নাগরিকত্ব সংশোধনী মানবে না কংগ্রেস

রোববার অসমের শিবসাগরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির ভোটের প্রচার।

নাগরিকত্ব সংশোধনী মানবে না কংগ্রেস

রোববার অসমে ভোট প্রচারে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। তিনি জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সিএএ মানবে না। কোনো অবস্থাতেই বাস্তবায়িত করা হবেনা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ মানবে না কংগ্রেস। রোববার ভারতের অসম রাজ্যে দলীয় সভায় এমন ঘোষণা দিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাডু ও পুডুচেরিতে সামনেই বিধানসভা ভোট। ভোটের দিনক্ষণ অবশ্য ঘোষণা হয়নি এখনও। কিন্তু ভোট প্রচারে ইতোমধ্যেই প্রচারে নেমেছে সব পক্ষ।

রোববার অসমে ভোট প্রচারে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। তিনি জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সিএএ মানবে না। কোনো অবস্থাতেই বাস্তবায়িত করা হবেনা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন।

উল্লেখ্য, ভারতের শাসক দল বিজেপি নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে। নতুন আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু শরণার্থীরা শর্তসাপেক্ষে নাগরিকত্ব পেতে পারেন।

মুসলিমরা বাড়তি সুবিধা পাবেন না। এই সুবিধা পাবেন শুধুমাত্র হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিষ্টান, পারসিক ও জৈনরা। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরকে ধরা হয়েছে ভিত্তি বছর। তবে আইন হলেও এখনও কার্যকর হয়নি সিএএ।

অসমসহ গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল জুড়ে চলছে ২০১৯ সালের এই আইন বাতিলের দাবি। বিভিন্ন আঞ্চলিক দল এই আইনের তীব্র বিরোধী। তাদের মতে, নয়া সংশোধনীর ফলে অনুপ্রবেশ বাড়বে। স্থানীয়রা হারাবে তাদের অধিকার।

পশ্চিমবঙ্গে আবার দাবি উঠছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী কার্যকর করতে হবে। এই নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে বিজেপি। তারা আগে সিএএ কার্যকর করা হবে বলেই বাংলায় ভোটে জিতেছিল।

এই পরিস্থিতিতে এদিন রাহুল গান্ধি সিএএ বাতিল করার কথা বলে অসমিয়াদের মন জয়ের চেষ্টা করেন। সেইসঙ্গে রাহুল জাতপাতের রাজনীতির বদলে এদিন ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও বার্তা দেন।

অসমে বিভিন্ন ভাষা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর বসবাস। রাজ্যে ৩৭ শতাংশেরও বেশি মুসলমান রয়েছেন। বাংলাভাষী মানুষ রয়েছেন ৪০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়াও অন্য ধর্ম ও ভাষা গোষ্ঠী রয়েছে।

অসমের মিশ্র সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাও বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে দেন রাহুল। বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে বলেও তার অভিযোগ।

রাহুলের ভাষণে বেশ চাঙ্গা কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা পার্থরঞ্জন চক্রবর্তীর দাবি, কংগ্রেস জিতছেই। রাহুল গান্ধি দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছেন এদিনের সভায়।

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক ও বামদলকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস এবার অসমে মহাজোটবন্ধন করেছে। বিজেপিও অবশ্য একই জোট ধর্মেই এবারও বাজিমাত করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২ হাজার বছর আগে চার চাকার গাড়ি!

২ হাজার বছর আগে চার চাকার গাড়ি!

ইতালির পম্পেইয়ে পাওয়া প্রায় দুই হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

গাড়িটি পাওয়া যায় ইতালির পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে। গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজ সজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রাচীন রোমান নগর বর্তমান ইতালির নেপলসের পম্পেইয়ে সেই সময়ের চার চাকার একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, ঘোড়া টানার রথটি প্রায় দুই হাজার বছরের আগের।

পম্পেইয়ের যে জায়গা থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনটি মৃত ঘোড়ার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল তার ঠিক পাশেই পাওয়া যায় গাড়িটি।

এটি সম্ভবত উত্সব উপলক্ষে ও প্যারেডে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এই আবিষ্কারকে ‘ব্যতিক্রমী’ উল্লেখ করে তারা বলছেন, গাড়িটি ‘সংরক্ষণের দারুণ একটি অবস্থায়’ আছে।

ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস্তুপে পরিণত হয় পম্পেই। আগ্নেয়গিরির লাভার পুরো আস্তরণে ঢেকে যায় নগরীটি। ছাপা পড়ে যায় অনেক মানুষ ও ভবন। সেই পম্পেই এখন প্রত্নতাত্ত্বিক গুপ্তধনের ভান্ডার।

রথটি পাওয়া যায় পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে।

পম্পেই পার্কের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজ সজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, খোদাই কাজের সময় ৭ জানুয়ারি গাড়িটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। নিরাপদে সেটি উদ্ধারে লেগেছে কয়েক সপ্তাহ। রথের উপকরণগুলো ভঙ্গুর হওয়ার শঙ্কায় উদ্ধারকাজটি ছিল জটিল। উদ্ধার নিখুঁত করতে প্লাস্টার মডিউলিংসহ অবলম্বন করা হয়েছে বিশেষ কিছু কৌশল।

অবৈধ টানেল ব্যবহার করে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো ধরনের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন চুরি ঠেকাতে পুরো কাজটির তদারকিতে ছিল স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস।

গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় রাখতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

রথটিকে ইতালিতে পাওয়া অন্যান্য প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন থেকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। পম্পেও পুরাকীর্তি এলাকার পরিচালক মাস্সিমো ওসানা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ এক আবিষ্কার, এটা প্রাচীন বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা এগিয়ে নেবে।’

ওসানা জানান, গাড়িটির সাজ সজ্জা দেখে মনে হচ্ছে, এটি সে সময়ের সেখানকার সম্প্রদায়ের বিবাহজাতীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। নববধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

গাড়িটিতে রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রী দারিও ফ্রানচেসিনি বলেন, ‘পম্পেই এসব আবিষ্কার দিয়ে আমাদের বিস্মিত করেই চলছে। এমনটা আরও অনেক বছর অব্যাহত থাকবে। কেননা, ২০ হেক্টর এলাকা এখনও খননের বাকি।’

নেপলসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত প্রাচীন পম্পেই নগরী। এটি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থল। তবে করোনা মহামারির কারণে পম্পেই এখন বন্ধ আছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

আসছে এক ডোজের টিকা

আসছে এক ডোজের টিকা

ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসন উদ্ভাবিত টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চমাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর (এফডিএ)। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে অন্যান্য টিকা দুই ডোজ নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই টিকা এক ডোজ নিলেই চলবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

করোনা প্রতিরোধী এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় টিকা। এর আগে আরও দুটি টিকা আনে দেশটির দুই প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্না।

বিবিসি লিখেছে, ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসনের টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চ মাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা রোধ করতে পারে। তবে সার্বিকভাবে টিকাটির কার্যকররতা ৬৬ শতাংশ।

টিকাটি মূলত উদ্ভাবন করেছে বেলজিয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস জ্যানসেন, যার মালিকানায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন।

প্রতিষ্ঠানটির টিকা পেতে এরই মধ্যে অনেক দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে সম্মত হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

জনসনের টিকার অর্ডার দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডা। জরুরি অবস্থায় এই টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন। এর বাইরে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও একটি টিকার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বলেছেন, এটা সব আমেরিকানের জন্য উজ্জীবিত হওয়ার খবর। তবে করোনা যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক পথ বাকি।

বাইডেন বলেন, ‘যদিও আজকের সুসংবাদটা আমরা উদযাপন করছি, তবু সব আমেরিকানের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা হাত ধুবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন এবং সব সময় মাস্ক পরবেন।

‘আমি অনেকবার বলেছি, পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্তমান অগ্রগতি খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুমোদনের আগেই চলতি মাসের শুরু থেকেই জনসনের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। দেশটি প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড টিকা প্রয়োগ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে জানায়, করোনার নতুন ধরনে কোভিশিল্ড কাজ করে ‘সামান্যই’। আর দক্ষিণ আফ্রিকার করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন ধরনে সংক্রমিত।

জনসনের টিকার ট্রায়াল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে। এতে দেখা গেছে, টিকাটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা দমনে ৮৫ শতাংশ কার্যকর। আর মাঝারি মাত্রার অসুস্থতা দমনে কার্যকর ৬৬ শতাংশ।

ট্রায়ালে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটি টিকা নেয়ার ২৮ দিন পরও কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

সেনাবিরোধী বক্তব্যে মিয়ানমারের দূত বরখাস্ত

সেনাবিরোধী বক্তব্যে মিয়ানমারের দূত বরখাস্ত

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুন। ছবি: বিবিসি

মিয়ানমারে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে নিযুক্ত তাদের দূত কিয়াও মোয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে না, এমন একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। একজন দূত হিসেবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

মিয়ানমারের সামরিক শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেয়ার পরের দিনই জাতিসংঘে নিজেদের দূতকে বরখাস্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শুক্রবার আবেগময় বক্তব্যে কিয়াও মোয়ে তুন বলেছিলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা কারও উচিত হবে না।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহাল করতে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বানও জানান কিয়াও মোয়ে।

ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চির সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন জানিয়ে এই দূত বলেন, ‘অচিরেই এই সামরিক অভ্যুত্থানের পতন ঘটাতে, নির্দোষ জনগণের ওপর নিপীড়ন থামাতে, জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে এবং গণগন্ত্র পুনর্বহাল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।’

কিয়াও মোয়ে তুন এই বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা পায়; ‘সাহসী ভাষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড।

বক্তব্যের পর কিয়াও মোয়ে তিন আঙুলের স্যালুট দেখান, যা মিয়ানমারে স্বৈরশাসন আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদী অঙ্গভঙ্গি হিসেবে পরিচিত।

এই ভাষণের পরপরই জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব থেকে কিয়াও মোয়েকে বরখাস্তের খবর আসে মিয়ানমারের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে।

এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘কিয়াও মোয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে না, এমন একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। একজন দূত হিসেবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।’

১ ফেব্রুয়ারির ভোরে অং সান সু চিসহ গণতান্ত্রিক উপায়ে জয়ী নেতাদের গ্রেপ্তার করে মিয়ানমারে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে সেনারা।

দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। মিয়ানমারের সেনাদের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ।

অভ্যুত্থানের পর থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের জনগণ। সেনাবিরোধী আন্দোলনে এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের, আহত হয়েছেন অনেকে। শনিবারও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

আবেদনকারীদের প্রত্যেককে সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। থাকবে স্বাস্থ্যপরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শর্ত।

সেনাবাহিনীতেও নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করল সৌদি আরব। চলতি সপ্তাহেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সৌদি অ্যারাবিয়ান আর্মি, রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স, রয়্যাল সৌদি নেভি, রয়্যাল সৌদি স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসে সৈনিক থেকে সার্জেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পদে শুরু হবে নিয়োগ।

আরব নিউজ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রত্যেককে সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। থাকবে স্বাস্থ্যপরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শর্ত।

সৌদি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হলে নারী আবেদনকারীদের বয়স থাকতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ১৫৫ সেন্টিমিটার এবং তাদের সরকারি চাকরির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা যাবে না।

এক্ষেত্রে আরও যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে সৌদি নারীদের, সেগুলো হলো: স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কমপক্ষে মাধ্যমিক পাস হতে হবে; বিদেশি নাগরিকের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা যাবে না ইত্যাদি।

গত ৩০ বছর ধরে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। রিয়াদের এ সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে জনগণের মধ্যে।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের ক্ষমতা গ্রহণ করেন বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদ। ২০১৭ সালে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হন তার সপ্তম পুত্রসন্তান মোহাম্মদ বিন সালমান।

এরপর যুবরাজের হাত ধরে রক্ষণশীল দেশটিতে এসেছে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ; যার অন্যতম নারীদের গাড়ি চালানো, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা এবং সিনেমা হলে যাওয়ার অনুমতি।

অবশ্য বিগত চার বছরে বিরোধী মতাদর্শীদের কঠোরভাবে দমন, ইয়েমেন যুদ্ধসহ বেশি কিছু বিষয়ে বিতর্কিত তার ভূমিকা।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি মানুষ। ছবি: এএফপি

ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে আবারও শক্তি প্রয়োগ করল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

শনিবার রাজধানী নেপিদোসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চলে ব্যাপক ধরপাকড়। আটক করা হয় বার্তা সংস্থা এপির এক আলোকচিত্রীসহ কমপক্ষে তিন সংবাদকর্মীকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মনিয়া শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লেও পরিচয় বা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এ দিন ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক বিক্ষোভকারীকে বেধড়ক পিটিয়েছে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মীরা; ছুড়েছে ফাঁকা গুলি। একই পরিস্থিতি ছিল ম্যান্ডেলে শহরে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। অনেককে সাজাও দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে প্রাণ গেছে কমপক্ষে তিন বিক্ষোভকারী এবং এক পুলিশ সদস্যের।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই

প্রশান্ত কিশোরের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২৯৪টির মধ্যে ১০০ আসনও পাবে না বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট-বিষয়ক উপদেষ্টা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।

শনিবার এক টুইট বার্তায় তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হারছেই। ক্ষমতা দখলের জন্য প্রয়োজন ১৪৭টি আসন। কিন্তু বিজেপি ১০০-তেও পৌঁছাতে পারবে না।

টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধানযুদ্ধে বাংলা একমাত্র ঘরের মেয়েকেই চায়।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে।

এর আগে পিকে বলেছিলেন, বিজেপির আসনসংখ্যা দুই অঙ্ক ছাড়াবে না। এদিন পেশাদার ভোট-কুশলী পিকে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তফসিল ঘোষণার পরও তার এ কথা।

পিকের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রশান্ত কিশোরকে তাদের ভোটের কৌশল তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।

তার পরামর্শেই নতুন স্লোগান বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় প্রচার করছে তৃণমূল।

তবে পিকের এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল বিরোধীরা। স্বাভাবিক কারণেই বিজেপির তরফ থেকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে পিকের তত্ত্ব। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতেই পিকে এসব বলে বাজার ধরতে চাইছেন।’

সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য মনে করেন, রোববার বামেদের ব্রিগেড জনসভা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। এই মিটিংয়ে কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলও অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে সৌদি যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) অনুমোদনে সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের দপ্তর ওডিএনআই।

ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা কেন এমবিএসের অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এনেছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাশোগজি হত্যায় অংশগ্রহণকারী, আদেশদাতা কিংবা জড়িত ব্যক্তিদের নামও যুক্ত করা হয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে ধরে আনা বা হত্যার অভিযানে অনুমোদন দিয়েছেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যুবরাজের নিয়ন্ত্রণ, অভিযানে এমবিএসের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও তার নিরাপত্তা দলের কয়েকজনের সরাসরি সম্পৃক্তি এবং খাশোগজিসহ বিদেশে থাকা ভিন্ন মতাবলম্বীদের মুখ বন্ধে সহিংস পদক্ষেপে যুবরাজের সমর্থনের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এমন মূল্যায়ন করেছেন।

ওডিএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুবরাজ এমবিএসের। ফলে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সৌদির কর্মকর্তাদের এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে। এ থেকে বোঝা যায়, এমবিএসের আদেশ নিয়ে প্রশ্ন করার কথা নয় সহযোগীদের কিংবা তার (এমবিএস) সম্মতি ছাড়াই স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে তারা।

ইস্তাম্বুলে যাওয়া সৌদির দলটি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর পৌঁছানো দলে এমন কর্মকর্তা ছিলেন, যারা সৌদির রাজকীয় আদালতের সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাফেয়ার্সের (সিএসএমএআরসি) কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ছিলেন। অভিযানের সময় এমবিএসের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সউদ আল-কাহতানির নেতৃত্বে ছিল সিএসএমএআরসি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাহতানি দাবি করেছিলেন, তিনি সৌদি যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেন না।

তুরস্কে যাওয়া দলটিতে এমবিএসের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সের (আরআইএফ) সাত সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সৌদি রয়্যাল গার্ডের অংশ আরআইএফের কাজ যুবরাজের সুরক্ষা দেয়া। বাহিনীটি শুধু তার কাছেই জবাবদিহি করে। ইতিপূর্বে যুবরাজের নির্দেশে সৌদি ও বিদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন অভিযানগুলোতে সরাসরি অংশ নেয় আরআইএফ। এ কারণে গোয়েন্দাদের উপসংহার হলো, এমবিএসের অনুমোদন না থাকলে খাশোগজি হত্যা অভিযানে অংশ নিত না বাহিনীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যুবরাজ খাশোগজিকে হুমকি মনে করতেন এবং দরকার হলে সহিংস কায়দায় তাকে দমিয়ে রাখার পদক্ষেপে তার (এমবিএস) জোর সমর্থন ছিল। যদিও পরিকল্পনা করে খাশোগজির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট একটি অভিযান চালিয়েছিলেন সৌদি কর্মকর্তারা, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না, কত আগে তারা তাকে (খাশোগজি) ক্ষতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানের হয়ে খাশোগজি হত্যার নির্দেশ, এতে অংশগ্রহণ কিংবা জড়িত রয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযান শেষ পর্যন্ত খাশোগজি হত্যায় রূপ নেবে, এমনটি অংশগ্রহণকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দারা জানেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন সৌদ আল-কাহতানি, মাহের মুতরেব, নয়ফল-আরিফি, মোহাম্মদ আল-জাহরানি, মানসুর আবাহুসাইন, বদর আল-উতাইবাহ, আবদুল আজিজ আল হাউসাওয়ি, ওয়ালিদ আবদুল্লাহ আল শিহরি, খালিদ আল উতায়বাহ, তা’আর আল হার্বি, ফাহদ শিয়াব আল বালাওয়ি, মেশাল আল-বুস্তানি, তুর্কি আল শিহরি, মুস্তফা আল মাদানি, সাইফ সাদ আল, আহমেদ জায়েদ আসিরি, আবদুল্লা মোহাম্মদ আলহোরিনি, ইয়াসির খালিদ আলসালেম, ইব্রাহিম আল-সালিম, সালাহ আল তুবাইগি ও মোহাম্মদ আল উতায়বাহ।

প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান সৌদির

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি। প্রকাশের পরপরই প্রতিবেদনটি নিয়ে বিবৃতি দেয় সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনে সৌদি আরবের নেতৃত্বকে নিয়ে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে সৌদি। প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য ও সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও মনে করে সৌদি আরব।

‘খাশোগজি হত্যা ঘৃণ্য অপরাধ এবং তা সৌদি রাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের ঘোর লঙ্ঘন। একদল ব্যক্তি যেসব সংস্থায় কাজ করতেন সেসব সংস্থার সংশ্লিষ্ট সব নিয়মকানুন ও কর্তৃপক্ষকে ডিঙিয়ে ওই হত্যা সংঘটন করে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রাহুলের টুইট
বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে মোদিকে রাহুলের কটাক্ষ
কৃষকদের শেষ করতে দেব না মোদির সরকারকে: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg