আইএস ও তালেবানের বিরোধ কিসের

আইএস ও তালেবানের বিরোধ কিসের

২০১৯ সালে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে আইএস-কে যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়ায় তালেবান। ছবি: এফটিডব্লিউপি

কাবুলে বোমা বিস্ফোরণ জানান দিল, আফগানিস্তান এক দীর্ঘমেয়াদি রক্তপাত আর অস্থিরতার গহ্বরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের স্থানীয় সংস্করণ আইএস-কের সঙ্গে তালেবানের বিরোধের উৎস কী? আর কতটা শক্তিধর এই সংগঠন?

আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে দুটি বোমা বিস্ফোরণ পুরো কাবুলকেই নাড়া দিয়েছে। এ রকম একটি হামলা যে হতে পারে, আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। কিন্তু এর ভয়াবহতার চেয়েও বড় বিস্ময় হয়ে এসেছে এর সময়জ্ঞান।

ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসহ ৯০ আফগান বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। আহত হয় অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা আগে সতর্ক করে জানিয়েছিল, কাবুল বিমানবন্দরে চলমান চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএস-কে) হামলা চালাতে পারে।

কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা একীভূত করার চেষ্টা করছে তালেবান। এতে সৃষ্ট নিরাপত্তাসংকটের সুযোগ আইএস-কে নিতে পারে বলে চলতি মাসের শুরুর দিকেও সতর্ক করা হয়।

বোমা বিস্ফোরণের পর এক বিবৃতিতে হামলার দায় নেয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টএনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসের অঙ্গসংগঠন আইএস-কে তালেবানের চরম বিরোধী শক্তি।

আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর আইএস-কেকে নির্মূলের চেষ্টা তালেবান করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী কোনো সংগঠনকে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালাতে দেবে না তালেবান- এই শর্তে দেশটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহারে গত বছর রাজি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘৯/১১ আমাদের দেশে যারা হামলা চালিয়েছিল, তাদের শিক্ষা দিতে ২০ বছর আগে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানো হয়।

‘আফগানিস্তান থেকে আল-কায়েদা আমাদের ওপর আবার হামলা চালাবে না, এই বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর দেশটি থেকে আমাদের সব সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।’

তবে বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরের বাইরের রক্তাক্ত পরিস্থিতি আফগানিস্তানে নিরবচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আফগানিস্তানে অভিযানের পর আল-কায়েদা দুর্বল হতে শুরু করে।
চলতি মাসে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানকে অভিনন্দন জানায় আল-কায়েদা।

আফগানিস্তানে আল-কায়েদাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনকে কার্যক্রম চালাতে দেবে না বলে তালেবান জানালেও আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবান সম্পর্ক বজায় রেখেছে বলে মনে করেন অনেকে।

তালেবানের সঙ্গে আল-কায়েদার সম্পর্ক

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের শাসনামলে আল-কায়েদাকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দেয়া হয়। সেখান থেকে ৯/১১ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালায় আল-কায়েদা।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর আল-কায়েদার অস্তিত্ব তেমন চোখে না পড়লেও জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের কমপক্ষে ১৫টি প্রদেশে আল-কায়েদার ৫০০ যোদ্ধার উপস্থিতি রয়েছে।

তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান নাইম।

তবে নাইমের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে আল-কায়েদার সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বরং মতাদর্শগত অভিন্নতা ছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করে দুই সংগঠন আগের চেয়ে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

আইএস ও তালেবানের বিরোধ কিসের

২০০১ সালের পর আল-কায়েদার শক্তি অনেকটাই কমে যায়। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানে আইএসের উপস্থিতি কেমন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে কাজ করা শুরু করে আইএস-কে।

২০১৪ সালে আইএসের তৎকালীন প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্য জানান পাকিস্তানি হাফিজ সাঈদ খান।

সাঈদের হাত ধরে বেশির ভাগ পাকিস্তানি যোদ্ধা নিয়ে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে ছোট সংগঠন হিসেবে আইএস-কের কর্মকাণ্ড শুরু হয়।

পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবানের কয়েকজন যোদ্ধাও ওই সময় আইএস-কেতে যুক্ত হয়।

ইরাক ও সিরিয়ায় ঘাঁটি থাকা আইএসের মতো আইএস-কেও আফগানিস্তানের পুরো অঞ্চল দখল করতে চায়।

আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলার জন্য সুপরিচিত আইএস-কে। শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রায়ই তাদের হামলার শিকার হয়।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে আইএস অঞ্চল হারানোর পর আফগানিস্তানে তাদের অঙ্গসংগঠন আইএস-কের হাতে সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নের জন্য কোটি কোটি টাকা রয়েছে।

আফগানিস্তানে অঞ্চল দখলে আইএস-কে কখনো সফল হয়নি। মসজিদ, স্কুল, বিয়ে অনুষ্ঠানে বেসামরিক নাগরিকদের হামলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

২০১৫ সালের দিকে আইএস-কের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদসহ মূল নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় প্রাণ হারান।

তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে আইএস-কের বিনাশ হয়নি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কোনার ও নানগারহার প্রদেশে আইএস-কের দেড় হাজার থেকে দুই হাজারের বেশি যোদ্ধা রয়েছে। এ ছাড়া ছোট ছোট দলে তারা আফগানিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

আফগানিস্তানে আইএস ও আল-কায়েদার হুমকি কতটা

আফগানিস্তানে তালেবানের এবারের শাসনামলে আল-কায়েদা ফের শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

আর আইএস-কের বিষয়ে নীতিনির্ধারণীবিষয়ক সংস্থা এশিয়া প্রোগ্রামের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘আফগানিস্তানে আইএস-কে নিশ্চিতভাবে ফের শক্তিশালী হবে। তবে এখনই তারা দূরের কোনো লক্ষ্যে হামলা চালাতে পারবে না।’

আল-কায়েদাকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না তালেবান। তবে আইএসের ক্ষেত্রে তালেবানের অবস্থান শুরু থেকেই ভিন্ন।

আইএসের উপস্থিতি তালেবানকে অস্তিত্ব সংকটে ভোগায়। দীর্ঘদিন ধরে আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে তালেবান।

গত সপ্তাহে বাইডেন বলেছিলেন, তালেবান ও আইএসের মধ্যে মিল হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মাইকেল কুগেলম্যান জানান, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সুযোগ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ছাড়বে না।

স্থানীয় পর্যায়ে হামলার পাশাপাশি সিরিয়া বা ইরাকের পরিবর্তে এখন আফগানিস্তানে আস্তানা গাড়তে পারে এসব সংগঠন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের ৮ থেকে ১০ হাজার যোদ্ধা এ মুহূর্তে অবস্থান করছে।

আইএস-কে ও তালেবানের সম্পর্ক

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আফগানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেথ জোনস বলেন, ‘আইএস ও আইএস-কের লক্ষ্য ইসলামিক আমিরাত প্রতিষ্ঠা। তালেবানও ইসলামিক আমিরাতের কথা বলে।

‘তা সত্ত্বেও আল-কায়েদা ও তালেবানের প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস ও আইএস-কে।’

সম্পদ ও অঞ্চল নিয়ে তালেবান ও আইএস-কের মধ্যে অহরহই সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের অন্যতম কারণ মতাদর্শগত ভিন্নতা।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাষ্য, ‘মতাদর্শগত ভিন্নতা ও সম্পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা তালেবান ও আইএস-কের মধ্যকার শত্রুতার মূল কারণ।

‘ইসলামের সর্বজনীন বিশ্বাসের মাধ্যমে জনমনে আস্থা তৈরি না করে সংকীর্ণ জাতিগত ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তালেবান জনমনে বৈধতা অর্জন করে বলে অভিযোগ আইএসের।’

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে ঝোলাল তালেবান

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের রাস্তা। ছবি: এএফপি

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে বন্দুকযুদ্ধে চার অপহরণকারীকে মেরে ক্রেনে করে তাদের মরদেহ জনসমক্ষে ঝুলিয়েছে তালেবান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রদেশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

তালেবানদের দেয়া এমন শাস্তির বিভিন্ন গ্রাফিক্স ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মরদেহগুলো একটি পিকআপে রাখা। আর সেখান থেকে ক্রেনে করে একটি মরদেহ উঁচিয়ে ধরা হয়েছে। আর মানুষজন পিকআপটি ঘিরে আছে। অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হেরাতের একটি রাস্তার মোড়ে ক্রেন থেকে একটি মরদেহ নিচে নামানো হচ্ছে। ওই মরদেহের বুকে লেখা, ‘অপহরণকারীদের এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।’

হেরাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে মরদেহগুলো প্রদর্শন করা হয়। গত মাসের ১৫ তারিখ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর জনসমক্ষে তালেবানের দেয়া এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। আর এই শাস্তি ২০ বছর আগের তালেবান সরকারের শাস্তিরই অনুরূপ।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও ক্লিপে বিবৃতি দিয়েছেন হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুহাজির, যা বার্তা সংস্থা এএফপির হাতেও পৌঁছেছে।

তাতে মুহাজির জানান, শনিবার সকালে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর পুলিশ শহরের বাইরের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। তালেবান যোদ্ধারা একটি চেকপয়েন্টে অপহরণকারীদের আটক করে। এ সময় গোলাগুলি হয়।

মুহাজির বলেন, ‘কয়েকটি মিনিটের ওই লড়াইয়ে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারীর মৃত্যু হয়। আমরা ইসলামি আমিরাত। কেউ আমাদের জাতির ক্ষতি করতে পারবে না। এখানে কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’

শনিবারের এই ঘটনার আগেও মুহাজির তার প্রদেশে একটি অপহরণের ঘটনার তথ্য দেন। জানান, অপহরণকৃত এক ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় একজন অপহরণকারীকে হত্যা করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের এমন আরও একটি ঘটনা ঘটেছে হেরাতে। তবে ওই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তালেবান। তালেবানের উদ্যোগের আগেই অপহরণকারীরা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপহৃতকে মুক্তি দেয়।

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান
হেরাতের রাস্তায় জনসমক্ষে ঝোলানো এক অপহরণকারীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

মুহাজির বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অনেক হতাশ করেছে। আমরা যেখানে হেরাতে আছি, সেখানে মানুষকে অপহরণ করা হচ্ছে।

‘কাউকে অপহরণ বা হয়রানি না করতে এবং অন্য অপহরণকারীদের শিক্ষা দিতে আমরা শহরের বিভিন্ন চত্বরে তাদের ঝুলিয়েছি। এটার মাধ্যমে পরিষ্কার করেছি যে যারা চুরি, ছিনতাই করবে, অপহরণ করবে বা আমাদের মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কোনো কাজ করবে, তাদের এমন শাস্তিই দেয়া হবে।’

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত-পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

হোয়াইট হাউজে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে। আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করতে এবং নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত তালেবানকে অবশ্যই মানতে হবে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করেন বাইডেন ও মোদি।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুল পতনের দুই সপ্তাহ পর ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন ২৫৯৩ (২০২১) গৃহীত হয়।

এতে বলা হয়, অন্য দেশে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের মাটি ফের কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেয়া এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়ন না করার কথাও ওই রেজল্যুশনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে।

‘আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। চলতি মাসের শুরুতে নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তান নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি। ছবি: দ্য ডন

আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ বেছে নিয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

এতে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক ক্রেডিট অথরাইজেশন নোটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় এমন যুদ্ধ বিমান কিনতে ২০২২ বাজেটে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, আর্জেন্টিনা পাকিস্তানের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি কেনার পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

আর ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কারণে অন্যান্য দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা কেনার জন্য ভাবছে বুয়েনসআয়ার্স।

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বন্ধুপ্রতীম কোনো দেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না আর্জেন্টিনার জন্য।

আর্জেন্টিনা ২০১৫ সালে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল। পরে উভয় দেশই যুক্তরাজ্যের চাপে বুয়েনসআয়ার্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছু হটে। তাই যুদ্ধ বিমান কিনতে অগত্যা পাকিস্তানমুখী হয়েছে আর্জেন্টিনা।

গত এক দশকে যুদ্ধবিমানে বেশ উৎকর্ষতা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে চীন।

যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি নির্মাণ করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ বিমান আকাশপথে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করেছে।

এই যুদ্ধ বিমানে যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশও রয়েছে। বিপজ্জনক মুহূর্তে বিমান থেকে পাইলটের বের হয়ে আসার ইজেক্টর সিটটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান মার্টিন বেকার।

কী আছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ এ?

এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমান বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। এটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে।

আকাশপথে শত্রুপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া, আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ, আকাশ পথে আক্রমণ, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায় বিমান।

এই যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তান প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৪২ শতাংশ চীনের প্রযুক্তি। বিমানটি নির্মাণের পুরো কাজটিই হয় পাকিস্তানের মাটিতে।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

কাবুলের রাস্তায় নারীরা। ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারী ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতারা যেসব দাবি রেখেছে তা পূরণ করতে তালেবান সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত।

কাবুলে সম্প্রতি আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দের সঙ্গে দেখা করে তালেবানের এ ইচ্ছার কথা জানান তারা।

তালেবান সরকারের মনোভাব নিয়ে তিন বিশেষ দূতই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠকটির বিষয়ে অবগত কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য ট্রিবিউন এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

বিশেষ তিন দূত আফগানিস্তানের হাটবাজার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেছেন। সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখেছেন তারা।

সূত্রগুলো বলেছে, আফগানিস্তানে ‘সবার সরকার’ গঠন করতে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি সবার সঙ্গে একমত।

তবে তালেবান নেতৃত্ব জানিয়েছে, গত ২০ বছর আফগানিস্তান সরকারে যারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা পরিচিত মুখ হলেও তালেবান সরকারে তাদের নেয়া হবে না।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূতদের তালেবান থেকে এটাও জানানো হয়েছে, নারী শিক্ষার প্রতি আফগানিস্তানে কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে এই শিক্ষা পদ্ধতি হবে ‘শরিয়াহ’ আইন অনুযায়ী।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, তালেবান নেতারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে চান। এ জন্য আফগানিস্তান নিয়ে বিশ্বের উদ্বেগগুলো দূর করতে চান তারা।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
হতাহত নিয়ে উল্টো সুরে তালেবান
হামলার পরও আগস্টেই কাবুল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
কাবুলে হামলাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে: বাইডেন
কাবুলে হামলায় ২৮ তালেবান নিহতের দাবি
কাবুলে নিহত বেড়ে ৯০, আইএসের দায় স্বীকার

শেয়ার করুন