আগের চেয়ে সৃষ্টিশীল মেসি

আগের চেয়ে সৃষ্টিশীল মেসি

উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ডাবল ম্যান মার্কিংয়ের মুখোমুখি লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

প্রতি ম্যাচে তার ড্রিবল, ডুয়েল জেতা, সুযোগ তৈরির সংখ্যা বাড়ছে। দলের সৃষ্টিশীলতার কেন্দ্রে থাকছেন মেসি। উরুগুয়ের বিপক্ষেও দেখা গেছে মেসি প্রান্ত বদল করছেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে বের করে আনছেন, যেন বাড়তি জায়গা পান মার্তিনেস-গনসালেসরা।

কোপা আমেরিকা শুরুর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে সাবেক কলম্বিয়ান তারকা ফ্রেডি রিংকন বলেছিলেন, ‘মেসি আগের মতো নেই।’ রিংকন তাচ্ছিল্যের সুরে বললেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ দুই ম্যাচ ও কোপা আমেরিকার প্রথম দুই ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে মেসি আসলেই পালটে ফেলেছেন তার খেলা। আগের চেয়ে দলের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী বিশ্বসেরা এই ফুটবলার।

লিওনেল মেসি আগের মতো গোলের পর গোল করেন না। জাদুকরি ড্রিবলে ডিফেন্স লাইন চুরমার করে গোলকিপারকে বোকা বানান না। ফরোয়ার্ড লাইনের মূলেই তিনি নেই। সেই জায়গা নিয়েছেন লাউতারো মার্তিনেস, নিকোলাস গনসালেসের মতো তরুণরা।

২৪ জুন ৩৪ পূর্ণ করতে যাওয়া মেসি এখন থাকছেন প্লে-মেকারের ভূমিকায়। গোল করার চেয়ে গোল করানোতে মনোযোগ বেশি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। অন্তত জাতীয় দলের পরিসংখ্যান তাই বলছে।

উরুগুয়ে ম্যাচে মেসির পরিসংখ্যান

অ্যাসিস্ট – ১টি

টার্গেটে শট – ১টি

ড্রিবল করেছেন – ৯টি

সুযোগ তৈরি করেছেন – ৫টি

ডুয়েল জিতেছেন – ১৫টি

ফাউলের শিকার – ৫ বার

সঠিক পাস – ৮৫%

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ

উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও, প্রতি ম্যাচে তার ড্রিবল, ডুয়েল জেতা, সুযোগ তৈরি করার সংখ্যা একই থাকছে। অর্থাৎ দলের সৃষ্টিশীলতার কেন্দ্রে থাকছেন মেসি।

তরুণ বয়সের মতো গতি না থাকলেও উরুগুয়ের বিপক্ষে দেখা গেছে মেসি ক্রমাগত প্রান্ত বদল করছেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে বের করে আনছেন, যেন বাড়তি জায়গা পান মার্তিনেস-গনসালেসরা।

প্রতিপক্ষের কাছে বল হারিয়ে নিচে নেমে বলের দখল ফিরিয়ে নিচ্ছেন মেসি। বক্স টু বক্স মিডফিল্ড প্লে-র পাশাপাশি খেলছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। বর্তমান বিশ্বে এতোগুলো পজিশনে স্বচ্ছন্দ্যে খেলতে পারা ফুটবলার আর নেই।

আগের চেয়ে সৃষ্টিশীল মেসি
উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভের্দেকে ড্রিবলে পেছনে ফেলছেন লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ডেড বলে তার দক্ষতা। ফ্রি-কিকে বিশ্বের এক নম্বর তিনি এ কথা পরিসংখ্যানই বলছে। চিলির বিপক্ষে তার গোলটি ছিল তার ৫৭তম ফ্রি-কিক। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ।

নিন্দুকেরা যতোই বলুক ওপেন প্লে-তে মেসির গোল নেই দেড় বছর যাবত। কিন্তু একই সময়ে প্লে-মেকিং ও সৃষ্টিশীলতার দিক দিয়ে আর্জেন্টিনার নম্বর দশ যে অনন্য সেটা সাক্ষ্য দিচ্ছে পরিসংখ্যান।

মেসির অনবদ্য পারফর্মেন্স তাকে দিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার ও আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে স্বস্তির এক জয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্বীকার করলেন এই কথা। তিনি বলেন, ‘এই জয়টা আমাদেরকে শান্ত রাখবে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আজ দল দারুণ খেলেছে। সলিড পারফর্মেন্স ছিল।’

আগের তিন ড্র হওয়া ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচের পার্থক্য ছিল ফিনিশিং, এমনটা উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, ‘আগের ম্যাচের জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। আজকে ছেলেরা বাড়তি পরিশ্রম করে সুযোগটাকে গোলে পরিণত করেছে। আগের মতো হাতছাড়া করেনি।’

মেসি যেমন খেলছেন ও খেলাচ্ছেন দলকে, ফরোয়ার্ড লাইনে তাকে যদি সমর্থন দেন স্ট্রাইকাররা তাহলে এবারের কোপা আমেরিকায় আলবিসেলেস্তেরা যেতে পারে বহুদূর।

আরও পড়ুন:
মেসির ঝলকে স্বস্তির জয় আর্জেন্টিনার
কোপায় আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ উরুগুয়ে
মেসি-সুয়ারেস বন্ধুত্বে ইতিহাসের দেয়াল

শেয়ার করুন

মন্তব্য