বাংলাদেশি কীভাবে ভারতের মন্ত্রিসভায়, মোদিকে চিঠি

বাংলাদেশি কীভাবে ভারতের মন্ত্রিসভায়, মোদিকে চিঠি

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রিপুণ বোরা৷ ফাইল ছবি

চিঠিতে কংগ্রেস সাংসদ লিখেছেন, নিশীথ প্রামাণিক একজন বাংলাদেশি নাগরিক৷ তার জন্মস্থান বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামে৷ কংগ্রেস সাংসদের আরও অভিযোগ, কারসাজি করে নির্বাচনী হলফনামায় নিজের জন্মস্থান গাইবান্ধার স্থানে কোচবিহার দেখিয়েছেন নিশীথ৷

ভারতে নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার নবীন সদস্য কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক আসলে বাংলাদেশি নাগরিক কি না, এমনই চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদন্তের দাবি জানালেন বিরোধীদল কংগ্রেসের জেষ্ঠ্য নেতা ও অসমের রাজ্যসভার সদস্য রিপুণ বোরা৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব ইস্যুতে জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে (বারাক বাংলা, রিপাবলিক টিভি ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া টুডে, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন রিপুণ বোরা৷

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, নিশীথ প্রামাণিক একজন বাংলাদেশি নাগরিক৷ তার জন্মস্থান বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামে৷ কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসেন এবং ডিগ্রি লাভের পর প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে এবং পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে তিনি কোচবিহারের সাংসদ হয়েছেন৷’

চিঠিতে কংগ্রেস সাংসদ আরও উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার বাংলাদেশের বাড়িতে নিশীথের ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন৷

কংগ্রেস সাংসদের আরও অভিযোগ, কারসাজি করে নির্বাচনী হলফনামায় নিজের জন্মস্থান গাইবান্ধার স্থানে কোচবিহার দেখিয়েছেন নিশীথ৷

বাংলাদেশি কীভাবে ভারতের মন্ত্রিসভায়, মোদিকে চিঠি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিশীথ প্রামাণিক।

রিপুণ ভোরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘এই খবর যদি সত্যি হয় তা হলে তা অত্যন্ত ভয়াবহ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে৷

কারণ একজন বিদেশি নাগরিক ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন৷ আপনার কাছে আমার অনুরোধ, নিশীথ প্রামাণিকের প্রকৃত জন্মস্থান কোথায় তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিন৷ যাতে নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং এ বিষয়ে দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হয়৷’

শিক্ষামন্ত্রীরও একই দাবি

কংগ্রেস নেতার এই চিঠির কথা উল্লেখ করে নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও৷

ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যসভার সাংসদ রিপুণ বোরা এই প্রশ্নগুলি তুলেছেন৷ একাধিক সংবাদমাধ্যমেও দাবি করা হয়েছে যে নিশীথ প্রামাণিক বাংলাদেশের নাগরিক৷

মন্ত্রী হিসেবে তাকে নিয়োগের আগে কি কোনও তথ্যই যাচাই করা হয়নি? এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক ফৌজদারি মামলার কথাও ভুলে গেলে চলবে না৷ লজ্জা!'

বিজেপির চ্যালেঞ্জ

বিজেপি অবশ্য কংগ্রেস নেতার বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিরোধীরা আদালতে যেতে পারেন।

নিশীথ প্রামাণিকের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, কোচবিহারের সাংসদের জন্ম থেকে শুরু করে পঠন-পাঠন এবং বড় হওয়া সবই ভারতের মাটিতে৷

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার নবীন সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেছেন নিশীথ প্রামাণিক।

কে এই নিশীথ প্রামাণিক

নিশীথ প্রামাণিকের পৈতৃক বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ভেলাকোপা গ্রামে। তার বাবার নাম বিধু ভূষণ প্রামাণিক।

নিশীথের জ্যাঠা শ্রীদক্ষিণা রঞ্জন প্রামাণিক জানান, নিশীথের বাবা বিধু ভূষণ প্রামাণিক দেশভাগের আগে ভারতের কোচবিহারে পাড়ি জমান। এরপর সেখানে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নিশীথ প্রামাণিক তাদের একমাত্র সন্তান। ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন নিশীথ।

তিনি বলেন, ‘সাংসদ থেকে এবার মোদি সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছে নিশীথ। মাত্র ৩৫ বছরে তার এই অর্জনে আমরা খুশি।’

নিশীথের জ্যাঠা আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে ঢাকায় এসেছিল নিশীথ। সে সময় ভেলাকোপায় বেড়াতে এসেছিল। ভারতে বাস করলেও নিশীথ আমাদের সন্তান। এটা আমাদের জন্য গৌরবের।

‘ভারতে লেখাপড়া শেষ করে প্রথম শিক্ষকতায় যোগ দেন নিশীথ। কিছুদিন পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তার জনপ্রিয়তার কারণে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলার যুব সেক্রেটারি নির্বাচিত হন নিশীথ। পরে যোগ দেন বিজেপিতে।’

জ্যাঠাতো ভাই সঞ্জিত কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার খারিজা বালাডাঙ্গা (ভেটাগুড়ি) গ্রামের বাসিন্দা আমার ভাই। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।’

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিশীথ প্রামাণিক তার যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার মূল্যায়ন পেয়েছেন। অজপাড়া গ্রামের ছেলে নিশীথের এই অর্জন গ্রামের কেউ কল্পনাও করতে পারিনি।’

গাইবান্ধার জেলা পরিষদের সদস্য ও ভেলাকোপা গ্রামের বাসিন্দা মো. জরিদুল হক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নিশীথ মেধাবী। তার মেধা, মনন ও আত্মবিশ্বাস তাকে আজ এত দূর নিয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বুস্টার শট নিলে চীনা টিকাগ্রহীতাদেরও ঢুকতে দেবে সৌদি

বুস্টার শট নিলে চীনা টিকাগ্রহীতাদেরও ঢুকতে দেবে সৌদি

সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রবেশ করছেন এক বিদেশি পর্যটক। ছবি: সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা পাওয়ার জন্য ভিজিটসৌদি ডটকম পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন ৪৯টি দেশের নাগরিকরা। এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ।

চীনের দুই প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাগ্রহীতারাও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের বুস্টার শট নেয়া থাকতে হবে।

রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুস্টার শটটি নিতে হবে সৌদি আরবে অনুমোদিত টিকাগুলোর যেকোনো একটি থেকে।

সৌদি আরবের ই-ভিসা পোর্টালে বলা হয়, ‘সিনোফার্ম বা সিনোভ্যাকের করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নেয়া অতিথিদেরও স্বাগত জানাবে রিয়াদ। তবে তারা সৌদি আরবে অনুমোদিত চারটি টিকার যেকোনো একটি থেকে অতিরিক্ত আরেক ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নিলে এ দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।’

সৌদি আরবে যে চারটি প্রতিষ্ঠানের টিকা অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসন আর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য ১ আগস্ট থেকে সীমান্ত খুলে দেয় সৌদি আরব। টিকা নেয়া থাকলে সৌদিতে এখন থেকে ভ্রমণ হবে কোয়ারেন্টিনবিহীন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকরা নিজ দেশে প্রশাসনের অনুমোদিত টিকা সনদ দেখিয়ে সৌদিতে ঢুকতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে শেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ ফলও দেখাতে হবে তাদের।

রিয়াদের নতুন ইলেকট্রনিক পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে ডোজসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে পর্যটকদের। ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপেও এসব তথ্যের রেকর্ড রাখা হবে। যেকোনো জায়গা দর্শন বা ভ্রমণের আগে অ্যাপটিতে নিজেদের তথ্য দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন তারা।

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা পাওয়ার জন্য ভিজিটসৌদি ডটকম পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ওশানিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ৪৯টি দেশের নাগরিকরা।

এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ।

রিয়াদ জানিয়েছে, আগে ইস্যু করা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসা পর্যটকদের সৌদি বিমানবন্দরে পৌঁছে অতিরিক্ত ১০ ডলার জমা দিতে হবে। করোনাসংশ্লিষ্ট চিকিৎসা খরচ বহনে বিমা হিসেবে নেয়া হবে এ অর্থ।

দেড় বছরের বেশি সময়ে মহামারিতে সৌদি আরবে আট হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। ছোঁয়াচে রোগটি শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেহে।

দেশটির ৫৮৭টি টিকাকেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন কোটি ডোজ দেয়া হয়েছে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম নিজেদের দরজা খুলে দেয় সৌদি আরব। এরপর প্রথম ছয় মাসে দেশটি প্রায় চার লাখ মানুষকে ভিসা দেয়।

এরপরই মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি সব সীমান্ত আর বন্দর বন্ধ করে দেয় রিয়াদ।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো ইসরায়েলি নারী ইদিত হারেল সেগাল। ছবি: আরব নিউজ

যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। এ ঘটনাকে বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের নাগরিক ইদিত হারেল সেগাল বিশেষ কিছু করে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অপরিচিত কোনো মৃত্যুপথযাত্রীকে একটি কিডনি দান করবেন তিনি।

কিডনি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে এবং তাকে কিডনি দানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে সেগালের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ পর্যন্ত কিডনির প্রয়োজন এমন কাউকে খুঁজে পান সেগাল। তার কিডনি গ্রহীতা হলো ফিলিস্তিনি এক শিশু; যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব-সহিংসতার ইতিহাস কয়েক দশকের।

সেগালের কিডনি নেয়া তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি ইসরায়েল কর্তৃক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দা।

পেশায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক সেগাল নিজেকে একজন গর্বিত ইসরায়েলি বলে জানান। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্ত নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক, সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরায়েলের এই নাগরিক উদারতার উদাহরণ দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা পেরেছেনও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের ইহুদিবিরোধী বর্বরতার শিকার প্রয়াত দাদার স্মৃতিতে উদ্দীপ্ত সেগাল। তাকে অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে তোলার উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন দাদাই। বলেছিলেন, ইহুদি ধর্মের শিক্ষায় অন্যের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব হয় না। সেই উপদেশ আমলে নিয়েই কিডনিদাতা ও গ্রহীতাদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খোঁজ পান ফিলিস্তিনি শিশুটির।

ইসরায়েলি নাগরিকের সাহায্য দেয়া-নেয়া স্পর্শকাতর বিষয় বলে শিশুটির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন তার মা-বাবা।

এই কিডনি বিনিময় প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেছে জেরুজালেমভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা মাতনাত শাইম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শ্যারোনা শারম্যান জানান, গাজার শিশুটি ভীষণ অসুস্থ ছিল। তাকে বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলি দাতার কাছ থেকে কিডনি নেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে। শিশুটির সঙ্গে কিডনি ‘ম্যাচ’ না করায় নিজের কিডনি দিতে পারেননি বাবা।

তবে যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি শিশুটির বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। ওই তরুণীও দুই সন্তানের মা।

সেগালের কিডনিতে শিশুটির জীবন বেঁচে যাওয়ায় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবার এক ইসরায়েলিকে কিডনি দেয়ার ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বাবার কিডনি দান করাকে বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন ইসরায়েলিরা। ঘটনাটিকে তারা দেখছেন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানে অঞ্চল দুটির মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে।

অস্ত্রোপচারের আগে ফিলিস্তিনি শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন সেগাল, তাদের মধ্যে এখনও যোগাযোগও আছে।

ফিলিস্তিনি শিশুটিকে কিডনির সঙ্গে একটি চিঠিও দিয়েছেন সেগাল। হিব্রু ভাষায় লেখা চিঠিতে শিশুটির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনবে না। কিন্তু খুব শিগগিরই এক সুতোয় বাঁধা পড়ব আমরা, তোমার শরীরে আমার কিডনি থাকবে যখন।

‘আমি মনেপ্রাণে চাই, এই অস্ত্রোপচার সফল হোক, তুমি বেঁচে যাও। তুমি দীর্ঘকাল বেঁচে থেকো, সুস্থ থেকো, অর্থবহুল জীবন হোক তোমার।’

চলতি বছরের মে মাসেই সবশেষ সহিংসতায় জড়ায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। ইসরায়েলের ১১ দিনের বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণ যায় আড়াই শর বেশি মানুষের, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও গাজার শাসক দল হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডেও প্রাণ যায় ১৩ জনের।

ওই সহিংসতার পরপরই, গত ১৬ জুন ফিলিস্তিনি শিশুটির দেহে সেগালের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়।

সেগাল লিখেছেন, ‘আমি আমার ক্ষোভ আর হতাশা বিসর্জন দিয়েছি। সামনে কেবল শান্তি আর ভালোবাসা দেখেছি। আমাদের মতো আরও অনেক মানুষ এগিয়ে এলে একসময় লড়াই করার জন্য আর কোনো কারণ পাব না আমরা।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেয়া খুব একটা সহজ ছিল না সেগালের জন্য। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তার স্বামী ও তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান সেগালের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন। সেগালের বাবাও মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগ মুহূর্তে অবশ্য পুরো পরিবারকেই পাশে পেয়েছিলেন তিনি।

তাদের কাছে মনে হয়েছিল, অযথাই নিজের জীবন বিপণ্ন করছেন সেগাল। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতে সেগালের দাদা-দাদিসহ তিন স্বজনের মৃত্যুর ইতিহাস পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছিল।

সেগাল বলেন, ‘পরিবারের প্রতিটি মানুষ আমার বিরুদ্ধে ছিলেন। স্বামী, বোন, বোনের স্বামী। ন্যূনতম যেটুকু সমর্থন শেষ দিকে পেয়েছি, সেটা বাবাই দিয়েছেন। তারা ভয় পেয়েছিলেন।’

ইসরায়েলের উত্তরে ইশার এলাকায় একটি পাহাড়ের চূড়ায় নিজ বাড়িতে বসে সেগাল জানান, শিশুটির পরিচয় জানার পর কয়েক মাস কাউকে কিছু বলেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে কিডনি দিচ্ছি জানার প্রতিক্রিয়াই যদি এমন হয়, তাহলে যে শিশুটি কিডনি নিচ্ছে, তার পরিবারের সদস্যদের জন্য হয়তো পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলের অস্তিত্ববিরোধী হামাস। তখন থেকেই উপত্যকা অঞ্চলটি কঠোরভাবে অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। অবরোধের কারণে দারিদ্র্যে জর্জরিত ফিলিস্তিনিরা; ভঙ্গুর তাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ প্রায় সব খাত। এ পর্যন্ত চারটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে চিরশত্রু পক্ষ দুটি।

দাতার স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই পারস্পরিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুমতি নেই। একটি নীতিতেই অঙ্গ দানের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে। আর তা হলো, দাতা স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ দান করবেন, কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাবেন না।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: মোদি সরকারকে দায়ী করলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: মোদি সরকারকে দায়ী করলেন মমতা

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের আমতায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মমতা বলেন, ‘এটা বৃষ্টির বন্যা নয়। এটা পানি ছাড়ার বন্যা। ম্যান মেইড ফ্লাড। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর) ইচ্ছা মতো পানি ছাড়ছে। এটা কেন্দ্রের খাল না সংস্কার করার ফল।’  

পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আমতায় গিয়ে মমতা বলেন, ‘এটা বৃষ্টির বন্যা নয়। এটা পানি ছাড়ার বন্যা। ম্যান মেইড ফ্লাড। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর) ইচ্ছা মতো পানি ছাড়ছে। এটা কেন্দ্রের খাল না সংস্কার করার ফল।’

এদিন আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা বিধ্বস্ত খানাকুল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত বদল করে সড়কপথে আমতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে যাওয়ার পথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন পান মমতা। ফোনালাপে ডিভিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মোদি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক খবর নেন। কোন জেলার কী অবস্থা, বন্যায় কত প্রাণহানি হয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি কী হয়েছে সে বিষয়েও দুজনের কথা হয়।

এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইট করে বলা হয়, ‘বাঁধ থেকে ছাড়া পানিতে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, সেটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যা কবলিত এলাকার সকলে যাতে সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন এজন্য প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

সড়কপথে আমতা পৌঁছে বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা এলাকা পানিমগ্ন থাকায় পানিতে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

টানা বৃষ্টি আর ডিভিসির ছাড়া পানিতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে আমতা, ঘাটাল, উদয় নারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়।

আমতার দুই নম্বর ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায়। উদয় নারায়ণপুরের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্লাবিত। এলাকার কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। দুর্গতদের যাতে খাবার ও খাবার পানির সমস্যা না হয় সেটি দেখার জন্য জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমতার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি খানাকুলে যাব ভেবেছিলাম। তবে অবস্থা খারাপ। সাবধানে থাকুন।’

পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে শুক্রবার বন্যা কবলিত খানাকুল এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

ভারতের সংসদ ভবন। ছবি; সংগৃহীত

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

ফোনে আড়িপাতার ঘটনায় বিক্ষোভ করায় তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় সাংসদকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।

ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদের ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের পদকে অসম্মান করেছেন তারা।

সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদরা হলেন দোলা সেন, শান্তা ছেত্রী, মৌসম নূর, মুহম্মদ নাদিমুল হক, আবীর রঞ্জন বিশ্বাস এবং অর্পিতা ঘোষ। এর আগে সংসদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তৃণমূলের আরেক সাংসদ শান্তনু সেনকে।

পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি দাবিতে বুধবার রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল সাংসদরা৷

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বারবার তাদের সতর্ক করে নিজেদের জায়গায় ফিরে যেতে অনুরোধ করেন৷ সংসদীয় রীতি ভেঙে বিক্ষোভ দেখানোয় শাস্তি দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি৷ কিন্তু তাতেও শান্ত হননি তৃণমূল সাংসদরা৷

এরপরেই ছয় সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান৷ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

সব বিরোধী একজোট হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইটে তিনি লিখেন, ‘সরকার বিরোধীদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ।’

সাংসদদের সাসপেন্ড করার পর টুইটে বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘হার মেনেছেন ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার।’

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংসদকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বুধবার তৃণমূল সাংসদের টুইট প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি বলেন, ‘যদি পাপড়ি চাটে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে মাছের ঝোল খান। কিন্তু সংসদকে মাছের বাজারে পরিণত করবেন না। যেভাবে ষড়যন্ত্র করে সংসদকে অমর্যাদা করা হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

সোমবারই টুইটে ডেরেক লিখেছিলেন, ‘প্রতি সাত মিনিটে একটি করে বিল পাশ করা হয়েছে। এটা কি বিল পাশ নাকি পাপড়ি চাট বানানো?’

টুইটে ডেরেক হিসেব দিয়ে দেখিয়েছিলেন অধিবেশনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ১২টি বিল পাশ করানো হয়েছে। গড়ে সাত মিনিটে এক একটি বিল পাশ করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া মঙ্গলবারই বিজেপির একটি বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারা সংসদকে অপমান করছেন, মানুষকে অপমান করছেন।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

১৫ শতকে নির্মিত ইনকা সভ্যতার নিদর্শন পেরুর মাচু পিচু বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ছবি: এএফপি

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু।

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার স্থাপনাটির নির্মাণকাল ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দের পরে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল এতদিন। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর চেয়েও কমপক্ষে ২০ বছর আগে তৈরি হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের অনন্য এ নিদর্শন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি মাচু পিচু। ইনকা সাম্রাজ্যের সময়ে এটি প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাচু পিচু নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। যে অঞ্চলে এটির অবস্থান, ১৬ শতকে সেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। এর ভিত্তিতে মাচু পিচু ১৫ শতকে তৈরি বলে ধারণা করে আসছিলেন তারা।

কিন্তু রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও আগে এটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু। দেহাবশেষ বিশ্লেষণে ‘অ্যাক্সিলারেটর ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তারা।

মাচু পিচু নিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর এ গবেষণার ফলে আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দেয়া ঔপনিবেশিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড বার্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণার ফল থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যা কিছু আমরা জানি, তা ঔপনিবেশিক শাসনামলে নথিভুক্ত তথ্যনির্ভর, প্রাথমিক এবং এসব রেকর্ড সংশোধন করতে হবে।

‘ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আধুনিক রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য। কিন্তু ইনকা সময়কাল বোঝার এটা আরও ভালো উপায়।’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কেন্দ্র আবিষ্কার ও জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম মাচু পিচু।

এটির অতীত ইতিহাস ও পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে বসবাস করা মানুষ আজও রহস্য, যা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি

শহীদ আফ্রিদির বাড়ির সিংহ সরিয়ে ফেলেছে ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিদির বাসায় ২০১৮ সাল থেকে একটি সিংহ খাচায় রাখা ছিল। সিংহের পাশাপাশি হরিণসহ আরও কিছু প্রাণী ছিল। সেগুলো ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলেছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক ক্যাপ্টেন শহীদ আফ্রিদির বাসা থেকে সিংহসহ বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী সরিয়ে নিয়েছে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটি (ডিএইচএ)।

করাচিতে ডিএইচএস থেকে এক বাসিন্দা শহীদ আফ্রিদির বাড়িতে বন্যপ্রাণী রাখা আছে বলে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, অভিযোগ পেয়ে বুধবার ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ আফ্রিদির বাসায় অভিযান চালায়। এরপর তার বাড়িতে থাকা বন্যপ্রাণীগুলো নিয়ে যায়।

ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এর আগেও বাড়ি থেকে বন্যপ্রাণী সরিয়ে ফেলার জন্য আফ্রিদিকে বলেছিল। বলার পরও আফ্রিদি প্রাণীগুলো সরিয়ে নেননি।

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি
আফ্রিদির বাড়িতে ছিল হরিণও

আফ্রিদির বাসায় ২০১৮ সাল থেকে একটি সিংহ খাচায় রাখা ছিল। সিংহের পাশাপাশি হরিণসহ আরও কিছু প্রাণী ছিল।

বাসায় বন্যপ্রাণী রাখার অভিযোগের পর দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তদন্ত করে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ।

দেশটির আইনে বন্যপ্রাণী বাড়িতে বন্দি রাখা অপরাধ।

আরও পড়ুন:
খুনের আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধার ছেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন