ইয়াস: পাখিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কলকাতার

ইয়াস: পাখিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কলকাতার

রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী কলকাতার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আম্পানে শহরের ১৫ হাজার বড় গাছ উপড়ে যায়। ইয়াসে ৪০-৫০টি গাছ উপড়ে গেছে। পুরসভা প্রায় ৫০ হাজার নিম, দেবদারু গাছ লাগিয়েছে। এবার পাখিদের জন্য ফলের গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।’

আম্পান ও ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে কলকাতায় অনেক গাছের ক্ষতি হয়। গাছের অভাবে খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে হাজার হাজার পাখি অন্য জেলা বা রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

এ সংকট দূর করতে প্রচুর ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

শনিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পথের ধারে, জলাশয়ের পাশে, ছোট-বড় বিভিন্ন পার্কের চারদিকে পাখিদের খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, বরই ও আমলকী গাছের চারা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে।

রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী কলকাতার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আম্পানে শহরের ১৫ হাজার বড় গাছ উপড়ে যায়। ইয়াসে ৪০-৫০টি গাছ উপড়ে গেছে। পুরসভা প্রায় ৫০ হাজার নিম, দেবদারু গাছ লাগিয়েছে। এবার পাখিদের জন্য ফলের গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।’

পুরসভার উদ্যোগে প্রথম দফায় শনিবার ফলের পাঁচ হাজার গাছ রোপণের কাজ শুরু হয়। তবে শহরে ফলের ২৫ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

পরিবেশকর্মী তমাল হালদার বলেন, ‘পাখিরা শহরে এলেও লকডাউনের জন্য সব বন্ধ থাকায় চাল, ডাল, গমের মতো খাবার আর ফলের গাছের অভাবে শহর ছাড়ছে তারা।’

পুরসভার ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তমাল।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনে প্রশাসক ও বিধায়ক দেবাশীষ কুমার দেশপ্রিয় পার্কে মেহগনি গাছ রোপণ করে বলেন, ‘পাখিদের খাদ্যাভ্যাসের কথা ভেবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আম, জাম, সবেদা, আমলকীর একটু বড় চারা লাগানো হচ্ছে।

‘প্রতিটা গাছের উচ্চতা হবে ৮-১০ ফুট। লোহার তৈরি বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকবে চারা গাছগুলো। প্রতিদিনের নজরদারিতে থাকবেন পুরকর্মীরা।'

পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘শহরে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে গাছ লাগানোর পাশাপাশি কার্বন কমাতে বেশিসংখ্যক গ্রিন বাস চালানো হবে।’

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

নাইজেরিয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ইদ্রিসের সঙ্গে আরেক কর্মকর্তা বাবালোলা। ছবি: ফেসবুক

ব্যাংক কর্মকর্তা বাবালোলা লেখেন, ‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ আরও কিছু মাধ্যমে একটি খবর শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেই ব্যাংকের কর্মকর্তা হয়েছেন। বিষয়টিকে খুব ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কথা লিখছেন।

দেশে বিষয়টি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে। মাধ্যমগুলোতে বিষয়টি শেয়ার করা ব্যক্তিরা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর ভাগ্য কীভাবে মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে সেটি বলতেও ভুলছেন না।

ভাইরাল হওয়া ছবি ও কনটেন্টের সত্যতা জানার চেষ্টা করে নিউজবাংলা। ইন্টারনেটের সহায়তায় বেশ কিছু নিউজ লিংক পাওয়া যায় ঘটনাটির।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা। আইয়োমাইড বাবালোলা মি নামের ওই কর্মকর্তা ফেসবুকে ঘটনাটি জানান।

নাইজেরিয়ার নিউজপোর্টাল নেপচুনপ্রাইম ডটকমে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে একটি খবর প্রকাশ হয়।

সেখানে বাবলোলা লেখেন, নিরাপত্তাকর্মী ইদ্রিস তাকে বলেছিলেন তার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে।

বাবলোলা বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মী তার চাকরির নিশ্চয়তা চাচ্ছিলেন। সে জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তার খালি পদে নিয়োগের ব্যাপারে তাকে আমি সহায়তা করার কথা জানাই। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নেয়া হয়।‘

পরের এক সপ্তাহের ঘটনা বর্ণনা করেন বাবালোলা। তিনি লেখেন, ‘এক সপ্তাহের ঘটনা পুরোটাই অলৌকিক মনে হবে।’

এরপর এক সপ্তাহের ঘটনা তিনি শেয়ার করেন।

‘২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমি এক্সওয়াইজেড শাখায় কাজ শুরু করি। আমি সেদিন থেকেই ইদ্রিসকে লক্ষ্য করে আসছি।

‘আপনি কখনোই তার স্মার্টনেসকে এবং তার সেনাসদস্যের মতো গ্রাহক ও কমকর্তাদের স্যালুট দেয়াকে হেলা করতে পারবেন না।’

কয়েক মাস পরে ইদ্রিস আমাকে অনুরোধ করেন তার কিছু কথা শোনার। তিনি বলেন, ‘আমার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে এবং আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেয়ার জন্য পার্টটাইম পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

‘আমি তার কথা শুনে খুব অভিভূত হই এবং তাকে উৎসাহিত করি।’

‘২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের এক কর্মকর্তার পদন্নোতি হয় এবং অন্য স্থানে বদলি হন। এরপর সেই পদ খালি হলে ইদ্রিস আমাকে এসে তার আগ্রহের কথা জানান। সেই পদের জন্য তিনি যোগ্য বলেও জানান। আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি ভালো দল তৈরি করা।

‘এরপর থেকে আমি এই শাখার সব নিরাপত্তাকর্মীর সেশন নেয়া শুরু করি। তাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানাই। এতে তারা আরও স্মার্ট হয়ে ওঠেন এবং আমরা আমাদের কেপিআই পূরণ করতে সক্ষম হই।’

বাবালোলা বলেন, ‘এরপর আমাদের শাখায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেখানে ইদ্রিস আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষাও নেয়া হয়। তারপর মৌখিক পরীক্ষা। সবই করা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে। সেখানে ইদ্রিস প্রথম স্থান লাভ করেন।

‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এর কিছুদিন পর বাবালোলাকে সেই ব্যাংক থেকে অন্য আরেক শাখায় বদলি করা হয়।

বাবালোলা লেখেন, ‘ইদ্রিস, আপনি কোথায় ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, আপনি এখন কোথায় সেটি দেখুন।

‘আমি সব সময় বলি, সফলতা হচ্ছে যেখানে আপনার প্রস্তুতি এবং সুযোগ এক হয়ে যায়।

‘আশা করছি আমাদের দেখা হবে আরও শীর্ষ অবস্থানে।’

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

আফগান সরকারে হতাশ পাকিস্তান, আলোচনা বাতিল

আফগান সরকারে হতাশ পাকিস্তান, আলোচনা বাতিল

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিকদের নিয়ে শান্তি আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল ইসলামাবাদ। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আফগানিস্তান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকদের আলোচনার টেবিলে বসাতে চেয়েছিল পাকিস্তান। তবে আফগান সরকারের আচরণে হতাশ হয়ে সে পরিকল্পনা বাতিল করেছে ইসলামাবাদ।

নীরবেই এ উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন।

ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিকদের নিয়ে শান্তি আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল ইসলামাবাদ। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহসহ ২১ জন শীর্ষ নেতাকে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান সরকার। আমন্ত্রণ গ্রহণও করেন অনেকে।

তবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানকে।

শেষ মুহূর্তে অনেকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা এবং আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমালোচনার কারণে পরিকল্পনা স্থগিত হয়। উজবেকিস্তানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে আফগান প্রেসিডেন্ট আলোচনাটি বাতিলের অনুরোধ করেন বলেও জানিয়েছে ডন।

প্রাথমিকভাবে আলোচনা স্থগিতের কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। কারণ হিসেবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আফগান নেতাদের বৈঠকের কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলতে সহযোগিতার জন্য আফগান নেতাদের প্রত্যাশার কথাও শুনতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা ডনকে বলেন, ‘পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন অনেক আফগান নেতা। তাদের একেকজনের দাবি একেক রকম। আমরা ভেবেছিলাম যে তাদের সাধারণ চাওয়াগুলোকে এক করে একটি লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে এ সম্মেলন।’

কিন্তু সে প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর আফগানিস্তান ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের বিষয়ে ভাবছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন, ‘আফগানিস্তানে কারও প্রতি আমাদের পক্ষপাতিত্ব নেই। সংঘাতকবলিত আফগানদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ জন্য শান্তি আলোচনায় বসতে তাদের গঠনমূলক সহযোগিতা করতে চাই আমরা।’

তালেবানকে মদদ দেয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে আফগান সরকারের। তবে সে অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

তালেবানের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যার অভিযোগ

তালেবানের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যার অভিযোগ

আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতার বলি হয়েছেন বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ। ফাইল ছবি

স্পিন বোলদাক এলাকায় তালেবানের প্রতিহিংসাপরায়ণ হত্যাযজ্ঞের খবর জানায় আফগানিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন। অঞ্চলটিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক আফগানকে হত্যার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক শহরে তালেবানের সহিংসতায় অর্ধশত বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ‘বেসামরিক গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগও তুলেছে পশ্চিমা দেশগুলো।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানের দক্ষিণের এ শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে দেশটির সেনাবাহিনী। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরটি সম্প্রতি দখল করে তালেবান।

স্পিন বোলদাক এলাকায় তালেবানের প্রতিহিংসাপরায়ণ হত্যাযজ্ঞের খবর জানায় আফগানিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন। স্পিন বোলদাকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক আফগানকে হত্যার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি।

এরপরই বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে টুইট করা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে।

স্পিন বোলদাকের পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সোমবার আলাদা বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিহিংসাবশত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে তালেবান। যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে গড়িয়েছে তাদের এসব হত্যাকাণ্ড।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তালেবান যোদ্ধাদের এসব অপরাধের জন্য সংগঠনটির নেতাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যদি তারা এখনই তাদের যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে পরবর্তী সময়ে শাসনব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।

এর প্রতিক্রিয়ায় কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান শান্তি আলোচনায় তালেবান প্রতিনিধি দলের সদস্য সুহাইল শাহীন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ করা হয়েছে এসব টুইটে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারের মুখে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসী হয়ে উঠছে তালেবান। মে থেকে কয়েক মাসে দখলে নিয়েছে দেশটির ৪১৯ জেলার অর্ধেকের বেশি।

ইরান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকি, বর্ডার ক্রসিংও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে এ আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী।

সমাজ সংস্কারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। সচেতনতা বাড়াতে ছুটছে গ্রাম থেকে গ্রামে। অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে বন্ধ করছে বাল্যবিবাহ। অথচ সে নিজেই এক কিশোরী।

পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী দীপিকা সাহু। সাতটি বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে এখন সে আলোচনায়। সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপিকা। শারীরিক ব্যাধি নয়, সামাজিক ব্যাধিও যে কতটা ভয়ংকর তা অল্প বয়সে বুঝে গিয়েছে দীপিকা। কিশোরী ও নারীদের বেঁচে থাকার লড়াই তাকে বিচলিত করেছে। আর তাই অষ্টম শ্রেণীতে উঠেই যোগ দেয় কন্যাশ্রী ক্লাবে।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে। সামাজিক এ ব্যাধি নিয়ে আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী। তাকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

দীপিকা সাহু জানায়, ২৮ এপ্রিল একটি বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছিল। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে, তারই এক বান্ধবীকে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নিয়ে দীপিকা আলাপ করে বান্ধবীর অভিভাবকদের সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সুফল মেলে। স্কুল পড়ুয়া বান্ধবীর বিয়ে আটকাতে পেরে খুশি দীপিকা।

দীপিকার কথায়, ‘রাজ্য সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা দেয়, তা দিয়ে ১৮ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায়। তাই মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ না করার জন্য বলছি অন্যদের। অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হচ্ছে।’

মেয়ের কীর্তিতে গর্বিত মা শিবানী সাহু। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ কতটা খারাপ, সেটা আমার মেয়ে বুঝতে পেরেছে। অন্যদেরও বোঝাচ্ছে সে, তাতে আমি গর্বিত।’

সমাজসচেতনতা বাড়াতে স্কুলছাত্রী দীপিকার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ভবন ও জেলা প্রশাসনের তরফে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে মরিয়া তালেবান, সংঘর্ষ চরমে

গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে মরিয়া তালেবান, সংঘর্ষ চরমে

হেরাতের ইঞ্জিলে আফগান কমান্ডো বাহিনীর প্রহরা। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহ ২০১৬ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে তালেবানের দখলে যেতে পারে বলে শঙ্কা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা সত্ত্বেও শহরের বড় অংশ দখলে তালেবান অনেকটা এগিয়েছে।

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ দখলে অভিযান শুরু করেছে দেশটির সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালেবান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া আফগান বাহিনীও। দুই পক্ষের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, লস্কর গাহ ২০১৬ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে তালেবানের দখলে যেতে পারে বলে শঙ্কা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা সত্ত্বেও শহরের বড় অংশ দখলে তালেবান অনেকটা এগিয়েছে।

লস্কর গাহ, কান্দাহার ও হেরাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তালেবান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক জোটের ২০ বছর অবস্থানকালে হেলমান্দ প্রদেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটির কেন্দ্র। হেলমান্দ তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা।

তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে হাজারো সেনা। লস্কর গাহ তালেবানের দখলে গেলে ‘বিশ্ব নিরাপত্তায় বিপর্যয় নেমে আসবে’ বলে সতর্ক করেছেন আফগান সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল সামি সাদাত।

তিনি বলেন, ‘এ লড়াই শুধু আফগানিস্তানের নয়। এটা স্বাধীনতা ও একচ্ছত্র আধিপত্যবাদের মধ্যকার লড়াই।’

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের শুরু থেকে কয়েক মাসে দেশটির বড় অংশ দখল করে নিয়েছে তালেবান। তারা চেষ্টা করছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার।

তালেবান হেলমান্দের একটি টেলিভিশন স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, প্রদেশটির ১১টি রেডিও ও চারটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক থেকে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে তালেবানের ‘হামলা ও হুমকির’ কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় বিমা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

রাষ্ট্রীয় বিমা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রের মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যাবেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সুর চড়াল তৃণমূল।

ফোনে আড়িপাতা নিয়ে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ইস্যুর পর এবার রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব হলো তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে কড়া চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ কীভাবে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামাবে তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে ফোনে আড়িপাতা নিয়ে ইসরায়েলের স্পাইওয়্যার ইস্যুতে কোণঠাসা কেন্দ্র সরকারকে আরও কোণঠাসা করতে বিমা সংস্থা বেসরকারিকরণের মত ইস্যু সামনে আনছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণ ইস্যুতে অলআউট ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে আগেই জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

কেন্দ্রের মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যাবেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সুর চড়াল তৃণমূল।

চিঠিতে সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থাগুলো বেসরকারীকরণ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের যে নীতিগত সিদ্ধান্ত সেটি দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। জানতে পেরেছি, চারটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থার মধ্যে প্রথমেই ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বেসরকারি হাতে দিতে চাইছে মোদি সরকার।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে দেয়া চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গ্রাহক ১ দশমিক ৭৪ কোটি। এরমধ্যে অনেকেই সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর প্রতিনিধি। এই সংস্থার কর্মী সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৬১ জন । প্রিমিয়াম বাবদ আয় হয়ে থাকে ১৭ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এই সংস্থা সরকারি সিকিউরিটি ও বন্ডে বিনিয়োগ করেছে ১১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।’

অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র চিঠিতে লিখেছেন, ‘ভারতীয় জীবনবীমা নিগমকেও (এলআইসি) বিক্রি করবে সরকার, এমন কথাও শুনেছি। এলআইসি দেশের নাগরিকদের কাছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভিত্তি। ১৯৫৬ সালে সংস্থার গোড়াপত্তনের দিন থেকে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেছে এলআইসি। যেখানে দিনের পর দিন ধরে দেশের সড়ক, রেল পরিবহন, বিদ্যুৎ, টেলিকম, কৃষি এবং বন্দরগুলোতে লগ্নি করেছে তারা।’

অমিত চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘সংস্থার বেসরকারীকরণের সরকারি সিদ্ধান্ত ১ কোটি ১৪ লাখ কর্মী এবং ১২ থেকে ১৫ লাখ বিমা এজেন্টের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করবে। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে সংস্থার বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটি আছে ২৩ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ।

‘সরকার, সরকারি সংস্থা ও কর্পোরেটগুলোকে এলআইসির পক্ষ থেকে মোট ঋণ দেয়া হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। এলআইসির বেসরকারিকরণ একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে, যেখানে ৩০ কোটি বিমা গ্রহীতার স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

এই কোলাজ ছবি ভিন্ন দুই শহরের, এক শহরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি এক শহরের নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক কোলাজ ছবি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, এক শহরের দুই জায়গায় একই সময়ে ছবি দুটি তোলা হয়েছে।

ওপরের ছবিতে কোনো গাছ নেই আর নিচের ছবিতে রাস্তার দুধার বড় বড় গাছে ঢাকা।

যে ছবিতে গাছ নেই তাতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস লেখা।

আর গাছ থাকা এলাকায় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ভাইরাল হওয়া কোলাজ ছবি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ছবি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহর থেকে নেয়া। আর অন্যটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের।

প্রথমে কোলাজের ওপরের ছবি নিয়ে অনুসন্ধান করে এএফডব্লিউএ। ছবির বাঁদিকে ‘ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস’ লেখা দোকানটি জুম করা হয়।

এরপর দোকানটির অবস্থান বের করতে গুগল ইমেজে অনুসন্ধান করা হলে একপর্যায়ে জানা যায়, ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস টুইন ফলসে অবস্থিত।

গুগল ইমেজে আরও অনুসন্ধান করে ইন্ডিয়া টুডের দল টুইন ফলসের তিনটি সবচেয়ে বাজে এলাকা নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের খোঁজ পায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ নিবন্ধটি প্রকাশ হয়।

এরপর কোলাজের নিচের ছবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে এএফডব্লিউএ।

একপর্যায়ে হাউস অক্টোগন নামে এক হোটেলের ওয়েবসাইটে ওই ছবি পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারির ‘হোটেলের চারপাশ’ অংশে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

হাউস অক্টোগন বুদাপেস্টের অভিজাত অক্টোগন এলাকার ইয়োতভস সড়কে অবস্থিত।

এতে পরিষ্কার হয়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি একই শহরের নয়। একটি যুক্তরাষ্ট্রের আর অন্যটি হাঙ্গেরির।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন

শেয়ার করুন