করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত দাবি

করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত  দাবি

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কলকাতার বেশ কয়েকজন।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তেমন ম্যাগনেট ম্যানের সন্ধান মিলেছে। করোনার টিকা নেয়ার পর শরীরে আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, চামচ, যেকোনো লোহার বস্তু, এমনই চাঞ্চল্যকর তাদের দাবি।

করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর ভারতের বেশ কিছু মানুষের শরীর চুম্বকের মতো হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশ কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম আটকে থাকার।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তেমন ম্যাগনেট ম্যানের সন্ধান মিলেছে। করোনার টিকা নেয়ার পর শরীরে আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, চামচ, যেকোনো লোহার বস্তু, এমনই চাঞ্চল্যকর তাদের দাবি।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক ব্যক্তি দাবি করেন, করোনা টিকা নিয়ে তার শরীর চুম্বক হয়ে গেছে। বাড়িতে বসে সেই খবর দেখছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা নেপাল চক্রবর্তী। খবর দেখে, কৌতূহলবশত ৭ জুন করোনা টিকা নেয়া নেপাল নিজের বুকে একটা চামচ ঠেকাতেই দেখেন, তা শরীরে আটকে যাচ্ছে। এরপর হাতা, খুন্তি, খুচরা পয়সা, যেকোনো লোহার বস্তু শরীরে ঠেকালেই তা আটকে যাচ্ছে তার।

বিস্মিত নেপাল সেই দৃশ্য ভিডিও করে আত্মীয়দের পাঠাতেই শোরগোল পড়ে যায়।

নেপাল জানিয়েছেন, টিকা নেয়ার পর তার জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা কিছু হয়নি। সব আগের মতো স্বাভাবিক। শুধু শরীর হয়ে গেছে চুম্বক।

পরে নেপালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত  দাবি
ভারতের মহারাষ্ট্রের পর পশ্চিমবঙ্গেও বেশ কয়ে ব্যক্তির শরীর চুম্বকক্ষেত্র হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

একই রকম ঘটনা ঘটেছে আসানসোল, বসিরহাট, পলাশীপাড়ায়। আসানসোল পৌরসভার কর্মী, সুকান্তপল্লির বাসিন্দা ২৭ বছরের অঙ্কুশের দাবি, ৮ জুন করোনার টিকা নেয়ার পর নাসিকের ঘটনা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, তার শরীরেও আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, খুচরা পয়সা, গাড়ির চাবি যেকোনো লোহার জিনিস।

বসিরহাটের ম্যাগনেট ম্যানের নাম শংকর প্রামানিক। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মামুদপুর এলাকার বাসিন্দা, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শঙ্করেরও টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকে পরিণত হয়েছে বলে দাবি। শরীরে আটকে যাচ্ছে যেকোনো লোহার বস্তু।

ম্যাগনেট ম্যানের খোঁজ মিলেছে নদীয়ার পলাশীপাড়া থানা এলাকায়। সেখানেও আশ্চর্যজনকভাবে শরীর চৌম্বকীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। শরীরে আটকে যাচ্ছে যেকোনো লোহার জিনিস।

আজব এই খবরে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, কোনোভাবেই এটা সম্ভব নয়। টিকার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

আবার কিছু চিকিৎসক এটা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিনা, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

কেউ আবার দাবি করেছেন, টিকা নেয়ার পর একেকজনের শরীরে একেক রকম সমস্যা হতে পারে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা যায় না।

করোনা রুখতে টিকার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান চিকিৎসকরা।

দেশের কোটি কোটি মানুষ টিকা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। টিকা নেয়াতে ভয়ের কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেন চিকিৎসকরা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাড়ির বাইরে গেলে সঙ্গে থাকতে হবে টিকা সনদ

বাড়ির বাইরে গেলে সঙ্গে থাকতে হবে টিকা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষই সিডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত এই ভ্যাকসিন কার্ড পেয়েছেন। ছবি: ইউএসএ টুডে

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে ‘ভ্যাকসিন পাস’ বা টিকা সনদ চালু করল নিউইয়র্ক। অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হতে হলে নগরবাসীদের সঙ্গে থাকতে হবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশেষ করে যে কোনো রেস্তোরাঁ, জিম ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার আগে দেখাতে হবে টিকা সনদ।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে নগরবাসীকে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রূপ পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়তে থাকার মধ্যেই এলো এ ঘোষণা।

গত বছরের মতো এ বছরও সবকিছু বন্ধ রেখে জনগণকে ঘরবন্দি না রাখতে বিকল্প খুঁজছে প্রশাসন। সংক্রমণ বৃদ্ধির বাস্তবতা মাথায় রেখেই চলছে অর্থনীতি সচলের চেষ্টা। তাই টিকা সহজলভ্য হতে থাকায় সবাইকে ডোজ নিয়ে ও মাস্ক পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, ডেল্টার বিস্তারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের বের হওয়া বন্ধে ৬০ দিনের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

যদিও এ ধরনের স্থগিতাদেশ কার্যকরে কংগ্রসকে নতুন আইন পাস করতে হবে বলে চলতি বছরের জুনে এক সিদ্ধান্তে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীদের জন্য টিকাগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গুগল, ফেসবুক, টাইসন ফুডসসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের জন্য একই নীতিমালা নিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় পূর্ণ অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। করোনা প্রতিরোধী সব টিকাই এখন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে জরুরি অনুমোদন সাপেক্ষে।

শেয়ার করুন

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

১৫ শতকে নির্মিত ইনকা সভ্যতার নিদর্শন পেরুর মাচু পিচু বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ছবি: এএফপি

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু।

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার স্থাপনাটির নির্মাণকাল ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দের পরে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল এতদিন। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর চেয়েও কমপক্ষে ২০ বছর আগে তৈরি হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের অনন্য এ নিদর্শন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি মাচু পিচু। ইনকা সাম্রাজ্যের সময়ে এটি প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাচু পিচু নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। যে অঞ্চলে এটির অবস্থান, ১৬ শতকে সেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। এর ভিত্তিতে মাচু পিচু ১৫ শতকে তৈরি বলে ধারণা করে আসছিলেন তারা।

কিন্তু রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও আগে এটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু। দেহাবশেষ বিশ্লেষণে ‘অ্যাক্সিলারেটর ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তারা।

মাচু পিচু নিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর এ গবেষণার ফলে আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দেয়া ঔপনিবেশিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড বার্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণার ফল থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যা কিছু আমরা জানি, তা ঔপনিবেশিক শাসনামলে নথিভুক্ত তথ্যনির্ভর, প্রাথমিক এবং এসব রেকর্ড সংশোধন করতে হবে।

‘ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আধুনিক রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য। কিন্তু ইনকা সময়কাল বোঝার এটা আরও ভালো উপায়।’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কেন্দ্র আবিষ্কার ও জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম মাচু পিচু।

এটির অতীত ইতিহাস ও পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে বসবাস করা মানুষ আজও রহস্য, যা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা।

শেয়ার করুন

এবার আমিরাতের জলসীমায় ট্যাংকার ছিনতাই

এবার আমিরাতের জলসীমায় ট্যাংকার ছিনতাই

আরব সাগরে তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি

ছিনতাইয়ের শিকার ‘অ্যাসফল্ট প্রিন্সেস’ নামের ট্যাংকারটি বিটুমিন নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। পানামার পতাকা ছিল সেটিতে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

আরব সাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা থেকে একটি তেলের ট্যাংকার ছিনতাই হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নৌপথে বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা মঙ্গলবার ট্যাংকারটি ছিনতাই হয়েছে বলে শঙ্কা জানায়। পরে আরব আমিরাতের জলসীমা নিরাপত্তার তিনটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ছিনতাইয়ের শিকার ‘অ্যাসফল্ট প্রিন্সেস’ ট্যাংকারটি বিটুমিন নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। পানামার পতাকা ছিল সেটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসফল্ট প্রিন্সেসে নয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্যাংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের সন্দেহ করা হলেও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আব্দুলফজল শেকারচি এ ঘটনায় তেহরানকে দায়ী করার নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সাগরে এসব ঘটনা আর পারস্য উপসাগরে জাহাজ ছিনতাইয়ের মতো বিষয়গুলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নতুন ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতা মাত্র।’

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেতিবাচক তৎপরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।

তিনি বলেন, ‘পুরো অঞ্চলকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রেখেছে ইরান।’

ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদির দাবি, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ ও লেবাননের রাজনৈতিক অচলাবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ

জাহাজ ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নজর রাখার জন্য পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে একটি নৌযান অ্যাসফল্ট প্রিন্সেসের কাছাকাছি নেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

জাহাজ ছিনতাইয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। দেশটির নৌপথে বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও আরব আমিরাতের ফুজাইরা উপকূলের ৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকার মধ্যে চলাচলরত জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

গত সপ্তাহেই ওমান উপসাগরে ইসরায়েলের একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ে অঞ্চলটিতে। ওই হামলায় দুই ক্রু নিহত হন।

হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সে অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

শেয়ার করুন

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, নিহত ৪

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, নিহত ৪

কাবুলে অতি সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকা গ্রিন জোন। ছবি: এএফপি

হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের ‘সব চিহ্ন বহন করছে’ হামলার ধরন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান মোহাম্মদির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা।

তাদের দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না মন্ত্রী। তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

অতি সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় মঙ্গলবার হয় এ হামলা। সে সময় একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা; হয় ব্যাপক গোলাগুলিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মোহাম্মদি লিখেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। এখন সবকিছু ঠিক আছে!’

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র উল্লেখ করে চারজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। চারজনের মরদেহ গ্রহণ ও চিকিৎসার জন্য যাওয়া আহত ১১ জনকে সেবা দেয়ার তথ্য জানিয়েছে আফগানিস্তানে সক্রিয় ইতালির দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ইমার্জেন্সি।

হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের ‘সব চিহ্ন বহন করছে’ হামলার ধরন।

আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে তালেবান ও আফগান সেনাদের মধ্যে সশস্ত্র লড়াইয়ের মধ্যেই হলো এ হামলা। অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

কাবুলে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় রাস্তায় নেমে ও বিভিন্ন বাড়ি আর ভবনের ছাদে উঠে আরবি ভাষায় ‘আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন বাসিন্দারা। তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রদর্শনে এ কর্মসূচির ভিডিও প্রকাশ করা হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর আগে তালেবানবিরোধী জনমত প্রদর্শনে একই ধরনের কর্মসূচি নেয় হেরাত শহরের বাসিন্দারাও। আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহৎ শহরটি দখলে অভিযান শুরু করেছে তালেবান।

পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া আফগান বাহিনীও। সব মিলিয় চরম সহিংস রূপ নিয়েছে শহরটির পরিস্থিতি।

শেয়ার করুন

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

শুক্রবার আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান মিলিশিয়া অবস্থান নেয়। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের অবরুদ্ধ রাজধানী লস্কর গাহ থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি

হেলমান্দে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল সামি সাদাত।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত কয়েক দিনে লড়াইয়ে লস্কর গাহ শহরে তালেবান ও আফগান বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

প্রাদেশিক রাজধানী শহরটির বেশির ভাগ অংশ তালেবান কবজা করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের কাছে লস্কর গাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করায় সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে।

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন।

‘আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন।’

জেনারেল সাদাত আরও বলেন, ‘তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। তাদের কোনো সদস্যকে জীবিত ছাড়া হবে না।’

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল।

ওই অঞ্চল কোনোভাবে তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের বড় ধরনের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।

লস্কর গাহ তালেবান নিয়ে নিলে ২০১৬ সালের পর এটাই হবে সংগঠনটির প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী দখল।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ’

লস্কর গাহর বাসিন্দাদের ভাষ্য, তালেবানের ভয়াবহ হামলায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রেক্ষাপট

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশটি দখলে মে মাসের শুরু থেকেই তৎপরতা চালায় তালেবান।

এ নিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাধছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার ক্রসিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে, যা এখন প্রায় শেষের পথে।

শেয়ার করুন

লুট করা গিলগামেশের মহাকাব্য ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লুট করা গিলগামেশের মহাকাব্য ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাক থেকে ২০০৩ সালে লুট করা হয় গিলগামেশের মহাকাব্যের এই খণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

ইরাকের সংস্কৃতিমন্ত্রী হাসান নাদিম বলেন, ‘কিছু শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্র সরকার জব্দ করে ইরাকের দূতাবাসে পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গিলগামেশের মহাকাব্য সামনের মাসে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইরাকে ফেরত পাঠানো হবে।’

ইরাক থেকে লুট ও পাচার করা ১৭ হাজারের বেশি প্রাচীন শিল্পকর্ম ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব শিল্পকর্মের মধ্যে মাটির খণ্ডে লেখা সাড়ে তিন হাজার বছর পুরনো গিলগামেশের মহাকাব্যের একটি অংশও রয়েছে।

ইরাকের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০০৩ সালে ইরাকে অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

ওই ঘটনার পর ইরাকের লাখ লাখ পুরাকীর্তির আর হদিশ পাওয়া যায়নি। ওইসব পুরাকীর্তির বেশির ভাগ হয় পাচার করা হয় নয়তো জঙ্গি সংগঠন আইএসের হাতে ধ্বংস হয়।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইরাকের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল আইএসের দখলে ছিল। পরে ইরাকি বাহিনী ও বিদেশি সেনার হাতে পরাজয় হয় সশস্ত্র সংগঠনটি।

ইরাকের সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্প্রতি বাগদাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।

এতে বলা হয়, ডিলারদের কাছ থেকে জব্দ করা ইরাকি শিল্পকর্ম বাগদাদকে ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘরে থাকা ইরাকের পুরাকীর্তিও বাগদাদে পাঠানো হবে।

ইরাকের সংস্কৃতিমন্ত্রী হাসান নাদিম বলেন, ‘কিছু শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্র সরকার জব্দ করে দেশটিতে ইরাকের দূতাবাসে পাঠিয়েছে।

‘এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গিলগামেশের মহাকাব্য সামনের মাসে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইরাকে ফেরত পাঠানো হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস বিভাগ জানায়, গিলগামেশের মহাকাব্য লেখা মাটির খণ্ডটি পাচার হওয়ার পর ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এটি জব্দ করে।

গিলগামেশের মহাকাব্য এরপর নিলামে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের অকলাহোমার এক আর্ট ডিলারের কাছে তা বিক্রি করা হয়।

ওয়াশিংটন ডিসির এক জাদুঘরে ওই প্রাচীন পুরাকীর্তিটি প্রদর্শিতও হয়।

গত মাসে গিলগামেশের মহাকাব্য ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।

আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ২০০৩ সালে লন্ডনের এক ডিলারের কাছ থেকে মাটির খণ্ডটি কেনে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডিলার।

গিলগামেশের মহাকাব্য সাড়ে তিন হাজার বছর আগের সুমেরীয় পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে আক্কাদিয় ভাষায় লেখা। ধারণা করা হয়, এটি বিশ্বসাহিত্যের প্রথম দিকের সৃষ্টিকর্ম।

২০০৩ সাল থেকে লুটপাটের কারণে ইরাকের হাজার হাজার শিল্পকর্মের এখনও কোনো খোঁজ নেই।

শেয়ার করুন

দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

শিশুটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের ডান হাতের কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত পোড়া দাগ ছিল। ঠোঁটও নীল হয়ে গিয়েছিল। পুরোহিত তাকে পুলিশে না জানানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে ঝামেলা বাড়বে। দেহ নিয়ে গিয়ে ময়না তদন্ত করবে পুলিশ। মর্গ থেকে তার নানা প্রত্যঙ্গ চুরি করে নেবে। এর চেয়ে চুপিচুপি সৎকার করা ভালো।

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নয় বছরের এক দলিত কন্যাশিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে পুরোহিতসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বিক্ষোভের পাশাপাশি এ ঘটনায় টুইট বার্তায় নিন্দা জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুরানা নঙ্গল এলাকায় থাকত ওই শিশু। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সে মাকে বলে শশ্মানযাত্রীদের জন্য বসানো কুলার থেকে পানি আনতে গিয়েছিল।

বেশ কিছুক্ষণ পরেও সে না ফেরায় চিন্তা করছিলেন মা। পরে শ্মশানের পুরোহিত রাধে শ্যাম কয়েক জন লোককে দিয়ে ডেকে পাঠান মাকে। শিশুটির মরদেহ দেখিয়ে বলেন, কুলার থেকে বিদ্যুতের ছোবল খেয়ে মারা গেছে সে।

শিশুটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের ডান হাতের কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত পোড়া দাগ ছিল। ঠোঁটও নীল হয়ে গিয়েছিল। পুরোহিত তাকে পুলিশে না জানানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে ঝামেলা বাড়বে। দেহ নিয়ে গিয়ে ময়না তদন্ত করবে পুলিশ। মর্গ থেকে তার নানা প্রত্যঙ্গ চুরি করে নেবে। এর চেয়ে চুপিচুপি সৎকার করা ভালো।

শিশুটির অভিভাবকরা পুরোহিতের কথা না শুনে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিবেশীদের খবর দেন। তারা ওই শশ্মান ঘিরে ফেলেন। পুলিশেও অভিযোগ করে শিশুটির পরিবার। দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশে এই অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতাপ সিং নামের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার রাত সাড়ে ১০টায় তাদের কাছে একটি ফোন আসে। প্রায় ২০০ লোক শ্মশানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন শুনে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানেই মেয়েটির মায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়। মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ পরিবারের।

পরে শশ্মানের পুরোহিত ও তার তিন সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিশু নির্যাতন বিরোধী পকসো আইনের পাশাপাশি অন্যান্য কঠোর আইনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন