× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Surrogacy Is Priyanka the target of Taslimas one comment after another?
hear-news
player

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি-তসলিমার-একের-পর-এক-মন্তব্যের-লক্ষ্য-প্রিয়াঙ্কা?- ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।
গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

আরও পড়ুন:
মা-বাবা হলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক
প্রিয়াঙ্কার বিয়েবিচ্ছেদের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মা
বন্দিশালা ঝাড়ু দিলেন প্রিয়াঙ্কা
প্রিয়াঙ্কাকে শান্ত হতে শিখিয়েছে নিক
প্রিয়াঙ্কার কোন ক্ষতটা সত্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Holiday approval in the Spanish cabinet due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন নারীর সবেতনে ছুটি অনুমোদন করেছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। ছবি: সংগৃহীত
খসড়ায় মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।   

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের কর্মক্ষেত্রে ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া ১৬ বছর বয়স হলে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই কিশোরীদের গর্ভপাতের অধিকারে সায় দিয়েছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আরও বেশকিছু পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বিষয়গুলো এরপর পার্লামেন্টে তোলা হবে। আর সেখানে আইন হিসেবে পাশ হলে ইউরোপের প্রথম দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নারীরা।

খসড়ায় এ ক্ষেত্রে মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।

বর্তমানে শুধু জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

মন্ত্রিসভা বৈঠক সামনে রেখে স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব লক্ষণ (তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর) কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

পাশাপাশি এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমরা উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছি, যাতে করে ব্যথা নিয়ে নারীদের কাজ করতে যাওয়া আর স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত না হয়। পিরিয়ডকে ঘিরে কলঙ্ক, লজ্জা ও নীরবতার অবসান যাতে ঘটে। আমরা অধিকার প্রশ্নে অগ্রগতি ঘটাতে চাই।’

স্পেনের বামপন্থি সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্য বিরোধিতার মুখেও পড়ছে। বামপন্থি জোটের মধ্যে থাকা কিছু দল এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভক্তি। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপের বিপরীত ফল হতে পারে। নারীদের নিয়োগ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে হেয় করার প্রবণতা বাড়তে পারে।

স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The female staff of the movie coffeeshop will get leave during the period

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি চালচিত্র নামের এই কফিশপে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে নারীদের জন্য পিরিয়ডের সময় ছুটির কথা জানানো হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
চালচিত্র নামের এই কফিশপটি রাজধানীর লালবাগ কেল্লার পাশে চালু হচ্ছে ১ জুন। ছোটখাটো উদ্যোগ, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই উদ্যোক্তার।  

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান নারীরা। নানান শারীরিক জটিলতার মাঝেও অনেকে মুখ বুজে সামলান কর্মস্থলের দায়িত্ব।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগা নারীদের সর্বোচ্চ তিন দিন কাজ থেকে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব মঙ্গলবার অনুমোদন পেয়েছে স্পেনে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

তবে বাংলাদেশে নারীর ঋতুস্রাব এখনও নানান গোপনীয়তার বেড়াজালে বাঁধা। মাসিকের কারণে নারীর বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত।

এমন প্রেক্ষাপটে ব্যতিক্রমী ঘোষণা এসেছে চালু হতে যাওয়া একটি কফিশপের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপনে তারা বলছেন, নারী কর্মীদের পিরিয়ডের সময় থাকবে সবেতন ছুটি।

চালচিত্র নামের এই কফিশপটি রাজধানীর লালবাগ কেল্লার পাশে চালু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১ জুন। ছোটখাটো উদ্যোগ, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই উদ্যোক্তার।

চালচিত্র কফিশপে পার্টটাইম ওয়েটার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে ফেসবুকে। তাতে বলা হয়েছে, নারী ওয়েটার হলে তাকে মাসে দুই দিন বৈতনিক মেনস্ট্রুয়াল লিভ দেয়া হবে।

চালচিত্রের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নোশিন আঞ্জুমের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। নোশিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের ছাত্র রিয়াদ হোসেনের সঙ্গে মিলে তিনি চালু করতে যাচ্ছেন কফিশপটি।

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি
চালচিত্র কফিশপের উদ্যোক্তা নোশিন আঞ্জুম (বাঁয়ে) ও রিয়াদ হোসেন

নোশিন নিউজবাংলাকে জানান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের জন্য এই সুবিধা চালু করতে চান। এতে তার পুরুষ ব্যবসায়িক পার্টনারও সায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বিজনেসের প্ল্যান করছিলাম, তখন থেকেই বিষয়টা (নারী কর্মীদের পিরিয়ডের সময় ছুটি) ইন্ট্রোডিউস করার ইচ্ছা ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং আমার ফ্রেন্ড বা রিলেটিভদের মধ্যে যারা জব করছেন তাদের সমস্যা দেখেই বিষয়টি মাথায় এসেছে।

‘পিরিয়ডের সময় মানুষ অনেক স্ট্রেসড থাকে। হরমোনাল অনেক ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যায়। এ সময় যেখানে তার একটু এক্সট্রা কেয়ার দরকার, সেখানে তাকে অন্য দিনের মতোই কাজে যেতে হয়, কাজ করতে হয়। প্রথমত ইমোশনের জায়গা থেকে, দ্বিতীয়ত আমরা আমাদের ওয়ার্কপ্লেস এমন করতে চেয়েছি যেখানে একজন নারীকে এ রকম ফিজিক্যাল স্ট্রেস নিয়ে কাজ করতে হবে না।’

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

নোশিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি একজন পিরিয়ডের সময় সুস্থ ফিল না করেন তাহলে আমি যে আউটপুটটা চাই, দিন শেষে সেটা পাব না। আর একজন ওয়েটারকে সরাসরি কাস্টমারদের সঙ্গে ডিল করতে হয়। তিনি যদি ফিজিক্যালি-মেন্টালি ভালো ফিল না করেন তাহলে নরম্যালি বিহেভ করতে পারবে না। তাহলে আমি যে আউটকাম চাই তা নেগেটিভ হয়ে যাওয়ার চান্স আছে।

‘এর চেয়ে আমি তাকে একটা লিভ দিলাম। তিনি সুস্থ হয়ে পরদিন এলেন। এতে দুজনেরই সুবিধা হবে। এটা কিন্তু অন্য যে সিক লিভ আছে তার মধ্যে পড়বে না।’

এই ছুটির কারণে উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন না নোশিন। বরং তিনি মনে করছেন, এই ছুটির বিনিময়ে যা তারা পাবেন তার অর্থমূল্য নির্ধারণ করা যায় না।

তিনি বলেন, ‘যখন কোনো পার্টটাইম ওয়েটার পিরিয়ডের কারণে ছুটিতে থাকবেন, তখন তাকে তার কাজ নিয়ে ভাবতে হবে না। সে সময় অন্য কোনো ওয়েটার ওভারটাইম করতে পারবেন বা কাউকে পাওয়া না গেলে আমি বা আমার পার্টনার রিয়াদ কাজগুলো করব।’

নোশিন জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তারা অন্য পদের কর্মীদের জন্যও এই ছুটি চালু করতে পারছেন না। তবে ভবিষ্যতে সার্বক্ষণিক নারী কর্মীদের জন্যও এই ছুটি চালুর ইচ্ছা আছে।

নোশিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যত সিভি এসেছে তাতে নারী-পুরুষের রেশিও ৪০-৬০। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর আগে আমরা যখন বারিস্তা বা ফুলটাইম ওয়েটারের জন্য সিভি চেয়েছি, তখন একজন নারীরও সিভি আসেনি।

‘আমার কাছে মনে হয় এবার অনেক মেয়ে এই পিরিয়ডের সময় ছুটির কারণেই অ্যাপ্লাই করেছেন। হয়তো পেমেন্ট কম, কিন্তু মাসের একটা নির্দিষ্ট সময় পেইড লিভ পাওয়া যাবে। এটা ভেবেই তারা সিভি পাঠিয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই দুই শিক্ষার্থীই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী। তাই তারা কফিশপটি সাজাচ্ছেন সিনেমাটিক থিমে। শপ চালুর কিছুদিনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে সেখানে।

নোশিন বলেন, ‘যেসব উদীয়মান নির্মাতা আর্থিক সমস্যার কারণে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জায়গা পান না, তাদের আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে চাই। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন উদীয়মান নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে সামান্য কিছু ফি নেয়া হতে পারে, যার পুরোটাই দেয়া হবে ওই নির্মাতাকে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
ময়মনসিংহ থেকে রোনালডোর দেশে যাচ্ছেন তিন নারী ফুটবলার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Thirty years later France has a female prime minister

৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স

৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নি। ছবি: এএফপি
চলতি বছর এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের পর সরকারে ব্যাপক রদবদল আনার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে এমন পরিবর্তন আনলেন মাখোঁ। আগামী জুনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একজন বামপন্থী নেতা এবং যার পরিবেশ বিষয়ে পর্যাপ্ত দখল রয়েছে তাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য মনে করেছেন মাখোঁ।

ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নিকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় পর দেশটিতে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর এলিসি প্যালেস সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এলিজাবেথ বর্নির নিয়োগের বিষয়টি জানায়। ৬১ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এর আগে সামাজিক সংস্কারে নেয়া দেশটির প্রেসিডেন্টের ঘোষিত প্যাকেজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ফ্রান্সে। সেই সময় একজন দক্ষ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান এলিজাবেথ বর্নি। বর্নির কার্যকর পদক্ষেপ আন্দোলন প্রশমনে মাখোঁ সরকারকে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

দেশটিতে সবশেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন ইডিথ ক্রেসন। তিনি ১৯৯১ সালের মে মাস থেকে ১৯৯২-এর এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স এর আগে তার পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দিয়েছেন।

চলতি বছর এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের পর সরকারে ব্যাপক রদবদল আনার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে এমন পরিবর্তন আনলেন মাখোঁ।

আগামী জুনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হবার কথা রয়েছে ফরাসি পার্লামেন্টে। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার লড়াইয়ে মধ্যপন্থী মাখোঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বামপন্থী ও কট্টর ডানপন্থীদের জোট।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একজন বামপন্থী নেতা এবং যার পরিবেশ বিষয়ে পর্যাপ্ত দখল রয়েছে তাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য মনে করেছেন মাখোঁ।

এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে সামাজিক সংস্কার ও নারী উন্নয়নে মাখোঁর দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিমানসেকে দেয়া বক্তব্যে ইডিথ ক্রেসন বলেন, ফ্রান্সের রাজনীতি এখনও পুরুষতান্ত্রিক হয়ে আছে। ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হলে নতুন নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Spanish women get three days off a month due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় মাসে তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন স্পেনের নারীরা

পিরিয়ড জটিলতায় মাসে তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন স্পেনের নারীরা পিরিয়ডের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের জন্য তিন দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে স্পেনে। ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবের খসড়াটি মঙ্গলবার স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে। এতে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হচ্ছে।

পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগা নারীদের সর্বোচ্চ তিন দিন কাজ থেকে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করতে যাচ্ছে স্পেন সরকার।

আগামী সপ্তাহেই প্রস্তাবের খসড়াটি অনুমোদন পেতে পারে। এটি কার্যকর হলে প্রথম পশ্চিমা দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নাগরিকরা।

বর্তমানে শুধু জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ এল পেরিওডিকো সংবাদপত্রকে বলেন, ‘এসব লক্ষণ কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

প্রস্তাবের খসড়াটি মঙ্গলবার স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে। এতে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

খসড়া প্রস্তাবে ১৬ এবং ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই সরকারি হাসপাতালে গর্ভপাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
লবণাক্ততা: পিল খেয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখছে কিশোরীরা
ময়মনসিংহ থেকে রোনালডোর দেশে যাচ্ছেন তিন নারী ফুটবলার
মাসিক নিয়ে ভ্রান্তি ও অধিকারহীনতার শৃঙ্খলে নারী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The United States is up in arms over the right to abortion

গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সামনে। অধিকারকর্মী গ্রেস লিলি এতে যোগ দেন। তারা সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও করতে এগিয়ে যান। ছবি: রয়টার্স
উইমেন্স মার্চ-এর প্রধান নির্বাহী রাচেল কারমোনা বলেন, ‘নিজের শরীরের ওপর অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। অধিকার রক্ষার এই সংগ্রামে তারা জয়ী হবেন। নারীর শরীরের ওপর চাপিয়ে দেয়া যেকোনো ধরনের শর্ত ও আঘাতকে হটিয়ে দিতে চাই আমরা। আমরা চাই নারীর শরীর হবে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে। আমরা চাই এই ডেমোক্রেটিক সরকার আমাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য রায়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন হাজারও নারী।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগো শহরসহ কমপক্ষে ৩৮০টি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন হাজারও নারী।

১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ‘রো বনাম ওয়েড’ নামের ঐতিহাসিক রায়ে আমেরিকান নারীদের গর্ভপাতে বৈধতা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে গর্ভপাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয় এই রায়ে।

সমাবেশে গর্ভপাতের পক্ষে অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, ডানপন্থি বিচারকদের প্রাধান্য থাকা উচ্চ আদালতের এখতিয়ার নেই নারীর গর্ভপাতের অধিকার হরণ করার।

গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

স্থানীয় সময় শনিবার গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সামনে। এরপর তারা সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও করতে এগিয়ে যান। তবে পুলিশি বাধায় থেমে যায় তাদের পদযাত্রা।

উইমেন্স মার্চ-এর প্রধান নির্বাহী রাচেল কারমোনা বলেন, ‘নিজের শরীরের ওপর অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। অধিকার রক্ষার এই সংগ্রামে তারা জয়ী হবেন।’

এই বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনে আরও ছিল প্লানড পেরেন্টহুড, আল্ট্রাভায়োলেট ও মুভঅনসহ বিভিন্ন অধিকারবিষয়ক সংগঠন।

এ সময় ড্রাম বাজিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে তারা উত্তাল করে তোলেন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। তাদের স্লোগানের অন্যতম ছিল, ‘আমার শরীর, আমার পছন্দ।’ ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল প্রতিবাদী নানা স্লোগান- ‘নিজের জরায়ুর প্রতি মনোযোগ দিন’, ‘গর্ভপাত ব্যক্তিগত পছন্দ, আইনি বিতর্ক নয়’।

গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

তিনি আরও বলেন, ‘নারীর শরীরের ওপর চাপিয়ে দেয়া যেকোনো ধরনের শর্ত ও আঘাতকে হটিয়ে দিতে চাই আমরা। আমরা চাই নারীর শরীর হবে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে। আমরা চাই এই ডেমোক্রেটিক সরকার আমাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে থাকবে।’

গর্ভপাতের অধিকার বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট যদি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের আদালতের দেয়া পর্যবেক্ষণের প্রতি মিল রেখে রায় দেয়, তবে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমের অন্তত ২৬ রাজ্যে নিষিদ্ধ হবে গর্ভপাত।

গর্ভপাতের অধিকার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

তখন নারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত করাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে মুনাফালোভী চিকিৎসকের দারস্থ হতে হবে। এতে করে যেমন ওই নারী শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি গর্ভপাত করানোর অভিযোগে চিকিৎসক ও সেবিকারাও বিচারের আওতায় চলে আসবেন।

এর আগে, গত বছর ২ অক্টোবর, গর্ভপাতের ওপর বিধিনিষেধ বাড়ানোর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন হাজারও নারী।

স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গর্ভপাতের অধিকারের দাবিতে ৬৬০টি বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের বিক্ষোভটি ছিল অন্যতম।

নারীদের এই বিক্ষোভ শুরু সম্প্রতি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতবিষয়ক পাস হওয়া একটি আইন ঘিরে। এই আইনে কারও গর্ভধারণের সময় ছয় সপ্তাহের মতো হয়ে গেলে তাদের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়।

পরের মাস থেকে কার্যকর হয় এই আইন। এটি যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতবিষয়ক সবচেয়ে কঠিন আইন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভটি ছিল বিশাল। সুপ্রিম কোর্টের আশপাশের সড়কগুলো ছিল পূর্ণ। গর্ভপাতবিরোধী আইনের সমালোচনামূলক বিভিন্ন ব্যানার ছিল নারীদের হাতে।

অনেককে পরতে দেখা যায় ‘১৯৭৩’ লেখা টি-শার্ট, যা মনে করিয়ে দেয় ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ‘রো বনাম ওয়েড’ নামের ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়টি। যাতে আমেরিকান নারীদের গর্ভপাতে বৈধতা দেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ হামলায় নিহত ১০, শ্বেতাঙ্গ আটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
To the Taliban women are just sex objects

‘তালেবানের কাছে নারী কেবল যৌন বস্তু’

‘তালেবানের কাছে নারী কেবল যৌন বস্তু’ অধিকারের দাবিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর কাবুলে বিক্ষোভ করছেন একদল আফগান নারী। ছবি: এপি
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ‘আমি একজন অনুশীলনকারী মুসলিম। ইসলাম আমাকে যা শিখিয়েছে তার মূল্য দেই। বোরকা নিয়ে যদি মুসলিম পুরুষের সমস্যা হয়, তবে তাদের নিজেদেরই বোরকা পরা উচিত, দৃষ্টিও নামিয়ে রাখতে হবে।’

তালেবান গত গ্রীষ্মে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলে নেয়। শুরু হয় নারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিধিনিষেধ। নারীর স্বাধীনতাকে সীমিত করার সবশেষ ডিক্রিটি জারি হয় শনিবার। তাতে বলা হয়, এখন থেকে আপাদমস্তক বোরকা পরতে হবে আফগান নারীদের। এই খবরে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছেন আফগান নারী ও অধিকারকর্মীরা।

কাবুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্জিয়া (ছদ্মনাম) বলেন, ‘কেন তারা নারীদের যৌনতার বস্তু হিসেবে দেখছে?

‘আমি একজন অনুশীলনকারী মুসলিম। ইসলাম আমাকে যা শিখিয়েছে তার মূল্য দেই। বোরকা নিয়ে যদি মুসলিম পুরুষের সমস্যা হয়, তবে তাদের নিজেদেরই বোরকা পরা উচিত, দৃষ্টিও নামিয়ে রাখতে হবে।’

৫০ বছরের ওই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘কেন আমাদের সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করা হবে? এর কারণ তারা ইসলাম পালন করতে পারে না। তারা কি যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না?’

অধ্যাপক মার্জিয়া অবিবাহিত। বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। বৃদ্ধ মায়ের দেখাশোনা তিনিই করেন।

তিনি বলেন, ‘১৮ বছর আগে তালেবান আমার ভাই, আমার একমাত্র মাহরামকে একটি হামলায় হত্যা করে। তারা কি এখন আমাকে আরও শাস্তি দেয়ার জন্য একজন মাহরাম ধার দেবে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে যাওয়ার সময় বার বার তালেবান ওই অধ্যাপককে বাধা দিয়েছে। তালেবান বলছে, একা ভ্রমণ আদেশের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মার্জিয়া বলেন, ‘ট্যাক্সিওয়ালারা সব সময় আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আমার মাহরাম কোথায়। যখন আমি তালেবানকে বলি আমার মাহরাম নেই, তারা মানতে চায় না। আমি একজন সম্মানিত অধ্যাপক। কিন্তু তারা (তালেবান) একটুও পাত্তা দেয় না। আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিতে চালকদের নির্দেশ দেয় তারা।

‘কোনো অনুষ্ঠান কিংবা ক্লাসে যেতে আমাকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়েছে।’

নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পর কাবুলের ওই অধ্যাপকের বক্তব্য আফগানিস্তানের পাশাপাশি গোটা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে।

তালেবানের কাবুল দখলের প্রতিবাদে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন মানবাধিকারকর্মী হুদা খামোশ। গত ফেব্রুয়ারিতে নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর তালেবানের দমন অভিযানের মুখে তিনি পালিয়ে যান নরওয়েতে। সেখানে তিনি তালেবান নেতাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দাবি জানিয়েছিলেন নারী বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তির।

তিনি বলেন, ‘তালেবান শাসন আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের স্ব-আরোপিত নিয়মের আইনগত ভিত্তি নেই। আফগানিস্তানের এই প্রজন্মের তরুণীদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে তারা। এসবের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। কখনোই চুপ থাকব না।’

‘কেবল স্বামী বেছে নেয়া এবং বিয়ে করার সুযোগের চেয়েও নারীকে বেশি কিছু অধিকার দেয়া হয়েছে ইসলামে। তালেবান কেবল এই ইস্যুতে মনোযোগী। ইসলামে শিক্ষা এবং কাজের বিষয়ে যা বলা হয়েছে সেসব কিছুই তারা বলছে না।

‘২০ বছরের অর্জন রাতারাতি হারিয়েছি। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা জয় পেয়েছিলাম। সমাজ থেকে কেউ আমাদের সরাতে পারবে না।’

আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের নীরব অবস্থানের সমালোচনা করেছেন অনেক মানবাধিকারকর্মী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আফগান কর্মী এবং সিনিয়র গবেষক সামিরা হামিদি। তিনি বলেন, ‘গত আগস্টে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পরও আফগান নারীদের বিশ্বাস ছিল আন্তর্জাতিক সহায়তায় নারীদের অধিকার বজায় থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগান নারীদের আবারও ব্যর্থ করেছে।’

হামিদি বলেন, ‘তালেবানের সঙ্গে যারা শান্তি আলোচনায় বসেছিলেন, তাদের অনেক আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তালেবান ক্ষমতায় এলে নারীদের ভাগ্যে কী ঘটবে তা স্পষ্ট করতে। আফসোস, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতার অভাব ছিল তাদের।’

হামিদির সঙ্গে একমত খামোশ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব তাদের নীরবতা দিয়ে একটি পুরো প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। একটি দেশকে তার অর্ধেক জনসংখ্যার জন্য কারাগারে পরিণত করার অনুমতি দেয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

অধ্যাপক মার্জিয়া একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি জাতি, যারা অনেক নারী নেতা তৈরি করেছে। আমি আমার ছাত্রদের বলতাম তারা যেন সব সময় নারীদের সম্মান ও সমর্থন করে।’

“প্রতিটি ‘নতুন আইন’ আমার হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে ফেলে। যেগুলো ইসলাম এবং আফগান মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

আরও পড়ুন:
আপাদমস্তক বোরকা না থাকলে ফৌজদারি শাস্তি
নারীর জন্য আপাদমস্তক বোরকা ফিরিয়ে আনল তালেবান
কাবুলে আবারও বোমা হামলা
কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ: নিহত কমপক্ষে ৫০
আফগানিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ৩৩

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
One in three women in India is a victim of violence

ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার

ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
শহরাঞ্চলের নারীদের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা বেশি শারীরিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে। শহরে এই সহিংসতা ২৪ শতাংশ, গ্রামে ৩২ শতাংশ।

ভারতের এক-তৃতীয়াংশ নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এমন তথ্য উঠে এসেছে দেশটির ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে রিপোর্ট-৫’-এর প্রতিবেদনে।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. মনসুখ মান্ডাভিয়া প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

সেখানে বলা হয়, ভারতের ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৩০ শতাংশ নারী ১৫ বছর বয়স থেকে শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যদিও ৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী তাদের জীবদ্দশায় যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

সহিংসতার শিকার হলেও মাত্র ১৪ শতাংশ নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অন্যদের কাছে তাদের কথা জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গার্হস্থ্যে বা বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছেন কর্ণাটকের নারীরা। তাদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ এই গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে বলেছেন।

এর পরেই রয়েছে বিহার, তেলেঙ্গানা, মণিপুর এবং তামিলনাড়ু।

লাক্ষাদ্বীপে নারীদের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন পরিমাণ গার্হস্থ্য সহিংসতা রয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ৪ শতাংশ পুরুষ পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ বিবাহিত নারী যাদের বয়স ১৮-৪৯ বছর, তারা শারীরিক, যৌন বা মানসিক বৈবাহিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। বৈবাহিক সহিংসতার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো শারীরিক সহিংসতা, যার পরিমাণ ২৮ শতাংশ, এর পরে মানসিক সহিংসতা এবং নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা।

শহরাঞ্চলের নারীদের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা বেশি শারীরিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে। শহরে এই সহিংসতা ২৪ শতাংশ, গ্রামে ৩২ শতাংশ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ নারী যারা স্কুলে পড়া শেষ করেন না এবং ১৮ শতাংশ নারী যারা স্কুলে পড়া শেষ করেন তারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

নিম্ন আয়ের ৩৯ শতাংশ মহিলা শারীরিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে ১৭ শতাংশ উচ্চ আয়ের নারীরা শারীরিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন।

নারীর প্রতি শারীরিক সহিংসতার ৮০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে অপরাধী তাদের স্বামীরা।

যে স্বামীরা ১২ বা তার বেশি বছর স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তাদের শারীরিক, যৌন বা মানসিক বৈবাহিক সহিংসতার সম্ভাবনা অর্ধেক বা ২১ শতাংশ বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যারা পড়াশোনা করেননি তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৪৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক বা যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা স্বামীর অ্যালকোহল সেবনের মাত্রার সঙ্গে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ৭০ শতাংশ নারী যাদের স্বামীরা ঘন ঘন অ্যালকোহল পান করেন তারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। বিপরীতে অ্যালকোহল পান না করা ২৩ শতাংশ নারী স্বামীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হন।

আরও পড়ুন:
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
ময়মনসিংহ থেকে রোনালডোর দেশে যাচ্ছেন তিন নারী ফুটবলার
মাসিক নিয়ে ভ্রান্তি ও অধিকারহীনতার শৃঙ্খলে নারী

মন্তব্য

উপরে