ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। মে মাসের গোড়ার দিকে এই ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে নথিভূক্ত করে সংস্থাটি। এর সংক্রামক ক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত। প্রাণঘাতি ক্ষমতাও সাধারণ ভাইরাসের চাইতে অনেক বেশি।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দুই ডোজ ৮১ শতাংশ কার্যকর। আর টিকার এক ডোজ ভাইরাসের এই বিশেষ ধরন প্রতিরোধে কাজ করে ৩৩ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যে চালানো এক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই সমীক্ষায় দেখা যায়, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা ভারতীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর।

এই টিকার দুই ডোজ ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে ৮৭ শতাংশ কার্যকর। আর এক ডোজ টিকা নিলে তা ৫১ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ একডোজ টিকার ডবল ডোজের তুলনায় কম কাজ করে।

এই সমীক্ষার জন্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি বায়োএনটেক-ফাইজারের টিকা নিয়েও কাজ করেছেন সমীক্ষাকারীরা। এতে দেখা যায়, করোনার বিরুদ্ধে এই টিকাগুলো প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর।

ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য দপ্তর পরিচালিত সাপ্তাহিক নজরদারি প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা ৮০শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। প্রথম ডোজের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৫৩ শতাংশ।

টিকা দেয়ার চার থেকে ১৩ দিন পর্যন্ত এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের পর অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৫৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের পর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর।

ফাইজার-বায়োএনটেকের ওপর করা একই ধরনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ডোজে এর কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ। এক ডোজে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

তবে ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, বিষয়টি নিয়ে এখনও পরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনও আসেনি।

যুক্তরাজ্যে টিকা দেয়া কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইংল্যান্ডে আগামী ২১ জুনের মধ্যে লকডাউন তুলে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। মে মাসের গোড়ার দিকে এই ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে নথিভূক্ত করে সংস্থাটি। এর সংক্রামক ক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত। প্রাণঘাতি ক্ষমতাও সাধারণ ভাইরাসের চাইতে অনেক বেশি।

এটি ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে ঐক্য চান রাহুল

বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে ঐক্য চান রাহুল

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিয়ে বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করতে হবে। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর রোধ করতে পারবে না যদি বিরোধীরা সংঘবদ্ধ থাকে।’

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিরোধী ঐক্য এখন সময়ের আহ্বান। বিরোধী দলগুলো যত বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে, ততই প্রতিরোধী কণ্ঠকে দমন করা কঠিন হবে।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে মঙ্গলবার সকালে বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। সেই বৈঠকেই তিনি বিরোধী ঐক্যের আহ্বান জানান।

বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে মক বা নকল পার্লামেন্টের রণকৌশল সাজাচ্ছে বিরোধীরা। এদিন রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে প্রাতঃরাশ বৈঠকে ছিলেন ১৭টি বিরোধী দলের সংসদীয় নেতারা।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বৈঠকে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্ররা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি, শিবসেনা, সিপিআইএম, সিপিআই, আইইউএমএল, আরএসপি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কেরালা কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।

বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিয়ে বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করতে হবে। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর রোধ করতে পারবে না যদি বিরোধীরা সংঘবদ্ধ থাকে।’

এই মুহূর্তে বিরোধী ঐক্য সবচেয়ে ‘জরুরি’ বলে বৈঠকে বার্তা দেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল।

বৈঠকে পেগাসাস কেলেঙ্কারি, পেট্রোপণ্যের দামবৃদ্ধি থেকে শুরু করে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আরও সরব হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধীরা।

বিরোধীদলগুলোর বৈঠক শেষে পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী সাংসদরা সাইকেল চালিয়ে সংসদ ভবনে যান।

এদিকে, পেগাসাস কেলেঙ্কারিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল। লোকসভা ও রাজ্যসভায় মুলতবি প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যসভায় মুলতবি প্রস্তাব জমা দেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। লোকসভায় প্রস্তাব জমা দেন তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেয়ার করুন

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

নাইজেরিয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ইদ্রিসের সঙ্গে আরেক কর্মকর্তা বাবালোলা। ছবি: ফেসবুক

ব্যাংক কর্মকর্তা বাবালোলা লেখেন, ‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ আরও কিছু মাধ্যমে একটি খবর শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেই ব্যাংকের কর্মকর্তা হয়েছেন। বিষয়টিকে খুব ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কথা লিখছেন।

দেশে বিষয়টি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে। মাধ্যমগুলোতে বিষয়টি শেয়ার করা ব্যক্তিরা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর ভাগ্য কীভাবে মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে সেটি বলতেও ভুলছেন না।

ভাইরাল হওয়া ছবি ও কনটেন্টের সত্যতা জানার চেষ্টা করে নিউজবাংলা। ইন্টারনেটের সহায়তায় বেশ কিছু নিউজ লিংক পাওয়া যায় ঘটনাটির।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা। আইয়োমাইড বাবালোলা মি নামের ওই কর্মকর্তা ফেসবুকে ঘটনাটি জানান।

নাইজেরিয়ার নিউজপোর্টাল নেপচুনপ্রাইম ডটকমে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে একটি খবর প্রকাশ হয়।

সেখানে বাবলোলা লেখেন, নিরাপত্তাকর্মী ইদ্রিস তাকে বলেছিলেন তার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে।

বাবলোলা বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মী তার চাকরির নিশ্চয়তা চাচ্ছিলেন। সে জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তার খালি পদে নিয়োগের ব্যাপারে তাকে আমি সহায়তা করার কথা জানাই। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নেয়া হয়।‘

পরের এক সপ্তাহের ঘটনা বর্ণনা করেন বাবালোলা। তিনি লেখেন, ‘এক সপ্তাহের ঘটনা পুরোটাই অলৌকিক মনে হবে।’

এরপর এক সপ্তাহের ঘটনা তিনি শেয়ার করেন।

‘২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমি এক্সওয়াইজেড শাখায় কাজ শুরু করি। আমি সেদিন থেকেই ইদ্রিসকে লক্ষ্য করে আসছি।

‘আপনি কখনোই তার স্মার্টনেসকে এবং তার সেনাসদস্যের মতো গ্রাহক ও কমকর্তাদের স্যালুট দেয়াকে হেলা করতে পারবেন না।’

কয়েক মাস পরে ইদ্রিস আমাকে অনুরোধ করেন তার কিছু কথা শোনার। তিনি বলেন, ‘আমার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে এবং আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেয়ার জন্য পার্টটাইম পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

‘আমি তার কথা শুনে খুব অভিভূত হই এবং তাকে উৎসাহিত করি।’

‘২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের এক কর্মকর্তার পদন্নোতি হয় এবং অন্য স্থানে বদলি হন। এরপর সেই পদ খালি হলে ইদ্রিস আমাকে এসে তার আগ্রহের কথা জানান। সেই পদের জন্য তিনি যোগ্য বলেও জানান। আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি ভালো দল তৈরি করা।

‘এরপর থেকে আমি এই শাখার সব নিরাপত্তাকর্মীর সেশন নেয়া শুরু করি। তাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানাই। এতে তারা আরও স্মার্ট হয়ে ওঠেন এবং আমরা আমাদের কেপিআই পূরণ করতে সক্ষম হই।’

বাবালোলা বলেন, ‘এরপর আমাদের শাখায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেখানে ইদ্রিস আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষাও নেয়া হয়। তারপর মৌখিক পরীক্ষা। সবই করা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে। সেখানে ইদ্রিস প্রথম স্থান লাভ করেন।

‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এর কিছুদিন পর বাবালোলাকে সেই ব্যাংক থেকে অন্য আরেক শাখায় বদলি করা হয়।

বাবালোলা লেখেন, ‘ইদ্রিস, আপনি কোথায় ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, আপনি এখন কোথায় সেটি দেখুন।

‘আমি সব সময় বলি, সফলতা হচ্ছে যেখানে আপনার প্রস্তুতি এবং সুযোগ এক হয়ে যায়।

‘আশা করছি আমাদের দেখা হবে আরও শীর্ষ অবস্থানে।’

শেয়ার করুন

আফগান সরকারে হতাশ পাকিস্তান, আলোচনা বাতিল

আফগান সরকারে হতাশ পাকিস্তান, আলোচনা বাতিল

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিকদের নিয়ে শান্তি আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল ইসলামাবাদ। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আফগানিস্তান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকদের আলোচনার টেবিলে বসাতে চেয়েছিল পাকিস্তান। তবে আফগান সরকারের আচরণে হতাশ হয়ে সে পরিকল্পনা বাতিল করেছে ইসলামাবাদ।

নীরবেই এ উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন।

ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিকদের নিয়ে শান্তি আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল ইসলামাবাদ। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহসহ ২১ জন শীর্ষ নেতাকে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান সরকার। আমন্ত্রণ গ্রহণও করেন অনেকে।

তবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানকে।

শেষ মুহূর্তে অনেকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা এবং আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমালোচনার কারণে পরিকল্পনা স্থগিত হয়। উজবেকিস্তানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে আফগান প্রেসিডেন্ট আলোচনাটি বাতিলের অনুরোধ করেন বলেও জানিয়েছে ডন।

প্রাথমিকভাবে আলোচনা স্থগিতের কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। কারণ হিসেবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আফগান নেতাদের বৈঠকের কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলতে সহযোগিতার জন্য আফগান নেতাদের প্রত্যাশার কথাও শুনতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা ডনকে বলেন, ‘পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন অনেক আফগান নেতা। তাদের একেকজনের দাবি একেক রকম। আমরা ভেবেছিলাম যে তাদের সাধারণ চাওয়াগুলোকে এক করে একটি লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে এ সম্মেলন।’

কিন্তু সে প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর আফগানিস্তান ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের বিষয়ে ভাবছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন, ‘আফগানিস্তানে কারও প্রতি আমাদের পক্ষপাতিত্ব নেই। সংঘাতকবলিত আফগানদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ জন্য শান্তি আলোচনায় বসতে তাদের গঠনমূলক সহযোগিতা করতে চাই আমরা।’

তালেবানকে মদদ দেয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে আফগান সরকারের। তবে সে অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে পাকিস্তান।

শেয়ার করুন

তালেবানের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যার অভিযোগ

তালেবানের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যার অভিযোগ

আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতার বলি হয়েছেন বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ। ফাইল ছবি

স্পিন বোলদাক এলাকায় তালেবানের প্রতিহিংসাপরায়ণ হত্যাযজ্ঞের খবর জানায় আফগানিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন। অঞ্চলটিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক আফগানকে হত্যার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক শহরে তালেবানের সহিংসতায় অর্ধশত বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ‘বেসামরিক গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগও তুলেছে পশ্চিমা দেশগুলো।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানের দক্ষিণের এ শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে দেশটির সেনাবাহিনী। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরটি সম্প্রতি দখল করে তালেবান।

স্পিন বোলদাক এলাকায় তালেবানের প্রতিহিংসাপরায়ণ হত্যাযজ্ঞের খবর জানায় আফগানিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন। স্পিন বোলদাকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক আফগানকে হত্যার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি।

এরপরই বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে টুইট করা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে।

স্পিন বোলদাকের পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সোমবার আলাদা বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিহিংসাবশত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে তালেবান। যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে গড়িয়েছে তাদের এসব হত্যাকাণ্ড।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তালেবান যোদ্ধাদের এসব অপরাধের জন্য সংগঠনটির নেতাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যদি তারা এখনই তাদের যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে পরবর্তী সময়ে শাসনব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।

এর প্রতিক্রিয়ায় কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান শান্তি আলোচনায় তালেবান প্রতিনিধি দলের সদস্য সুহাইল শাহীন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ করা হয়েছে এসব টুইটে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারের মুখে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসী হয়ে উঠছে তালেবান। মে থেকে কয়েক মাসে দখলে নিয়েছে দেশটির ৪১৯ জেলার অর্ধেকের বেশি।

ইরান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকি, বর্ডার ক্রসিংও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

শেয়ার করুন

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে এ আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী।

সমাজ সংস্কারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। সচেতনতা বাড়াতে ছুটছে গ্রাম থেকে গ্রামে। অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে বন্ধ করছে বাল্যবিবাহ। অথচ সে নিজেই এক কিশোরী।

পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী দীপিকা সাহু। সাতটি বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে এখন সে আলোচনায়। সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপিকা। শারীরিক ব্যাধি নয়, সামাজিক ব্যাধিও যে কতটা ভয়ংকর তা অল্প বয়সে বুঝে গিয়েছে দীপিকা। কিশোরী ও নারীদের বেঁচে থাকার লড়াই তাকে বিচলিত করেছে। আর তাই অষ্টম শ্রেণীতে উঠেই যোগ দেয় কন্যাশ্রী ক্লাবে।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে। সামাজিক এ ব্যাধি নিয়ে আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী। তাকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

দীপিকা সাহু জানায়, ২৮ এপ্রিল একটি বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছিল। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে, তারই এক বান্ধবীকে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নিয়ে দীপিকা আলাপ করে বান্ধবীর অভিভাবকদের সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সুফল মেলে। স্কুল পড়ুয়া বান্ধবীর বিয়ে আটকাতে পেরে খুশি দীপিকা।

দীপিকার কথায়, ‘রাজ্য সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা দেয়, তা দিয়ে ১৮ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায়। তাই মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ না করার জন্য বলছি অন্যদের। অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হচ্ছে।’

মেয়ের কীর্তিতে গর্বিত মা শিবানী সাহু। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ কতটা খারাপ, সেটা আমার মেয়ে বুঝতে পেরেছে। অন্যদেরও বোঝাচ্ছে সে, তাতে আমি গর্বিত।’

সমাজসচেতনতা বাড়াতে স্কুলছাত্রী দীপিকার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ভবন ও জেলা প্রশাসনের তরফে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে মরিয়া তালেবান, সংঘর্ষ চরমে

গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে মরিয়া তালেবান, সংঘর্ষ চরমে

হেরাতের ইঞ্জিলে আফগান কমান্ডো বাহিনীর প্রহরা। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহ ২০১৬ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে তালেবানের দখলে যেতে পারে বলে শঙ্কা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা সত্ত্বেও শহরের বড় অংশ দখলে তালেবান অনেকটা এগিয়েছে।

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ দখলে অভিযান শুরু করেছে দেশটির সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালেবান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া আফগান বাহিনীও। দুই পক্ষের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, লস্কর গাহ ২০১৬ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে তালেবানের দখলে যেতে পারে বলে শঙ্কা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা সত্ত্বেও শহরের বড় অংশ দখলে তালেবান অনেকটা এগিয়েছে।

লস্কর গাহ, কান্দাহার ও হেরাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তালেবান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক জোটের ২০ বছর অবস্থানকালে হেলমান্দ প্রদেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটির কেন্দ্র। হেলমান্দ তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা।

তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে হাজারো সেনা। লস্কর গাহ তালেবানের দখলে গেলে ‘বিশ্ব নিরাপত্তায় বিপর্যয় নেমে আসবে’ বলে সতর্ক করেছেন আফগান সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল সামি সাদাত।

তিনি বলেন, ‘এ লড়াই শুধু আফগানিস্তানের নয়। এটা স্বাধীনতা ও একচ্ছত্র আধিপত্যবাদের মধ্যকার লড়াই।’

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের শুরু থেকে কয়েক মাসে দেশটির বড় অংশ দখল করে নিয়েছে তালেবান। তারা চেষ্টা করছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার।

তালেবান হেলমান্দের একটি টেলিভিশন স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, প্রদেশটির ১১টি রেডিও ও চারটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক থেকে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে তালেবানের ‘হামলা ও হুমকির’ কথা বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

স্পেনের আর্দালেস গুহায় রঙিন স্ট্যালাগমাইটস। ছবি: এএফপি

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

স্পেনের একটি গুহায় ৬০ হাজার বছরের পুরোনো রঙের ছোঁয়া বিলুপ্ত নিয়ানডারথালদের বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের করা গবেষণার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাগৈতিহাসিক আর্দালেস গুহার ভেতরের পাথুরে কাঠামো ‘স্ট্যালাগমাইটস’-এর স্তম্ভজাতীয় বস্তুগুলো রঙিন করে তোলা হয়েছে রং ‘ছিটিয়ে আর ফুঁ দিয়ে’।

স্ট্যালাগমাইটস হলো বদ্ধ জায়গায় ছাদ চুইয়ে মেঝেতে পড়ে জমাট বাঁধা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তূপ যা দেখতে নানা আকৃতির স্তম্ভের মতো। অনেক সময় বহু বছর ধরে জমে থাকা লাভা, কাদা, বালু, লোহা ও অন্যান্য ধাতবের তরলও স্ট্যালাগমাইটসে পরিণত হয়।

আর্দালেস গুহাজুড়ে এমন অনেক স্ট্যালাগমাইটসের দেখা মেলে, যেগুলোর গায়ে আলাদা করে রঙের উপস্থিতিও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ থেকেই তাদের ধারণা, অনেক বছরের গবেষণায় নিয়ানডারথালদের সভ্যতার ছোঁয়া না পাওয়া ও বর্বর বলে বিবেচনা করা হলেও তাদের মধ্যে হয়তো শিল্পবোধ ছিল। স্পেনের প্রাচীন গুহাটিতে রঙের ছোঁয়া তাদের শিল্পবোধেরই প্রতিফলন বলে সোমবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্দালেস গুহার ‘স্ট্যালাগমাইটস ডোম’ বা স্তম্ভগুলোতে মেটে লাল রঙের উপস্থিতির পেছনে মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়ানডারথালদের হাত থাকতে পারে বলে ২০১৮ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন থেকেই প্যালেওআর্কিওলজির জগতে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এটি।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষ তথা হোমো স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিয়ানডারথালরা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

শুরুতে ওই রং আয়রন অক্সাইডের প্রবাহ থেকে সৃষ্টি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। বিজ্ঞানীরা জানান, ফুঁ দিয়ে আর ছিটিয়ে স্ট্যালাগমাইটসগুলো রং করা হয়েছিল।

গুহার প্রাকৃতিক নমুনার সঙ্গে ওই রঙিন পদার্থের গঠনবিন্যাসে পার্থক্য থেকেই এ রং বাইরে থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা জন্মায় বিজ্ঞানীদের। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হয় গবেষণা।

ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ বোহদুর গবেষক ডি’এরিকো বলেন, ‘আমাদের ধারণা, কয়েক হাজার বছর ধরে বিভিন্ন উপলক্ষে গুহাটি রং করতেই এখানে আসত নিয়ানডারথালরা।’

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, গুহাটিতে একেকটি রঙের প্রলেপ একেক সময় দেয়া হয়েছিল। একেকটি প্রলেপের মধ্যে ১০ হাজার বছরের বেশি সময়ের পার্থক্যও ধরা পড়েছে।

শেয়ার করুন