ইসরায়েলে শেষ হচ্ছে নেতানিয়াহুর শাসন?

ইসরায়েলে শেষ হচ্ছে নেতানিয়াহুর শাসন?

রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে রোববার পার্লামেন্টে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

মধ্যপন্থি ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন কট্টর ডানপন্থি নাফতালি বেনেট। নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য ল্যাপিডের হাতে বুধবার পর্যন্ত সময় আছে। এ প্রচেষ্টা সফল হলে ইসরায়েলে শেষ হবে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসন।

ইসরায়েলে প্রস্তাবিত নতুন ঐকমত্যের সরকার গঠন হলে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এমন পরিস্থিতিতে জোট সরকার গঠন দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছেন লিকুদ পার্টির প্রধান।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপন্থি ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন কট্টর ডানপন্থি নাফতালি বেনেট। এই দুই নেতার মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিতে সমর্থন না দিতে ডানপন্থি রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য ল্যাপিডের হাতে বুধবার পর্যন্ত সময় আছে। এ প্রচেষ্টা সফল হলে ইসরায়েলে শেষ হবে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসন।

২০০৯ সাল থেকে টানা প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন নেতানিয়াহু। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের ৭৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী ৭১ বছর বয়সী নেতানিয়াহু।

দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চলছে নেতানিয়াহুর। চলতি বছরের মার্চের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হন তিনি।

গত দুই বছরে ইসরায়েলে চারটি সাধারণ নির্বাচন হয়। কোনোবারই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল।

জোট সরকার গঠনেও কোনো দল সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে প্রতিবারই নতুন সাধারণ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হয়েছে দেশটি।

এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রায় একটি প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেয়া নেতানিয়াহু রোববার বলেন, ‘বামপন্থি জোট সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রতি হুমকি। এ ধরনের সরকারের হাতে দেশের নেতৃত্ব তুলে দেবেন না।’

বেনেটের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। ল্যাপিডের সঙ্গে জোট বাঁধবে না বলে শুরুতে জানিয়েছিলেন বেনেট। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জোটবাঁধার আলোচনা শুরু ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রতারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।

এর আগে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে জোট সরকার গঠনে দলীয় আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেন ৪৯ বছর বয়সী বেনেট।

তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু এখন আর ডানপন্থি সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন না। কারণ তিনি জানেন যে ডানপন্থিরা নিজেদের অবস্থান হারিয়েছেন। এখন নিজের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

‘এ অবস্থায় বন্ধু ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনে যা করতে হয় আমি করব।’

এ ঘোষণার আগেই ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী আপাতত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বেনেট। পরে পালাক্রমে এ দায়িত্ব নেবেন ৫৭ বছর বয়সী ল্যাপিড।

চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রস্তাবিত এ জোটে ইসরায়েলের ডান, বাম ও মধ্যপন্থিরা এক কাতারে আসবেন। আদর্শগত অবস্থান এক না হলেও নেতানিয়াহুকে উৎখাত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হতে মরিয়া দলগুলো।

নেতানিয়াহু জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর জোট গঠনে ২ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয় সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যাপিডকে।

সবশেষ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পায়। দ্বিতীয় সর্বাধিক আসন পায় ল্যাপিডের ইয়াশ আতিদ পার্টি।

অন্যদিকে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি আসনে জয় পেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে বেনেটের দলও।

ল্যাপিড ও বেনেটের দল ঐক্যবদ্ধভাবে জোট সরকার গঠনে সক্ষম।

ল্যাপিডের দল সরকার গঠনে প্রাথমিকভাবে ২৮ দিনের সময় পেলেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস সহিংসতার কারণে ব্যাহত হয় সে প্রক্রিয়া।

১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সহিংসতায় ৬৫ শিশুসহ প্রাণ যায় ২৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির। আহত হয় দুই হাজারের বেশি মানুষ। গৃহহীন হয় এক লাখের বেশি।

ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এ অবস্থায় ল্যাপিডের সঙ্গে সরকার গঠনের আলোচনা বাতিল করে দেয় সম্ভাব্য জোটে অংশ নিতে চাওয়া আরব-ইসলামিক রাম পার্টি।

গত শনিবার বেনেট ও অন্য এক নেতাকে তিন ভাগে প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগ করে নেয়ার প্রস্তাব দেয় নেতানিয়াহুর দল। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দলগুলো।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৯ মাস পর বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

১৯ মাস পর বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, ৯টা ২৩ মিনিটে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে সরকারপ্রধানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইটে (বিজি-১৯০১) রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রথমে ফিনল্যান্ড যাবেন সরকারপ্রধান। ৯টা ২৩ মিনিটে দেশটির রাজধানী হেলসিংকির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ১৯ মাস পর আবার বিদেশ সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া ও ফেরত আসার পথে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টার সময় ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সফরকালীন আবাসস্থল হেলসিংকির হোটেল ক্যাম্পে যাবেন।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টায় হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইটে করে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সফরকালীন আবাসস্থল লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে যাবেন সরকারপ্রধান।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ৮০ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবে। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলও তার সঙ্গী হয়েছে।

সফরে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা ইস্যু, করোনার টিকাসহ নানা বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ। করোনা পরিস্থিতিতে এবারের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল খুব ছোট আকারে গঠন করা হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব শুরু হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এবারের অধিবেশনের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে কোভিড-১৯ ও পরবর্তী টেকসই পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণ। কোভিড-১৯ থেকে মুক্তিলাভের জন্য বিশ্বব্যাপী টিকা বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়টি এবারের অধিবেশনে বিশেষভাবে আলোচিত হবে। এ ছাড়া আসন্ন অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের কপ-২৬ থেকে বিশ্ব যাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেতে পারে, সে বিষয়েও এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু বিষয়ে সোচ্চার দেশগুলোকে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

জেএসএস নেতাকে গুলি করে হত্যা

জেএসএস নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রতীকী ছবি

স্থানীয় লোকজন জানান, সুরেশ কান্তি চাকমা তার বাড়ির কাঠাকাছি আরেকটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে কে বা কারা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

উপজেলার ৩৫ নম্বর বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বি ব্লক এলাকায় শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুরেশ কান্তি চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস মূল দল) নেতা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।

স্থানীয় লোকজন জানান, সুরেশ কান্তি চাকমা তার বাড়ির কাঠাকাছি আরেকটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে কে বা কারা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

ময়মনসিংহের ভালুকায় সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন আফাজ পাঠান। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন আফাজ পাঠান। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

মরিয়ম, আজওয়া, ছুকারি, আমবার, বারহী, চেগী, নেপতা, মেগজুনসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর ঝুলছে দেশেরই হাসানিয়া সৌদিয়া নামের এক বাগানে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের আফাজ পাঠান পাঁচ বছর আগে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এই খেজুর বাগান।

সৌদি আরবের ১০ জাতের খেজুরের প্রায় ৫ হাজার গাছ ও ৫ হাজার চারা আছে তার বাগানে। বাগান পরিচর্যায় কাজ করেন ১৫ শ্রমিক।

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

আফাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি চারা ২ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। তবে আমি যে চারাগুলো ২৫ হাজারে বিক্রি করি, সেটির বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। তবুও বাংলাদেশে এই জাতের চারা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কম দামে বিক্রি করছি। প্রতিবছর ২৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি করি।

‘লাভের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি হওয়ায় আরও জায়গা কিনেছি। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে খেজুর চাষ করছি। বাগানের একটি গাছে সাধারণত ১৫০ কেজি খেজুর ধরে। তবে গাছ ৫ থেকে ১০ ফুট লম্বা হলে আরও বেশি হয়।’

খেজুরগাছের চারা বিক্রি করলেও এখনও খেজুর বিক্রি শুরু করেননি আফাজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম খেজুর চাষের উদ্যোগ নেই, তখন মনে মনে শপথ করেছিলাম কয়েক বছর খেজুর বাজারে বিক্রি করব না। যা হবে সব বিনা মূল্যে মানুষকে খেতে দেব। স্থানীয় লোকজনকে তো দিইই, যারা বাগান দেখতে আসে, তাদের সবাইকে খেজুর দিই। তবে আগামী বছর থেকে বাজারে বিক্রি করব।’

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার বাগান থেকে দেশে সৌদি আরবের খেজুরের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন আফাজ।

খেজুর চাষ করে শুধু আফাজের ভাগ্যই ফেরেনি, কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার কিছু মানুষেরও।

বাগানে কাজ করতে করতে আব্দুল করিম নামের এক শ্রমিক জানান, আগে দূরে গিয়ে কাজ করার সময় থাকা-খাওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন বাড়ির পাশেই কাজ করছেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পান। সংসার খরচের পর কিছু টাকা জমাতে পারছেন।

স্থানীয় কৃষক আফছার উদ্দিন খান বলেন, ‘আফাজ পাঁচ বছর আগেও অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন তার দেয়া বেতনে অনেকের সংসার চলে। এই সফলতা এসেছে তার পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির কারণে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানান, অনেক বেকার যুবক ও স্থানীয় কৃষক আফাজের খেজুর বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কেউ খেজুর চাষ করতে চাইলে তাকে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

প্রতীকী ছবি

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উৎপাদনও হচ্ছে। এরপরও কিছুদিন ধরে রাজধানীর কিছু কিছু এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ায় এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার দেশে আরও পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। তাতে দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে।

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যে অভিযোগ আসছে, তা উৎপাদনজনিত নয়, ত্রুটিজনিত।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা স্বীকার করে নিউজবাংলাকে বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ একটু কমে গিয়েছে। এই সরবরাহ কমে যাওয়াতে একটু প্রেসার পড়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

এ কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে বলেই এটা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কাজ চলছে।’

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫৭টি। সেখানে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন কমে আসে, তেমনি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই বুধবার থেকে পিক আওয়ারে অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও পরে সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি এসে তুলে নেয়া হতে পারে।

গ্যাসের চাহিদার কারণে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, সেটি জানা গিয়েছে আরও একটি মাধ্যম থেকে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার সভা হয়। সভা শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) আলি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশে এখন এলএনজির ঘাটতি রয়েছে, যার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সিএনজির কারণে ৮২ থেকে ৮৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস খরচ হয়। তবে এটা বেশি দিন লাগবে না।

‘নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। আর এই সময়ে এলএনজি দেশীয় সোর্স থেকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করবে। এর মধ্যেই উৎপাদন ঠিক হবে।’

রাজধানীসহ সারা দেশেই লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, লালমাটিয়া, মগবাজার, বাড্ডাসহ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে ধানমন্ডি, গুলশান উত্তরাসহ অভিজাত এলাকাগুলোতেও।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা অনির্বাণ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুব বেশি সময় লোডশেডিং হয় না। হুট করে চলে গিয়ে আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই চলে আসে।’

একই রকম অভিযোগ উত্তরার বাসিন্দা মেহরিন জাহানও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় না হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোল্টেজ কম থাকে।

রাজধানীর খিলগাঁওতে বিদ্যুতের সমস্যা একটু বেশি বলে জানান ওই এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সুমন।

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ২৫ মেগাওয়াট। ওই দিন উৎপাদনও তাই ছিল।

ওই দিন ঢাকায় চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৫৯১ মেগাওয়াট। এ সময় কোনো লোডশেডিং হয়নি। দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোতেও লোডশেডিং হয়নি।

এ সময় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট। এ ছাড়া খুলনায় ১ হাজার ৫১৫ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ৯৯৪ মেগাওয়াট, সিলেটে ৫৭৯ মেগাওয়াট, বরিশালে ৩৬৯ মেগাওয়াট ও রংপুরে ৭০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল।

বিদ্যুতের একই রকম চাহিদা গত কয়েকদিন ধরেই রয়েছে। উৎপাদনও একই রকম। এরপরও বিদ্যুৎবিভ্রাট কেন, তা জানতে চাওয়া হয় পিডিবির জনসংযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাইফুল হাসান চৌধুরীর কাছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখন বিদ্যুতের শতভাগ সক্ষমতা রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এটি আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। আর দেশে গড় চাহিদা দৈনিক ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এ চাহিদা অনুযায়ীই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৪ কোটি। দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা।

পিডিবি জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশে ১৩ হাজার ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা এ যাবতকালে সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় জাকির খান, সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঋণের কিস্তির টাকা চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

লাসারদী গ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ঢুকে বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মারধর করে কয়েকজন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাইসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় দুবাই প্লাজার জাকির খান কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মালিক জাকির খান, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

ঋণ নেয়ার পর তারা কয়েকটি কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় তাগাদা দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে ব্যাংকের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক কচি শিকদার ও ক্রেডিট অফিসার আজহারুল হক যান ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে। জাকির, সজীব ও তাছলিমা বেগমকে কিস্তি পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। এ সময় আসামিরা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন।

পরে রাতে ৮টায় ঘটে হামলার ঘটনা। ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে কয়েকজন। স্ত্রী আয়েশা বানু বাধা দিলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের আসবাব।

ওসি জানান, হামলার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে সজীবুল ইসলাম সজীব, তাছলিমা আক্তার, জাকির খান ও মুজাহিদ নামে চারজনকে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের দর বৃদ্ধিতে উড়তে থাকা সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস তার শেয়ারধারীদের ২০ শতাংশ বোনাসসহ প্রতি শেয়ারে ২ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুন ক্লোজিংয়ের এই কোম্পানিটি ২০২১ সালের জন্য যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৯ পয়সা। এ সময়ে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ২৮৪ টাকা ৩৪ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা। এছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১১ ও ২০১২ সালে ৬ শতাংশ বোনাস দিয়েছে সোনালী পেপার।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ করে বোনাস পেয়েছেন এই কোম্পানির শেয়ারধারীরা। ২০২০ সালে বোনাসের সঙ্গে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এ বছরের মে মাসে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড ঘোষণা করে তাদের নতুন প্রোডাকশন লাইনের। যেখান থেকে প্রতিদিন এক লাখ পিস পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব বলে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। এ সময়ে কোম্পানটির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা ছিল ২৭৩ টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ৩ জুন যখন কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে তখন ১১ কার্যদিবস টানা শেয়ার দর কমে ২৭ জুন শেয়ার দর নেমে আসে ১৯৭ টাকা ৪০ পয়সায়।

এরপর থেকেই মূলত কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির সিঁড়িতে পা রাখে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫২ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪৭ টাকা ১০ পয়সা।

মাত্র চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১৭৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তখন থেকেই মূলত দাম বাড়ার সিঁড়িতে উঠে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় ওঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর জামালপুরের তিন মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঢাকার মুগদার একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে এক রিকশাচালকের ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার, গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভুকুড়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা এবং সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু।

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় উঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফজরের নামাজের সময় উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বাংলাবাজা এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা কওমি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় তিন ছাত্রী। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ইসলামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মোছা. রাবেয়া আক্তার, শুকরিয়া আক্তার এবং মো. ইলিয়াস হোসেনকে থানায় আনে পুলিশ। এ সময় মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিখোঁজ মনিরার বাবা মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মানবপাচার বিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। পরে চার শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে আদালত।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেয়ায় ক্ষোভ ফখরুলের
বাংলাদেশিরা ইসরায়েলে যেতে পারবে না যে কারণে
আমরা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন