তালেবানের এবারের শাসন কেমন হবে

তালেবানের এবারের শাসন কেমন হবে

গত রোববার কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্যালেস দখল করে তালেবান। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ দুই দশক ধরে তালেবান ভেবেছে, ফের ক্ষমতায় গেলে তারা কীভাবে দেশ শাসন করবে। আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত রোববার তালেবান ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে দেশবাসীকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে যান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ঘানির পলায়নের খবর জানাজানি হওয়ার পর কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে কোনো বাধা ছাড়াই একে-৪৭ রাইফেল হাতে ঢোকে আফগান যোদ্ধারা।

প্রেসিডেন্ট প্যালেসের কয়েক মাইল দূরে ওই সময় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত আফগান নাগরিক জড়ো হয়েছে। তারা সবাই দেশ ছাড়তে উন্মুখ।

বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। চারদিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বিদেশি সামরিক বিমানে উঠতে মরিয়া বিপুলসংখ্যক আফগান। তাদের সরাতে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। মানুষজনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিলও করা হয়।

রোববার কাবুলে প্রবেশের আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছিল তালেবান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সে সময় টুইটবার্তায় জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ ও সাবেক মুজাহিদীন নেতা গুলবুদ্দিন হিকমতিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হচ্ছে।

অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের বক্তব্য খুব একটা আমলে নেয়নি তালেবান। রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারা।

বিদায়ী আফগান সরকারের সঙ্গে যতটুকু কথা তালেবান নেতারা বলবেন, তা আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই। এর বেশি কিছু নয়।

দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো ধরনের লড়াই ছাড়াই ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে দেখে কাবুলের অনেক নাগরিক কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কাবুল দখল নিয়ে ২৫ হাজারের বেশি আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়।

তালেবান আগের মতো নেই, তাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে- সংগঠনটির নেতাদের এসব বক্তব্য শুরুতে কিছু মানুষ বিশ্বাস করে। তাদের বিশ্বাসে খুব দ্রুতই আঘাত হানতে সক্ষম হয় তালেবান।

ক্ষমতায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বসেনি তালেবান। তবে কয়েকটি প্রদেশে নারীদের কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেছে সংগঠনটি।

নিজেদের যোদ্ধাদের সঙ্গে মেয়েদের বিয়ে দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তালেবান বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে চায় না। এবারের শাসনকাঠামো শিগগিরই সবাইকে জানানো হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কেরও আহ্বান জানান তিনি।

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপনেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদর বলেন, ‘এবারের যুদ্ধে আমরা জয়ী হব, এমন আশা ছিল না।

‘দেশকে আমরা কীভাবে সেবা করতে পারি, তাতেই এখন জোর দেয়া হবে।

‘আমরা আশ্বস্ত করে বলতে চাই, দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’

তালেবানের প্রধান নেতা এ মুহূর্তে হিবাতুল্লাহ আখুনজাদা হলেও দেশের ক্ষমতা গ্রহণের পর মোল্লা বারাদরই জনসমক্ষে বেশি হাজির হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তান দখলের মিশন তালেবানের শেষ।

পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা সংগঠনটির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে এখন আফগান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে। তাদের মধ্যে সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুব উল্লেখযোগ্য।

আফগান সরকারের মন্ত্রীদের বিষয়ে বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সদস্য অ্যান্ডরু ওয়াটকিন্স বলেন, ‘তালেবানের মধ্যে কি সরকারের কার্যক্রম চালানোর মতো জনবল রয়েছে, নাকি তারা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদের আপৎকালীন সময়ে কাজ চালিয়ে নিতে বলবে?’

এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি তালেবান। তাদের নিয়ে পশ্চিমা দেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তারা তালেবান সরকারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চায় না।

তবে মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আফগানিস্তানের নতুন শাসকের কাছ থেকে যৌক্তিক ব্যবহার পেতে আগ্রহী কয়েকটি দেশ।

আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তালেবানের জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে তালেবান।’

অন্যরা পাকিস্তানের মতো অতটা উচ্ছ্বসিত নয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘তালেবানকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কেউ স্বীকৃতি দিক, তা আমরা চাই না।

‘সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তালেবান শর্ত মানলে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয় ভাবা যেতে পারে।’

তালেবানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান শাসনের নতুন মডেল হাজির করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের নতুন সরকারকাঠামো পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদলে হবে না। তবে এটি সবার অধিকার রক্ষা করবে।’

দীর্ঘ দুই দশক ধরে তালেবান ভেবেছে, ফের ক্ষমতায় গেলে তারা কীভাবে দেশ শাসন করবে।

আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় জীবিত আটক এই যুবক নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: এনডিটিভি

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। উরি ও রামপুর সেক্টরে টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো হয়। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুইজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই শুরু সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার এক সদস্যকে জীবিত আটক ও আরেকজন গুলিতে নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সীমান্তে গত সাত দিনে সাতজনকে হত্যার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কাশ্মীর উপত্যকার নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী মঙ্গলবার জানায়, জম্মু-কাশ্মীরে বারামুল্লা জেলার সীমান্ত শহর উরিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এর জেরে সে সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

ভারতের সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল বীরেন্দ্র ভাটস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করার পর তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সে নিজের নাম আলী বাবর পত্র বলে জানিয়েছে। তার বয়স ১৯ বছর।

‘নিজেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাসিন্দা বলে জানানো আলী লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদে গোষ্ঠীটির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে সে।’

গত কয়েক বছরে ভারতে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটকের ঘটনা এটাই প্রথম।

গত এক সপ্তাহে সাত অনুপ্রবেশকারীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল ভাটস বলেন, ‘পুরো নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকাজুড়ে এমন পরিস্থিতি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া এত মানুষের পক্ষে সীমান্ত পেরোনো সম্ভব নয়। কারণ সীমান্তের ওপারে আগে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের পার হয়ে আসতে হয় সন্ত্রাসীদের।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যায় ভারত। এরপর সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ধরা পড়ে কথিত লস্কর-ই-তাইয়েবা সদস্য।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে উরি ও রামপুর সেক্টরে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে ভারতীয় বাহিনী। টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুইজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই শুরু সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানান মেজর জেনারেল ভাটস।

অভিযানে একে সিরিজের সাতটি রাইফেল, নয়টি পিস্তল ও রিভলবার, ৮০টির বেশি গ্রেনেড এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন গত তিনদিনে চার ভারতীয় সেনাও আহত হয়েছে।

সালামাবাদ নালা এলাকা হয়ে অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা হয়েছিল। ২০১৬ সালে উরিতে ভারতীয় বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো সন্ত্রাসীরাও এ পথেই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। ওই হামলায় নিহত হয় ১৯ ভারতীয় সেনা। হামলার কিছুদিন পরই নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংসে কয়েক দফা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা

ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা

কাবুলে এক ব্যাংকের বাইরে অপেক্ষা করছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

ইসলামিক ব্যাংক অফ আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মুসা কলিম বলেন, ‘ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ তোলা এ সংকটের অন্যতম কারণ। গ্রাহকরা কেবল টাকা তুলছেন। বেশির ভাগ ব্যাংক কাজ করছে না। গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দিতে পারছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।’

আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ব্যাংক অফ আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মুসা কলিম আল-ফালাহি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসা কলিম জানান, গ্রাহকদের উদ্বেগ আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থাকে ‘অস্তিত্ব সংকটে’ ফেলেছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন মুসা কলিম।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ তোলা এ সংকটের অন্যতম কারণ।

‘গ্রাহকরা কেবল টাকা তুলছেন। বেশির ভাগ ব্যাংক কাজ করছে না। গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দিতে পারছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।’

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই দেশটির অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল আফগানিস্তান। দেশটির জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশি অর্থসহায়তা থেকে আসে।

গত মাসে কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।

এরপরই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রবেশাধিকারের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।

মুসা কলিম বলেন, ‘আর্থিক সহায়তার জন্য তালেবান ভিন্ন পথ খুঁজছে, এটি উৎসাহব্যঞ্জক।

‘আর্থিকসংকট কাটাতে চীন, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সহায়তা চাইছে তালেবান।’

তিনি বলেন, ‘ওই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তালেবান সফল হবে বলে মনে হচ্ছে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে এরই মধ্যে সহায়তার কথা জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া তালেবান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী দেশটি।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তান পুনর্নির্মাণে চীনের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

খাদ্যসহায়তা, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাসহ ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের অর্থসহায়তার অঙ্গীকার এরই মধ্যে করেছে চীন।

তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের অর্থনৈতিকসংকট দূর করতে হিমশিম খাচ্ছে তালেবান সরকার।

দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ক্রমাগত বাড়ছে, আফগান মুদ্রার পতন হচ্ছে এবং চাকরি হারানোয় অনেকের হাতে নগদ অর্থও নেই।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানের মাত্র পাঁচ শতাংশ পরিবার প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেতে পারছে।

আফগানিস্তান রাষ্ট্রটিকে টিকে থাকতে হলে তাই আন্তর্জাতিক তহবিল ও বিদেশি সহায়তার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, তালেবান সরকারের সঙ্গে তারা কাজ করতে আগ্রহী। তবে তার আগে ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটিকে নারী ও জাতিগত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

মুসা কলিম জোর দিয়ে জানান, ‘কিছুদিন’ আফগান নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার বিষয়ে তালেবান নিষেধাজ্ঞা দিলেও তার ব্যাংকে নারী কর্মকর্তারা কাজে ফিরেছেন।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবান যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ হারায় এক শিশু। ছবি: এএনআই

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান।

শিশুটির বাবা আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সন্দেহভাজন সদস্য হওয়ায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালেবানের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে পাঞ্জশির অবজারভার। মূলত পাঞ্জশির ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় স্বাধীন এই সংবাদমাধ্যমটিতে।

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। এর আগে একটি ছাড়া দেশটির ৩৪টি প্রদেশের সবই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা ও স্থানীয় লোকজনের তীব্র তালেবানবিরোধী মনোভাবের কারণে পাঞ্জশির উপত্যকা বারবার দখলের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় তালেবান।

আফগানিস্তান দখলের পর একমাত্র পাঞ্জশির প্রদেশেই স্থানীয় লোকজন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আশপাশের প্রদেশ থেকেও সশস্ত্র তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দেন।

কাবুল পতনের পর সপ্তাহ খানেক ধরে চলে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই। লড়াইয়ের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটির হাতে পাঞ্জশিরের পতন হয়।

তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া বা কথা বলা ভিন্ন মতাবলম্বীদের আফগানিস্তানে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এরপরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর অংশ হিসেবে নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেয় তালেবান।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবান কাবুল পতনের পরপরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে দেখায়। আগের শাসনামলে ফিরে না যাওয়ার কথাও তারা বলে। তবে কতটুকু তারা এসব অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপরই তালেবানের মূল্যায়ন হবে।

দেশি-বিদেশি মহলকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তালেবানের নতুন সরকারে শেষ পর্যন্ত কোনো নারীকে দেখা যায়নি। ছিল না জাতিগত সম্প্রদায়ের কোনো নেতাও।

সাংবাদিক, ভিন্ন মতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া বা সমর্থন করা ব্যক্তিদের ওপর চলতি মাসের শুরু থেকেই গোষ্ঠীটি চড়াও হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবানের প্রতিশোধের ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হারিস বলেন, ‘কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কখনো কোনো পোস্ট করিনি। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেয়ার আগে দেশটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা তালেবানের নীতির কড়া সমালোচনা করতেন।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের পর গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের প্রতিহিংসামূলক হামলার ভয়ে ওই আফগানরা তালেবানবিরোধী আগের সব ছবি ও টুইট মুছে ফেলেন।

আবার এদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টও সরিয়ে নেন।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা পশ্চিমা দেশ সমর্থিত সাবেক সরকারকে সহায়তা করাসহ সব আফগানকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা গোষ্ঠীটির নেতারা দিলেও তাদের আশ্বাসবাণীতে ভরসা রাখতে পারছেন না অনেকে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্নমতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিকদের তালেবানের হাতে প্রাণ হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এক অডিও বার্তায় স্বীকার করেন, গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দুই আফগানের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

এদের একজন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্যজন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের বাসিন্দা।

এবারের তালেবান শাসনের আগে উভয়ই প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাস খানেক আগেও তাদের লাখ লাখ ফলোয়ার ছিল।

তালেবানের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই দুই আফগান নিজেদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।

ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কাবুলে বসবাসরত ফিদা তালেবানের কট্টর সমালোচক। গোষ্ঠীটির নীতি বা কর্মকাণ্ড নিয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করতেন তিনি।

তালেবানের ভয়ে পশ্চিমা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যেসব আফগান আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ফিদাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আত্মীয়স্বজন আমাকে বলেছেন, ‘দখলদারদের’ বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধের সমালোচনা করায় আমার জীবন এখন হুমকিতে।

‘তালেবান সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিলেও তারা কাউকে ক্ষমা করবে না'।"

ফিদা জানান, তালেবান যোদ্ধারা যেসব আফগানকে ‘দেখা মাত্রই মাথায় গুলি করার’ তালিকা প্রস্তুত করেছে, সেখানে তার নামও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে দিনের পর দিন আতঙ্কে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’

তালেবাননিয়ন্ত্রিত এক শহরে বাস করেন হারিস। তিনি জানান, কাবুল পতনের দুই দিন পর তিনি তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তিনিও দেশত্যাগ করবেন।

শুধু হারিসই নন, তার মতো আরও শত শত তরুণ আফগান শিগগিরই দেশ ছাড়বেন।

হারিস জানান, কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কখনো কোনো পোস্ট করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও কেন দেশ ছাড়তে চাইছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদ বোধ করছি না।

‘তালেবান যোদ্ধারা এখনও লোকজনকে টার্গেট করে হত্যা করছে। বিরোধীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।’

হারিস বলেন, ‘তালেবানের অত্যাচার সবে শুরু হয়েছে। সামনে আরও অনেক কিছু দেখবে বিশ্ব।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচির ফলে গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট। ছবি: এনডিটিভি

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে কৃষকদের আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

১০ মাস পর নতুন গতি পেল ভারতের কৃষক আন্দোলন। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাজারো কৃষকের অবস্থান ধর্মঘটে অচল রাজধানী দিল্লির সীমান্ত। বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন।

পার্লামেন্টে আইন তিনটি অনুমোদন পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে ‘ভারত বনধ’ বা দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম)। ৪০টি কৃষক ইউনিয়নের জোট এসকেএমের ডাকে বেশ কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

এসকেএম জানায়, কর্মসূচির আওতায় বন্ধ থাকবে সারা ভারতের স্কুল, কলেজ, সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট, কলকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। কেবল জরুরি সেবা চালু রাখতে দেয়া হবে বলে জানায় জোটটি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হয় এ বিক্ষোভ। গাজিপুরের আন্দোলনস্থলের কাছে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। এতে উত্তর প্রদেশ থেকে বের হওয়া যানবাহন মাঝপথেই আটকা পড়ে। গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট।

রাজধানীতে প্রবেশের পথে সব যানবাহনে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়। বন্ধ ছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তও।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ও বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষকদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে।

কংগ্রেস দলটির প্রত্যেক কর্মী, রাজ্য শাখার প্রধান ও অন্যান্য নেতাদের ভারত বনধ্-এ যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান নভজ্যোৎ সিং সিধু দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। তিনটি অসাংবিধানিক কালো আইনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে লড়াই করতে কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

উত্তর প্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী জানান, শান্তিপূর্ণ ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে তার দলেরও সমর্থন আছে।

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে এ কৃষক আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

যাবতীয় প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় কৃষকরা। তীব্র শীত, দাবদাহ, ঝড়-বৃষ্টি, এমনকি করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও রাজধানী নয়া দিল্লিসংলগ্ন প্রধান মহাসড়কগুলোতে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন তারা।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) প্রধান রাকেশ তিকাইত রোববার বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও ১০ বছর বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত কৃষকরা। তাও কলঙ্কজনক এ আইন বাতিল হবে না।

‘কৃষিমন্ত্রী আমাদের আলোচনার জন্য ডাকছেন। আলোচনায় বসতে আমাদের সমস্যা নেই। খালি সময় আর জায়গা বললেই হবে। কিন্তু তিনি বলছেন যে এসব আইন নাকি আমাদেরই স্বার্থে। তাহলে ১০ বছর লাগলেও এ জায়গা থেকে নড়ছি না আমরা।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে পাস হয় তিনটি কৃষি আইন। কৃষকদের দাবি, এসব আইনের ফলে বস্তুত কৃষি খাতের বেসরকারিকরণ ঘটবে এবং খাতটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। কারণ আইনগুলোতে সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারের চেয়েও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে ক্রেতাদের। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ন্যূনতম দামও মিলবে না বলে শঙ্কা কৃষকদের।

ক্ষুদ্র চাষিদের মতে, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দৌড়ে পিছিয়ে পড়বেন তারা। এতে গম ও চালের মতো প্রধান শস্যগুলো অনেক কম দামে বিক্রি করতে হবে তাদের।

যদিও মোদি সরকারের দাবি, কৃষি আইন সংস্কারের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ ও ভালো দাম পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

এসকেএম জোটের অভিমন্যু কোহারের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মাস ধরে মোদি সরকার কৃষকদের দাবি ও বিক্ষোভ উপেক্ষা করছে। তাই বাধ্য হয়েই সরকারের নীতিমালার বিরুদ্ধে সব অঞ্চল, শ্রেণির, বয়সের কৃষক ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টদের ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়েছে।

কোহার বলেন, ‘সরকার দাবি করছে যে, বিরোধী দলশাসিত দুই থেকে তিনটি রাজ্যেই নাকি বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু আজ আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে সারা দেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে আমাদের প্রতি। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, আসাম থেকে গুজরাট পর্যন্ত ছড়িয়েছে এ আন্দোলন।’

হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ আর কর্ণাটকসহ মোদির দল বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর কৃষকরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বলে জানান কোহার।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে একটি সমাবেশে যোগ দেয় পাঁচ লাখের বেশি কৃষক। চলমান কৃষক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সেটি।

সব কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আগেই আশ্বাস দিয়েছে কৃষক ইউনিয়নগুলো। এ পর্যন্ত বেশিরভাগ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ট্রাক্টর মিছিলের সময় সংঘর্ষে প্রাণ যায় কমপক্ষে একজনের; আহত হয় ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ওই সহিংসতার জন্য কৃষকদের দায়ী করেছিল মোদি প্রশাসন। কৃষকদের দাবি ছিল, অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে কৃষকদের ন্যায্য আন্দোলন বন্ধের অপচেষ্টা ছিল সেটি।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের অর্ধেক বাসিন্দাই জীবিকা অর্জনের জন্য কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির দুই দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশই কৃষিনির্ভর।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, ‘আইন ব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণা ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

ভারতে নারী বিচারকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সমগ্র বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ নারীদের আস্থা বাড়বে, একই সঙ্গে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মনে করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শপথ নিয়েছেন ৯ নতুন বিচারপতি। প্রথমবারে একসঙ্গে তিন নারী বিচারপতি পেয়েছে দেশটি। নারী বিচারপতিদের অভ্যর্থনা জানাতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সর্বোচ্চ আদালতের নারী আইনজীবীরা। সেই অনুষ্ঠানে বিভি নাগারত্ন এসব কথা বলেন।

নাগারত্ন বলেন, ‘আইনব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণাগুলো ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়লে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিভি নাগারত্ন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতির মেয়ে। এত দিন তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিনি হতে পারেন।

যদিও তত দিনে তার মেয়াদ আর বেশি দিন বাকি থাকবে না। ৩৬ দিন মেয়াদে তিনি প্রধান বিচারপতি হবেন। তবে তার হাত ধরে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের ইতিহাসে।

বিভি নাগারত্ন ছাড়াও বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিমা কোহলি ও বেলা এম ত্রিবেদী।

হিমা কোহলি

হিমা কোহলি ২০০৬ সালে দিল্লি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে সেখানেই স্থায়ী পদে জায়গা পান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪-এর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে থাকবেন।

বেলা এম ত্রিবেদী

বেলা এম ত্রিবেদী গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিযুক্ত হন। একই বছর রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বদলি হন।

২০১৬ সালে আবার গুজরাট হাইকোর্টে ফিরে আসেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইনসচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ১০ জুন।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায়  ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লব দেবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

আদালত নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

রোববার বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের একটি ভিডিও নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে আগরতলার রবীন্দ্রভবনে ত্রিপুরার সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে আদালত নিয়ে বিপ্লবের বিতর্কিত মন্তব্যটি শোনা যায়।

বিপ্লব বলেন, ‘অনেকে বলেন, আদালত অবমাননা হয়ে যাবে। আদালত অবমাননার দায়ে কারও জেল হয়েছে? আমি তো আছি। জেলে গেলে আমি যাব। এটা এত সহজ নয়।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যিনি সরকার চালান, তার হাতেই সব ক্ষমতা। জেলে যাওয়ার জন্য পুলিশ চাই। পুলিশ তো মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে। তারা বলবে, আমরা কাউকে খুঁজে পাইনি। তখন আদালত কী করবে?’

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের এমন বক্তব্যে হতবাক হয়েছেন আইনজীবী থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ।

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

বিপ্লব দেবের মন্তব্যের সমালোচনা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘গোটা দেশের কলঙ্ক বিপ্লব দেব। নির্লজ্জভাবে গণতন্ত্রকে নিয়ে উপহাস করছেন। বিচার ব্যবস্থাকেও ছাড়ছেন না। সুপ্রিমকোর্ট কি এ ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্যে নজর দেবে?’

অতীতেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিপ্লব দেবেই আস্থা রেখেছেন।

তবে সম্প্রতি তৃণমূল ত্রিপুরায় সংগঠন তৈরি করতে সক্রিয় হলে বিপ্লব দেবের সরকারের বাঁধার মুখে পড়ে। সভা-সমিতি বন্ধে এরই মধ্যে ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে বিপ্লব দেব নিজেই সভায় অংশগ্রহণ করছেন অথচ বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন