ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’ ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারী-পুরুষ বৈষম্য করে। অনেক ব্যবহারকারী যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক বিজ্ঞাপনটি দেখতে পান না। কারণ, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের যে প্রক্রিয়ায় তাতে সেটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। শুক্রবার প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন সমান অনুপাতে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপভিত্তিক পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্টের বিজ্ঞাপন বেশি দেখতে পেয়েছেন ফেসবুকের নারী ব্যবহারকারীরা। আবার ডোমিনোজ পিৎজায় আবেদনের জন্য ফেসবুকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন যাদের কাছে পৌঁছেছে, তাদের বেশিরভাগই পুরুষ।

ইনস্টাকার্টে বেশিরভাগই নারী চালক, যারা গ্রাহকের পণ্য সংগ্রহ করেন এবং পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ডোমিনোজের বেশিরভাগ কর্মীই পুরুষ।

অথচ মাইক্রোসফটের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে ইনস্টাকার্ট ও ডোমিনোজের একই চাকরির বিজ্ঞাপন নারী-পুরুষ ভেদে সমান ব্যবহারকারী দেখতে পেয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’

ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জো অসবোর্নে জানান, ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহী, সাংকেতিকভাবে তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী তাদের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন প্রচারে নারী-পুরুষ ভেদাভেদের অভিযোগে একাধিক মামলা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তদন্তে ফেসবুকের নাম জড়িয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা অবলম্বনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা নেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক, লিংকডইন উভয় প্রতিষ্ঠানই।

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে নারী সেনাদের ঝুঁটি-বেণিতে বাধা নেই

যুক্তরাষ্ট্রে নারী সেনাদের ঝুঁটি-বেণিতে বাধা নেই

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অফিসার বলেন, ‘পোশাকের এই পরিবর্তন আমাদের নারী সেনাদের জন্য আরও বেশি ব্যবহার উপযোগী হবে। সেনাদুর্গে আরও বেশি পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যাবে। এর ফলে নারী সেনাদের চুল পড়া কমবে এবং মাথার ত্বক সুরক্ষা পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সামারিক বাহিনীতে নারী সদস্যদের পোশাকে ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে নারী সেনাদের চুলে ঝুঁটি ও বেণি বাঁধতে আর কোনো বাধা নেই।

গত জানুয়ারিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। এবার আসল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

নতুন নিয়মানুযায়ী, নারী সেনারা চুলে ঝুঁটি বাঁধতে পারবেন। ঠোঁট রাঙাতে পারবেন লিপস্টিক দিয়ে, পরতে পারবেন কানের রিং, ছোট ছোট গুচ্ছ করে সাজাতে পারবেন চুল।

চুলের ঝুঁটি বেঁধেই যুদ্ধপোশাক বা হেডগিয়ার পরার পাশাপাশি অনুশীলন বা রণক্ষেত্রেও নামতে পারবেন নারী সেনারা। যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রে ঝুঁটি বা বেণি লম্বায় হবে পিঠের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

তবে ছোট করে রাখার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো মাপ নেই। লম্বার ক্ষেত্রে শুধু এটা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, বেণি বা ঝুঁটির কারণে টেকনিক্যাল বা শারীরিক অনুশীলন বাধাগ্রস্ত না হয়।

চুলগুলো বাঁধা থাকতে হবে আঁটসাঁট করে। ঝুঁটির ক্ষেত্রে একটি হবে। আর বেণির ক্ষেত্রে একটি বা দুটি হতে পারে।

এর আগে মহিলা সেনাদের চুলে শুধু খোঁপা বাঁধতে হতো। সেই খোঁপা হেলমেটের জন্য অস্বস্তির কারণ হতো। নতুন নিয়মের ফলে বদল আনা হচ্ছে হেলমেট বা টুপির গড়নেও।

নারী সেনাদের পোশাকে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সেনাদের পোশাক বিভাগের সার্জেন্ট ম্যাজর ব্রায়ান সি স্যান্ডার্স বলেন, ‘পোশাকের এই পরিবর্তন আমাদের নারী সেনাদের জন্য আরও বেশি ব্যবহার উপযোগী হবে। সেনাদুর্গে আরও বেশি পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যাবে। এর ফলে নারী সেনাদের চুল পড়া কমবে এবং মাথার ত্বক সুরক্ষা পাবে।’

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

দিনাজপুরে গৃহকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার

দিনাজপুরে গৃহকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার

অনুষ্ঠানে ৪৫০ জন গৃহকর্মী ও মেসকর্মী ও ৫০ জন ট্রান্সজেন্ডারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সেমাই ও চিনি উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি।

দিনাজপুরে গৃহকর্মী, মেসকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা ষ্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপহারগুলো বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৪৫০ জন গৃহকর্মী ও মেসকর্মী ও ৫০ জন ট্রান্সজেন্ডারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সেমাই ও চিনি উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্মহীনদের ঈদ উপহার ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে আমরা এক অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করছি।

‘এই শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করতে সকলকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। তবেই করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা বিজয়ী হতে পারব।’

এ সময় পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল ইসলাম, দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাগফুরুল হাসান আব্বাসী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় ফের বিচারের আবেদন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় ফের বিচারের আবেদন

জার্মানিতে জর্জ ফ্লয়েডের ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক পিটার কাহিলকে দেয়া আবেদনপত্রে নেলসন বলেন, ডেরেক শভিন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালতের রায় আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় নতুন করে বিচারের আবেদন জানিয়েছেন দোষী সাব্যস্ত হওয়া শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের আইনজীবী।

আদালতের রায়ের দুই সপ্তাহ পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আইনজীবী এরিক নেলসন এই আবেদন করেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক পিটার কাহিলকে দেয়া আবেদনপত্রে নেলসন বলেন, ডেরেক শভিন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালতের রায় আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘বিচার শুরুর আগে ও পরে মিডিয়া প্রচারণা এত বেশি বিস্তৃত ও প্রভাব বিস্তারকারী ছিল যে, কাঠামোগত পরাজয় ঠেকানো যায়নি।’

২০ এপ্রিল শভিনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয় মিনিয়াপোলিসের একটি আদালত। ওই রায়কে স্বাগত জানান অধিকারকর্মী, দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রভাবশালী রাজনীতিকরা।

তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওই রায় গুরুত্বপূর্ণ।

তিন সপ্তাহ ধরে ৪৫ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে শভিনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের সত্যতা পায় ১২ জুরি।

সাজা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে থাকবেন শভিন। জুনে ৪৫ বছর বয়সী সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দেয়ার কথা।

বিচার চলাকালে নেলসন আদালতকে বলেছিলেন, বিচারকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জুরিদের প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে রায়ের পর কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনীতিকদের মন্তব্য আদালতের রায়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

নেলসনের বক্তব্য সে সময় প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক কাহিল। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এড়াতে জুরিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

গত বছরের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মিনিয়াপলিস পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় ফ্লয়েডকে রাস্তায় শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় ৯ মিনিট চেপে বসেন শভিন। ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারও মানুষ। শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও।

ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা শভিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে তার পরিবার।

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার খবরে ভিড়

মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার খবরে ভিড়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি মানুষের শরীরে নারী হরমোন ও পুরুষ হরমোন থাকে। যারা নারী, তাদের শরীরে নারীত্বের হরমোনের পরিমাণ ও প্রভাব বেশি থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রেও পুরুষের হরমোন একই ভূমিকা রাখে। হরমোনগত বা অন্য কোনো কারণে কৈশোরে যে কারও ক্ষেত্রে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

নওগাঁর সাপাহারে শারীরিক পরিবর্তনে এক কিশোরী ছেলেতে পরিণত হচ্ছে এমন খবরে বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছে স্থানীয়রা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন হরমোনগত বা অন্য কোনো কারণে কৈশোরে যে কারও ক্ষেত্রে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

১২ বছরের ওই কিশোরী স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

কিশোরীর পরিবার জানায়, দুই সপ্তাহ আগে তার শারীরিক ও কণ্ঠের কিছুটা পরিবর্তন ধরা পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করে স্থানীয়রা।

কিশোরীর মা বলেন, ‘মেয়ের শারীরিক গঠনে পরিবর্তন হলেও প্রথমে কিছুই মনে করিনি। অনেক দিন থেকেই এই বিষয়টি জানি। তবে লজ্জায় মুখ খুলতে পারিনি। এছাড়া এটা বেশি দিন সমাজে ঢেকে রাখাও যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘তার কথা ও গলার শব্দ দিন দিন ছেলের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেই প্রকাশ করলাম। নিজে চোখে দেখেছি মেয়ের শরীরে পরিবর্তন হচ্ছে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, ‘যারা হরমোন নিয়ে কাজ করেন তারা এ বিষয়ে সঠিক ধারণা দিতে পারবেন। উদ্বেগের কোনো কারণ থাকলে আমরা মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে মতামত দেয়ার চেষ্টা করব। অথবা মতামতের জন্য মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দিব।’

তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. উম্মে নাজমিন ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হয় বা মতামত জানাতে হয়।

‘যে শিশুটি ১২ বছর ধরে মেয়ে হিসেবে বেড়ে উঠেছে, আমরা ধরে নিতে পারি শারীরিক গঠনের দিক থেকে সে নারী। তার এখনকার পরিবর্তনের অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। হুট করে একটা মেয়ে ছেলে হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি আসলে এমন নয়।’

ডা. নাজমিন ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের শরীরে নারী হরমোন ও পুরুষ হরমোন থাকে। যারা নারী, তাদের শরীরে নারীত্বের হরমোনের পরিমাণ ও প্রভাব বেশি থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রেও পুরুষের হরমোন একই ভূমিকা রাখে।

‘কিছু কারণে মেয়েদের শরীরে ছেলেদের হরমোনের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। যেমন, কোনো টিউমার বা কোনো এনজাইমের পরিমাণগত পরিবর্তনের কারণে পুরুষত্বের প্রকাশ ঘটে এমন হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের ক্ষেত্রে গলার স্বর মোটা হয়ে যাওয়া, গোঁফ ওঠা কিংবা গঠনগত দিক থেকেও পুরুষালি কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। কোনো ওষুধের কারণেও এটা হতে পারে।’

ডা. নাজমিন ইসলাম বলেন, ‘এখানে আরেকটি বিষয় এখানে লক্ষ্যণীয়, ১২ বছরের ওই শিশুটি পুরষাঙ্গ নাকি নারী অঙ্গ বহন করছে সেটাও দেখা দরকার। কারণ এতদিনেও হয়ত বিষয়টি সেভাবে লক্ষ্যণীয় ছিল না। অথবা তার অভিভাবকরা হয়তো বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

‘আবার ওই শিশুটি ট্রান্সজেন্ডারও হয়ে থাকতে পারে। তাই ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া এমন ঘটনা কেন ঘটছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা যায় না।’

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

বেলজিয়ামে ৪১৪ ব্যক্তির জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন

বেলজিয়ামে ৪১৪ ব্যক্তির জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন

বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট ফর দ্য ইকুয়ালিটি অফ উইমেন অ্যান্ড মেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যক্তির অফিশিয়াল জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন আগের বছরের চেয়ে বেশি।

বেলজিয়ামে গত বছর ৪১৪ ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। ট্রান্সজেন্ডার আইন পাসের পর দেশটির অফিশিয়াল জেন্ডার রেজিস্ট্রেশনে এত ব্যাপক পরিবর্তন এলো।

দ্য ব্রাসেলস টাইমসের প্রতিবেদনে স্থানীয় সময় সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জেন্ডার রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করতে গেলে আগে চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সার্টিফিকেট ছাড়াও অন্য কাগজপত্রের দরকার হতো।

তবে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এসব কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে দেয়া হয়। এতে ওই বছর ৭৪২ ব্যক্তি জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তনের আবেদন করেন। ২০১৯ ও ২০২০ সালে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যক্তি জেন্ডার পরিচয়ে পরিবর্তন আনেন।

বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট ফর দ্য ইকুয়ালিটি অফ উইমেন অ্যান্ড মেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যক্তির অফিশিয়াল জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন আগের বছরের চেয়ে বেশি। ২০১৭ সালে ট্রান্সজেন্ডার আইন পাস হয়। ওই বছর ১১০ ব্যক্তি জেন্ডার পরিচয় পরিবর্তন করেছিলেন।

ইনস্টিটিউটটির ডেপুটি ডিরেক্টর লিজবেট স্টিভেন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার আইনটি অনেক ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জন্য সহায়ক হয়েছে। তবে আইনটির মাধ্যমে নন-বাইনারি ও জেন্ডার-ফ্লুইড ব্যক্তিদের অধিকার পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নন-বাইনারি ও জেন্ডার-ফ্লুইড ব্যক্তিরাও যেন তাদের জেন্ডার পরিচয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে জেন্ডার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, সেদিকেও দৃষ্টি দেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

ভারতফেরতদের ওপর অস্ট্রেলিয়ার দণ্ড ‘বর্ণবাদী’

ভারতফেরতদের ওপর অস্ট্রেলিয়ার দণ্ড ‘বর্ণবাদী’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বর্ণবাদের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘গত বছর যখন আমরা চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিই, তখনও আমাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। মহামারিকালে কোনো রাজনীতি বা মতাদর্শ খাটে না। এটি প্রাণঘাতী ভাইরাস, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হওয়া ভারত থেকে নাগরিকেরা দেশে ফিরলে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড হতে পারে।

স্থানীয় সময় শনিবার এমন ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচকদের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘বর্ণবাদী’ ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোনো নাগরিক ভারত থেকে ফিরলে তার জরিমানা করা হবে। এমনকি ওই ব্যক্তির পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সোমবার থেকে এ দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে।

এর আগে ভারত থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়া।

চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, আইনি সংগঠন, রাজনীতিকসহ অন্যান্যরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভারতফেরত নাগরিকদের জরিমানা বা কারাদণ্ড সংক্রান্ত পদক্ষেপের প্রবল নিন্দা জানাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের সিনেটর মেহরিন ফারুকি টুইটবার্তায় বলেন, ‘এ পদক্ষেপ ভয়াবহ ও বর্ণবাদী।’

দেশটির রক্ষণশীল মিডিয়া ভাষ্যকার অ্যান্ড্রু বল্ট বলেন, ‘এ নীতি খুবই সংকীর্ণ ও অযৌক্তিক। আমিও একে বর্ণবাদীই বলব।’

অবশ্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বর্ণবাদের অভিযোগ নাকচ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর যখন আমরা চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিই, তখনও আমাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। মহামারিকালে কোনো রাজনীতি বা মতাদর্শ খাটে না।

‘এটি প্রাণঘাতী ভাইরাস; এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রথম নিজ দেশে ফিরতে কোনো অস্ট্রেলীয় দণ্ডনীয় শাস্তির মধ্যে পড়তে যাচ্ছেন। এ মুহূর্তে নয় হাজারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ভারতে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ৬০০ জনকে ‘ঝুকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জরিমানা বা কারাদণ্ডের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশবাসীকে রক্ষার স্বার্থে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ভারতে টানা ১০ দিন ধরে দৈনিক তিন লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার আরও জানায়, গত ১৫ দিনে ভারতফেরত নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণের হার অনেক বেড়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত নাগরিকদের ৫৭ শতাংশের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। গত মার্চে এ হার ছিল ১০ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান হার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার ওপর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাপ ফেলেছে।

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন

গ্যাপের কর্মসূচিতে দক্ষতা বেড়েছে নারীদের

গ্যাপের কর্মসূচিতে দক্ষতা বেড়েছে নারীদের

আইসিআরডব্লিউর উপদেষ্টামণ্ডলীর সহযোগী পরিচালক অ্যালি গ্লিনস্কি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে পিএসিই কর্মসূচি মূল্যায়ন করে গবেষণায় দেখা যায়, কর্মসূচিটি কার্যকর ও টেকসই ছিল। কারখানায় কর্মরত নারীরা এর মাধ্যমে সুফল পায়।’

বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীশ্রমিকদের সহায়তায় ১৪ বছর আগে পারসোনাল অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার এনহান্সমেন্ট (পিএসিই) নামে কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পোশাক কোম্পানি গ্যাপ।

নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনবল উন্নয়ন ও স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইন প্রচারে সে সময় কাজ করে পিএসিই।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএসিই যেসব দেশে বাস্তবায়ন করা হয়, সেগুলোতে কর্মসূচিটির প্রভাব জানতে নিজেদের কারিকুলাম ও মূল্যায়ন-ব্যবস্থা উন্নত করে গ্যাপের অংশীদারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন (আইসিআরডব্লিউ)। যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়-চাপ মোকাবিলাসহ অন্যান্য শিক্ষামূলক উদাহরণ কারিকুলামে যুক্ত ছিল।

নেতৃত্ব দেয়ার মতো পারস্পরিক ও কৌশলগত দক্ষতা উন্নয়নের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের একপর্যায়ে গ্যাপের সরবরাহকারী কারখানাগুলোতে নারীরা তদারকি পদে নিজেদের অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

আইসিআরডব্লিউর উপদেষ্টামণ্ডলীর সহযোগী পরিচালক অ্যালি গ্লিনস্কি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে পিএসিই কর্মসূচি মূল্যায়ন করে গবেষণায় দেখা যায়, কর্মসূচিটি কার্যকর ও টেকসই ছিল। কারখানায় কর্মরত নারীরা এর মাধ্যমে সুফল পান।

‘শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্যও পিএসিই কল্যাণ বয়ে আনে। পাশাপাশি পোশাক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষ ও মেধাবী জনবল নিয়ে কাজ করতে সক্ষম হয়।’

২০১৩ সালে পিএসিই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করে গ্যাপ, কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যেন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর পাশাপাশি কিশোরীরাও এতে অংশ নিতে পারেন। গত বছরের শুরুর দিকে ১৭টি দেশের আট লাখেরও বেশি নারী-কিশোরী ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন।

২০২২ সালের মধ্যে পিএসিইতে ১০ লাখের মতো নারী ও কিশোরী অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে গ্যাপ।

আরও পড়ুন:
কর্মস্থলে জেন্ডার বৈষম্য কমানোর উপায় জানাল ডব্লিউইএফ

শেয়ার করুন