ড্রোনের কাছে জৌলুস হারাচ্ছে আতশবাজি?

player
ড্রোনের কাছে জৌলুস হারাচ্ছে আতশবাজি?

চীনের সাইংহাইয়ে দুই হাজার ড্রোনের সাহায্যে আলোক উৎসব তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বিশ্ববাসীকে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিশ্ব। শব্দ আর আলোর ঝলকানিতে নতুন সালকে বরণ করে নিতে মুখিয়ে নানা প্রান্তের মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের আয়োজনে আতশবাজি ছাপিয়ে উদযাপনের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ড্রোনের আলোক উৎসব।  

উৎসব উদযাপনে আতশবাজির দুই হাজার বছরের আধিপত্য এবার খর্ব হতে চলেছে ড্রোনের কারণে। আতশবাজিকে পাশ কাটিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ড্রোন বা উড়ন্ত রোবটের সাহায্যে করা আলোক উৎসব।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিশ্ব। শব্দ আর আলোর ঝলকানিতে নতুন সালকে বরণ করে নিতে মুখিয়ে নানা প্রান্তের মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের আয়োজনে আতশবাজি ছাপিয়ে উদযাপনের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ড্রোনের আলোক উৎসব।

এর ইঙ্গিত অবশ্য চলতি বছরে টোকিও অলিম্পিকে দেখা গেছে। ড্রোনের সাহায্যে আলোর চোখ ধাঁধানো খেলায় মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রে বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় আয়োজন ডালাসের রিইউনিয়ন টাওয়ারে এবার আতশবাজির সঙ্গে ড্রোনের যৌথ আলোক উৎসবের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হবে ২০২২ সালকে। স্থানীয় পর্যায়েও এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান-এর অনলাইন সংস্করণে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় ড্রোন লাইট শো প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ কো-অর্ডিনেটর ওলি হোয়েট বলেন, ‘গত বছর লন্ডনে নতুন বছর বরণ আয়োজনে ৩০০টি ড্রোন দিয়ে আলোক উৎসব করেছিলাম। এই চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, বিশেষ করে করোনা মহামারিতে ড্রোনের চাহিদা বেড়েছে, কারণ দূর থেকে দীর্ঘ সময় এটিকে ওড়ানো যায়।’

ওলি হোয়েটের পার্টনার রবার্ট নেফ। তিনি বলেন, ‘ড্রোনের আলোক প্রদর্শনী এখন বেশির ভাগ জায়গায় দেখা যায়। উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে এটি।’

নেফ বলেন, ড্রোন বেছে নেয়ার কিছু কারণ আছে। আতশবাজিতে নেতিবাচক প্রভাব আছে। বন্যপ্রাণী থেকে পাখি… এমনকি পোষা কুকুর-বিড়ালের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।’

ওলি হোয়েট বলেন, ‘ড্রোন ব্যবহারে সুবিধা অনেক। এটি থেকে কিছু নির্গত হয় না, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। আকাশ থেকে ধ্বংসাবশেষ ফিরে আসার আশঙ্কাও নেই।'

ড্রোনের কাছে জৌলুস হারাচ্ছে আতশবাজি?
টোকিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী আয়োজনে ড্রোনের সাহায্যে আলোক উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

তবে হোয়েটের সঙ্গে সবাই যে একমত, তা নয়। ব্রিটিশ ফায়ারওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বলছেন, ‘প্রকৃতিতে নানা হুমকির কারণ হতে পারে ড্রোন। পরিবেশে ড্রোনের ক্ষতিকর প্রভাব কম হলেও এর বৈদ্যুতিক চাহিদা উদ্বেগজনক। লিথিয়ামের ব্যাটারি খুব একটা পরিবেশবান্ধব নয়।

‘আসলে ফায়ারওয়ার্কসের কারণে পরিবেশে যে ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় এই আয়োজনে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কারণে। তারা যে গাড়িতে চড়ে উৎসবস্থলে আসেন, তাতে যে পরিমাণ জ্বালানি পোড়ে, তা পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।’

রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলেটি টু অ্যানিমেলসের (আরএসপিসিএ) মুখপাত্র বলেন, ‘ড্রোনে নেতিবাচক প্রভাব নেই, তা বলা যাবে না। এটি প্রাণিকুলের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণ হতে পারে। আকাশে উড়ন্ত পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে। জনসাধারণের বিরক্তির কারণও হতে পারে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। এ ছাড়া ড্রোনের সাহায্যে আলোক প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাও একটা বড় ইস্যু।’

অনেকে বলছেন, আতশবাজি আর ড্রোন একে অন্যের বিকল্প হতে পারে না। তবে এই যুক্তির বিপক্ষের লোকজন বলছেন, আতশের মাধ্যমে দারুণ সব প্রদর্শনী করা গেলেও ড্রোনের সাহায্যে বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে উদযাপনের পুরো চিত্র তুলে ধরা যায়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরে গরুর গাড়িদৌড়ে দুই প্রতিযোগী। ছবি: নিউজবাংলা

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও নিজ নিজ গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদরের বেতাই গ্রামে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার প্রতিযোগী। গরুর গাড়ির দৌড়ের আয়োজন হয় সেখানে।

রোববার দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে জয়ী হন যশোরের বাঘারপাড়া থেকে যাওয়া নজরুল মুন্সি। পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান একটি টেলিভিশন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ঝিনাইদহের মহেশপুরের দোলন হোসেন ও যশোরের রহমত আলী পান বাইসাইকেল ও ফ্যান।

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। এবারেরটি আয়োজন করেছেন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যান কলেজছাত্র রাব্বি হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রামবাংলার ঐহিত্য এই গরুর গাড়ির দৌড়। সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর। মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। প্রতি বছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখা উচিত।’

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যাওয়া অন্তর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে খেলা দেখতে। গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। খেলাটা সত্যিই উপভোগ্য। এ জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরের জিয়ালা গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছর চাষাবাদ করি। বছরের এ সময়ে অপেক্ষায় থাকি এই খেলায় অংশ নেয়ার জন্য। মানুষ আমাদের খেলা দেখে আনন্দ পায়। তা দেখে আমরাও আনন্দ পাই। আনন্দের জন্যই আমরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।’

চেয়ারম্যান আতিকুলও জানান, গ্রামবাসীর আনন্দের জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন হবে বলে তিনি আশা করেছেন।

শেয়ার করুন

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নেতৃত্বে নিউজবাংলার বার্ষিক সাধারণ সভা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, নিউজবাংলা দ্রুততম সময়ে পেশাদার সাংবাদিকতায় সবার শীর্ষে অবস্থান করবে।

পেশাদার সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সংবাদকর্মীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে শুক্রবার দুপুরে অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘নিউজবাংলার উদ্যোক্তা হিসেবে আমি সব সময় আপনাদের পাশে থেকেছি, ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করছি। আমার একমাত্র চাওয়া, নিউজবাংলা দ্রুততম সময়ে পেশাদার সাংবাদিকতায় সবার শীর্ষে অবস্থান করবে।’

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

২০২০ সালের ১ অক্টোবর করোনাভাইরাস মহামারির অবরুদ্ধ সময়ে ‘আমরা সংবাদ তৈরি করি না, প্রচার করি’ স্লোগান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের সাংবাদিকতা জগতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য আমি নিউজবাংলার প্রত্যেক কর্মীকে অভিনন্দন জানাই।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো ঘটনায় আমরা পরিণত হতে চাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে।’

অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিউজবাংলার ১ বছর ৪ মাসের অগ্রযাত্রার নানা দিক উঠে আসে প্রকাশক শাহনুল হাসান খানের বক্তব্যে। তারুণ্যের কণ্ঠস্বর হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও সম্ভাবনাকে আরও তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

শাহনুল হাসান খান বলেন, ‘আমরা মনে করি নিউজবাংলা একটি পরিবার। পরিবারের একজন সদস্য আঘাত পেলে সেই আঘাত আমরা সবাই অনুভব করতে পারি। ফলে আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।’

নতুন বছরে নিউজবাংলার প্রত্যেক সংবাদকর্মীকে আরও বেশি নিষ্ঠা ও কর্তব্যের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রকাশক শাহনুল হাসান খান।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অবস্থা যেমনই হোক, নিউজবাংলা পরিবারে যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।’

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

বার্ষিক সাধারণ সভা সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল। ১ বছর ৪ মাসের এই যাত্রায় প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেক কর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী দিনগুলোতেও পেশাদারত্বের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনা।

এর আগে নিউজবাংলার মিটিং রুমে অনুষ্ঠিত হয় বোর্ডসভা। সেখানে গত এক বছরে নিউজবাংলার অর্জন ও ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কোথায় দেখতে চায় তার বিশদ পরিকল্পনা তুলে ধরেন নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল।

বিজনেস ডেভেলপমেন্ট চিফ ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৌরভ পাণ্ডে তুলে ধরেন নিউজবাংলার অডিও ভিজ্যুয়াল অংশকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা।

এ ছাড়া রিপোর্টিং ও সম্পাদনা টিমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিউজবাংলাকে পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশের শীর্ষ অনলাইন পোর্টালে উন্নীত হতে ঠিক করা হয় কর্মপন্থা।

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নিউজবাংলার সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, প্রকাশক শাহনুল হাসান খান, প্রকল্প পরিচালক রিয়াদুজ্জামান, নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শেখ জাহিদুর রহমান, বার্তাপ্রধান সঞ্জয় দে, কনসালট্যান্ট (নিউজ) শিবব্রত বর্মণ, প্রধান বার্তা সম্পাদক ওয়াসেক বিল্লাহ, বিজনেস এডিটর আব্দুর রহিম হারমাছি ও প্রধান প্রতিবেদক তানজীর মেহেদী।

শেয়ার করুন

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

জমজমাট জামাই মেলা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের মেয়ের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এখনও সেই প্রচলন আছে।

গাজীপুরের কালিগঞ্জের বড়গাঁও গ্রামের জামাই জাকির হোসেন। পৌষ সংক্রান্তিতে শুক্রবার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাবেন বলে জামাই মেলায় এসেছেন মাছ কিনতে।

অনেক স্টল ঘুরে শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার টাকায় একটি আইড় মাছ কিনে রওনা দেন জাকির। বলেন, ‘প্রতিবছরই মেলায় মাছ কিনতে আসি। শ্বশুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা, তাই এলাকার সব জামাইদের নজর এখন বিনিরাইলের মাছের মেলার দিকে।’

নাম জামাই মেলা হলেও এটি মূলত মাছের হাট। কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের বিনিরাইল গ্রামে এই মেলা বসে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে। এলাকায় প্রচলিত আছে, এ দিন জামাইরা এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাবেন শ্বশুরবাড়িতে। আবার জামাই আপ্যায়নে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও এই মেলা থেকেই মাছ কিনবেন। মাছ নিয়ে মোটামুটি জামাই-শ্বশুরের মধ্যে প্রতিযোগিতাই চলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে এই মেলা চলে আসছে। মেলা ঘিরে জামাই-শ্বশুরদের মাছ কেনার দৌঁড়ঝাপের কারণে এটি জামাই মেলা নামেই পরিচিত পেয়েছে।

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

সরেজমিনে শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, সহস্রাধিক দোকানে নানা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন তারা। তাদের সংগ্রহে আছে চিতল, কাতল, রুই, বাগাড়, আইড়, বোয়াল, শাপলা পাতা, কোরাল, সামুদ্রিক কাইক্কা, গলদা চিংড়ি ও রূপচাঁদা। আছে নানা জাতের দেশী মাছও।

হাঁক-ডাক দিয়ে নানাভাবে ক্রেতাদের আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বিক্রেতা।

১৫০ কেজি ওজনের একটি ও ১২০ কেজি ওজনের দুটি শাপলাপাতা মাছ নিয়ে বসেছেন রাজন মিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই মেলা উপলক্ষে সপ্তাহখানেক ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করি। এবারও মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ এনেছি আমি। মেলায় মাছ বিক্রির পাশাপাশি এই উৎসবে আমরাও আনন্দ করি।

‘যেহেতু মাছের আকৃতি অনেক বড়, তাই কেউ একা এই মাছ কিনতে পারে না। প্রতি কেজি মাছ ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।’

মেঘনা নদীর ৩০ কেজির কাতল মাছ নিয়ে এসেছেন নরসিংদীর রঞ্জিত চন্দ্র বর্মন।

তিনি বলেন, ‘কাইক্কা, আইড়, বাগাড়, কোরাল, বোয়ালসহ বড় বড় মাছ সংগ্রহ করেছি মেলা উপলক্ষে। ২৭ কেজির একটা বাগাড় মাছ এনেছি। ৩০ হাজার টাকা দাম উঠলেই বিক্রি করব।’

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন নিগার সুলতানা। তিনি বলেন, ‘ইউটিউব-ফেসবুকে এই জামাই মেলার কথা প্রচুর শুনেছি। আমার স্বামী কালিগঞ্জে চাকরি করায় এবারই প্রথম মেলায় আসা হয়েছে। মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও মেলায় ঘুরতে এসে ভালো লাগছে।’

দিনব্যাপী এই মেলা মাছকেন্দ্রিক হলেও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বসে নানা পণ্যের স্টল। সেগুলোও দিনভর ছিল জমজমাট।

জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জানান, এই মেলা ঐতিহ্যকে বহন করে আসছে প্রায় আড়াইশ বছর ধরে। এ বছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের মেয়ের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এখনও সেই প্রচলন আছে।

শেয়ার করুন

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

ভুকরাভাতের দিন পূজা অর্চনা শেষে হিন্দুরা সকাল থেকে মাঠে মাটির চুলা তৈরি ও রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। কেউ আনেন খড়ি বা জ্বালানি, কেউ পানি, কেউ আনেন খাদ্যপণ্য। দলে দলে ভাগ হয়ে তারা রান্না করেন।

ফসলের বিশাল মাঠ। ধান উঠে যাওয়ায় মাঠ এখন ফাঁকা। সেখানে জ্বলছে সারি সারি চুলা।

কিছুদূর পর পর দল বেঁধে কেউ রান্না করছেন, কেউ করছেন জোগাড়। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে মাঠ যেন বিশাল এক রান্নাঘর।

এ দৃশ্য দেখা গেছে শুক্রবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৌতন্যপুর গ্রামে। এ আয়োজন হিন্দু সম্প্রদায়ের, অনেকটা পিকনিকের মতো। স্থানীয়ভাবে একে বলে ভুকরাভাত। মূলত পৌষ উৎসবই এটি।

ভুকরাভাতের দিন পূজা অর্চনা শেষে হিন্দুরা সকাল থেকে মাঠে মাটির চুলা তৈরি ও রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। কেউ আনেন খড়ি বা জ্বালানি, কেউ পানি, কেউ আনেন খাদ্যপণ্য। দলে দলে ভাগ হয়ে তারা রান্না করেন।

মাঠে যেতেই দেখা মিলল একটি দলের। তাতে আছেন দিপ্তি, দিপালী, শিখা, টুম্পাসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন। এর মধ্যে দিপ্তি লুচি ভাজছেন, তাকে লুচি বানিয়ে দিচ্ছেন শিখা, টুম্পা ও অনন্যা। আরেক চুলায় দিপালী ভাত চড়িয়েছেন।

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

দিপালী বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই পৌষ মাসের শেষ দিনে এমন আয়োজন করে থাকি। পৌষ মাসের শুরুর দিনেই আমার টুস পূজা করি। সেটি ৩০ তারিখে বিসর্জন দিয়ে সকালে স্নান করে এখানে একসঙ্গে মিলে আনন্দ করে খাই। আমরা কিছু কিছু করে টাকা তুলে আর সবার বাড়ি থেকে চাল-ডাল তুলে এই ভুকরাভাত করি।’

লুচি ভাজতে ভাজতে দিপ্তি বললেন, ‘এটা আমাদের কাছে অনেক আনন্দের দিন। এই দিনেই আমরা বাড়ির বাইরে আনন্দ করে খেয়ে থাকি। প্রতি বছরই এই দিনে আমরা মাঠে একসঙ্গে নেচে-গেয়ে খেয়ে আনন্দ করি।’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা হয় আরেক দলের সঙ্গে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রান্না করছেন, কয়েকজন গান বাজিয়ে নাচছেন। মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশুরা।

রান্না শেষ হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। পুকুর থেকে তুলে আনা শাপলাপাতা বিছিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে সবাই মিলে খেতে বসে। তাদের তৈরি নানা পদের মধ্যে আছে বুন্দিয়া, লুচি, ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও দই।

ভুকরাভাতে আসা জয় চাঁদ মণ্ডল বলেন, ‘এই দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় এক মাস আগে থেকে। এই দিনে মূলত পূজার পরই আনন্দ শুরু হয়। একে আমরা পৌষ পর্বও বলে থাকি। আমাদের বিশ্বাস, এই পূজা আর উৎসবের মাধ্যমে অসুখ থেকে মুক্তি মেলে। এটা আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই হয়ে আসছে। এখন আমরা করছি। আমাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিরা করছে।’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

ভুকরাভাতের আয়োজন শেষ হয় গোধূলীলগ্নে, কিশোর-তরুণদের নাচ-গানের মধ্য দিয়ে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যে যার মতো হাঁড়ি-পাতিল গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।

শেয়ার করুন

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

পৌষ বিদায়ে কোল সম্প্রদায়ের ঝুমুর নাচ। ছবি: নিউজবাংলা

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরের ঝিলিম ইউনিয়নের কয়েক গ্রামজুড়ে বাস কোল সম্প্রদায়ের। তাদের পৌষসংক্রান্তি উদযাপন বরাবরই জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

ঝিলিম ইউনিয়নের চাতরাপাড়া, ফিল্টিপাড়া, বিলকৈলঠাসহ কোলদের কয়েকটি গ্রামে শুক্রবার উদযাপন করা হয়েছে পৌষ বিদায়ের উৎসব। তারা একে বলে সাকরাইত।

সকাল থেকেই কোল গ্রামগুলো ছিল উৎসবমুখর। প্রতিটি বাড়িতে রান্না হয় মুখরোচক নানা খাবার। উঠান-দেয়াল তারা রাঙিয়ে তোলেন আলপনায়।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

বিকেলে পাড়ার মাঠ মেতে ওঠে কোলদের ঐতিহ্যবাহী খেবেলখেচা বা ঝুমুর নাচে।

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।

‘আত্মীয়স্বজন বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সবাই একসঙ্গে আনন্দ করি। সব মিলিয়ে এবার ভালোই কাটল সাকরাইত।’

এই সাকরাইত উৎসব দেখতে শুক্রবার জেলা শহর থেকে দর্শনার্থীরা যান ঝিলিম ইউনিয়নে।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারাহ উলফাৎ রহমান অর্পিতা বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় কোলদের গ্রামে আসা। তারা অনেক আন্তরিক। তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে। কোলদের নিজস্ব ভাষার কয়েকটা শব্দও জানা হয়েছে আমার। সব মিলিয়ে বিকেলটা ভালোই কেটেছে।’

শেয়ার করুন

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। ছবিটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

তর্ক বাংলার প্রথম সাহিত্য বক্তৃতা হবে শুক্রবার।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘মার্কিন প্রাচ্য ব্যবসায় ও বাঙালি মুসলমান’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় বক্তৃতা দেবেন লেখক, গণবুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ার কারণে বক্তৃতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

এটি গত ৭ জানুয়ারি বাংলামোটরের রাহাত টাওয়ারের সপ্তম তলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় রয়েছে বই বিক্রি ও বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বাছাই বই’।

অনলাইনে বক্তৃতাটি সরাসরি দেখা যাবে তর্ক বাংলার ফেসবুক পেজ, তর্ক বাংলার অফিশিয়াল পেজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহর ফেসবুক পেজ ও তার ইউটিউব পেজে

শেয়ার করুন

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

পৌষ পার্বণ উৎসবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাখন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চিত্রটি উপস্থাপিত হতে দেখে আনন্দিত হয়েছি। লোকক্রীড়া, লোকজ উৎসব প্রভৃতি সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে যথার্থ প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

হাতে হাত রেখে হাঁটছেন মৌলভি, পুরোহিত, খ্রিষ্টান পাদ্রি ও বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাদের সঙ্গে আছেন গ্রাম্য মাস্তান, বাউল, নাপিত, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগ আয়োজিত পৌষ পার্বণ উৎসবে এমন সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বিনির্মাণ।

‘সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে’ জীবনানন্দ দাশের কবিতার চরণ প্রতিপাদ্য ধরে সাজানো হয় চবির পৌষ পার্বণের অনুষ্ঠানমালা।

বুধবার দুপুর ১২টায় পৌষ পার্বণ উপলক্ষে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢোল-বাদ্যের তালে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে বাংলা চত্বরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। স্টলে স্টলে পরিবেশন করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হরেক স্বাদের পিঠা।

সাজানো পিঠাগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষীর, পাটিসাপটা, ছাঁচ পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পুরি, নারিকেল পাকন, মিষ্টির মাখন, জামাই পিঠা, মুখ রঙিন, দুধচিতই, মাংসের ঝাল পিঠা, আফলাতুল, চিকেন রোল, ঝিনুক, পাটিসাপটা, খেজুর পিঠা, তেলের পিঠা, ভাপা পিঠা, ডিবি পিঠা, ডিম পিঠা, ভাজা পুলি, তালের বড়া, পাকন পিঠা, চিকেন পুলি ও গোলাপ পিঠা। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয় পিঠা উৎসব।

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ


বাংলা বিভাগের সভাপতি শফিউল আযম (ডালিম) পৌষ পার্বণ ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাখন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চিত্রটি উপস্থাপিত হতে দেখে আনন্দিত হয়েছি। লোকক্রীড়া, লোকজ উৎসব প্রভৃতি সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে যথার্থ প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বেলা ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা দেশীয় গানে নৃত্য, লোকজ গান, নাটিকা, আবৃত্তি, পুঁথি পাঠ করেন অনুষ্ঠানে। পৌষের পড়ন্ত বিকেলে গানের দল সরলার সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

শেয়ার করুন