অস্ত্রবিরতি রক্ষায় কাজ করবেন বাইডেন

অস্ত্রবিরতি রক্ষায় কাজ করবেন বাইডেন

টেলিভিশনে ভাষণে গাজায় অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: এএফপি

তীব্র সহিংসতায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্নির্মাণে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। তিনি জানিয়েছেন, উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে তার সরকার।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসকদল হামাস, সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ ও ইসরায়েলের মধ্যে অস্ত্রবিরতি যেন ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে কার্যকর হয় এ অস্ত্রবিরতি।

এর আগে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে বাইডেন জানান, গাজায় সংঘাতরত দুই পক্ষই অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

তীব্র সহিংসতায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্নির্মাণে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন।

তিনি জানিয়েছেন, উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে তার সরকার।

তিনি আরও বলেন, হামাসের অস্ত্রের মজুত ঠেকাতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে ওয়াশিংটন।

এদিকে অস্ত্রবিরতির সময় গণনার মধ্যেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল দুই পক্ষ থেকেই।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ সময় গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আর ইসরায়েলি একটি কারখানায় হামাসের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে আহত হয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট হামলা আট ঘণ্টা বন্ধ রাখে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।

গত কয়েক দিনে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় সাড়ে চার হাজার রকেট ছুড়েছে হামাস। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ব্যবহার করে বেশির ভাগ রকেট আটকে দেয় ইসরায়েল।

ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নেতানিয়াহু প্রশাসনকে সহযোগিতারও ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন।

২০১৪ সালের পর গাজায় সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এ সংঘাত শুরু হয় গত ১০ মে। ১১ দিনের সহিংসতায় নিহত হয় ৬৫ শিশুসহ ২৩২ ফিলিস্তিনি। আহত হয় প্রায় দুই হাজার মানুষ।

নিহতদের মধ্যে ১৬০ জনই হামাস যোদ্ধা বলে দাবি করে ইসরায়েল। তবে হামাস এ দাবি নাকচ করেছে। উপত্যকা থেকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ছোড়া রকেটে ইসরায়েলে প্রাণ গেছে ১২ জনের, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। এ ছাড়া ওই ১২ জনের মধ্যে ভারতের এক নারী ও থাইল্যান্ডের দুই নাগরিকও রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রবিরতির প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় হামাস ও মধ্যস্থতাকারী মিসর।

অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত ‘পারস্পরিক এবং একই সময়ে দুই পক্ষের দিক থেকেই এটি বাস্তবায়ন হবে’ বলে জানায় হামাস।

সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর চেয়ারম্যান ইসমাইল হানিয়ার মিডিয়া উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো বলেন, ‘ইসরায়েলি দখলদাররা যতক্ষণ অস্ত্রবিরতি মেনে চলবে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরাও ততক্ষণ এতে সহযোগিতা করবে।’

এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বলা হয়, মিসরের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে’ গাজায় ‘নিঃশর্ত’ অস্ত্রবিরতির পক্ষে সম্মত হয়েছে তার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা।

তবে অস্ত্রবিরতি কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা নিয়ে তখনও নিশ্চিত ছিল না তেল আবিব।

গাজায় বেসামরিক প্রাণহানির কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে নেতানিয়াহুর প্রতি একাধিক আহ্বান জানান মিত্র বাইডেন। অস্ত্রবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল মিসর, কাতার ও জাতিসংঘ।

ইসলাম ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র ভূমি খ্যাত পূর্ব জেরুজালেমের প্রাচীন শহরে আল-আকসা মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল উত্তেজনা। এর জেরেই শুরু হয় সহিংসতা।

আল-আকসা থেকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ইসরায়েলে রকেট ছোড়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে ১০ মে থেকে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

অতীতে একাধিকবার অস্ত্রবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এটি বিজয়ের উচ্ছ্বাস: হামাস
যুদ্ধবিরতিতে গাজায় উল্লাস
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল
যুদ্ধবিরতির পথে ইসরায়েল ও হামাস
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতেই হবে: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

মন্তব্য