নারীর প্রতি তালেবানের আচরণ কি শরিয়াহসম্মত

নারীর প্রতি তালেবানের আচরণ কি শরিয়াহসম্মত

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শরিয়া আইন প্রবর্তনের কথা জানায় তালেবান। ছবি: এএফপি

নারীদের সম্পদ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি সপ্তম শতাব্দীতে নাকচ করে দেয় ইসলাম। এর পরিবর্তে আর্থিক সিদ্ধান্ত ও সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের আসনে বসানো হয় নারীকে। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের সঙ্গী পছন্দের পাশাপাশি তার সঙ্গে বিচ্ছেদের অধিকারও নারীকে দেয়া হয়।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানের বিভিন্ন নেতা বলেছেন, শরিয়াহ আইন দেশে ফের প্রবর্তন হবে। আফগান নারীদের সে আইন অনুযায়ী জীবনচর্চা করতে হবে।

নব্বই দশকে তালেবানের শাসনামলে শরিয়াহ আইনের নামে নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

নারীর প্রতি তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গি শরিয়াহসম্মত কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ মুসলমানদের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের গবেষণা পরিচালক ডালিয়া মোজাহেদ এ নিয়ে আল জাজিরায় একটি কলাম লিখেছেন।

ডালিয়ার মতে, সপ্তম শতাব্দীতে নারীদের সম্পদ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নাকচ করে দেয় ইসলাম। এর পরিবর্তে আর্থিক সিদ্ধান্ত ও সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের আসনে বসানো হয় নারীকে।

শুধু তা-ই নয়, বিয়ের সঙ্গী পছন্দের পাশাপাশি তার সঙ্গে বিচ্ছেদের অধিকারও নারীকে দেয়া হয়।

ইসলামে নারীর চাকরি করা নিয়ে কী বলা রয়েছে?

এ প্রশ্নের উত্তরে ডালিয়া জানান, বিশ্বাসীদের প্রথম প্রজন্ম থেকেই চিকিৎসাকর্মী থেকে শুরু করে যোদ্ধা-জীবনের সব ক্ষেত্রেই নারীদের বিচরণ দেখা যায়।

উদাহরণ হিসেবে রুফাইদা আল-আসলামিয়ার কথা বলা যায়।

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, অন্য নারীদের নার্স হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখায় মহানবী (সা.) নিজে রুফাইদাকে সার্জনের স্বীকৃতি দেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক পুরুষ যেখানে পালিয়ে যায়, সেখানে মহানবীকে বাঁচান নুসাইবাহ বিনতে কাব। এ জন্য ‘নবীর ঢাল’ নামে পরিচিতি পান তিনি।

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনীয়তায় জোর দেয় ইসলাম।

বিশ্বের প্রথম জ্ঞাত বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর ফেজ শহরের ইউনিভার্সিটি অফ আল-কারাউয়িইন এক হাজার বছরের বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠা করেন ফাতিমা আল-ফিহরি নামের এক মুসলমান নারী।

ফাতিমা ও তার বোন মরিয়ম উচ্চশিক্ষিত ও ধর্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ দুই বোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই মুসলমান নারীরা সম্পদের ভাগ পেতেন।

জ্ঞানের প্রতি ফাতিমা ও মরিয়মের অগাধ আগ্রহ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।

চার বছর আগে যুক্তরাজ্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকরাম নাদউয়ির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ডালিয়ার। হাদিসের নারী পণ্ডিতদের নিয়ে জ্ঞানকোষ রচনা করেন নাদউয়ি।

তিনি জানান, শুরুতে নারী হাদিস পণ্ডিতদের নিয়ে ছোট বই লেখার কথা ভেবেছিলেন তিনি। গবেষণার একপর্যায়ে দেখেন, নারী পণ্ডিত কয়েকজন নয়, হাজার হাজার রয়েছে। প্রায় ৯ হাজার নারী পণ্ডিত নিয়ে অবশেষে ৫৭টি খণ্ডে লিখতে সক্ষম হন তিনি।

নাদউয়ি তার গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আরও হাজার হাজার নারীকে নিয়ে লিখতে পারবেন তিনি।

নাদউয়ি আরও জানান, মুসলমানদের ঐতিহ্যের স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত অনেক পণ্ডিতেরই নারী শিক্ষক ছিল। নারীরা কেবল তাদের শিক্ষার্থীই ছিলেন না।

এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও নারীর প্রতি তালেবানের আচরণকে ইসলামের বিচ্যুতি নয়, ধর্মসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাবুল পতনের পর এরই মধ্যে আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনের নামে নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা শুরু করেছে তালেবান।

জোর করে নারীদের তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

এমনকি জনসমক্ষে তাদের বেত্রাঘাত করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে ঝোলাল তালেবান

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের রাস্তা। ছবি: এএফপি

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে বন্দুকযুদ্ধে চার অপহরণকারীকে মেরে ক্রেনে করে তাদের মরদেহ জনসমক্ষে ঝুলিয়েছে তালেবান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রদেশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

তালেবানদের দেয়া এমন শাস্তির বিভিন্ন গ্রাফিক্স ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মরদেহগুলো একটি পিকআপে রাখা। আর সেখান থেকে ক্রেনে করে একটি মরদেহ উঁচিয়ে ধরা হয়েছে। আর মানুষজন পিকআপটি ঘিরে আছে। অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হেরাতের একটি রাস্তার মোড়ে ক্রেন থেকে একটি মরদেহ নিচে নামানো হচ্ছে। ওই মরদেহের বুকে লেখা, ‘অপহরণকারীদের এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।’

হেরাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে মরদেহগুলো প্রদর্শন করা হয়। গত মাসের ১৫ তারিখ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর জনসমক্ষে তালেবানের দেয়া এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। আর এই শাস্তি ২০ বছর আগের তালেবান সরকারের শাস্তিরই অনুরূপ।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও ক্লিপে বিবৃতি দিয়েছেন হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুহাজির, যা বার্তা সংস্থা এএফপির হাতেও পৌঁছেছে।

তাতে মুহাজির জানান, শনিবার সকালে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর পুলিশ শহরের বাইরের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। তালেবান যোদ্ধারা একটি চেকপয়েন্টে অপহরণকারীদের আটক করে। এ সময় গোলাগুলি হয়।

মুহাজির বলেন, ‘কয়েকটি মিনিটের ওই লড়াইয়ে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারীর মৃত্যু হয়। আমরা ইসলামি আমিরাত। কেউ আমাদের জাতির ক্ষতি করতে পারবে না। এখানে কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’

শনিবারের এই ঘটনার আগেও মুহাজির তার প্রদেশে একটি অপহরণের ঘটনার তথ্য দেন। জানান, অপহরণকৃত এক ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় একজন অপহরণকারীকে হত্যা করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের এমন আরও একটি ঘটনা ঘটেছে হেরাতে। তবে ওই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তালেবান। তালেবানের উদ্যোগের আগেই অপহরণকারীরা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপহৃতকে মুক্তি দেয়।

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান
হেরাতের রাস্তায় জনসমক্ষে ঝোলানো এক অপহরণকারীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

মুহাজির বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অনেক হতাশ করেছে। আমরা যেখানে হেরাতে আছি, সেখানে মানুষকে অপহরণ করা হচ্ছে।

‘কাউকে অপহরণ বা হয়রানি না করতে এবং অন্য অপহরণকারীদের শিক্ষা দিতে আমরা শহরের বিভিন্ন চত্বরে তাদের ঝুলিয়েছি। এটার মাধ্যমে পরিষ্কার করেছি যে যারা চুরি, ছিনতাই করবে, অপহরণ করবে বা আমাদের মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কোনো কাজ করবে, তাদের এমন শাস্তিই দেয়া হবে।’

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত-পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

হোয়াইট হাউজে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে। আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করতে এবং নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত তালেবানকে অবশ্যই মানতে হবে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করেন বাইডেন ও মোদি।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুল পতনের দুই সপ্তাহ পর ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন ২৫৯৩ (২০২১) গৃহীত হয়।

এতে বলা হয়, অন্য দেশে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের মাটি ফের কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেয়া এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়ন না করার কথাও ওই রেজল্যুশনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে।

‘আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। চলতি মাসের শুরুতে নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তান নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি। ছবি: দ্য ডন

আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ বেছে নিয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

এতে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক ক্রেডিট অথরাইজেশন নোটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় এমন যুদ্ধ বিমান কিনতে ২০২২ বাজেটে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, আর্জেন্টিনা পাকিস্তানের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি কেনার পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

আর ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কারণে অন্যান্য দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা কেনার জন্য ভাবছে বুয়েনসআয়ার্স।

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বন্ধুপ্রতীম কোনো দেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না আর্জেন্টিনার জন্য।

আর্জেন্টিনা ২০১৫ সালে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল। পরে উভয় দেশই যুক্তরাজ্যের চাপে বুয়েনসআয়ার্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছু হটে। তাই যুদ্ধ বিমান কিনতে অগত্যা পাকিস্তানমুখী হয়েছে আর্জেন্টিনা।

গত এক দশকে যুদ্ধবিমানে বেশ উৎকর্ষতা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে চীন।

যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি নির্মাণ করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ বিমান আকাশপথে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করেছে।

এই যুদ্ধ বিমানে যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশও রয়েছে। বিপজ্জনক মুহূর্তে বিমান থেকে পাইলটের বের হয়ে আসার ইজেক্টর সিটটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান মার্টিন বেকার।

কী আছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ এ?

এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমান বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। এটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে।

আকাশপথে শত্রুপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া, আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ, আকাশ পথে আক্রমণ, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায় বিমান।

এই যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তান প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৪২ শতাংশ চীনের প্রযুক্তি। বিমানটি নির্মাণের পুরো কাজটিই হয় পাকিস্তানের মাটিতে।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

কাবুলের রাস্তায় নারীরা। ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারী ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতারা যেসব দাবি রেখেছে তা পূরণ করতে তালেবান সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত।

কাবুলে সম্প্রতি আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দের সঙ্গে দেখা করে তালেবানের এ ইচ্ছার কথা জানান তারা।

তালেবান সরকারের মনোভাব নিয়ে তিন বিশেষ দূতই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠকটির বিষয়ে অবগত কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য ট্রিবিউন এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

বিশেষ তিন দূত আফগানিস্তানের হাটবাজার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেছেন। সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখেছেন তারা।

সূত্রগুলো বলেছে, আফগানিস্তানে ‘সবার সরকার’ গঠন করতে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি সবার সঙ্গে একমত।

তবে তালেবান নেতৃত্ব জানিয়েছে, গত ২০ বছর আফগানিস্তান সরকারে যারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা পরিচিত মুখ হলেও তালেবান সরকারে তাদের নেয়া হবে না।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূতদের তালেবান থেকে এটাও জানানো হয়েছে, নারী শিক্ষার প্রতি আফগানিস্তানে কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে এই শিক্ষা পদ্ধতি হবে ‘শরিয়াহ’ আইন অনুযায়ী।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, তালেবান নেতারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে চান। এ জন্য আফগানিস্তান নিয়ে বিশ্বের উদ্বেগগুলো দূর করতে চান তারা।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
বিমানে সন্তান প্রসব আফগান নারীর
অজেয় ‘দুর্গ’ পাঞ্জশির দখলে তালেবানের অভিযান
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন
ক্রিকেট বোর্ডে নতুন সভাপতি বসাল তালেবান
আফগানিস্তানে আতঙ্কের নাম হাক্কানি নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন