নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান

নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। ছবি: এএফপি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, ‘এক বছরেরও কম সময়ে উত্তর কোরিয়ার ফের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। এ ছাড়া এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশনেরও লঙ্ঘন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

জাপান সাগরে দুইটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ ক্ষেত্রে দেশটি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেশী জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, টোকিও অলিম্পিক শুরুর চার মাস আগে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অলিম্পিক গেমসের স্বাগতিক দেশ জাপানের ওপর চাপ বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ওপরও বাড়তি চাপ হিসেবে কাজ করবে।

জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২৮০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের বাইরে ভূপাতিত হয়।

এ বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা বলেন, ‘এক বছরেরও কম সময়ে উত্তর কোরিয়ার ফের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। এ ছাড়া এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশনের লঙ্ঘন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

গত বছরের ২৪ জুলাই জাপানে অলিম্পিক গেমস শুরুর কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আন্তর্জাতিক খেলাধুলার এ আয়োজন পিছিয়ে যায়। আগামী ২৩ জুলাই জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রতিযোগিতামূলক এই অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে, চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

সুগা জানান, অলিম্পিক গেমসে নিরাপদ ও নিরপদ্রুপ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন তিনি। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফস (জেসিএস) জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় হ্যামগিয়ং প্রদেশ থেকে কমপক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কোরিয়া উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে ছোড়া হয়।

জেসিএস এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ডাটা বিশ্লেষণ করছে।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ ‘নাম্বার ওয়ান’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ ‘নাম্বার ওয়ান’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শনিবার দুপুরে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলার ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে অত্যন্ত উত্তম বলে জানিয়েছে ভারত। ভারতের অনেক স্থানে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদ করলেও তাদের অনেকেই বানোয়াট প্রচারণা করেছে। তবে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের পদক্ষেপে সন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে।’

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বিশ্বের অন্য কোনো দেশে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ‘নাম্বার ওয়ান’। কোথাও এমন সম্প্রীতি নেই। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে চলি। কোনো ভেদাভেদ নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কেবল রাষ্ট্রীয় নীতি নয়, আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনাচরণেও এই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রয়েছে। এমন সম্প্রীতির নজির অন্য কোনো দেশে পাওয়া যাবে না।’

শনিবার দুপুরে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কঠোর পদক্ষেপে ভারতও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে জানিয়ে একে মোমেন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলার ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে অত্যন্ত উত্তম বলে জানিয়েছে ভারত। ভারতের অনেক স্থানে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদ করলেও তাদের অনেকেই বানোয়াট প্রচারণা করেছে। তবে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের পদক্ষেপে সন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে।’

এসব ঘটনা ফলাও করে প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না। আর সরকার তো ব্যবস্থা নিচ্ছেই।’

দুর্গাপূজা চলার সময়ে কুমিল্লার একটি ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার রাতেও হবিগঞ্জের লাখাইয়ে একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুই বছর পর দেশে নির্বাচন। একে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তারাই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার মতো অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।’

সরকার এসব তৎপরতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের কঠোর শাস্তি হবে।’

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে পূজা উপলক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এমনকি ভারতেও পূজায় সরকার টাকা দেয় না। তবে আমরা দিই। বিভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠানেই দিই। এদেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, সেটি সরকার ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। দুর্বৃত্তদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।’

মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, ইমজা সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার পায়রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন করবেন। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনের পরপরই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। সেতু উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সাজ সাজ রব সেতুর উভয় পারে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হতে যাচ্ছে রোববার। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন পায়রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু।

উদ্বোধনের পরপরই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

সেতুটি চালু হলে বরিশাল থেকে বাসে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেলে আরও দ্রুত যাওয়া যাবে এ পর্যটন স্পটে। ফলে ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি আর থাকবে না।

পায়রা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, সেতুটি উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সাজ সাজ রব সেতুর উভয় পারে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে পটুয়াখালী জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য ছাড়াও বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

পায়রা সেতু প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর লেবুখালী নদীর ওপর পায়রা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যার ৮২ ভাগ অর্থ বহন করেছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট এবং অ্যাপেক ফান্ড।

২০১৬ সালের ২৪ জুলাই শুরু হওয়া এ সেতুর এরই মধ্যে ৯৯ ভাগ কাজ সম্পন্ন। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুর উভয় পারে প্রায় সাত কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে।

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

পায়রা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, এই সেতুতে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অতিরিক্ত ওজনবাহী গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে মনিটরিং সিস্টেম থেকে। পায়রা সেতু নির্মাণে নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সর্ববৃহৎ।

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত। এ ছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এটিতে, যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে ঝুলন্ত মনে হবে। জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

সম্বন্ধীর ছুরিকাঘাতে ভগ্নিপতি খুন

সম্বন্ধীর ছুরিকাঘাতে ভগ্নিপতি খুন

পাবনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত বিশালের সম্বন্ধীর নামও বিশাল। পেশায় তারা দুজনই সুইপার। পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার সকালে তাদের দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান বিশাল।

পাবনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সম্বন্ধীর বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শহরের অনন্ত বাজার এলাকার হরিজন কলোনিতে শনিবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ২২ বছর বয়সী বিশাল রায়ের বাড়ি পৌর শহরের অনন্ত বাজারের দক্ষিণ রামপুর মহল্লায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিহত বিশালের সম্বন্ধীর নামও বিশাল। পেশায় তারা দুজনই সুইপার। পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার সকালে তাদের দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান বিশাল।

এ সময় গুরুতর আহত ভগ্নিপতিকে স্থানীয় লোকজন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হবে। অভিযুক্ত বিশালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতে একই পরিমাণ অর্থের আরও জালিয়াতি ধরা পড়েছে।

৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদকে নতুন অভিযোগও দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৮ অক্টোবর চেকের মুড়ি বইয়ের (গ্রাহকের কাছে থাকা চেকের অংশ) সঙ্গে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় ১০ হাজার ৩৬ টাকার বিপরীতে মোট ৯টি চেকে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তোলার ঘটনা ধরা পড়ে।

ওই ঘটনায় ১৮ অক্টোবর দুদক পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে।

মামলার আসামিরা হলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, যশোর রাজারহাটের ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলার শাহী লাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেয়া হয়। একই সালের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তোলা হয়।

২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা এবং নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলেছেন হিসাব সহকারী আবদুস সালাম।

এ ছাড়া সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং আবদুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তোলা হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। দুদকে ২১ অক্টোবর আরও একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি।

‘বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের সচিব থাকাবস্থায় প্রথম জালিয়াতি হয়েছে। আবদুস সালাম তখন হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক যশোরের শরিফুল ইসলাম বাবু এসব জালিয়াতি করেছেন বলে আমরা জেনেছি। দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছি। এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

জানুয়ারি থেকে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

জানুয়ারি থেকে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে জানুয়ারি থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এত পরিমাণ জায়গা আমাদের নেই। তাই আগামী জানুয়ারিতে যদি করোনার পরিস্থিতি এমন থাকে তাহলেই আমরা চিন্তা করব শ্রেণিকক্ষে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় শনিবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জানুয়ারিতে যখন ক্লাস শুরু হবে, তখন ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

‘এই মুহূর্তে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

বিশ্বের কিছু দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এত পরিমাণ জায়গা আমাদের নেই।

‘তাই আগামী জানুয়ারিতে যদি করোনা পরিস্থিতি এমন থাকে, তাহলেই আমরা চিন্তা করব শ্রেণিকক্ষে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার।’

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য, দেশকে উন্নত করার জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

‘সেখানে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াত ও তাদের দোসররা এই সরকারের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে। আজকে তা বিভিন্নভাবে প্রমাণিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অশুভ শক্তি যতই সংঘবদ্ধ হোক না কেন, আমরা শুভশক্তির মানুষ সবাই যদি একজোট হই, তাহলে অশুভ কোনো শক্তি কিছুই করতে পারবে না। যেমন একাত্তরেও পারেনি। তাই আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম দেব কুমার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী ও মজিবুর রহমান ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

কথিত একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে শাহীরুল ইসলাম সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৪ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল।

তিনি বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন।

‘এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুলের প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।’

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পুঁজিবাজারে টানা সূচক পতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

গত সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে যে দর সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লোকসানি কোম্পানিগুলো। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আগের দুই থেকে তিন মাসে নানা গুঞ্জনে বাড়ছিল। একইভাবে বেশির ভাগ স্বল্পমূলধনি কোম্পানি ১৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা দরপতনে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ার দরে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। বিপরীতে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ব্যাপকভাবে। বিমা খাতেরও বেশ কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে দর হারিয়েছে।

গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে নানা গুজব ও গুঞ্জনে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কয়েকটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার পর দু-একটি উৎপাদনে এসেছে, কয়েকটি উৎপাদন শুরুর কাছাকাছি অবস্থানে আছে।

কিন্তু এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই লোকসানি প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর টানা বাড়তে থাকার মধ্যে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এমনকি বিএসইসির কমিশনারদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। কিন্তু কোনো কথাই যেন শুনতে চাইছিলেন না বিনিয়োগকারীরা।

লোকসানি কোম্পানির পাশাপাশি স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর পুরোনো একটি আলোচনা আবার সামনে আসার পর শুরু হয় আরেক হুলুস্থুল। এসব কোম্পানির মূলধন বাড়াতে হলে শেয়ার ইস্যু করতে হবে- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। কোম্পানির আয়, মুনাফা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী- এসব বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের চেয়ে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম- এই বিবেচনাতেই ক্রমাগতভাবে বেশি দামে শেয়ার কিনে গেছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজার সংশোধনে মূলত এই দুই ধরনের কোম্পানির বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে হাহাকার করছেন মূলত তারাই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহে সূচকের পতন এমন কিছু হয়নি। বরং এবারই দর সংশোধনে সূচক বেড়ে গিয়ে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। এর কারণ, বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির উত্থান।

১২ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরুর দিন সূচক ছিল ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট। বর্তমানে তা অবস্থান করছে ৭ হাজার ৪৬ পয়েন্টে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের আগের ৭ দিনই সূচক পড়েছে ৩৪৭ পয়েন্ট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান এই বিষয়টি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি ভালো রিটার্ন দিচ্ছে, সেগুলোতে আগ্রহী হওয়া উচিত। তাহলে যখন পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হবে বা মন্দা দেখা যাবে, তখন লোকসান না-ও হতে পারে। হলেও সেটি দ্রুত উঠে আসবে।’

তবে দরপতন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘শেয়ারের দাম বাড়বে-কমবে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। খারাপ বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি তো পুঁজিবাজারের বাইরের কোনো কোম্পানি না।’

স্বল্প মূলধনিতে দরপতন যে হারে

ওটিসি থেকে ফেরা পেপার প্রসেসিংয়ের দর টানা বেড়েই চলছিল। দর সংশোধন শুরুর আগের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৫ টাকা ৩০ পয়সায় উঠে যায়। পাঁচ সপ্তাহে সেই শেয়ার দর এখন ১৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা। ৪২.৭১ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি।

ওটিসিফেরত আরেক কোম্পানি মনোস্পুল পেপারের দর এই সময়ে ২২৫ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩৩.৮২ শতাংশ।

দেশ গার্মেন্টসের দর ২৪২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৬১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩৩.১৪ শতাংশ।

এই সময়ে প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনি মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার দর ৮৬১ টাকা থেকে নেমেছে ৫৯৯ টাকা ৩০ পয়সায়। কমেছে ৩০.৩৯ শতাংশ।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি মুন্নু সিরামিকের দর ১৭৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৪৬ শতাংশ।

খাদ্য খাতে অ্যাপেক্স ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩২ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩১ শতাংশ।

চামড়া খাতে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের দর এই সময়ে ৭৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৮.১৪ শতাংশ।

২০১৯ সালের পর আর হিসাব না দেয়া লিব্রা ইনফিউশনের শেয়ার দর এই সময়ে ১ হাজার ৭৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭৭৮ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে। কমেছে ২৭.৫২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে রংপুর ফাউন্ড্রির শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৪১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫.৪৩ শতাংশ।

খাদ্য খাতে বঙ্গজের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১৯ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৫.৩১ শতাংশ।

আমান কটনের শেয়ার দর এই সময়ে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২১.৮২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে কিউ অ্যান্ড কিউর শেয়ার দর এই সময়ে ৩৭০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯২ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

ফুওয়াং ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

চামড়া খাতের অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮৯ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২১.১২ শতাংশ।

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ২০.৪৬ শতাংশ।

রহিম টেক্সটাইলের দর ৩২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬০ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২০.৪০ শতাংশ।

এএমসিএল প্রাণের শেয়ার দর এই সময়ে ৩০৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৪৬ টাকা। কমেছে ১৯.৯৪ শতাংশ।

ফাইন ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৯.৬৯ শতাংশ।

রহিমা ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.১৬ শতাংশ।

পাট খাতের সোনালী আঁশের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৩৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৪০ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৭.৮৭ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর ১৮৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ১৭.২৮ শতাংশ।

মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৬.১৯ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

বড় মূলধনি ছয়টিরও দরপতন

ফুওয়াং সিরামিকের দর ২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৫.১০ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি নয়, লোকসানেও নয়, এমন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে এমএল ডায়িং। কোম্পানিটির দর এই সময়ে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.০৫ শতাংশ।

বড় মূলধনির বসুন্ধরা পেপার মিলসও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ১০ পয়সায়। কমেছে ১৫.৮৫ শতাংশ।

বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্টও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। শেয়ার দর ৩৭৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে এসেছে ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ১৪.৩৩ শতাংশ।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দরের পতন হয়েছে অন্য ইস্যুতে। ২০১৯ সালের ঘোষণা করা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ না করায় কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এমনিতে সংশোধনে থাকার মধ্যে এ ঘটনায় কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩১.৩৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

এক বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণার পর গত মে মাস থেকে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার দরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে ১১ টাকা ২০ পয়সা হয়ে যায় আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। এরপর শুরু হয় দরপতন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংশোধনে শেয়ার দর কমেছে ২২.৬৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

লোকসানি কোম্পানির দরপতন আরও বেশি

প্রকৌশল খাত

মালিকানা বদলের গুঞ্জনে গত এপ্রিলে ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে অ্যাপোলো ইস্পাতের শেয়ার দর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৪ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই গুঞ্জন সত্য নয় বলে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় দরপতন। সেই কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন কমতে কমতে নেমেছে ৯ টাকা ৮০ পয়সায়। কমেছে ৩৩.৭৮ শতাংশ।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২২.২২ শতাংশ।

বন্ধ থাকা কোম্পানির উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন আজিজ পাইপের শেয়ারধারীরা।

গত ২৯ জুলাই শেয়ার দর ছিল ১০০ টাকা ১০ পয়সা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর উঠে যায় ১৬৯ টাকায়। সেখান থেকে পড়তে পড়তে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩২.৬৬ শতাংশ।

একই চিত্র আরএসআরএম স্টিলের ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর উৎপাদন চালুর প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ২৭ জুলাই ২১ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ১২ সেপ্টেম্বর দর সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ৩৫ টাকা। এর মধ্যে উৎপাদন চালুর ঘোষণা আসে। কিন্তু এরপর দাম টানা পড়তে থাকে। এই কয়দিনে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ২০ পয়সা বা ২৯.১৪ শতাংশ কমেছে দাম। গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রেনউইক যগেশ্বরের শেয়ার দর ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৯৯৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫২ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবের দর এই সময়ে ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯৬ টাকা। কমেছে ২৪.৮৮ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ইস্টার্ন কেব্‌লসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৭০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.৭৬ শতাংশ।

লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশের শেয়ার দর এই সময়ে ১৩৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ১০৯ টাকা। কমেছে ১৯.৭৩ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

খাদ্য খাত

এই খাতের মধ্যে সরকারি দুই চিনিকলের শেয়ারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে বেশি কমেছে শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর, যেটির দাম সংশোধন শুরুর আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল।

শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর গত ৫ আগস্টও ছিল ৬২ টাকা ২০ পয়সা। আকাশচুম্বী লোকসানে জর্জর কোম্পানিটির এই দরই ছিল অস্বাভাবিক। তারপরেও সেখান থেকে এক লাফে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উঠে যায় ১৪১ টাকা ২০ পয়সায়। এই কোম্পানির দর সংশোধন পুঁজিবাজারে দর সংশোধন শুরুর এক সপ্তাহ আগেই শুরু হয়। এই কয়দিনে শেয়ার দর কমেছে ৪০.৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ১৪১ টাকা ২০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ সপ্তাহে কমেছে ৩১.৯৫ শতাংশ।

একই চিত্র জিলবাংলা সুগারের ক্ষেত্রে। গত ১৭ জুন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮৬ টাকা ১০ পয়সা। এই দরই অস্বাভাবিক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দর বেড়ে হয়ে যায় ২০৯ টাকা। সর্বোচ্চ এই অবস্থান থেকে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত দর হারিয়েছে ৩৮.২৭ শতাংশ।

এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারিয়েছে ২১.৫৮ শতাংশ।

বিচ হ্যাচারির দর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেমে কমেছে ২৭.৩০ শতাংশ। এক বছরের বেশি উৎপাদন বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি আবার চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে এই কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান হয়েছিল। এই সময়ে দাম কমেছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৭.৩০ শতাংশ। বর্তমান দাম ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

বছরের পর বছর লভ্যাংশ না দিলেও প্রায় প্রতিবছর উত্থান হওয়া মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও মেঘনা পেটও দর হারিয়েছে এই সময়ে।

এর মধ্যে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার দর ২৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সায়। কমেছে ২৭.৭০ শতাংশ।

মেঘনা পেটের দর ২৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৩ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৩৫ শতাংশ।

জেমিনি সি ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেমে নেমে এসেছে ১৮৬ টাকায়। কমেছে ২০.৪১ শতাংশ।

গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রোর শেয়ার দর এই সমেয় ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯৭ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

চামড়া ও সিরামিক

লোকসানি স্বল্প মূলধনি কোম্পানি সমতা লেদার ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৭ জুন নেমে আসে ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এরপর থেকে টানা উত্থান শুরু হয়। দর সংশোধন শুরুর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দর উঠে যায় ১২৮ টাকায়। দাম কমতে কমতে এখন নেমে এসেছে ৭৭ টাকা ২০ পয়সায়। কমেছে ৩৯.৬৮ শতাংশ।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৮১ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩০.৯৭ শতাংশ।

বিবিধ খাত

এই খাতের তিন লোকসানি কোম্পানি ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সাভার রিফ্র্যাকটরিজের শেয়ার দর এই সময়ে ২৯৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২০৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৭৪ শতাংশ।

মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর এই সময়ে ৪২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২৪.৬৪ শতাংশ।

জি কিউ বলপেনের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩২ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

আর্থিক খাত

এই খাতের লোকসানি যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ক্রমাগত বেড়ে চলেছিল নানা গুঞ্জনে, তার সবগুলোর ব্যাপক দরপতন হয়েছে এই সময়ে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ৩৭.৭৫ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৭.১৮ শতাংশ।

ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৬.৮৫ শতাংশ।

বিআইএফসির শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫ শতাংশ।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২০.২২ শতাংশ।

বস্ত্র খাত

এই খাতের বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর গত মে মাস থেকেই অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলছিল। সেপ্টেম্বর থেকে টানা সংশোধনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই খাতের অন্তত ১২টি কোম্পানির শেয়ারধারীরা।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩৫.৪৫ শতাংশ।

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩৭ শতাংশ।

বন্ধ থাকা তুংহাই স্পিনিংয়ের শেয়ার দর গত এপ্রিলের শেষেও ছিল ৩ টাকার নিচে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে তা উঠে যায় ৯ টাকায়। ১৬ আগস্ট থেকেই এর দরপতন শুরু। এই সময়ে কমেছে ২৬.৬৬ শতাংশ। বর্তমান দাম ৬ টাকা ৬০ পয়সা।

বন্ধ থাকা স্টাইলক্রাফটে উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় লাফ দেয়ার পর উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশোধনের এই সময়ে শেয়ার মূল্য ১৯৭ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫৮ শতাংশ।

নুরানী টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩০ শতাংশ।

জাহিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২২.৭৭ শতাংশ।

রিংসাইন টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা পয়সা। কমেছে ২১.৯৮ শতাংশ।

আরএন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৫১ শতাংশ।

জাহিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ১৯.৮১ শতাংশ।

তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.৭১ শতাংশ।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৯.০১ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পাট খাত

এই খাতের তিনটি কোম্পানিই ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে লোকসানি দুটির মধ্যে নর্দার্ন জুটের শেয়ার দর ৪০৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৮৬ টাকা। কমেছে ২৯.৫৭ শতাংশ।

জুট স্পিনার্সের দর ১৮০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১২৮ টাকায়। কমেছে ২৯.১৬ শতাংশ।

কাগজ খাত

এই খাতের দুই লোকসানি কোম্পানি হাক্কানি পাল্পের শেয়ার দর ৯১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৯.৪৩ শতাংশ।

কেপিপিএলের দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯০ শতাংশ।

বিমায় দরপতন কেমন

গত জুনের মাঝামাঝি থেকে সংশোধনে থাকা বিমা খাত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আরও দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ১৯.২৪ শতাংশ। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ১৯.০৯ শতাংশ।

রূপালী লাইফ ১৭.৭৩ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ১৭.২৮, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১৫.৯৯, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫.৮৬, প্রোগ্রেসিভ লাইফের দর ১৫.৬৯, পদ্মা লাইফ ১৫.৮৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এ ছাড়া পূরবী জেনারেল, সোনার বাংলা, প্রগতি লাইফ, সিটি জেনারেল, পাইওনিয়ার, নর্দার্ন, পিপলস, সানলাইফের দর কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি।

ইসলামী, রিপাবলিক, ফিনিক্স, রিলায়েন্স ও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১৩ শতাংশের বেশি।

মেঘনা লাইফের দর এই সময়ে ২৪.৭১ শতাংশ কমলেও এটির লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১
সমকামী বিয়ের পক্ষে জাপানের আদালত
নিঃসঙ্গতা মন্ত্রী পেল জাপান

শেয়ার করুন