ফাইজার, নাকি মডার্না: কোন টিকা ভালো?

ফাইজার, নাকি মডার্না: কোন টিকা ভালো?

দুটি টিকার ক্ষেত্রেই গ্রহিতার সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য দুটি ডোজের প্রয়োজন হয়, এক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রমাণগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রথম ডোজের দুই সপ্তাহের মধ্যেই মডার্নার টিকা কোভিডের লক্ষণগুলো প্রতিরোধে ফাইজারেরটির চেয়ে ভালো কাজ করে।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে অনুমোদন পেয়েছে ফাইজার ও মডার্নার টিকা। এর মধ্যে ১১ ডিসেম্বর অনুমোদন পাওয়া ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সিং হোমের বাসিন্দাদের।

কার্যকর প্রথম টিকা হিসেবে ফাইজারের টিকা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারও দখল করে ফেলছে, ঠিক তখনই এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মডার্নার টিকা।

প্রশ্ন হচ্ছে- এই দুই টিকার কোনটি কেমন, শেষপর্যন্ত কোনটি পাবে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা?

ফাইজার ও মডার্নার টিকার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে সায়েন্সনিউজের একটি প্রতিবেদনে। নিউজবাংলার পাঠকের জন্য সেটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে বাংলায় অনুবাদ করেছেন মেহরিন জাহান।

যুক্তরাষ্ট্রে এবার দ্বিতীয় করোনাভাইরাস টিকা (মডার্নার টিকা) কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গত ১৮ ডিসেম্বর ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের ব্যক্তিদের দেহে জরুরি পরিস্থিতিতে মডার্নার টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। এই সিদ্ধান্তটি আসে এই টিকার চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য পর্যালোচনা শেষে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সম্মতির প্রেক্ষাপটে।

এই টিকাটি এরই মধ্যে বাজারে থাকা ফাইজার ও তাদের জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের টিকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রে ১১ ডিসেম্বর অনুমোদন পায়। ফাইজারের টিকা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও নার্সিংহোমে বসবাসকারীসহ উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

এবার দেখা যাক দুটি টিকা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

দুটি টিকাই ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের সুরক্ষা দেবে

মডার্না ও ফাইজার- দুটি প্রতিষ্ঠানের টিকাই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।

পর্যালোচনার জন্য এফডিএকে সরবরাহ করা নথিতে মর্ডানা জানায়, তাদের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলেছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর, যেখানে টিকার ৯৪.১ শতাংশ কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে। একইভাবে দেখা গেছে, ফাইজারের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা নিয়ে কোভিডের লক্ষণগুলো প্রতিরোধে সক্ষম।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে ডিউক ইউনিভার্সটির সুজানা নাগি বলছেন, ‘দুটি টিকার তুলনামূলক ফলাফল একই রকম হওয়ার কারণ সম্ভবত এটাই যে, এগুলোর মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি। আমি মনে করি, এজন্যই আমরা প্রথম দিকের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল দেখতে পাচ্ছি।’

১৬ বছর থেকে ৮৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের টিকা বেশ কার্যকর। আর মডার্নার টিকা ১৮ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত বয়সীদের ক্ষেত্রে ৯৫.৬ শতাংশ কার্যকর, তবে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এর কার্যকারিতা ৮৬.৪ শতাংশে নেমে আসে।

মডার্নার সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান জ্যাকুলিন মিলার গত ১৭ ডিসেম্বর এফডিএর উপদেষ্টা কমিটির শুনানিতে অবশ্য দাবি করেন, এই পার্থক্যটি অল্পসংখ্যক বয়স্ক ব্যক্তির ওপর প্রয়োগের (ভ্যাকসিন গ্রুপ থেকে চার জন এবং প্লাসেবো গ্রুপ থেকে ২৯ জন) ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, কাজেই এটি পরিসংখ্যানগত দিক থেকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, ‘বয়স্কদের মধ্যে মডার্নার টিকার কার্যকারিতা সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর কার্যকারিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

'প্লাসেবো গ্রুপ' হলো, যাদের কোনো ধরনের অবহিত না করে টিকাসদৃশ ওষুধ দেয়া হয়, কিন্তু সেটিতে টিকা থাকে না। অর্থাৎ এই গ্রুপটি বাস্তবে টিকার অধীনে না এলেও মানসিকভাবে ভাবতে থাকে তারা টিকা পেয়েছে।

প্রথম ডোজের পর মডার্নার টিকা বেশি সুরক্ষা দিতে পারে

দুটি টিকার ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য গ্রহিতাদের দুটি ডোজ নেয়ার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রমাণগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রথম ডোজের দুই সপ্তাহের মধ্যেই মডার্নার টিকা কোভিডের লক্ষণগুলো প্রতিরোধে ফাইজারেরটির চেয়ে ভালো কাজ করে। ফাইজারের ট্রায়ালে প্রথম ডোজ দেয়ার পরে গ্রহিতাদের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রুপের ৩৯ জনের এবং প্লাসেবোতে ৮২ জনের কোভিড ধরা পড়ে, যা টিকার প্রথম ডোজের ৫২.৪ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে মডার্নার প্রথম ডোজের কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ।

তবে মডার্নার টিকার ডোজের এই কার্যকারিতা অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক গ্রহিতার ওপর প্রয়োগ করে পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রায় সব গ্রহিতা প্রথম টিকার পর দ্বিতীয় ডোজও গ্রহণ করেছিলেন, ফলে প্রথম ডোজের কারণেই তারা সুরক্ষা পেয়েছেন কিনা- সেটা বলা বেশ কঠিন।

মডার্নার টিকার প্রাথমিক ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি লক্ষণযুক্ত কোভিডের পাশাপাশি লক্ষণবিহীন সংক্রমণ ঠেকাতেও সক্ষম

কিছু প্রাথমিক তথ্য দেখাচ্ছে, মডার্নার টিকা লক্ষণযুক্ত কোভিড সংক্রমণের পাশাপাশি লক্ষণবিহীন উপসর্গও নিরাময় করতে পারে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং কমিউনিটিতে ইমিউনিটি তৈরির জন্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে লক্ষণবিহীন সংক্রমণ প্রতিরোধ খুবই জরুরি।

মডার্নার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্লাসেবো পাওয়া ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে ৩৮ জন প্রথম ও দ্বিতীয় ইঞ্জেকশনের মধ্যবর্তী সময়ে লক্ষণবিহীন কোভিড পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। অন্যদিকে, টিকা পাওয়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যবর্তী সময়ে লক্ষণবিহীন আক্রান্ত শনাক্ত হন মাত্র ১৪ জন। এতে প্রমাণিত হয় টিকার মাধ্যমে লক্ষণবিহীন সংক্রমণ কিছুটা হলেও ঠেকানো গেছে।

অন্যদিকে, ফাইজার এখনও এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব তাদের টিকাও লক্ষণবিহীন সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। তবে নাগি মনে করছেন, ‘দুটি টিকার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো পার্থক্য দেখা যাবে বলে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

দুটি টিকার ক্ষেত্রেই এমআরএনএ জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি মানব কোষকে করোনাভাইরাস স্পাইক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যে প্রোটিনকে অপসারণ করেই ভাইরাস কোষের ভেতরে আস্তানা গাড়ে। টিকা পাওয়ার পর দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের স্পাইক সম্পর্কে সচেতন হয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা অর্জন করে।

দুটি টিকারই একই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যদিও গুরুতর অ্যালার্জি সম্পর্কে প্রশ্ন থেকেই যায়

প্রতিটি টিকার ক্ষেত্রে ইনজেকশনের পরে শরীরে একই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ভাইরাল সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ আন্দ্রিয়া কক্স বলেন, ‘দুটি টিকার সাধারণ প্রতিক্রিয়া হলো বাহুতে ব্যথা। এছাড়া, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ করে দ্বিতীয় ডোজের পর ক্লান্তি, ঠান্ডা লাগা, শরীর ব্যথা বা মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা গেছে।’

কক্স বলছেন, ‘ফাইজারের চেয়ে মডার্নার টিকায় দেহে ফোলাভাবসহ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাত্রা খানিকটা বেশি। এর কারণ হতে পারে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে তোলার জন্য মডার্না তাদের টিকার প্রতিটি ডোজে বেশি পরিমাণে এমআরএনএ যোগ করেছে।’

অন্যদিকে নাগির মত হলো, ‘টিকার ক্ষেত্রে এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়। বাস্তবতা হলো- টিকা আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নতুন ধরনের শক্তি দেয়, আর সেটাই সবার কাম্য।’

দুটি টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেই গ্রহিতার মধ্যে অস্থায়ী দুর্বলতা বা মুখের পেশী বিবশ হওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এগুলো খানিকটা উদ্বেগের জন্মও দিয়েছে। তবে কক্স বলেছেন, এখনও দুটি টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বিচারে এই ঘটনাগুলো বিরল।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ফাইজারের টিকা উন্মুক্ত হওয়ার পর এর গ্রহিতা কিছু স্বাস্থ্যসেবা কর্মী আরও তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন, যেগুলো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সময়ে দেখা যায়নি। আলাস্কার তিন জনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে দুজন অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছে।

মডার্নার টিকা গ্রহণকারীরাও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবেন কিনা- সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। গত ১৭ ডিসেম্বর এফডিএ-এর শুনানিতে মডার্নার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাল জ্যাকস বলেছিলেন, দুটি টিকার ন্যানো পার্টিকেল আলাদা, এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবধান তৈরি করতে পারে। আর সত্যিই সেটি হলে মডার্নার টিকা ফাইজারের টিকার মতো অ্যালার্জির জটিলতা তৈরি নাও করতে পারে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের সন্দেহ, অ্যালার্জির কারণ হলো পলিথিলিন গ্লাইকল নামের ন্যানো পার্টিকেল, যা দুটি টিকাতেই রয়েছে।

মডার্নার টিকা সংরক্ষণে খুব বেশি ঠান্ডার প্রয়োজন নেই, তাই বিতরণ সহজ

দুটি টিকার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায়। ফাইজারের টিকা অবশ্যই অতি শীতল ফ্রিজারে রাখতে হবে, যেখানে তাপমাত্রা হবে অন্তত মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে মডার্নার স্ট্যান্ডার্ড ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া মডার্নার টিকা একটি ফ্রিজে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে এই টিকা বিতরণ ফাইজারের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক।

নাগি বলছেন, ‘এ ধরনের সুবিধা আমাদের সবার জন্য বেশ সুবিধাজনক।’

কিছু কিছু হাসপাতাল দীর্ঘ সময়ের জন্য অতি শীতল পরিবেশে ফাইজারের টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। তবে যাদের সে সুবিধা নেই, সেই ক্লিনিকগুলো মডার্নার শটের দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে ভবিষ্যতে সম্ভবত অন্য আরও সংস্থা- যেমন অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাও আসবে, যেগুলো আরও বেশি দিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ।

খাদক ও ঘাতকচক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

দেশে হাসপাতাল দরকার। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয় বলে মনে করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মোহাম্মদ বলেন, মানুষের প্রাকৃতিক জায়গাকে নষ্ট করে ব্যবসা করে মুনাফার জন্য কিছু লোককে হাসপাতালের নামে দখল বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবিতে বেসরকারী হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন- সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, বটতলা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, লীলা ব্যান্ড, মাদল এবং শিল্পী কফিল আহমেদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু সিআরবি নয় বরং সারাদেশই এই ধরনের লুণ্ঠন, আগ্রাসন, দখল, উন্নয়নের নামে বিকৃত উন্মাদনার শিকারে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, হাসপাতাল মানুষের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদী যদি নর্দমায় পরিণত না হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গা থাকতো তাহলে মানুষের এত অসুস্থতা তৈরি হতো না।

লুটতরাজদের স্বার্থই সরকারের স্বার্থ দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি যেখানে জীবন জীবিকা সবকিছুর জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। সরকার বধির, কালা, অন্ধ। তার সামনে শুধু মুনাফা, লুটেরা, লুটতরাজ কোটিপতিরাই রয়েছে।

খাদক ও ঘাতকচক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, শিল্পী কফিল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

উন্মুক্ত এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গান ও নাটক পরিবেশন করে লীলা ব্যান্ড, সহজিয়া, মাদল, বক্ররেখা, ভাটিয়াল শহুরে, সমগীত, বটতলা, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার বায়ান্ন, বনফুল এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এ ছাড়া এককভাবে গান, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, পারফর্মিং আর্টসহ নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন- শিল্পী সুমন হালদার, আশরাফুল হাসান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, হাবিবুল্লাহ পাপ্পু, অমল আকাশ, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, ফারহা নাজ মুন, ইশরাত শিউলি এবং অনন্যা লাবনী।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫৯ জন। সংখ্যার দিক থেকে ২০০০ সালের পর ডেঙ্গুতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন।

এর আগে ২০০১ সালে ৪৪ ও ২০০২ সালে ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্যদিকে ২০০৭ সাল থেকে টানা চার বছর ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৭ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে ৫ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলো।

এ বছরের জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে শনাক্ত হয় দুই হাজারের বেশি রোগী। আর আগস্ট মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৮ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৪৬০ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৪ হাজার ২০৪ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ১৯৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৯০ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

প্রতীকী ছবি

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

যথাযোগ্য জনবলের অভাবে ডেঙ্গু সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ ভুলভাবে হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা, টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এসব মত দেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০০ সাল থেকে প্রায় বছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে নগরীর মশা নিবারণে টেকসই সমাধানের রূপরেখাবিষয়ক সেমিনার হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ও নগরে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে, দীর্ঘদিনেও ডেঙ্গু সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যথাযোগ্য জনবল সমস্যা।

‘মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। তাই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিবারণ কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মহামারি প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানসম্মত কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না।

‘ফুলের টবের জমা পানি ফেলে দেয়ার কথা বলে নগরব্যাপী দৌড়ঝাঁপ চলে। কিছু পার্ভিসাইড ছিটানো ও ভুলভাবে ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে তাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ। এতে মশাও মরে না, ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ হয় না।’

সিটি করপোরেশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা পূর্ণাঙ্গ মশা না মেরে লার্ভা মারার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঢোল পিটিয়ে বেড়িয়েছে; লোকজনকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে। এসব জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস।’

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

সেমিনারে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণ একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। আমাদের দেশেও এটা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য জাতীয়ভিত্তিক একটা গাইডলাইন প্রয়োজন। নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) আইন-২০১৮, স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনায় নিতে হবে।’

সেমিনারে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কীটতত্ত্ববিদ ড. জি এম সাইফুর রহমানসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

প্রতীকী ছবি

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯০ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১৮২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ১৯ জন। ওই সময়ে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এক দিনে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে। বাকিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৬, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৮, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ৭ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৬ জন, রাজশাহী ও খুলনায় ৩ জন করে ৬ জন, বরিশালে ১, সিলেটে ২ ও রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়।

এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে পরিচিত বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, আর সেটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

আগামী ২০ দিনের মধ্যে স্কুলের ছেলেমেয়েদের করোনার টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষকেই আমরা টিকা দেব, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। আমরা খুব ভাগ্যবান যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমরা ১০ কোটি টিকার প্রস্তাব পেয়েছি। তারা ১০ কোটি টিকাই আমাদের দেবে। যার দাম প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশ আছে, যারা সেভাবে টিকা নিতে পারেনি। আমরা প্রায় আড়াই কোটি লোককে টিকা দিয়েছি এবং দেড় কোটি লোক দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।’

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র রমজান আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীনসহ অনেকে।

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

এর আগ শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

বরিশাল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন।

করোনা মহামারির কারণে প্রায় ১৭ মাস বন্ধ রাখার পর ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে স্কুল খুলে দিয়েছে সরকার। স্কুল খোলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে সরকারের ওপর অভিভাবকদের চাপ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেয়ার কথা বলছেন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আর এস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বণ্টন দুর্বল হলে টিকা যাবে ধনীদের হাতে
লাইভে টিকা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট
করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে এবার মডার্না টিকার অনুমোদন
প্রশিক্ষণহীন কর্মীর হাতে টিকা, ঝুঁকিতে শিশু
ভারতে করোনা টিকা দেয়া শুরু জানুয়ারিতে

শেয়ার করুন