স্বীকৃতিহীন সন্তান নিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রাচ্যফেরত নারী

স্বীকৃতিহীন সন্তান নিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রাচ্যফেরত নারী

গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারীর নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ আছে; প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। ছবি: এএফপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব যান। সেখানে তিনি প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে সফর জেলে পাঠানো হয়। সফর জেলেই জন্ম হয় শিশুর।

সৌদি আরবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের পর হওয়া ছয় মাসের ছেলেসন্তান নিয়ে মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরেন ৩২ বছরের এক নারী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ওই নারীর দাবি, সৌদি আরবে যে বাড়িতে কাজ করতেন সেই গৃহকর্তা তার সন্তানের বাবা। এখন ‘স্বীকৃতিহীন’ এই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে নিজের বাড়িতে যাবেন বুঝতে পারছেন না।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই নারী সৌদি আরব যান। তিনি জানান, দেশটিতে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে সফর জেলে পাঠানো হয়।

সফর জেলেই জন্ম হয় শিশুটির। তার নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান। ছয় মাসের সন্তানসহ তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ওই নারী বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ বিষয়টি জানে না। সন্তান নিয়ে আমি পরিবারে ফিরতে পারব না। সমাজের লোকেরা ভালোভাবে নিবে না।’

অসহায় নারী বিমানবন্দরে নেমেই কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি জানান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে। এরপর সেখান থেকে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য হস্তান্তর করা হয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাছে। ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে তিনি আপাতত অবস্থান করছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক। ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

‘সৌদি আরবের কোন বাড়িতে তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নিয়োগকর্তা কে ছিলেন, এগুলো তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে সন্তানের পিতৃপরিচয় বের করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা একই ধরনের ১২টি ঘটনা দেখেছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হওয়া এবং নীতি নির্ধারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সন্তান দিয়ে দেশে ফিরেছেন নরসিংদী জেলার শাহনাজ আক্তার।

২৭ বছর বয়সী তরুণী ছিলেন অবিবাহিত। তিনি সৌদি আরবের মক্কার কেন্দ্রীয় জেলে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

এর আগে গত ২ এপ্রিল নিজের আট মাসের শিশু সন্তানকে বিমানবন্দরে ফেলেই চলে গেছেন সৌদিফেরত আরেক নারী। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সন্তান ফেলে যাওয়ার চেয়ে বিকল্প খুঁজে পাননি।

চার মাসের মেয়ে সন্তান নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ওমান থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হন আরেক নারী গৃহকর্মী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখানে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ অফিসে গিয়ে ঘটনা জানান।

তার সন্তানের বাবা একজন ওমানি নাগরিক বলে দাবি করেন। ‘নির্যাতনের একপর্যায়ে’ তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে ওমান পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ওমান ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় তার সন্তানের জন্ম হয়।

এর আগেও ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওমান থেকে হবিগঞ্জ জেলার আরেক গৃহকর্মী তিন মাস বয়সী সন্তানসহ দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানসহ নারী গৃহকর্মীদের দেশে ফেরার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এমন পরিস্থিতির শিকার নারী ও তাদের সন্তানরা সমাজ ও পরিবারে অবহেলিত হয়ে বেড়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এ ধরনের ১২ শিশুসহ নারীকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখনও করা হচ্ছে।

বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের হিসাব রাখছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক।

সেখানকার হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ২২ জন নারী গৃহকর্মীর মরদেহ এসেছে। এদের সিংহভাগই হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

২০১৬ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ নারীর মরদেহ এসেছে। এদের মধ্যে ৮১ জনের আত্মহত্যার তথ্য রয়েছে। বাকিরা হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পায় না বলেও নানা সময় আলোচনা হয়েছে। গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারীর নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ আছে; প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে।

অর্থ উপার্জনের আশায় গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছেন অনেক শ্রমিক। এসব ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর সংসারেও ফিরতে পারছেন না অনেক নারী। তাদের অনেকে সেফ হোমে অবস্থান করছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ইসরায়েলি সেনাদের চামচ দেখাচ্ছেন দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী।

মামুলি চামচই হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার নতুন প্রতীক। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের হাতে হাতে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পতাকা ও প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি এখন এই চামচও দেখা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার নতুন প্রতীক ‘চামচ’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে একটি জেল পালানোর ঘটনা। গত ৬ সেপ্টেম্বর মরিচা ধরা চামচ দিয়েই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের সুরক্ষিত কারাগার থেকে পালিয়েছেন ছয় ফিলিস্তিনি। যদিও বড় ধরনের তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই বন্দিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

এএফপির বরাতে ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, সুড়ঙ্গ দিয়ে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ইসরায়েলের জিলবোয়া কারাগারে। পালানোর আগে কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছিলেন বন্দিরা। কারাগারের দেয়ালের ঠিক পাশেই ছিল বড় রাস্তা। বন্দিরা যে কক্ষে অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে সুড়ঙ্গটির অপর মাথা সেই রাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

পালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সশস্ত্র আল-আকসা মারটায়ার্স ব্রিগেডের সাবেক এক নেতা ছাড়াও ছিলেন ইসলামিক জিহাদের পাঁচ সদস্য।

ইসরায়েল এই ঘটনাটিকে ‘বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বললেও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বন্দিদের সবাই ইসরায়েলিদের ওপর হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন।

ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট মোহাম্মেদ সাবানেহ বন্দি পালানোর ঘটনাটি নিয়ে বেশ কয়েকটি কার্টুনও এঁকেছেন। একটি কার্টুনচিত্রে চামচ দিয়ে খোঁড়া সুড়ঙ্গটিকে ‘মুক্তির সুড়ঙ্গ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের বাইরে কুয়েতের ভাস্কর মাইথাম আব্দেল একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করেছেন। সেই ভাস্কর্যে দেখা যায়, একটি বিশাল হাত একটি চামচ ধরে আছে।

আরেকটি ব্যাপার হলো, সাম্প্রতিক পালানোর ঘটনাটি অনেক পুরোনো আরেকটি জেল পালানোর ঘটনাকেও সামনে টেনে এনেছে। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের ঘাসেন মাহদাওয়ি ছিলেন সেই জেল পালানোর নায়ক। ১৯৯৬ সালে আরেক বন্দিকে সঙ্গে নিয়ে তিনিও একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন। আর সেই সুড়ঙ্গটি তিনি খুঁড়েছিলেন শুধু হাতের নখ দিয়ে!

শেয়ার করুন

হুতিদের ছোড়া ৩ ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসের দাবি সৌদির

হুতিদের ছোড়া ৩ ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসের দাবি সৌদির

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে একটি মিসাইল ব্যাটারি। ফাইল ছবি

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকার ওপর পড়ায় দুই সৌদি শিশু আহত হয়েছে, ১৪টি ভবন হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া বিস্ফোরকবোঝাই তিনটি ড্রোন ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করেছে দেশটি। দক্ষিণের দুই শহর নাজরান ও জাজান আর তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এসব ক্ষেপণাস্ত্র।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবারের এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা।

হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকার ওপর পড়ায় দুই সৌদি শিশু আহত হয়েছে, ১৪টি ভবন হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি দাম্মাম শহরের আকাশ অতিক্রম করার সময় ধ্বংস করা হয়।

এর আগে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া বিস্ফোরকবোঝাই তিনটি ড্রোন ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

দক্ষিণের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চারদিন পর হয় এসব হামলা। ওই হামলায় আট ব্যক্তি আহত এবং একটি বেসামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে প্রায়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বিশেষ করে তেল ক্ষেত্রগুলো তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজধানী সানাসহ দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। সে সময় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

দীর্ঘ সংঘাতে বহু প্রাণহানি ও লাখো মানুষ গৃহহীন হওয়ার পর এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ইয়েমেন। যুদ্ধে ইতি টানতে জাতিসংঘ বারবার অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি সৌদি জোট।

অস্ত্রবিরতি বা যেকোনো আলোচনার আগে সানা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে হুতিরা। ২০১৬ সাল থেকে সৌদি অবরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দরটি।

শেয়ার করুন

সৌদির মসজিদে ‘উগ্রবাদী বই’ নিষিদ্ধ

সৌদির মসজিদে ‘উগ্রবাদী বই’ নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

মসজিদের গ্রন্থাগারকে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রিয়াদ। নির্দেশ দিয়েছে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বই রেখে মৌলবাদ বা কট্টরপন্থায় উৎসাহ দেয়- এমন সব বই সরিয়ে ফেলতে।

সৌদি আরবে মসজিদের গ্রন্থাগার থেকে ‘উগ্রবাদী’ সাহিত্যের নিদর্শন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজপরিবার। অনুমতি ছাড়া অমুসলিমদের ধর্মীয় উপদেশ দেয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ইসলাম ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল-শেখ এ নির্দেশনা জারি করেন বলে জানানো হয়েছে সৌদি গেজেটের একটি প্রতিবেদনে

নির্দেশনায় সৌদি রাজতন্ত্রের সব মসজিদের কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ গ্রন্থাগারে থাকা বইয়ের তালিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়। সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয় ‘উগ্রবাদী মতাদর্শ’ সংবলিত সাহিত্যিক সব বইপত্র।

মসজিদ কর্মকর্তা ও ইমামদের পাঠানো পাঁচ দফা নির্দেশনায় অনুমতি ছাড়া ‘দাওয়াহ’ প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়। দাওয়াহ বলতে বোঝানো হয় অমুসলিমদের ইসলামের পথে আনতে উৎসাহিত করা।

নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত বাধ্যতামূলক নামাজ ও জানাজার পর ‘দাওয়াহ’ জাতীয় বক্তব্য দিতে পারবেন ইমামরা।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের গ্রন্থাগারকে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রিয়াদ। পরামর্শ দিয়েছে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের মতো বইপত্র সংগ্রহের।

এ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বই রেখে মৌলবাদ বা কট্টরপন্থায় উৎসাহ দেয়- এমন সব বই সরিয়ে ফেলতে বলা হয়।

মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতেও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় রিয়াদ।

মসজিদের কর্মীদের নিজ নিজ গ্রন্থাগারে থাকা বইয়ের তালিকা তৈরি করতে এবং প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো বই অন্তর্ভুক্ত না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইমাম ও ধর্মীয় বক্তাদের সৌদি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে’ অংশ নিতেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

এর আগে আরব বসন্তের পর মিসরেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল দেশটির নতুন সরকার।

শেয়ার করুন

তালেবানের বার্তাকে স্বাগত জানাল তুরস্ক

তালেবানের বার্তাকে স্বাগত জানাল তুরস্ক

তালেবানের বিভিন্ন বার্তাকে মঙ্গলবার স্বাগত জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। ছবি: এএফপি

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, ‘আফগানিস্তান দখলের পর তালেবান বিদেশি নাগরিক থেকে শুরু করে কূটনীতিক ও আফগান জনগণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যেসব বার্তা দিয়েছে, সেগুলোকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। আমরা আশা করছি, এসব বার্তার প্রতিফলন আমরা তাদের কর্মকাণ্ডেও দেখব।’

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন ধরনের বার্তা বিশ্বকে দিচ্ছে তালেবান। এসব বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার পাশাপাশি স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক।

একই সঙ্গে তালেবানসহ আফগানিস্তানের সব পক্ষের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে আঙ্কারা।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু মঙ্গলবার জর্ডান সফরে এসব কথা জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কাভুসোগলুর বক্তব্যের আগের দিন সোমবার তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুল বিমানবন্দর পাহারা ও পরিচালনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে তুরস্ক।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনা নয়, বরং তালেবান চাইলে আফগানিস্তানকে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দেবে তুরস্ক।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘তালেবানসহ আফগানিস্তানের সব পক্ষের সঙ্গেই আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্কের ৬০০ সেনা এ মুহূর্তে আফগানিস্তানে অবস্থান করছে।

কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আফগানিস্তানের ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারে কারা থাকবে, কী ধরনের সরকার সেখানে গঠন হবে- এসব নিয়ে দেশটির সব পক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে।

‘আমরাও তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা জারি রাখব। তবে আফগানিস্তানের এখন শান্ত হওয়া বেশি জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান দখলের পর তালেবান বিদেশি নাগরিক থেকে শুরু করে কূটনীতিক ও আফগান জনগণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যেসব বার্তা দিয়েছে, সেগুলোকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।

‘আমরা আশা করছি, এসব বার্তার প্রতিফলন আমরা তাদের কর্মকাণ্ডেও দেখব।’

আফগানিস্তান থেকে সোমবার বেসামরিক নাগরিক, কূটনৈতিক কর্মকর্তাসহ ৩২৪ তুর্কিকে দেশে ফেরত আনে আঙ্কারা।

শেয়ার করুন

লেবাননে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ২০

লেবাননে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ২০

লেবাননে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় আক্কার হাসপাতালের কর্মী ইয়াসিন মেটলেজ বলেন, তাদের হাসপাতালে কমপক্ষে সাতটি পোড়া লাশ ও আধাপোড়া বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়।

লেবাননে একটি তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণে আহত হয়েছে অন্তত ৭৯ জন।

দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আক্কারে রোববার সকালে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানায় লেবনিস রেড ক্রস।

সংস্থাটি বলছে, বিস্ফোরণে আহত ৭৯ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় আক্কার হাসপাতালের কর্মী ইয়াসিন মেটলেজ বলেন, তাদের হাসপাতালে কমপক্ষে সাতটি পোড়া লাশ ও আধাপোড়া বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আনা সাতটি লাশের কাউকেই শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না।

‘কারও কারও পুরো মুখ পুড়ে গেছে, কারও কারও আবার হাত পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা খুব ভালো না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর এক সূত্র সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানায়, লেবানন সেনাবাহিনীর বাজেয়াপ্ত করা একটি তেল ট্যাংক থেকে যখন পেট্রল বিতরণ করা হচ্ছিল, সে সময় বিস্ফোরণটি ঘটে।

লেবাননের সরকারি জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা হাতাহাতি শুরু করে। এমন সময় সেই বিস্ফোরণ হয়।

হাতাহাতি ও বিস্ফোরণের আগেই সেনাবাহিনী ওই এলাকা ত্যাগ করে বলে জানায় সংবাদ সংস্থাটি।

স্থানীয়রা বলছেন, বিস্ফোরণের সময় অন্তত ২০০ লোক সেখানে ছিল।

বিস্ফোরণটি এমন একসময়ে হলো যখন লেবাননে চরম জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সংকটের কারণ হিসেবে চোরাচালান, মজুত রাখা এবং আমদানি করা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে।

গত বছরের ৪ আগস্ট লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের এক বিস্ফোরণে অন্তত ২১৪ জন নিহত হন। সে সময় আহত হয়েছিল কয়েক শ মানুষ।

শেয়ার করুন

ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’

ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামাসের হামলা যুদ্ধাপরাধ ছিল বলে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনে জানায় এইচআরডব্লিউ। ছবি: এএফপি

এইচআরডব্লিউর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের রকেট ও মর্টার হামলায় নির্দেশনা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। এতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হামাসের রকেট ও মর্টার বেসামরিক জনগণের ওপর আঘাত হানে। বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে।’

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চলতি বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের রকেট হামলা যুদ্ধাপরাধ ছিল বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ মন্তব্য করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মে মাসে ইসরায়েল ও হামাসের টানা ১১ দিনের সংঘর্ষ তদন্ত শেষে সংস্থাটি প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের হামলা যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করেছে।

এইচআরডব্লিউর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের রকেট ও মর্টার হামলায় নির্দেশনা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল।

‘এতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হামাসের রকেট ও মর্টার বেসামরিক জনগণের ওপর আঘাত হানে। বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে।’

এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এরিক গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘ইসরায়েলের উদ্দেশে বেআইনিভাবে রকেট ছোড়ার ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করছে হামাস। তাদের এটি বন্ধ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘হামলার হাত থেকে বেসামরিক জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যেই যুদ্ধনীতির প্রবর্তন হয়।’

সংঘর্ষের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ৪ হাজার ৩৬০টির বেশি রকেট ও মর্টার গাজা উপত্যকা থেকে ছুড়েছে হামাস। এতে ১৩ ইসরায়েলির মৃত্যু হয়।

১১ দিনের ওই সংঘর্ষে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় শিশুসহ কমপক্ষে ২৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারকে উচ্ছেদের পক্ষে জায়নবাদী রাষ্ট্রটির আদালতের নির্দেশকে ঘিরে চলতি বছরের এপ্রিলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে মুসলমানদের পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদ চত্বরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর মসজিদ এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ শুরু হয় যা ১১ দিন পর মিসরের মধ্যস্থতায় বন্ধ হয়।

গত মাসে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছিল, ওই সংঘর্ষে ইসরায়েলের তিনটি বিমান হামলায় ৬২ বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যেসব এলাকায় ওই হামলাগুলো হয়, সেখানে সামরিক স্থাপনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এলএনজি আমদানি: বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ কাতার

এলএনজি আমদানি: বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ কাতার

রোববার কাতারের দোহায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাতারের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করেছেন সাদ আল মুরাইখির। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনাসহ নানা পর্যায়ের কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগে দেয়া সুবিধার কথা জানিয়ে শাহরিয়ার আলম কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কাতার।

সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কাতারের প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাতারের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করেছেন সাদ আল মুরাইখির। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনাসহ নানা পর্যায়ের কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগে দেয়া সুবিধার কথা জানিয়ে শাহরিয়ার আলম কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের চেম্বার অফ কমার্স এবং অন্যান্য পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ওয়েব সেমিনার আয়োজনেও সম্মতি দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহরিয়ার আলম করোনা মোকাবিলায় কাতার সরকারের সফলতাসহ সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকারের সুরক্ষায় কাতারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কাতারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দোহায় দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়েও আশা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এতে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ার আলম দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানান। এ ছাড়া দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময়ের বিষয়ে আশা জানান তিনি।

শেয়ার করুন