ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারির পেছনে জিঙ্ক?

ভারতের মধ্য প্রদেশের জবলপুর হাসপাতালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত এক রোগী। ছবি: এএফপি

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারির পেছনে জিঙ্ক?

‘জিঙ্ক সমৃদ্ধ পরিবেশে ফাঙ্গাস ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য কোষগুলো সংক্রমণ এড়াতে জিঙ্ককে দূরে রাখার চেষ্টা করে।’

মহামারির ওপর মহামারি! বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে আরেক আতঙ্ক ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। বিরল এই ফাঙ্গাসে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তের ঘটনা নতুন নয়। প্রকৃতিতে থাকা এ ফাঙ্গাস আগে থেকেই মানুষকে আক্রমণ করে। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে এগুলো কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। এটি তাদের জন্যই ভয়াবহ যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল।

ভারতের সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে হঠাৎ করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার বিষয়টি চিন্তায় ফেলেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের এমনিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কমে যায়। সেই সঙ্গে তাদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও বিশেষ ব্যবস্থাপত্র ফাঙ্গাসের আক্রমণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় বিরল এ ছত্রাকের সংক্রমণের জন্য করোনা চিকিৎসায় অতিরিক্ত স্টেরয়েড এবং রোগীদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকের কথা বলা হচ্ছিল। নতুন করে বিশেষজ্ঞরা এখন করোনা চিকিৎসায় অতিরিক্ত জিঙ্ক ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এনেছেন।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সাবেক সভাপতি ডা. রাজিব জয়দেভান এক টুইটে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রকোপের জন্য করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় জিঙ্কের ব্যবহার, গরম পানির অতিরিক্ত ভাপ নেয়া ও কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিকের সংমিশ্রণ ব্যবহারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।

রাজিব ইন্দোরের মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ডা. ভিপি পান্ডের একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। চারটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের ওপর করা ওই গবেষণায় দেখানো হয়েছে, এই তিনটি বিষয় কীভাবে ফাঙ্গাসের বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

ওই টুইটে তিনি লেখেন, অ্যান্টিবায়োটিকের ককটেল- অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন ও কার্বাপেনেম ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

‘জিঙ্ক সমৃদ্ধ পরিবেশে ফাঙ্গাস ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য কোষগুলো সংক্রমণ এড়াতে জিঙ্ককে দূরে রাখার চেষ্টা করে’- যোগ করেন তিনি।

রাজিব জয়দেভান আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত পরিমাণে গরম বাষ্প মানুষের প্রাকৃতিক মিউকাস বা শ্লেষ্মার স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমনকি মিউকাস পুড়ে যেতে পারে, যা ফাঙ্গাসকে আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ভাঙতে সহায়তা করে।’

গবেষণায় দেখা যায়, ভারতে সংক্রমণের ১০-২০ শতাংশ এ কারণে হয়েছে। রোগীদের প্রায় ২১ শতাংশের ডায়াবেটিক ছিল না এবং প্রায় ৫২ শতাংশ রোগী অক্সিজেন নিয়েছেন।

ভারতে প্রায় ৮০ শতাংশ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টিবায়োটিকসহ পাঁচ থেকে সাতটি ওষুধ খেতে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দিনে ২-৩ বার গরম পানির বাষ্পের ভাপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। করোনা চিকিত্সার জন্য কোনো বিশেষ ওষুধ না থাকায় রোগীদের ভাইরাসের বৃদ্ধি কমাতে অ্যান্টিবায়োটিকের সংমিশ্রণ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

জিঙ্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে দ্রুত রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর পরিপূরক হিসেবে। জিঙ্ক শরীরের ৩০০ টির বেশি এনজাইমকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে, যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন কাজ করে।

তবে আগের বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, জিঙ্ক ছত্রাকের, বিশেষ করে মিউকাসজনিত রোগ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। জিঙ্কের অপসারণ ছত্রাকের বেঁচে থাকা কঠিন করে তুলতে পারে।

অন্য একটি তত্ত্ব অনুসারে, শিল্পে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কারণ হতে পারে। করোনা চিকিত্সায় অক্সিজেনের বিপুল চাহিদার কারণে শিল্পের অক্সিজেন ডাইভার্ট করা হয়।

কিছু জায়গায় মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের জায়গায় শিল্পের সিলিন্ডারগুলোও ব্যবহার করা হয়। শিল্পের অক্সিজেন মেডিক্যাল অক্সিজেনের চেয়ে বিশুদ্ধ হলেও সিলিন্ডারগুলো উপযুক্ত নয়। এতে অনেক মাইক্রো লিক থাকতে পারে পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বজায় রাখা হয় না।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার নির্দেশনা আসেনি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার নির্দেশনা আসেনি

‘১৯ তারিখ থেকে যে টিকা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, এটি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা মেডিক্যালে এটি দেয়া হয়েছিল। এটির রেজাল্ট যেহেতু ভালো, তাই হাসাপাতালে যারা কাজ করছেন অর্থাৎ মেডিক্যাল এবং আইসিটি শিক্ষার্থীদের এটি দেয়া হবে ৷’

উপহার হিসেবে দেয়া চীনের সিনোফার্মের ছয় লাখ ডোজ টিকা গত রোববার ঢাকায় পৌঁছেছে। এর আগে আরও পাঁচ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে চীন।

তবে এসব টিকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। এটি নিয়ে সরকার নির্দেশ দিলে তারপর আমরা টিকা দেয়া শুরু করব।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘১৯ তারিখ থেকে যে টিকা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, এটি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা মেডিক্যালে এটি দেয়া হয়েছিল। এটির রেজাল্ট যেহেতু ভালো, তাই হাসাপাতালে যারা কাজ করছেন অর্থাৎ মেডিক্যাল এবং আইসিটি শিক্ষার্থীদের এটি দেয়া হবে ৷’

সরকারের নির্দেশনা আসার পর শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, ‘টিকা দেয়ার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ এলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অনেক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যে করা আছে। বাকিরাও করবে। রেজিস্ট্রেশন আইসিটি মিনিস্ট্রির মাধ্যমে প্ল্যাগিং করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেন্টারে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।’

গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কোথা থেকে টিকা নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে, কোথা থেকে নিবে এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত দিবে। তবে ধারণা করা যায়, সিনোফার্মের টিকাগুলো জেলা শহরে আর ফাইজারের টিকা ঢাকা শহরে দেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরও বলছেন শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি, এটা সত্য কথা। এগুলো পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট৷ প্রশাসনিক কমিটমেন্ট এখনও হয়নি।

শিক্ষার্থীরা টিকা কবে পেতে পারেন জানতে চাইলে অধ্যাপক আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা ছাড়া ক্লাস রুমে আসতে হবে৷ শিক্ষার্থীরা বসে আছে কেন? এ দেশে কেউ কোনো কিছু আজ পর্যন্ত দিয়েছে? সব জোর করে আদায় করতে হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার নির্দেশনা না হওয়ার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়, ততই আমাদের জন্য উত্তম। আমাদের উদাত্ত আহ্বান থাকবে যাতে শিক্ষার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব টিকা দেয়া যায়। তাহলে অনেক কাজকর্ম করতে আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য হবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব হবে।’

উপহার হিসেবে পাওয়া চীনের টিকা আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের টিকার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘সরকার বলেছে, এটি সরকারের দায়িত্ব। সকাল-বিকাল যোগাযোগ করা যায় না। দায়িত্বশীল মহলে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়।’

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

রোগীটি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

খুলনা থেকে ডানচোখে সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীটি দুই দিন আগেই শনাক্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে একজন পুরুষ শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে খুলনা চিকিৎসা নিতে হাসপতালে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।’

এই রোগীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর লাভলি বাড়ৈ।

তিনি জানান, রোগীটির মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

চোখ ফেলে দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জাবাবে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমরা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ওনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

আর আগে গত ২৫ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে তিনজনের শরীরে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও রোগটি শনাক্তের খবর আসছে।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

এবার নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরি করবে সিরাম

এবার নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরি করবে সিরাম

নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরি করবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। করোনা প্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর এই টিকা। নভোভ্যাক্সের টিকার বাণিজ্যিক নাম কভোভ্যাক্স।এখন দেশে কোভিশিল্ড তৈরি করেছে সিরাম। পাশাপাশি স্পুতনিক ভি তৈরিরও ছাড়পত্র পেয়েছে আদর পুনাওয়ালার সংস্থা।

ভারতে আরেকটি করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ট্রায়ালের পর প্রকাশ্যে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের সংস্থা নোভাভ্যাক্স ও কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনের তৈরি টিকার কার্যকারিতা।

সংস্থা জানিয়েছে, করোনা প্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর নোভাভ্যাক্সের টিকা। সোমবারই প্রকাশ্যে এসেছে এই তথ্য। মোট ২৯ হাজার ৯৬০ জনের ওপর ট্রায়াল হয়েছিল এই টিকার। এরপর সংস্থার দাবি, মাঝারি সংক্রমণের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ কার্যকর এই টিকা। সামগ্রিকভাবে এ টিকা ৯০.৪ শতাংশ কার্যকর। নভোভ্যাক্সের টিকার বাণিজ্যিক নাম কভোভ্যাক্স।

নির্মাতা মেরিল্যান্ডের সংস্থা জানিয়েছে ২০২১ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আপৎকালীন অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে তারা। সংস্থার প্রেসিডেন্ট স্ট্যানলি সি এর্ক জানিয়েছেন, নভোভ্যাক্স ২০২১ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রতি মাসে ১ কোটি টিকা তৈরি করবে। আর ২০২১ সালের শেষে প্রতি মাসে দেড় কোটি টিকা তৈরি করবে তারা। সারা বিশ্বের জনস্বাস্থ্যে বড় অবদান রাখবে নোভাভ্যাক্স, এমনটিই জানিয়েছেন স্ট্যানলি সি এর্ক।

জানা গেছে, নভোভ্যাক্সের এই টিকা তৈরি করবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। এখন দেশে কোভিশিল্ড তৈরি করেছে সিরাম। পাশাপাশি স্পুতনিক ভি তৈরিরও ছাড়পত্র পেয়েছে আদর পুনাওয়ালার সংস্থা। এবার নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরি করবে সিরাম। নোভাভ্যাক্সের এই টিকার আরেক নাম NVX-CoV2373। ২ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায় এই টিকা। তাই ভারতে এই টিকা পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

নওগাঁয় করোনা শনাক্তের হার ২৬.৪১ শতাংশ

নওগাঁয় করোনা শনাক্তের হার ২৬.৪১ শতাংশ

নওগাঁ সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪০৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টায় ৪০৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ।

নওগাঁ সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪০৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব ও বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতাল আরটিপিসিআর ল্যাবে ১৬৮ জনের পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে সোমবার দুপুরে। এতে ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

এছাড়া ২৪ ঘন্টায় নওগাঁ সদর হাসপাতালসহ জেলার ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ২৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

নতুন আক্রান্তর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ১৮, রাণীনগরে ৬, আত্রাইয়ে ৮, মহাদেবপুরে ১৫, মান্দায় ২৩, বদলগাছীতে ১, পত্নীতলায় ৮, ধামইরহাটে ৮, নিয়ামতপুরে ১২, সাপাহারে ১ ও পোরশা উপজেলায় ৭ জন শনাক্ত হয়েছে।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ জানান, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় করোনা সংক্রমণ স্থিতিশীল আছে। এই সময়ে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

‘নমুনা দিতে মানুষের অনাগ্রহের পাশাপাশি জেলায় আরটিপিসিআর ল্যাব না থাকা এবং স্বাস্থ্যবিভাগের জনবল সংকটের কারণে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০টি নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। এই সংখ্যা অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ হলে ভালো হতো।’

জেলায় এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ৯১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর হার এক দশমিক সাত পাঁচ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮

২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

২৪ ঘণ্টায় করোনায় দিনাজপুরে চার ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুুরে ৭০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৬, কুড়িগ্রামে ১৪, গাইবান্ধায় পাঁচ, পঞ্চগড়ে তিন এবং নীলফামারী জেলায় দুই জন শনাক্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে চার এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৩৮ । নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৮ জন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সোমবার বিকালে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রোববার রংপুর বিভাগের আট জেলার ৫৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮ জনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুুরে ৭০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৬, কুড়িগ্রামে ১৪, গাইবান্ধায় পাঁচ, পঞ্চগড়ে তিন এবং নীলফামারী জেলায় দুই জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন।

রোববার পর্যন্ত রংপুর জেলায় ৫ হাজার ২৪৩ জন শনাক্ত এবং ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, দিনাজপুুরে ৬ হাজার ৩৪১ জন আক্রান্ত ও ১৫৮ জনের মৃত্যু, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ হাজার ৬ জন শনাক্ত ও ৫৪ জনের মৃত্যু, গাইবান্ধায় এক হাজার ৮১৬ জন শনাক্ত ও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও নীলফামারীতে ১ হাজার ৬১৭ জন আক্রান্ত ও ৩৮ জনের মৃত্যু, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ৩৩১ জন আক্রান্ত ও ২৪ জনের মৃত্যু, লালমনিরহাটে ১ হাজার ১৯৫ জন আক্রান্ত ও ১৮ জনের মৃত্যু এবং পঞ্চগড় জেলায় ৮৫৯ জন আক্রান্ত ও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আহাদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, বিভাগে বর্তমানে ২০ হাজার ৪০৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৫ জন। বিভাগের প্রতিটি জেলায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কাজী এন্টারপ্রাইজেসের

করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কাজী এন্টারপ্রাইজেসের

কাজী এন্টারপ্রাইজেসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে এবং ৬ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে পৌঁছে দেয়া হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী।

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে দেশে জরুরি সেবা দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ফ্রন্টলাইনারদের সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজেস।

সোমবার প্রতিষ্ঠানটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতায় এক অনন্য নাম কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা রয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে এবং ৬ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে পৌঁছে দেয়া হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ, ডিএমপির পক্ষে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) টুটুল চক্রবর্তী এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপক (ইমেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স) সালমান খান ইয়াসিন সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী গ্রহণ করেন।

এ সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তারা কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এভাবেই বেসরকারি খাত দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসবে। এ সময় তারা সবাইকে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে কাজী এন্টারপ্রাইজেস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর সময়ে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। তাই, বুয়েট টেস্টের মাধ্যমে তাদের পণ্যসামগ্রীর সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের এফএমসিজি খাতে এই প্রথম।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামেও মিলেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

চট্টগ্রামেও মিলেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

গবেষকদের কয়েকজন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং ঢাকার আইসিডিডিআরবি’র একটি যৌথ গবেষণায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সাথে নাইজেরীয় ইটা ভ্যারিয়েন্ট, যুক্তরাজ্যের আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বিটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

এবার চট্টগ্রামেও করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একদল গবেষক।

চট্টগ্রামের সাতটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব থেকে ৪২ জন করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে দুইজনের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পান তারা। তবে এই দুইজনের কেউই সম্প্রতি ভারতে যাননি বা ভারতফেরত কারও সরাসরি সংস্পর্শে আসেননি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং ঢাকার আইসিডিডিআরবির একটি যৌথ গবেষণায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সাথে নাইজেরীয় ইটা ভ্যারিয়েন্ট, যুক্তরাজ্যের আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বিটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। গবেষণায় অর্থায়ন করেছেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি)।

চলতি বছরের মের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রামের সাতটি করোনা পরীক্ষাগার থেকে ৮২টি নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য ঢাকার আইসিডিডিআরবিতে পাঠায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। এর মধ্যে ৪২টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে দুটি নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৩৩টি নমুনায় আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, তিনটি নমুনায় নাইজেরীয় ভ্যারিয়েন্ট এবং চারটি নমুনায় যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রাপ্ত ফলাফলে ৪২টি নমুনায় ৪.৮ শতাংশ ভারতীয়, ৭.২ শতাংশ নাইজেরীয়, ৯.৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যের এবং ৭৮.৫ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া দুজন রোগী সম্প্রতি ভারত যাননি, ভারতফেরত কারও সংস্পর্শেও আসেননি। তবু তাদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়ায় চট্টগ্রামে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আল ফোরকান নিউজবাংলাকে বলেন, ’এটি একটি চলমান গবেষণা। এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাব থেকে সংগ্রহ করা ৪২টি নমুনার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২টি (৪.৮%) ভারতীয় (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট), ৩টি (৭.২%) নাইজেরীয় (ইটা ভ্যারিয়েন্ট), ৪টি (৯.৫%) যুক্তরাজ্যের (আলফা ভ্যারিয়েন্ট) এবং বাকি ৩৩টি (৭৮.৫%) দক্ষিণ আফ্রিকার (বিটা ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত দুইজন রোগীর কেউই সম্প্রতি ভারতে যাননি এবং তাদের জানামতে ভারতফেরত কারও সংস্পর্শেও আসেননি।‘

তিনি বলেন, ’বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী চীনের উহান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকে এই পর্যন্ত সার্স-কভ-২ (করোনাভাইরাস) মোট ১০ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। এর মাধ্যমে মূলত ছয়টি দেশে (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল এবং ভারত) অতিসংক্রমণ এবং মহামারি আকার ধারণ করে ভাইরাসটি।

‘আমাদের বর্তমান গবেষণায় চট্টগ্রামে ভারতীয়সহ চারটি ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি এবং অতিসত্বর বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনাপূর্বক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, যার পরিণতি ভারতের মতো ভয়াবহ হতে পারে।’

গবেষণা দলের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় নতুন করে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খুব উদ্বেগজনক। এখনই সতর্ক না হলে সংক্রমণ কমানোর বিষয়টি অনিশ্চয়তার দিকে চলে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার

শেয়ার করুন