাছাইয়ে লিখিত পরীক্ষা নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ আগস্ট থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। কয়েক শিফটে ভর্তি পরীক্ষা চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত।

বিজ্ঞান অনুষদ তথা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ১৬ ও ১৭ আগস্ট। বাণিজ্য অনুষদ বা ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষার ১৯ আগস্ট।

এর বাইরে কলা অনুষদ তথা ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২০ ও ২১ আগস্ট, সমাজবিজ্ঞন অনুষদ বা ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২২ ও ২৩ আগস্ট হবে।

‘বি ১’ উপইউনিটের পরীক্ষা ২৪ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টা এবং ‘ডি ১’ উপইউনিটের পরীক্ষা ২৪ আগস্ট দুপুর পৌনে ২টায় শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগের নিয়মেই এবারের ভর্তি পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরের জনপদের সবচেয়ে প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য ছাত্র বাছাইয়ে এই পরীক্ষা হবে ২৫ জুলাই। কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান, চারুকলা, শিক্ষা ও গবেষণার ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৬ জুলাই। বাণিজ্যের ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষা হবে আগামী ২৭ জুলাই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

দেশে প্রকৌশল শিক্ষায় সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবার পরীক্ষা হবে দুই ভাগে। ৪ জুন হবে শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি পরীক্ষা)। চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা হবে ১৮ জুন।

১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। এতে থাকবে না পাস নম্বর। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ছয় হাজার শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

এককভাবে পরীক্ষা না নিয়ে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ে মেধাক্রমের ভিত্তিতে ছাত্র বাছাই করবে এবারও। একে বলা হচ্ছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

এই পদ্ধতিতে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৩ সেপ্টেম্বর। ১০ সেপ্টেম্বর মানবিক অনুষদ আর সবশেষ ১৭ সেপ্টম্বর হবে বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা।

গুচ্ছভুক্ত ২০টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

গুচ্ছে তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতিতে একটি মাত্র ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ছাত্র বাছাই করবে দেশের তিনটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও। এই তিন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেবে আগামী ৬ আগস্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)।

সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি, তবে খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রশিদ ভূঁইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

এর বাইরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঠিক করা হয়েছে আগামী ১২ আগস্ট।

আরও পড়ুন:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু
কৃষ্ণচূড়ায় লাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন শুরু ২২ মে
ঢাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্ত-যৌন হয়রানির অভিযোগ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
China is silent on the release of pictures of Muslim prisons in Uyghur

উইঘুরে মুসলিম বন্দিশালার ছবি প্রকাশ, নিশ্চুপ চীন

উইঘুরে মুসলিম বন্দিশালার ছবি প্রকাশ,  নিশ্চুপ  চীন    উইঘুরদের বন্দীশালার ছবি ও তথ্য হাতে পেয়েছে বিবিসি। ছবি: সংগৃহীত
তথ্যগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে। আলাপে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ছবিগুলোতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ রয়েছে।

চীনের উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ শিনকিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের কিছু ছবি ও তথ্য ফাঁস হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের শিনকিয়াং সফরের সময় ছবিগুলো হ্যাক হয়েছিল। ছবিগুলোতে চীন সরকারের ‘কারাবন্দি কর্মসূচির’ চিত্র প্রকাশ্যে আসে।

এই ছবিগুলো হাতে পেয়েছে বিবিসি। এতে তথাকথিত ‘পুনঃশিক্ষা’ শিবিরসহ উইঘুরদের গণআটকের প্রমাণ আবারও স্পষ্ট হলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাক করা ফাইলগুলোতে পুলিশের তোলা পাঁচ হাজারের বেশি উইঘুরের ছবি আছে। তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি বন্দি সশস্ত্র রক্ষীর কড়া পাহারায় আছেন।

উইঘুরদের বেশির ভাগই মুসলিম। চীনের উত্তর-পশ্চিমের শিনকিয়াং অঞ্চলে অন্তত এক কোটি উইঘুর সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।

আত্মপরিচয়ের বেলায় তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক ও জাতিগতভাবে মধ্য এশিয়ার লোকজনের কাছাকাছি বলে মনে করেন। তাদের ভাষা তুর্কির কাছাকাছি।

গত কয়েক দশকে চীনের সংখ্যাগুরু হান জাতি সেই অঞ্চলে বাস করতে শুরু করে। এতে উইঘুর সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তিব্বতের মতো শিনকিয়াং কাগজে কলমে স্বায়ত্তশাসিত এলাকা হলেও, বেইজিং-এর বাইরেও তারা নিজেদের মতো করে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই দুই এলাকা চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

চীন সরকারের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ আছে। যদিও এসব প্রত্যাখ্যান করতে দেরি করে না বেইজিং।

তথ্যগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে। আলাপে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ছবিগুলোতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আটক দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের বয়স ১৫ বছর; সবচেয়ে বয়স্ক নারী ৭৩ বছর বয়সী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজনকে মুসলিম হওয়ার কারণে এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সফরের কারণে আটক করা হয়েছে।

“১০ হাজারের বেশি ছবি ও তথ্য হাতে পেয়েছে বিবিসি। সেই সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতাদের ‘বিশেষ বক্তব্য’, পুলিশের ব্যক্তিগত তথ্য এবং তাদের প্রতি নির্দেশনামূলক ডকুমেন্ট রয়েছে।”

বিবিসি আরও জানিয়েছে, শিনকিয়াংয়ের পুলিশের সার্ভার থেকে ২০১৮ সাল থেকে সংরক্ষণ করা ফাইলগুলো হ্যাক হয়েছিল। এগুলো চীন সরকারের বরখাস্ত কর্মকর্তা অ্যাড্রিয়ান জেনজের তত্ত্বাবধানে ছিল।

পুলিশের প্রতি নির্দেশনায় বলা আছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ হাতকড়া বা শিকলসহ পালানোর চেষ্টা করলে সরাসরি ‘গুলি করে হত্যা’ করতে পারবে রক্ষীরা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Irritation even if you obey the prohibition

‘নিষেধাজ্ঞা মানলেও জ্বালা, না মানলেও জ্বালা’

‘নিষেধাজ্ঞা মানলেও জ্বালা, না মানলেও জ্বালা’ নিষেধাজ্ঞার জন্য সমুদ্র থেকে তীরে এসে অলস সময় কাটাচ্ছে মাছ ধরার নৌকাগুলো।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চার লাখ টাকা দাদন নিয়ে নতুন ট্রলার আর জাল দিয়ে সাগরে ইলিশ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন মো. জাকির হাওলাদার। আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে ইলিশের বিনিময়ে দাদন পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল তার। এ জন্য দিন-রাত পরিশ্রমও করছিলেন তিনি। কিন্তু আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি এবার। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে আবার সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

নিষেধাজ্ঞার জন্য এখন মহাদুশ্চিন্তায় জাকির। পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মৃত সামু হাওলাদারের ছেলে তিনি।

কোনো প্রশ্ন করার আগেই ৫০ বছরের জাকির বলে উঠলেন, ‘তুফানের বাড়ি খাই আমরা আর চাউল পায় আইরারা।’

অর্থাৎ ট্রলার চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় জেলেদের। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হন তারা।

জাকির হাওলাদার বলেন, ‘কী কমু কন। টাহার চিন্তায় রাইতে ঘুমাইতে পারি না। পাঁচজনের সংসার। মরণ ছাড়া উপায় নাই। গত কয়েক দিন কিছু ইলিশ পাইছি, হয়তো কয়দিন পরে বৃষ্টি হইলে আরও অনেক পাইতাম। কিন্তু এহন দিল নিষেধাজ্ঞা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও জ্বালা, না মানলেও জ্বালা।’

জাকির মনে করেন, মাছ ধরায় সাগরে ঘন ঘন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহযোগিতা না পেলে অনেকেই এই পেশাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

সম্প্রতি রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় খালের পাড়ে তুলে রাখা ট্রলারের পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় জাকিরের সঙ্গে। এ সময় তার মতো আরও বেশ কয়েকজন জেলে নিজেদের হতাশার কথা জানান।

রাঙ্গাবালীর ভাঙনকবলিত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন। উত্তাল আগুনমুখা নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় সেখানে। এই ইউনিয়নে বিবিরহাওলা গ্রামের ২০-২৫ জন জেলে সাগরে মাছ ধরেন। গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় একটি গাছের নিচে বসেছিলেন তাদেরই একজন রিপন মিয়া।

নোঙ্গর করা নিজের ট্রলার দেখিয়ে রিপন বলেন, ‘তিন দিন আগে বাজার-সদাই নিয়া সাগরে গেছিলাম। খরচ হইছিল ১৭ হাজার টাহা। গতকাইল আইছি। মাছ পাইছি মাত্র আট হাজার টাহার। এহন আবার ৬৫ দিন ঘরে বইয়া থাকতে অইবে। সাতজন শ্রমিক রাখছি, অগ্রিম টাহা দিয়া। ওগো তো ছাড়তেও পারমু না।’

রিপন বলেন, ‘এইডাই মোগো জীবন। এ আর নতুন কিছু না। এই যে দেহেন নদীর ঢেউ রাস্তার পাশে আইসা পড়ে, আবার ভাডার টানে সব শুকায় যায়। মোগো জীবনও এমন। যহন মাছ পাই, তহন আল্লার নামে খালি পাইতেই থাহি। আর যহন পাই না, তহন খালি হাতেই ফিরতে হয়।’

নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্যসহায়তার বিষয়ে রিপন বলেন, ‘মোর ট্রলারে মোরা আটজন। এর মধ্যে চারজনে চাউল পাই। হেই চাউল আনতে আনতে মোগো জান শেষ। আর বাকি চাইরজনের তো হেই সুযোগও নাই।’

তবে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন রিপন।

বিবিরহাওলা গ্রামের ওই লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমটিার দূরে চরলতা গ্রাম। সেই গ্রামেই কথা হয় আইয়ুব গাজী নামে আরেক জেলের সঙ্গে।

আইয়ুব বলেন, ‘সবেমাত্র মাছ পড়া শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই সাগরে অবরোধ দিল। এর কোনো মানে অয়? ১২ লোক মোর ট্রলারে। আগেই হেগো টাহা-টোহা দিয়া রাখছি।’

আইয়ুব জানান, গত বছর অবরোধের আগে ভালো মাছ পাওয়া গেলেও এবার তেমন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘চল্লিশ বছর ধইরা এই পেশায় আছি। ইচ্ছা করলেই ছাড়তে পারমু না। সরকারি আইন মেনেই মোরা মাছ ধরা বন্ধ রাখছি। আল্লাহ ভরসা। ৬৫ দিন যেভাবেই হোক ধারদেনা করে হলেও চালাইতে অইবে। এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেহি না।’

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কেন?

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৫ সালে এই নিষেধাজ্ঞা চালু হলেও ২০১৯ সাল পর্যন্ত শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার এর আওতায় ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে ২৫ হাজার স্থানীয় ট্রলার ও নৌকাকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, ‘মূলত হারিয়ে যাওয়া কিছু মাছের বংশবৃদ্ধির পাশাপাশি সামুদ্রিক ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজননের জন্যই এই অবরোধ। এত বছর শুধু ইলিশ মাছের নিরাপদ প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানকে অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতো। এতে আমরা সফলও হয়েছি। প্রতি বছরই ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে।’

তিনি জানান, অতীতের সফলতা মাথায় রেখেই মৎস্য গবেষকদের পরামর্শে গভীর সাগরে দেশীয় জলসীমায় ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত দুই বছরে এই উদ্যোগে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের উৎপাদনও অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, পটুয়াখালী জেলায় বিভিন্ন নদনদী এবং সাগরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার জেলে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকলেও জেলা মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা মোট ৬৭ হাজার। এর মধ্যে সমুদ্রগামী নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮০৫ জন। নিষেধাজ্ঞা চলার সময় সমুদ্রগামী নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৮৬ কেজি চাল সরকারি খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ফিশারিতে দুর্বৃত্তদের বিষ, ৮ লাখ টাকার মাছ নিধন
গফরগাঁওয়ে মৌমাছির কামড়ে মৃত্যু
মধ্যরাতে উঠে গেল মেঘনায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা
শোল মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন
‘পটকা মাছ খেয়ে’ একই পরিবারে অসুস্থ ৫, মৃত্যু ১

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Black smoke coming back

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশ কিছু যানবাহনে সিএনজি বাদ দিয়ে ডিজেলে চালানোর প্রবণতাকে বায়ুদূষণের জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা
দুই দশক পর রাজধানীতে আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে সেই কালো ধোঁয়া। কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশকিছু যানবাহনের সিএনজি ছেড়ে ডিজেলে ফেরার প্রবণতাকে এ জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, তাদের কাছে কালো ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র নেই, তাই যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

চলতি শতকের শুরুতে রাজধানীবাসীকে বায়ুদূষণ থেকে বাঁচাতে সড়ক থেকে টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনের সব যানবাহন তুলে দিয়ে চালু করা হয় ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন বাহন। পাশাপাশি বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে পেট্রল-ডিজেলের পরিবর্তে শুরু হয় কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজির ব্যবহার। এতে নগরীর বায়ুদূষণ পরিস্থিতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আসে।

২০০০ সালের আগের ঢাকার বাতাস ছিল গাড়ির কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। নাক-কান জ্বালা করা কিংবা শ্বাসজনিত নানা রোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। জ্বালানি হিসেবে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসে।

দুই দশক পর রাজধানীতে আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে সেই কালো ধোঁয়া। কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশকিছু যানবাহনের সিএনজি ছেড়ে ডিজেলে ফেরার প্রবণতাকে এ জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি হিসেবে সিএনজি ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ কমে আসে। তবে এতে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ুষ্কালও একই সঙ্গে কমে যায়। পাশাপাশি ডিজেল এবং সিএনজির দামে পার্থক্যও অনেক কম। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবে যেগুলো বড় পরিবহন হিসেবে পরিচিত, যেমন: বাস বা ট্রাক, এ বাহনগুলোতে ডিজেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া

জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়ামের পরিবর্তে সিএনজি ব্যবহার করলে কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

তেলচালিত এসব বাহন ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এগুলো বাতাসে ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সড়কে চলাচল করা বাস, ট্রাক, পিকআপ বা সরকারি মালিকানাধীন গাড়িগুলোই কালো ধোঁয়ার প্রধান উৎস।

২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর টু-স্ট্রোক বেবি ট্যাক্সিসহ পুরাতন যানবাহন বন্ধের পর এক দিনে ঢাকার বায়ুতে দূষণের মাত্রা কমে যায় প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ২০১৩ সাল থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে। গত নয় বছরে সেই দূষণ বাড়তে বাড়তে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্তত ৪০ ভাগের জন্য দায়ী এই কালো ধোঁয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বায়ুদূষণের একটি বিরাট অংশ যানবাহন থেকে আসে। আমরা যে তিনটি মেজর সোর্স ধরি বায়ুদূষণের তার মধ্যে কালো ধোঁয়া, একটি ব্রিক ফিল্ড এবং কনস্ট্রাকশন। গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে যেটা আসে এটা প্রায় ৪০ শতাংশ।’

কালো ধোঁয়া কী এবং কেন বের হয়?

গাড়ির ইঞ্জিন মূলত জ্বালানি তেল পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে যেটি দিয়ে গাড়িটি চলে। কালো ধোঁয়া হলো এই জ্বালানির না পোড়া অংশ। সাধারণত গাড়ি পুরাতন হয়ে গেলে এবং এটিকে ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে এই কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘কালো ধোঁয়া মূলত দুই কারণে বের হয়। গাড়ি যত পুরাতন হতে থাকে এর কর্মক্ষমতাও কমতে থাকে। গাড়িতে যে তেল ব্যবহার করা হয় সেটা থেকে তার এনার্জি তৈরি হয়। কিন্তু গাড়ির কর্মক্ষমতা কমে গেলে এই তেলটা কমপ্লিট বার্ন হয় না বা কনভার্সন হয় না। যখনই এটা হয় না, তখনই তার একটি অংশ একজস্টের সাথে বের হয়ে আসে। এটাকে বলে ইনকমপ্লিট কনভার্সন।

‘গাড়ির একটি রেগুলার মেইনটেন্যান্স প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি হলে নিয়মিত প্রতি ৩ হাজার কিলোমিটার চলার পর মোবিল পরিবর্তন করা। এটা করা হয় না। এ কারণে গাড়ির যে লুব্রিকেটিং ফাংশন, এটা ঠিকভাবে কাজ করে না। সেখান থেকে পলিউশন হয়।’

অনেক সময় তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের গুণগত মান ঠিক না থাকলেও কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে। অধ্যাপক সালাম বলেন, ‘আবার যে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, সেটাও অনেক সময় ভালো মানের থাকে না। এটাও দূষণের কারণ। মুলত এই তিন কারনে কালো ধোয়াটা তৈরি হয়।

‘কালো ধোঁয়ার একটি বড় অংশ হলো টক্সিক কার্বন। এটা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং মানুষের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এতে থাকে অনেকগুলো ক্ষতিকর উপাদান যেমন হাইড্রো কার্বন, কাবন মনোঅক্সাইড এবং জ্বালানি তেলের আনবার্ন্ট কিছু অংশ। এগুলো প্রত্যেকটাই খুব ক্ষতিকর।’

কালো ধোঁয়ার ক্ষতি রোধে বেশ কয়েকটি পরামর্শও দেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন যেটা করতে হবে, গাড়ির জ্বালানিটি কোয়ালিটি ধরে রাখতে হবে এবং গাড়ি নিয়মিত মেইনটেন্যান্স করতে হবে। মূলত পুরাতন গাড়িই এর জন্য দায়ী।

‘আমাদের এখানে নিয়ম আছে যে ২০ বছরের পুরাতন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। এখন এটা ঠিক মতো মেইনটেইন করা হয় কিনা জানি না। পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।’

কালো ধোঁয়া যে ক্ষতি

আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও কালো ধোঁয়া মুলত মানুষের ফুসফুস ক্যান্সারের একটি বড় কারণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্বের একটি বড় কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কালো ধোঁয়া মানেই হলো কার্বন মনোঅক্সাইড, ডাই-অক্সাইড এবং ধাতব পদার্থ– মূলত সিসা। এগুলো মানুষের শরীরে গেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় এবং এক ধরনের প্রদাহ তৈরি করে। এর ফলে আমাদের শ্বাসতন্ত্রীয় রোগগুলো বেড়ে যায়।

‘এর মধ্যে হাঁপানি কাশি ও কারও কারও অ্যাজমাটিক সমস্যাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এটি গ্রহণে আমাদের ফুসফুসে ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। কার্বন মনোক্সাইড শরীরে শোষিত হয়ে আমাদের লিভার ও কিডনিতে জটিলতা তৈরি করে এবং নারী পুরুষের বন্ধ্যাত্ব তৈরি করতে পারে। বায়ু দূষণের একটি বড় উপাদান এই কালো ধোঁয়া। শিশুদের জন্য এর প্রভাব মারাত্মক। এটি আমাদের বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ এফেক্ট বাড়িয়ে দেয়। এর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ে, জলবায়ূ পরিবর্তনে প্রভাব রাখে।’

দায় এড়াচ্ছেন পরিবহন মালিক ও ট্রাফিক বিভাগ

কালো ধোঁয়ার ক্ষতি জানার পরেও এটি ছড়ানোর দায় নিতে চায় না পরিবহন মালিকরা। তাদের দাবি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিতই সদস্যদের তাগাদা দেয়া হয়।

পরিবহন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সতর্কতার কথা সব সময় বলা হয়। এটা তো মালিকের বিষয় না। পাম্পের তেলের সমস্যার কারণে অনেক সময় কালো ধোঁয়া হয়।

‘কালো ধোঁয়া পেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়। বাসে কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ম্যাক্সিমাম গাড়ি তো খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে না। কয়েকটি গাড়ি দিয়ে তো সবগুলোকে মূল্যায়ন করা যায় না। আমরা সব সময় বলি গাড়ি ঠিক রাখার জন্য। যারা করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেক। আমরা সব সময়ই বলে থাকি।’

দেশের মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হলে তা জরিমানাসহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অবশ্য খালি চোখে কালো ধোঁয়ার সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্রের অপেক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক বিভাগ। তাদের দাবি, কালো ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় চাইলেও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো যানকে জরিমানার আওতায় আনা যাচ্ছে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে অ্যাকশন নিতে হলে আমাদের ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র লাগবে, সেটা আমাদের দেশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ধোঁয়ার নির্ণয়ক মান নির্ধারণ করে দেয়া আছে, কিন্তু আমরা তো খালি চোখে সেটা মাপতে পারব না।

‘তাই দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আমরা এই ব্যাপারে একেবারেই নিরুপায়। তবে ধোঁয়া ডিটেকটরের জন্য ট্রাফিক বিভাগ ইতোমধ্যেই সরকারের কাছে আবেদন করে রেখেছে। এটা পেলেই আমরা কালো ধোঁয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করতে পারব।’

২০২১ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি।

আরও পড়ুন:
বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত
আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী বর্নিকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
অল্প বৃষ্টিতেই স্কুলের মাঠে জমে হাঁটু পানি
পদ্মা সেতু খুলছে ২৫ জুন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
After two years the Hajj camp in Ashkona is in full swing

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে রোববার দুপুরে রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
৩১ মে থেকে হজযাত্রা শুরু হবে। তাই ঢাকার হজক্যাম্পে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি। রোববার দুপুরে হজ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ রং করছেন দেয়ালে। কেউবা বাথরুম ঠিক করছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় দেয়ালে প্লাস্টার করতে।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর হজযাত্রা বন্ধ ছিল। তাই কোনো ব্যস্ততা ছিল না রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজযাত্রায়।

আর কয়েক দিন পরই শুরু হবে হজ ফ্লাইট। তাই ধুয়ে-মুছে সাফসুতরো করার কাজ চলছে হজক্যাম্পে।

রোববার দুপুরে হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ রং করছেন দেয়ালে। কেউবা বাথরুম ঠিক করছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় দেয়ালে প্লাস্টার করতে।

সেখানে কাজ করা শ্রমিক আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১২ থেকে ১৪ দিন ধরে এখানে সব ধরনের স্যানিটারির কাজ করছি। এই কাজ করছেন ৬০ জনের বেশি শ্রমিক। দুই দলে ভাগ হয়ে কাজ করছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে আমাদের। ক্যাম্পের ভেতরে সব রুম, বাথরুম থেকে শুরু করে পুরা হজক্যাম্প পরিপাটি করা হচ্ছে।’

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্প। ছবি: নিউজবাংলা

হজযাত্রীদের সেবা দিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ৫৩২ কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর সৌদি আরবের বাইরের কেউ হজ করার সুযোগ পাননি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সৌদি সরকার এবার সারা বিশ্বের ১০ লাখ মানুষকে হজ পালনের অনুমতি দিচ্ছে।

এবার সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজটি হলো ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। আর সর্বনিম্নটি হলো ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা।

প্রথম হজ ফ্লাইট ৩১ মে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা। শুরুর ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব ও হজ অফিস ঢাকার পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজযাত্রী বেসরকারিভাবে এবং ৪ হাজার সরকারিভাবে হজে যাচ্ছেন। আমাদের সময় যেহেতু অল্প, তাই অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে পাশে রেখেই কাজগুলো আমাদের করতে হচ্ছে। আশা করছি সময়মতো সব কিছু আমরা শেষ করতে পারব। এরই মধ্যে নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যাও প্রায় সব পেয়ে গেছি।’

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে যাবেন। এর আগের কয়েক দিনে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ যাত্রীরা যাবেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘হজক্যাম্পকে আগের থেকে অনেক পরিপাটি করা হয়েছে। আমাদের মসজিদে এসি ছিল না। ডরমেটরিতে এসি ছিল না। গরমের কথা বিবেচনা করে আমরা চিন্তা করছি এসি না থাকলে সম্মানিত হজযাত্রীরা কষ্ট পাবেন। এ জন্য আমরা সব ব্যবস্থা করেছি।

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর হজযাত্রা বন্ধ থাকার পর এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজযাত্রায়। তাই রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। হজক্যাম্পের ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রীরা শুধু এখানে বোডিং কার্ড নিতেন এবং ইমিগ্রেশন হতো। এখন সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীরাও এখানে আসবেন। এখানে চেকিং হবে। তারা বোর্ডিং কার্ড নেবেন এবং ইমিগ্রেশন হবে। সে জন্য এখানে যা যা করা দরকার, স্থাপনা করা দরকার সব করেছি। চট্টগ্রাম ও সিলেট বাদে আমাদের এখান থেকে যত যাত্রী ফ্লাই করবেন, সবাইকে আমরা ইনস্টিটিউটের আওতায় আনতে পারব। তিনটি এয়ারলাইনসেই এখান থেকে হজযাত্রীদের চেকিং, ইমিগ্রেশন হবে।’

হজযাত্রীরা ঢাকার হজক্যাম্পে কবে থেকে আসা শুরু করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৩১ মে ফ্লাইট শুরু হওয়ায় ঢাকার বাইরের যাত্রীদের তিন দিন আগে আসার জন্য আমরা অনুরোধ করব। ঢাকার হাজিদের আমরা বলে থাকি ফ্লাইট ছাড়ার সাত-আট ঘণ্টা আগে এলেই চলবে। আশা করছি হজযাত্রীরা ২৮ মে বিকেলে অথবা ২৯ মে সকাল থেকে আসা শুরু করবেন। তাদের থাকার জন্য সকল ধরণের প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের এখানে দুটা ক্যান্টিন আছে। সেখানে তারা নিজ ব্যবস্থাপনায় খাবেন।’

এবার হজ হতে পারে ৮ জুলাই (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৫৭ হাজার হজযাত্রীর অর্ধেক পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি অর্ধেক বহন করবে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও ফ্লাই নাস।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান এ বছর ৭৫টি ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩১ হাজার যাত্রী বহন করবে। যাত্রী পরিবহনে বিগত বছরগুলোর মতোই বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
হজযাত্রীদের প্যাকেজ নির্বাচনের সময় বাড়ল
হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল
দরপত্রে ‘কারসাজি করে’ ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহজ
হজযাত্রীদের স্বার্থে শনিবার ব্যাংক খোলা
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Officers in that department do not want promotion

যে দপ্তরে কর্মকর্তারা পদোন্নতি চান না

যে দপ্তরে কর্মকর্তারা পদোন্নতি চান না
শিক্ষা ক্যাডারের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। কেউ কেউ পদোন্নতি পেলেও ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) নিয়ে নিচের পদে বহাল থেকে চাকরি করছেন।

এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বের করাই তাদের কাজ। অথচ সেই সংস্থাতেই চর্চা হচ্ছে নানা অনিয়ম, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগও। সংস্থাটি হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, শিক্ষা ক্যাডারের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এই অধিদপ্তরে। এদের কেউ কেউ পদোন্নতি পেলেও ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) নিয়ে নিচের পদে বহাল থেকে চাকরি করছেন। কেউ কেউ আবার চাকরি জীবনের বেশির ভাগ সময় ইতোমধ্যে পারও করে দিয়েছেন এই দপ্তরে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এসবের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের প্রতি তিন বছর পর পর বদলি করতে হবে। অর্থাৎ একই দপ্তরে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। বিষয়টি নির্দিষ্ট করে সরকার প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। এ ছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালায়ও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে এক দপ্তর বা সংস্থা থেকে অন্য দপ্তর বা সংস্থায় সরাসরি বদলি না করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। এই মধ্যবর্তী সময়ে তিন বছরের শিক্ষকতা করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এ সরকারের বদলিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করেই চলছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

২০১৫ সালের ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর সই করা ‘মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মচারীদের বদলি’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘একই পদে তিন বছরের অধিককাল যাবৎ নিয়োজিত কর্মচারীকে বাস্তব অবস্থাভেদে অন্যত্র বদলি করতে হবে।’

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালা-২০২০-এও বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ২০২০ সালের ২ জুন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দের সই করা নীতিমালায় বলা হয়েছে: ‘কোনো কর্মকর্তা দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থায় একাধিক্রমে তিন বছরের বেশি কর্মরত থাকতে পারবেন না।’

নীতিমালায় আরও উল্লেখ রয়েছে ‘কোনো কর্মকর্তাকে একটি দপ্তর/ অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্প থেকে বদলি করে অন্য কোনো দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্পে সরাসরি বদলি করা যাবে না। মধ্যবর্তী সময়ে তাকে কোনো কলেজে ন্যূনতম তিন বছর শিক্ষকতা করতে হবে।’

এসবের চর্চা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে হয় না বললেই চলে। শিক্ষাসংশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ দপ্তরের কর্মকর্তারা চলছেন অনেকটা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো। তাদের যেন কেউ কিছু করতে পারবে না। খোঁজ নিয়েও তাই দেখা গেছে। বিধিমালা লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে থেকে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

দীর্ঘ সময় আছেন যারা

শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার ২৯ কর্মকর্তা কর্মরত আছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা পরিদপ্তরে। আর অধ্যাপক পদমর্যাদার আছেন একজন, যিনি এ দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১০ কর্মকর্তা ন্যূনতম ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এ দপ্তরে। এদের মধ্যে কেউ কেউ চাকরি জীবনের অর্ধেক সময় এরই মধ্যে পার করে ফেলেছেন।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিপুল চন্দ্র সরকার। যদিও তার মূল পদ উপপরিচালক। ২১তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা ২০১১ সালে শিক্ষা পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন এ দপ্তরে। এরপর মাঝখানে খুবই স্বল্প সময়ের বিরতি দিয়ে ফিরে এসেছেন আলোচিত এ দপ্তরে। প্রায় ১১ বছর ঘুরেফিরে এ দপ্তরেই রয়েছেন এ কর্মকর্তা। এ সময়ের মধ্যে পরিচালকের পদ শূন্য থাকায় তিনি কিছুদিন এ দায়িত্বও পালন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইএ-র এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি মাত্র ১৬ দিন পটুয়াখালী সরকারি কলেজে চাকরি করেন। এরপর আবার ফিরে আসেন ডিআইএতে।’

ডিআইএ-র এ কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে দখল করে আছেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শীর্ষ যুগ্ম পরিচালকের পদ। কারণ পদটি অধ্যাপক পদমর্যাদার। এ বিষয়ে অডিট আপত্তিও দিয়েছিল বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক অফিসের অডিট দল।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিসিএস শিক্ষক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা। তারা বলেন, ‘ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক পদটি অধ্যাপক পদমর্যাদার। অথচ সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার বিপুল চন্দ্র সরকার এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে কি যোগ্য অধ্যাপক নেই যাকে এখানে পদায়ন দেয়া যায়?’

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক টুটুল কুমার নাগ সহকারী পরিদর্শক হিসেবে এ দপ্তরে যোগদান করেন ২০১২ সালে। এরপর ঘুরেফিরে আবার এসেছেন এ দপ্তরেই। দুই দফায় পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন উপপরিচালক। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর।

ড. এনামুল হক সহকারী পরিদর্শক পদে ডিআইএতে যোগদান করেন ২০০৮ সালে। এরপর তিনি দুই দফা থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন। এখন দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষা পরিদর্শক হিসেবে। সবশেষ পদোন্নতি পাওয়ার পর এ কর্মকর্তাকে ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) দেয়া হয়। গত ১২ মে এ শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে যশোরের ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে ডিআইএ কার্যালয়ে যায় দুদক।

মো. আলমগীর হাসান ডিআইএতে যোগদান করেন ২০১৮ সালে। কর্মরত আছেন শিক্ষা পরিদর্শক পদে। এরপর থেকে তিনি আছেন এ দপ্তরেই।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ২০১২ সালে, একই পদে প্রলয় দাস, মুহাম্মদ মনিরুল আলম ২০১৬ সালে, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ২০১৫ সালে ডিআইএতে যোগ দেন। আর মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম ও মুকিব মিয়া ২০১৮ সালে যোগ দেন। এর পর থেকে তারা ঘুরেফিরে ডিআইএ-তেই আছেন।

বিষয়টি নিয়ে এসব কর্মকর্তাদের অন্তত ছয় জনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। প্রসঙ্গটি তুলতেই কেউ কেউ মুঠোফোন কেটে দেন, কিংবা পরে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কেউ সাড়া দেননি। এ ছাড়া বাকিদের মধ্যে কেউ আছেন বিদেশে, কেউ ছুটিতে। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কী মধু ডিআইএতে?

বিসিএস শিক্ষা সমিতির একাধিক নেতা জানান, আর্থিক সুবিধা বিবেচনা করলে শিক্ষা প্রশাসনের সবচেয়ে লোভনীয় কর্মস্থল ডিআইএ। এখানে পদায়ন ‘বাগিয়ে নিতে পারলে’ বৈধ ও অবৈধ নানা পন্থায় কা২ড়ি কাঁড়ি অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বা তদন্তে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সরকারিভাবে যেমন ভ্রমণভাতা পান, তেমনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকেও নানাভাবে অবৈধ সুবিধা আদায় করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, ডিআইএর কয়েক কর্মকর্তা নিরীক্ষার নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিদর্শনকৃত প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আদায় করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তারা এখানে (ডিআইএ) দায়িত্ব পালন করায় এ দপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এখানে মধু (অর্থ) আছে বলেই তো এরা বছরের পর বছর এখানে চাকরি করছেন।’

সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ডিআইএ'র এক শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্তও গড়িয়েছে। অভিযোগটি এখন দুদকের তদন্তাধীন।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হলো এ মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি আমি অবশ্যই খোঁজ নেব।’

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ্ মো. আজমতগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বদলি করার এখতিয়ার হলো মন্ত্রণালয়ের। এর বাইরে আমার কোনো মন্তব্য নেই।'

নিরীক্ষার নামে পরিদর্শনকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরণের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি, পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাবেক আমলারা কী বলছেন

একই কর্মকর্তারা ঘুরেফিরে একই দপ্তরে দীর্ঘ সময় থাকা এবং বারবার ফিরে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক আমলারা। তারা বলছেন, এটা রীতিমতো সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কীসের জোরে তারা এত দিন একই দপ্তরের নিয়োজিত রয়েছেন? কেনই বা তাদের বদলি করা হচ্ছে না। কী এমন মধু আছে এ দপ্তরে?

জানতে চাইলে সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনিই খোঁজ নিন, কেন তারা একই দপ্তরে এত দিন আছে? ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তা এত বছর একই দপ্তরে থাকবে কেন? এখানে কী মধু আছে? মনে রাখতে হবে বেশি দিন এক জায়গায় থাকলে অনৈতিক অনেক কিছু হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাসচিব থাকাকালে ডিআইএ-এর দুষ্টচক্রের বৃত্ত ভাঙার জন্য পিয়ার ইন্সপেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখনকার সিস্টেমে ৩০ বছর লাগবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্সপেকশন করতে।’

বিষয়টি পরিষ্কার করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পিয়ার ইন্সপেকশনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাশ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে অডিট করবেন, সেই প্রতিবেদন আসবে ডিআইএ-তে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। কে কোন প্রতিষ্ঠান অডিট করবেন তাও কম্পিউটারের মাধ্যমে সংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। ডিআইএ কর্মকর্তারা মাঠে পরিদর্শনে যেতে পারবেন না। তারা শুধু প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ করবেন। শুধু ওই প্রতিবেদনের বিশেষ প্রয়োজনে তারা ইন্সপেকশনে যাবেন। তারা (ডিআইএ কর্মকর্তারা) খালি টাকাপয়সা নিয়ে ইন্সপেকশন করে। এদের নানা বদনাম আছে।’

দীর্ঘদিন একই দপ্তরে কর্মরত থাকাকে অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অনিয়ম এবং সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। তাদের বদলি করা উচিত। সব সরকারি কর্মচারীর জন্য একই বিধান। তাদের (শিক্ষা ক্যাডার) ক্ষেত্রে কেন আলাদা হবে। যদি তার বা তাদের পরিবর্তে কাজ করার মতো কেউ না থাকে তাহলে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশে নিশ্চয়ই এ ধরনের কাজ (অডিট পরিচালনা) করার মতো অনেক লোক আছে।’

তদন্ত চায় টিআইবি

একই দপ্তরে একই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চাকরি করলে ‘যোগসাজশ ও অনিয়ম’-এর সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন ‘বছরের পর বছর একই দপ্তরে থাকা- অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। কেন তারা দীর্ঘদিন একই দপ্তরে কর্মরত আছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে। কেননা একই ব্যক্তি যদি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থাকেন তাহলে যোগসাজশ ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ জন্য আমরা মনে করি এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্তর্নিহিত কোনো কারণ আছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।

‘যাদের কাজ জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তারা যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) কাছে দাবি জানাচ্ছি’, বলেন ইফতেখারুজ্জামান।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার
শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দাবি
প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ

মন্তব্য

p
উপরে