তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত নারীদের পরনে ছিল তিন খণ্ডের কালো বোরকা। অথচ আফগান নারীদের প্রচলিত বোরকা নীল রঙের এবং একখণ্ড কাপড়। ছবি: এএফপি

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি। সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও।

তালেবানের সমর্থনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে মোড়ানো নারীদের সমাবেশের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ওই সমাবেশ কাবুলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর।

সে সময় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, তালেবানের জেন্ডার বৈষম্যমূলক কট্টর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৩০০ নারী। কথিত ইসলামপন্থিদের সমর্থনে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে কথা বলেছিলেন নারী বক্তারা; শ্রোতার আসনে থাকা নারীরা উড়িয়েছিলেন তালেবানের পতাকা।

তালেবানের আরোপিত নিয়ম মেনে কঠিন রক্ষণশীল পোশাকে শিক্ষা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। হাতে গোনা কয়েকজন নীল রঙের বোরকা পরলেও বেশির ভাগই ছিলেন কালো নিকাবে। চোখ বাদে পুরো শরীর ঢাকা ছিল তাদের, চোখেও ছিল পাতলা কাপড়ের আবরণ, হাতে ছিল গ্লাভস।

সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন নারীর বরাত দিয়ে টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখানোর ওই আয়োজন পুরোটাই ছিল সাজানো।

তালেবান নারীদের অধিকার হরণ করছে বলে বিশ্বজুড়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা প্রমাণে নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল ওই সমাবেশে অংশ নিতে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, আফগান নারীরা তালেবানের শাসনে, নতুন কঠোর জীবনবিধানে সন্তুষ্ট।

সমাবেশে অংশ নেয়া নারী মারজানা (ছদ্মনাম)। আয়োজনে নিজের অংশ নেয়ার নেপথ্যের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন নিজ বাড়িতে বসেই। তাও শোনা যায় না এমন কণ্ঠে, রীতিমতো ফিসফিস করে কথা বলছিলেন তিনি। সে কণ্ঠেও স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বোরকা পরেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আমিসহ বাকিদের কালো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছিল। আমাদের পুরো মুখ ঢেকে ছিল ওই পোশাকে।’

সেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত হয়েছিলেন ওই নারীরা। তালেবানের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মারজানা আরও জানান, এক শিক্ষার্থীকে আগে লিখে রাখা একটি বক্তব্য লেকচার হলে পড়ে শোনাতে বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল বক্তব্যটি।

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি।

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।

ওই সমাবেশের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র এই তালেবান যোদ্ধাদের। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করায় আফগান সংবাদকর্মীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়েছিল তালেবান যোদ্ধারা।

সেই তালেবান যোদ্ধারাই আবার তাদের সমর্থনে হওয়া সমাবেশের খবর প্রচারে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়েছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও। বেশির ভাগ নারীই হাত গ্লাভসে আর চোখ-মুখ নিকাবে ঢেকে রেখেছিলেন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরা ছিলেন কালো বোরকা।

অর্থাৎ বহির্বিশ্ব, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে আফগান নারীদের বোরকা পরা নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, সেটাই স্পষ্ট ছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পোশাকে।

আরব বিশ্বে প্রচলিত কালো রঙের বোরকার তিনটি অংশ আলাদা- গলা থেকে পা পর্যন্ত একটি ঢোলা আলখাল্লা, মাথা ঢাকার কাপড় ও মুখ ঢাকার নিকাব। এ ধরনের পোশাকই পরেছিলেন সমাবেশে অংশ নেয়া বেশির ভাগ নারী।

অথচ আফগান নারীরা সাধারণত নীল রঙের বোরকা পরেন। আফগানিস্তানের প্রচলিত বোরকা মানে বিশাল একখণ্ড নীল রঙের কাপড়, যা দিয়ে নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত, এমনকি চোখও ঢাকা থাকে।

তালেবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেয়া আরেক নারী নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুখসহ সারা শরীর ঢেকে নিতে কালো রঙের বোরকাগুলো আমাদের তালেবান যোদ্ধারা দিয়েছিল। আমি পরতে চাইনি ওই পোশাক।

‘যখন বলেছিলাম যে আমি পরব না এই বোরকা, ওরা চিৎকার শুরু করল। মোট কথা, ওই পোশাক পরতে তারা আমাদের বাধ্য করেছে। তারপর চুপচাপ থিয়েটারে গিয়ে বসে থাকতে বলেছে।

‘বোরকার ভেতরে ঢোকার পর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শুনেছি।’

ছবি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বিশ্লেষণেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ওই সমাবেশ শুধু যে তালেবানের অনুমতিতে হয়েছিল তা-ই নয়, আয়োজনও করেছিল খোদ তালেবানই।

তালেবানের সমর্থনে ওই সমাবেশের এক বক্তা বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা ‘প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা আফগানিস্তানের মুখ নন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আফগান নারীদের মিথ্যা ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছিল টিআরটি। কিন্তু সাড়া পায়নি। তালেবানের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। সাড়া দেননি তারাও।

সমাবেশের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কয়েক শ আফগান নারী টুইটারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করেন। ‘ডু নট টাচ মাই ক্লোথস’ হ্যাশট্যাগে টুইটারে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন তারা।

টুইটারে বিবিসির সাংবাদিক সোদাবা হায়দারে বলেন, ‘এটাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমাদের তো ভাত খাওয়ার চালটাও রঙিন। একই রকম রঙিন আমাদের জাতীয় পতাকাও।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রায় ছয় বছর আফগানিস্তান শাসন করেছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলে মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জন, বেড়ানোসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল গোষ্ঠীটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। শুরুতে নব্বইয়ের দশকের মতো কঠোর নিয়ম চালু না করার আশ্বাস দিলেও সে কথা রাখেনি গোষ্ঠীটি।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নতুন শাসক গোষ্ঠী। রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সব স্কুল চালু হলেও স্কুলে যাচ্ছে না ছাত্রী ও শিক্ষিকারা।

ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন তালেবানশাসিত সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হলে নারীদের হিজাব পরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারজানা বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করার কিংবা কাজে ফেরার অনুমতি পাব কি না জানি না। স্পষ্ট করে কিছুই বলা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, কে জানে।’

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই। অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

জীবন্ত পরজীবী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্ট।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ ফেসবুকে প্রকাশিত কোরীয় ভাষার একটি পোস্টে বলা হয়, ‘এ টিকার প্রধান উপাদান গ্রাফেন। এই গ্রাফেনের ভেতরে জন্ম নেয় অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এক ধরনের পরজীবী।

‘মানবদেহে এই পরজীবী প্রবেশ করলে এর বিকাশ ও বংশবৃদ্ধি রোধের একটাই উপায়। সেটি হলো রক্ত পরিশোধন। সরকারের চাপে এমন একটি টিকা মানুষকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘এই পরজীবী থেকে মুক্তি পেতে আইভারমেকটিন (পরজীবীবিরোধী ওষুধ) সেবন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজেদের গর্ভ পরীক্ষা করানো উচিত।’

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়।

কথিত পরজীবীর একটি ছবিসহ এ দাবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক দাউম ক্যাফেতে। করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি অনুষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ছবিটি।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকা তৈরির জন্য জীবাণুবিহীন পরিশুদ্ধ একটি পরিবেশ দরকার হয়। সেখানে উপাদান হিসেবে পরজীবী ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

কিউংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মহামারি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম শিন-উ বলেন, ‘করোনার টিকায় কোনো পরজীবী থাকা সম্ভব নয়, উপাদান হিসেবে তো নয়ই। কারণ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ওষুধ উৎপাদনের সময় জীবাণুপ্রতিরোধী কঠোর ফার্মাসিউটিক্যাল বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অধ্যাপক শিন-উ বলেন, ‘এসব বিধি কার্যকর না হলে টিকা প্রয়োগে অনুমোদনই দেয়া হতো না।’

গাশন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক জুং জায়-হুন বলেন, ‘যে কোনো টিকা তৈরির ক্ষেত্রেই জীবাণুবিরোধী পরিবেশ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যেখানে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা ভাইরাসই প্রবেশ করতে বা টিকতে পারবে না। সেখানে পরজীবী থাকার তো প্রশ্নই নেই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই।

অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

মানবদেহে কোনো পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইভারমেকটিন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

অধ্যাপক জুং বলেন, ‘আইভারমেকটিনের মতো ওষুধ সেবনে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর এ ওষুধ সেবন করে কোনো লাভ হবে না কারণ টিকার সঙ্গে পরজীবীর কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। করোনা ঠেকাতে এ ওষুধ কার্যকর বলে পরীক্ষায় প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আইভারমেকটিন প্রয়োগের শঙ্কা থেকে যায়, যার ফলে বমি, বমিভাব, ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, ক্লান্তি, চুলকানি ও চর্মরোগের মতো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে আগুন চুল্লির, যতনকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও

দেবীগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে আগুন চুল্লির, যতনকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও

দেবীগঞ্জে হিন্দু বাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

দেবীগঞ্জের ওই বাড়ির মালিক অনুকূল চন্দ্র রায় বলেছেন, ঘরের ভেতরে স্থাপিত কলা পাকানোর চুল্লি থেকে আগুন লাগে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও। অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাণ হারানো যতন সাহার ওপর হামলার দৃশ্য হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে একটি পুরোনো ভিডিও।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক হিন্দু বাড়িতে আগুনের ঘটনা ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। আগুনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে বেশ কিছু আইডি থেকে দাবি করা হয়, ধর্মীয় সহিংসতার অংশ হিসেবে আগুন দেয়া হয়েছে ওই বাড়িতে।

তবে বাড়ির মালিক অনুকূল চন্দ্র রায় বলছেন, ঘরের ভেতরে স্থাপিত কলা পাকানোর চুল্লি থেকে আগুন লেগেছে। একই তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান।

অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাণ হারানো যতন সাহার ওপর হামলার দৃশ্য হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে একটি পুরোনো ভিডিও। রাজধানীর বুকে গত মে মাসে একটি হত্যাকাণ্ডের সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘটনাটি।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট অধিকারী পাড়া গ্রামের কলা ব্যবসায়ী অনুকূল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে আগুন লাগে। স্থানীয়দের সহায়তায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

ব্যবসায়ী অনুকূল নিউজবাংলাকে জানান, স্থানীয় হাট থেকে কাঁচা কলা কিনে চুল্লিতে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার তিনি ছাড়া বাড়ির সবাই আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাত ৯টার দিকে তিনি ঘরের ভেতরে স্থাপিত চুল্লিতে আগুন দিয়ে তার ওপর কলা রেখে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।

ভোররাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর দেখতে পান চুল্লির আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় লিখিতভাবেও জানিয়েছেন অনুকূল।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুন কীভাবে লেগেছে, তা উল্লেখ করে অনুকূল চন্দ্র পুলিশের কাছে বিবৃতি দিয়েছেন। বিষয়টিকে নাশকতা হিসেবে প্রচারের জন্য একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় একটি মহল দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। দেবীগঞ্জের ঘটনাটিকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা সমন্বিতভাবে তা প্রতিহত করছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই মাসের খাদ্য ও ঘর নির্মাণের জন্য ছয় বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, ‘অনুকূলকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং চার বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল সেই সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা সে বিষয়ে সজাগ আছি।’

কুমিল্লায় যতন সাহার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া ভিডিও

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে সহিংসতার পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বেশ কয়েকটি মণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। যতনের ওপর হামলার দৃশ্য দাবি করে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

‘সত্যের সন্ধানে’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার ওই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, যতনকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে লুটিয়ে পড়া নীল জামা পরা এক ব্যক্তির শরীরে দুজন যুবক ধারালো কিছু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন।

তবে এই ফুটেজটি অন্য আরেকটি ঘটনার বলে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা। রাজধানীর পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর রোডে গত ১৬ মে বিকেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাহিনুদ্দিন নামে একজনকে। তার বাসা পল্লবীর বুড়িরটেক। সাহিনুদ্দিনকে হত্যার দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

আর সেই ফুটেজটিকেই যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয় ‘সত্যের সন্ধানে’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে।

ওই পেজ থেকে ভিডিওটি মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়, যেখানে আপলোডের ঠিকানা রয়েছে ভারতের নালবাড়ি। তবে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ (বাঁয়ে) ও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। ছবি: নিউজবাংলা

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া এবং এর জের ধরে সহিংসতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক।

অনলাইনভিত্তিক একটি টক শোতে শনিবার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে বলেছেন, কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

অনলাইন ওই টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিক ছাড়াও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোল্লা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর অংশ নেন।

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকালে ঘটনার পর দিনভর সহিংসতা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন কুমিল্লায় আসেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হিন্দুনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

‘আমরা জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় হিন্দু মহাজোটের কুমিল্লার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে হঠাৎ উপস্থিত হন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনো কথা হয়নি।’

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হিন্দু মহাজোট আলাদা সংগঠন। কেন কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি। তারা কথা বলেছেন হিন্দু মহাজোটের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।’

হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানিক ভৌমিকও বলছেন, এমন কোনো অভিযোগ তারা গোবিন্দ প্রামাণিককে জানাননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় সহিংসতা হয়েছে, এটা আমরা কখনোই বলিনি। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

‘পরে গোবিন্দ প্রামাণিককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাই। সেখানে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কোনো কথা হয়নি।’

টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিকের তোলা অভিযোগের বিষয়ে মানিক ভৌমিক বলেন, ‘যদি উনি এমন কথা বলেন তাহলে সেটা ওনার বিষয়। কারণ কুমিল্লার বাটি চালান দিয়েও একটি মানুষ পাওয়া যাবে না যে বলবে মেয়র ও এমপির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটা হাস্যকর কথা।

‘তবে আমাদের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, সেটা আমরা জানি না।’

সংগঠনটির কুমিল্লার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দীও একই মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া এলাকার কালীগাছতলার বাসিন্দা অশোক রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জানামতে এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃতীয় কোনো পক্ষ এ কাজটা করেছে।’

ছাতিপট্টি রক্ষাকালী মন্দিরের আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও মনে করছেন, রাজনৈতিক কারণে এমন হামলা হয়নি। মেয়র ও এমপির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলেও তারা দাবি করেন।

কী বলছেন এমপি-মেয়র

ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার দাবিও করেছেন তিনি।

সাক্কু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় এমপি সাব ছিলেন হজে, আমি ছিলাম কুমিল্লায়। মানুষ মুখ দিয়া কত কথা কয়, কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারবে?’

টক শোটি দেখেননি জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিএনপির রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের এমপির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এ কারণে অনেকে আমাকে কটাক্ষও করেন।’

সাক্কু মনে করেন, ভালো সম্পর্ক না থাকলে এলাকায় উন্নয়নকাজ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কাজ আমি এমপির সঙ্গে পরামর্শ করেই করি। কাজেই যারা এমন বক্তব্য দেয়, সেগুলো তাদের নিজস্ব বিষয়।’

অন্যদিকে কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার বিকেলে গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। সেই জমায়েতেই টক শোর ওই মন্তব্যের জবাব দেয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের মন্তব্যও জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকে রোববার সকালে ফোন করে এমপির সঙ্গে মেয়রের সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। তবে আমি বলব এমপি অনেক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল।’

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে এ তথ্য গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

সনাতন ধর্মের নেতারা বলছেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ওই অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শনিবার কয়েকটি পোস্টে বলা হয়, ‘ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুটি মারা গেছে। মৃত্যুর মুখে রয়েছে তার মাসি (খালা) ও বোন।’

তবে কোনো পোস্টেই ঘটনার জায়গা বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। নিউজবাংলার পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরং সবাই দাবি করছেন, উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তিন জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ভদ্র।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তার আগে ৯ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আগে থেকেই আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের ভালোমন্দ দেখছি। যার কারণে যেকোনো বিষয়ে মানুষ আমাকে জানায়। তবে মন্দিরে হামলা ছাড়া এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। কোনো মানুষ এমন কোনো খবর আমাদের জানায়নি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।’

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবরটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের পূজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কোনো নেতার কাছে নেই। কেউ যদি এমন কোনো খবর ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা এই ধরনের গুজব ছড়ায় তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। সবাইকে এ ধরনের গুজব এড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

হাজীগঞ্জ রামকৃষ্ণ সভা আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহা রঞ্জন হালদার মিলন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’

‘আমাদের এলাকায় এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি। এগুলো গুজব রটানো হচ্ছে’, বলেন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ত্রিনয়নী সংঘ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর আমরা পাইনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব। এভাবে একজন মানুষ মারা যাবে আর পুলিশ বসে থাকবে, তা কখনও হয়? যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা হাজীগঞ্জ খুঁজেও আমরা এ ধরনের কোনো সংবাদ পাইনি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব। এসব গুজব যারা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।

গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু শুনলেই বিশ্বাস না করে আগে তার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করুন।’

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

পাথর ছোড়া প্রতিরোধে ট্রেনের জানালায় বসবে নেট, এমন খবর ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জানালায় নেট লাগানো ট্রেনের ছবিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি বা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, ‘পাথর নিক্ষেপের হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে এবার ট্রেনের জানালায় লাগানো হবে নেট। নেট লাগানো নিয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। কয়েকটি ট্রেনে লাগানো হয়েছে নেট।’ এমন খবর গত কয়েক দিন ধরেই ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সারা দেশে চলাচল করা যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৫২টি। এর মধ্যে আন্তনগর ট্রেন ৯০টি, লোকাল ১২৬টি।

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে রেলের জানালায় নেট বসবে কি না বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না, তা জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো খবর আমার কাছে নেই। আমি আছি অপারেশন বিভাগে। আমাকে যেভাবে দেয়া হবে আমি সেভাবেই চালাব।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে জানালে তিনি বলেন, ‘এটা দেখার বিষয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল (যান্ত্রিক) বিভাগকে। তারা হয়তো এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা বলতে পারবে নেট লাগানো যাবে কি না।’

নেট লাগানো হবে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) তাবাসসুম বিনতে ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো নির্দেশনা বা চিঠিপত্র দেখিনি বা পাইনি। এ বিষয়ে ডিভিশনাল যারা প্রধান আছেন, তারা বলতে পারবেন।’

রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) বোরহান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে, এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে জানালে তিনি বলেন, ‘আমরা মৌখিক বা লিখিত কোনো কিছুই পাইনি। তাই এমন কোনো কাজ আমরা করিনি বা করছিও না।’

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ৩০২ ধারা অনুযায়ী পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলেও এসব ঘটনায় দেশে এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১১০টি। এতে ১০০টি ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙেছে এবং ২৯ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান খোদ রেলমন্ত্রী।

এসব ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকেই শাস্তির আওতায় আনা যায়নি বলে মন্ত্রীও স্বীকার করেন।

এমন ঘটনা রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকলেও জড়ির ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারছে না রেল মন্ত্রণালয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ৮০ ভাগই বস্তির শিশু-কিশোর এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি। বস্তির শিশুদের আটক করা হলেও প্রমাণের অভাবে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ট্রেনে পাথর ছোড়া প্রতিরোধ দিবস পালন হয় ৩ অক্টোবর। এ বছরও এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

দিবসটি উপলক্ষে সেদিন সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমরা রক্ষা পেতে চাই। ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। আমরা সচেতনতায় জোর দিচ্ছি। একটা ঘটনা ঘটলে দেখা যায়, অনেক দিন আর কোনো ঘটনা ঘটে না।’

সেদিনই মন্ত্রী জানান, পাথর ছোড়া হয় এমন এলাকাগুলো রেলওয়ে চিহ্নিত করেছে।

ছোড়া পাথর ঠেকাতে ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য জানাননি।

ঢাকা-পঞ্চগড়গামী একতা/দ্রুতযান ট্রেনের জানালায় নেট লাগানো হয়েছে, এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন কোনো ট্রেনেই যেগুলো লাল-সবুজ তাতে নেট লাগানো হয়নি। আমি জানিও না। তবে পুরোনো কিছু ট্রেনে নেট লাগানো আছে। দ্রুতযান/একতাতে আছে এমন ছবি যদি থাকে আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’

কী বললেন মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম)

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে কোচ কেনা হবে, সেগুলোতে নেট থাকলে ভালো হয়, এমন একটা প্রস্তাব আমাদের আছে।’

তবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পাথরের হাত থেকে রক্ষা পেতে কী কী করা যেতে পারে তার আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার ভেতরে যে প্রস্তাব আছে, সেখানে এটিও একটি প্রস্তাব।’

মিহির কান্তি বলেন, ‘এখন যেগুলো কোচ আছে সেগুলো চাইলেও কনফিগারেশন চেঞ্জ করা যাবে না। এগুলো সব বিদেশ থেকে আসে। আপনি আগে থেকে অর্ডার না দিলে তারা তো সেভাবে বানাবে। এখন একটা জিনিস চলে এলে তার ওপর ওইভাবে নেট বসানো যায় না।’

তবে পাকিস্তান আমলের সবগুলো কোচে নেট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরপর এগুলো মডিফাই করা হয়েছে। তারা তো আর জানে না যে দেশে ট্রেনে পাথর মারবে, লোকজন এত খারাপ যে তারা নেট বসাবে। আর আমাদের এখান থেকেও ওইভাবে ডিমান্ড প্লেস করা হয়নি।’

নেট লাগানোর পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেভাবে পাথর মারা হয় সেটা অপ্রয়োজনীয়। এদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই।’

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ যেসব এলাকায়

পূর্বাঞ্চলের চার জেলার পাঁচ এলাকা হলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ড-বাড়বকুণ্ড, ফেনীর ফাজিলপুর কালীদহ এলাকা, নরসিংদী সদর, জিনারী ও ঘোড়াশাল এলাকা।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ১৫ এলাকা হলো চুয়াডাঙ্গার আউটার, নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পঞ্চগড় জেলা ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া।

এ ছাড়া পাবনার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বগুড়ার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, সলপ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পাবনার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, খুলনার ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

ইদ্রিস আলীর আত্মহত্যার কারণ কি ‘ক্ষুধার জ্বালা’?

ইদ্রিস আলীর আত্মহত্যার কারণ কি ‘ক্ষুধার জ্বালা’?

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার পর তিনি ক্ষুধার জ্বালায় এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, ইদ্রিস আলী দিনমজুরি করতেন। তবে অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন কাজে যেতে পারেননি। তার পুত্রবধূ শাকিলা বলেন, রাতে তিনি খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান। সে ক্ষেত্রে ক্ষুধার জ্বালায় মরার কথা ঠিক নয়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইদ্রিস আলী নামে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি হাতিশালা মোড় এলাকায় নিজের বাড়িতেই ইদ্রিস আত্মহননের পথ বেছে নেন। ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়, তিনি ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ইদ্রিস নিজ ঘরের বারান্দায় বাঁশের সঙ্গে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইদ্রিস আলী একই এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়টি সঠিক নয়।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘ইদ্রিস গরিব মানুষ। তবে ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। পারিবারিক গোলযোগ ছিল তার। ১২ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। একমাত্র ছেলে সিদ্দিক দিনমজুর। বাড়িতে থাকেন না।

‘ইদ্রিসের মেয়েও মারা গেছেন অনেক বছর আগে। মেয়ের এক সন্তান আছে। ইদ্রিস আলীর সঙ্গে তার পূত্রবধূ শাকিলার বনিবনা হতো না। ১১ শতক জমিও ছিল তার। সেই জমি নিয়েও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল।’

আলাউদ্দিন মেম্বার জানান, ইদ্রিস আলী দিনমজুরি করতেন। তবে অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন কাজে যেতে পারেননি।

ইদ্রিস আলীর পুত্রবধূ শাকিলা বলেন, রাতে খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান। সে ক্ষেত্রে ক্ষুধার জ্বালায় মরার কথা ঠিক নয়।

আর ছেলে সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বাড়ি থাকি না। কী ঘটেছে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকা থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অভাব ছিল। কিন্তু ক্ষুধার জ্বালায় মরার তথ্যপ্রমাণ পাইনি। এ বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

ওসি আরও বলেন, মা মরা নাতনিকে মারধর করা নিয়ে পুত্রবধূর সঙ্গে ঝগড়া হয় ইদ্রিস আলীর। সেই অভিমানে আত্মহত্যা করতে পারেন।

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না

ভিনেগার। ছবি: সংগৃহীত

পান্তাই হসপিটাল কুয়ালালামপুরের রেস্পিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. হেলমি হাজা মাইদিন বলেন, ‘বরং এমন পথ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। এটি শুঁকলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষয় হতে পারে, মুখে গেলে দাঁত ক্ষয় হতে পারে, পরিপাকতন্ত্র এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। এগুলো প্রত্যক্ষ ক্ষতি। অন্যদিকে পরোক্ষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষমতা কমে আসা। সবমিলিয়ে এটি জীবনকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়া একটি পথ্য।’

ফেসবুক, টিকটকসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ভিনেগার শুঁকে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলতি বছরের ২১ আগস্ট ফেসবুকে মালয়েশীয় ভাষায় এমন একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোস্টটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যে মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠা কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্য দিচ্ছে। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ১৫০ বারের বেশি।

মালয়েশীয় ভাষায় লেখা পোস্টটির অংশবিশেষের বাংলা অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়ায়, ‘বন্ধুদের বলতে চাই, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই আগে হাসপাতালে চলে যাবেন না। বরং সম্ভব হলে বাড়িতে বসে ঘরোয়া পথ্যে এটি সারানোর চেষ্টা করুন।

‘আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগেছি। নিজের গাড়িতে চড়ে হাসপাতালে গিয়েছি, আমাকে অক্সিজেনও নিতে হয়েছে। পরিবারের সবাই সে সময় অসুস্থ ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি নিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তারা আমাকে বাড়িতে ফিরতে দেয়। কিন্তু পরদিন আমি আরও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ি…

‘আমার মনে আছে, রান্নাঘরে ভিনেগার রাখা ছিল। একটি তোয়ালেতে আমি কিছুটা ভিনেগার ঢালি এবং তা দিয়ে নাক চেপে ধরি। ওই অবস্থায় বারবার শ্বাস নিচ্ছিলাম, কষ্টও হচ্ছিল। এরপর মুখের ওপর তোয়ালে রাখি আমি, নাকও ঢাকা ছিল… আমি মুখ দিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলাম। তিনবার এভাবে শ্বাস নেয়ার পর আমি আগের চেয়ে ভালো অনুভব করতে শুরু করি।

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না
ভিনেগার শুঁকে করোনার উপসর্গ দূর করার বিষয়ে ভাইরাল পোস্টটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ছবি: এএফপি

‘আপনাদের অনেকের এতে কাশি হতে পারে, ফুসফুসে অস্বস্তিও হতে পারে। কিন্তু তাও ধৈর্য্য ধরে এটি চর্চা করুন। এতে কফ পুরোপুরি বেরিয়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে… মুখে ভিনেগার প্রবেশ করতে দিন… এতে কিছুটা গরম বোধ হবে, টক অনুভূত হবে, কিন্তু তারপর কাশির সঙ্গে কফ বেরিয়ে আসবে।

‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমার ফুসফুস ও গলা থেকে প্রচুর কফ বেরিয়ে এসেছিল এবং ভেতরটা পরিষ্কার হয়ে গেছে… এরপর থেকে অনেক সুস্থ বোধ করছি। শ্বাস নিতে পারছি… ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কফে করোনাভাইরাস ছিল। আমাদের ফুসফুসে বাতাস ঢোকার পথ আটকে রেখেছিল সেগুলো।

‘সৌভাগ্যক্রমে এখন আর কিছু আটকে আছে বলে অনুভব করছি না আমি। শ্বাসপ্রশ্বাসও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্লান্ত লাগছে না।’

ফেসবুকে পরবর্তীতে একই দাবি সম্বলিত দুটি পোস্ট ১৩০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তি কাছাকাছি দাবি করেও একটি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে ও টিকটকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ দাবি মিথ্যা।

পান্তাই হসপিটাল কুয়ালালামপুরের রেস্পিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. হেলমি হাজা মাইদিন বলেন, ‘বরং এমন পথ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

‘ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। এটি শুঁকলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষয় হতে পারে, মুখে গেলে দাঁত ক্ষয় হতে পারে, পরিপাকতন্ত্র এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। এগুলো প্রত্যক্ষ ক্ষতি। অন্যদিকে পরোক্ষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষমতা কমে আসা। সবমিলিয়ে এটি জীবনকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়া একটি পথ্য।’

মালয়েশিয়ার সেলায়াং হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অনুরাধা পি. রাধাকৃষ্ণান বলেন, ‘করোনা সারাতে কিংবা প্রতিরোধে ভিনেগারের সাহায্য নেয়ার এ দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। এ দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।’

অলাভজনক সংস্থা মেডানের করোনাভাইরাসবিষয়ক প্রমাণভিত্তিক গবেষণার বৈশ্বিক কেন্দ্র হেলথ ডেস্ক। প্রতিষ্ঠানটি ভিনেগার শুঁকে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দূর করার বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ভিনেগার হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড ও পানির মিশ্রণ। এটি মৃদু অ্যাসিডিক। বিভিন্ন ধরনের ভিনেগারে রং ও ঘ্রাণের জন্য অন্যান্য উপকরণও মেশানো হয়।

‘চিকিৎসাবিদরা সবসময়েই যে কোনো প্রয়োজনে নাক, মুখ ও গলায় সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে ভিনেগার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

‘ভিনেগারের মতো ক্ষারীয় উপাদান ব্যবহারে বা বেশি ব্যবহারে স্বাস্থ্যের উপকারের চেয়ে অপকারিতাই বেশি। নাকে ব্যবহারযোগ্য ভিনেগার আর মাউথওয়াশও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান
তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী
সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

শেয়ার করুন