করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা

বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ১২ লাখ মডার্নার টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনা টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্সের পাঠানো ১২ লাখ টিকা বিশেষ ফ্লাইটে রাত  সোয়া ১১টার দিকে পৌঁছায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম এবং ফাইজারের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত মডার্নার করোনা প্রতিরোধী টিকা পেল ঢাকা।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনা টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্সের পাঠানো ১২ লাখ টিকা বিশেষ ফ্লাইটে রাত সোয়া ১১টার দিকে পৌঁছায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টিকা গ্রহণ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর, ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এবং ইপিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার গোলাম মাওলা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া রাত দেড়টায় চীন থেকে বাংলাদেশের কেনা আরও ২০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে এই টিকা তোলা হয়েছে।

এর আগে চীন থেকে আরও ১১ লাখ টিকা এসেছে উপহার হিসেবে।

কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশে আরও ১৩ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে শনিবার।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা
বিমানে তোলা হচ্ছে চীন থেকে কেনা সিনোফার্মের টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রথম আনে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। তবে ৭০ লাখ পাঠানোর পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায়।

এর পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার মোট ৩৩ লাখ টিকা।

টিকার সংকট কাটাতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে চলতি সপ্তাহ থেকেই অগ্রগতি দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছে দেশ।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা
মডার্নার টিকা আসার পর বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া সরকারের হাতে বর্তমানে ফাইজার, কোভিশিল্ড, বিবিআইবিপি-করভি মিলিয়ে ১৪ লাখ টিকা। এই টিকা দিয়ে আগামী এক মাস টিকা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাবে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেয়া প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ মানুষের সংকটও দূর হচ্ছে। জুলাইয়ের মধ্যে এই টিকাও হাতে পাচ্ছে সরকার। সিরাম ইনস্টিটিউট টিকা দিতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালান আসছে। ফলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা
টিকার চালান বুঝে নিতে বিমান বন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী মাসের মধ্যেই রাশিয়ার তৈরি করোনা টিকা স্পুৎনিক-ভির ৪০ লাখ ডোজ দেশে আসবে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যদি ১০ মিলিয়ন টিকা পাই, তাহলে বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে পারব। আমরা আশাবাদী, এই মাসের মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা আসবে এবং ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকবে।’

বুধবার জাতীয় সংসদকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি ও ২০২২ সালের মধ্যে আরও ৭ কোটি করোনাভাইরাসের টিকা দেশের হাতে থাকবে। ডিসেম্বরের মধ্যে দুই ডোজ হিসেবে পাঁচ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আর গণটিকা শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি। প্রতি মাসে ভারত থেকে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে পাওয়ার কথা ছিল সাত কোটির বেশি টিকা।

তবে ভারতে করোনার নতুন ধরনের ব্যাপক বিস্তারে সব পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। নিজ দেশে টিকার চাহিদা মেটাতে সে দেশের সরকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানি সিরাম ইন্টারন্যাশনালকে করোনার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করা টিকা যেমন দেয়া যায়নি, তাই কোভ্যাক্সের টিকা পায়নি বাংলাদেশ। এই বৈশ্বিক উদ্যোগও সিরাম থেকেই টিকা নেয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিল।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৬ এপ্রিল টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ রাখে। আর সিরামের দ্বিতীয় ডোজও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ঈদের পর।

তবে সিরাম থেকে টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তার পর সরকার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করছে। চীন থেকে সরকার তিন থেকে চার কোটি টিকা কেনার কথা বলছে। এর মধ্যে কত টিকার চুক্তি হয়েছে, সেটি এখনও প্রকাশ হয়নি।

হাতে টিকা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে আবার গণটিকা শুরু করেছে সরকার। ঢাকায় ৪০টি আর বাইরে প্রায় এক হাজার কেন্দ্রে চলছে এই কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
দুই দিনে টিকা আসছে ৪৫ লাখ, চলতি মাসে কোটি
টিকার রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তিতে সিলেটের প্রবাসীরা
ভারতে করোনা প্রতিরোধী বিশ্বের প্রথম প্লাজমিড ডিএনএ টিকা
গবেষণা: টিকা নিলে করোনা কাবু করতে পারে না
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার রেজিস্ট্রেশন শুরু

শেয়ার করুন

মন্তব্য