দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ। তার দাবি, ধূমপানজনিত কারণে বছরে মৃত্যুর এই সংখ্যা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ১৩ গুণেরও বেশি।

মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইন আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এ তথ্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি পারেননি। তবে স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম ছিলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানের কারণে করোনাভাইরাসের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি মৃত্যুর তথ্য দিলেও এই পরিসংখ্যানের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছরের ১৮ মার্চ। এরপর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬২৪ জন। আর প্রায় ১৫ মাস, অর্থাৎ ১৬ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ২৮২ জন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?
মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভা

অনলাইন আলোচনায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ লোক ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ।

মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘সবাই যখন তামাকমুক্ত দেশ গড়তে চাইছে, তখন একটি শ্রেণি রয়েছে তারা বলেন, সরকার এই খাত থেকে অনেক বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে ২০১৭ সালে সরকার তামাক থেকে রাজস্ব পেয়েছে ২২ হাজার ২৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, কিন্তু একই বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে। শুধু তামাকজনিত অসুখের কারণে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি চিকিৎসাব্যয় হচ্ছে।’

তামাকশ্রমিকের ওপর গবেষণার তাগিদ দিয়ে শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তামাক চাষে জড়িতদের অন্যান্য মানুষের চেয়ে অনেক কম আয়ু। গবেষণা করলে দেখা যাবে তামাক উৎপাদন ও চাষে যারা জড়িত, তারা অন্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক আগেই মারা যান।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি করে। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বছরে পৃথিবীতে ৮০ লক্ষাধিক ও বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

‘বাংলাদেশ সরকার এসডিজি অর্জনের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনাকালে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ তারা ধূমপান করতেন বা তামাকের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে চা-বাগানের শ্রমিকরা এক ধরনের তামাক গ্রহণ করেন। তামাক ও চুন মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। আমাদের ট্রাক ড্রাইভারেরা গুল ব্যবহার করেন। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ধূমপানে বাঙালি, মদ্যপানে এগিয়ে অসমিয়ারা

শেয়ার করুন

মন্তব্য