কত গুলি ছুড়েছে ইউএনও বাংলোর আনসার?

কত গুলি ছুড়েছে ইউএনও বাংলোর আনসার?

বরিশাল সদরের ইউএনওর বাসবভনে হামলা নিয়ে সরকার দলীয় নেতা-কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আমমার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার রাতের ঘটনাটি ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়, এটি অনেক বড় ঘটনা। ফলে ওই ঘটনা নিয়ে তৎজলদি মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চেষ্টার সময় আনসার সদস্যরা কত রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন তার হিসাব মেলেনি পাঁচ দিনেও। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হলেও আনসার সদস্যদের গুলির হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কেউ।

আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলিতে সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ, প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনসহ ৩০ জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুলিতে চোখ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা। মামলা হয়েছে মেয়রসহ ৬০২ জনের বিরুদ্ধে। তবে এখন পর্যন্ত গুলির হিসাব পাওয়া যায়নি।

বরিশাল আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আমমার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার রাতের ঘটনাটি ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়, এটি অনেক বড় ঘটনা। ফলে ওই ঘটনা নিয়ে তৎজলদি মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর পরই একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সোমবার বিকেলের মধ্যে ওই কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা ছিল। তবে কাজ শেষ করতে না পারায় তারা আজ প্রতিবেদন জমা দেননি।

‘তদন্ত কমিটি জানিয়েছে আরও দুই দিন তাদের সময় লাগবে। আনসার সদস্যরা কত রাউন্ড গুলি করেছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। আনসার সদস্যরা কার নির্দেশে গুলি ছুড়েছিল-এসব বিষয় স্পষ্ট হতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

কত গুলি ছুড়েছে ইউএনও বাংলোর আনসার?
সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বরিশালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি জানান, ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজন আনসার সদস্য এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ফারুক গাজীর পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত আরেক আনসার সদস্য মাহতাব বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সদস্যরা এক রাউন্ড গুলিও করেননি।’

শোক দিবসের ব্যানার অপসারণের জেরে সিটি করপোরেশন ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (ইউএনও) আনসার বাহিনী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয় বুধবার মধ্যরাতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বুধবার রাতে শোক দিব‌সের ব্যানার খুলতে যান ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশনের কর্মচারীরা। এ সময় ব্যানার খোলার কারণ জানা নিয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমানের সঙ্গে সি‌টির প্রশাস‌নিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা-কাটাকা‌টি হয়।

প্রশাস‌নিক কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা আওয়ামী লী‌গের নেতা-কর্মীরা ওই সময় ইউএনওর সঙ্গে বিবাদে জ‌ড়িয়ে পড়েন। পরে সেখানে উপ‌স্থিত আনসার‌ সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হলে উপ‌স্থিত আওয়ামী লী‌গ, যুবলীগ ও ছাত্রলী‌গের নেতা-কর্মীরা ইউএনওর বাসায় হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় আনসার সদস্যরা গু‌লি ছুড়লে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ চারজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবলীগ নেতা শাহ‌রিয়ার বাবু, হারুন অর র‌শিদ ও তানভীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভ‌র্তি করা হয়।

সংঘর্ষের পর ইউএনও কার্যালয়ের সামনে পু‌লিশ অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ফের ইউএনওর বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন।

এ সময় পু‌লিশ ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মী‌দের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার পর থেকে চার দিন থমথমে অবস্থা ছিল বরিশাল নগরীতে।

তবে রোববার রাতে বরিশালের পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদ‌লের বৈঠক শেষে জানানো হয়, এ ঘটনা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ থেকে হয়েছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১১ ‘জঙ্গি’কে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ

১১ ‘জঙ্গি’কে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে মঙ্গলবার আদালতে আনা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অভিযান চালিয়ে ৪৫ জন আটক করে।

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আলাদা মেয়াদে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

১১ জনের মধ্যে ছয় জনকে এক দিন করে, পাঁচ জনকে দুই দিন করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে দিনাজপুরের তিনটি আলাদা আদালতের বিচারক।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শুনানি হয়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দিনাজপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

তিনি জানান, জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-১-এর বিচারক ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জেল গেটে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

তারা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, রাজধানীর মিরপুর-১২-এর সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল ও মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইওনিয়ার হাউজিং কলোনির নাফিস হাবিব, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মহসিন ভুঁইয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৪-এর বিচারক শিশির কুমার বসু তিনজনকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর দৌলাপাড়ার ওয়াহেদুজ্জামান, একই জেলার কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার সজল ওরফে সাব্বির আহমেদ।

অন্যদিকে বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৩-এর বিচারক শারমিন আক্তার তিন আসামিকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

তারা হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, রাজধানীর শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের জুনায়েদ খান এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বরুয়াদৌলা গ্রামের হুমায়ুন কবির।

পরিদর্শ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে আসামিদের আলাদা মেয়াদে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত।

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জন আটক হয়।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় মামলা করা হয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মানববন্ধন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা লাঘবে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশের সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এমন চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার সচিবালয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল-বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে, সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, ‘সরকার অবশ্যই যেকোনো কারণে হিসাব তলব করতে পারে, ব্যাংক হিসাবও তলব করতে পারে। তবে আমি মনে করি, এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, তাদের আমি চিনিও জানি। তাদের অনেকের আর্থিক অবস্থাও আমি জ্ঞাত।’

বিষয়টি নিয়ে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান ফখরুল।

তার পরদিনই এ প্রসঙ্গে কথা বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধপ্রবাহে বিশ্বাসী। করোনাকালে কিংবা আগে পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সুখে-দুঃখে জননেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় পাশে ছিলেন, আছেন।’

বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অন্ধকারসম ছিল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘অসংখ্য সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন তখন। যাদের হাত সাংবাদিকদের রক্তে রঞ্জিত, আজ তারা সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না করছে।’

বিএনপি মহাসচিব সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নিপীড়নের মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে বিএনপির কুম্ভীরাশ্রু প্রদর্শন মাছের মায়ের পুত্র শোকের মতো।’

বিএনপি কখনও অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতার।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করে অবাধ গুজবের প্রবাহে। তারা বিশ্বাস করে অবাধ অপপ্রচারে। কোনোভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পেরে, দেশ-বিদেশে অর্থ বিনিয়োগ করে সরকার এবং দেশের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাব্বির ওরফে হাতকাটা স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক খান, আফজাল হোসেন ও আক্তার হোসেন। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের ৬৯ ভরি।

জব্দ করা হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জের চিতলিয়া বাজারের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, আনুমানিক ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ লাখ টাকা ডাকাতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ এক দোকানের মালিক রিপন বণিক মুন্সিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৮ থেকে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুরের ধর্মীয় নেতাদের দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

‘শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের’ কথা বলে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিমান্ডে রয়েছেন পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই।

তবে তাদের পক্ষে মাঠপর্যায় থেকে টাকা তুলে এখন বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

এসব ধর্মীয় নেতার দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

ইসলামি বিনিয়োগ ব্যবহারের আগে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তারের পর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নানা আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা। প্রথমে এহসান গ্রুপের কার্যালয়ে গেলেও এখন তারা ছুটছেন তাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে।

এর মধ্যে টাকার শোকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আজিজ মাঝি নামের ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি পাঁচ মেয়ে ও স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা এহসান গ্রুপের ফান্ডে জমা করেন। তার সন্তানরা ক্ষুদ্র ব্যবসা এমনকি গৃহপরিচারিকার কাজ করে বাবার কাছে এ টাকা দেন।

অভিযোগ, এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপক পরিচালক রাগীব আহসান গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আজিজ মাঝির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। আজিজ মাঝির মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস আমার বাবাকে ধর্ম ও কোরআনের কথা বলে মন নরম করে আমাদের জমানো ৩০ লাখ টাকা জমা নেয়।

‘কথা ছিল, জমিজমার ব্যবসা করে সুদমুক্ত লাভ দেবে। তবে কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দেন নাই। এরপর টাকার চিন্তায় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কয়েকবার রাগীব আহসানের কাছে যাই। চিকিৎসার জন্য হলেও কিছু টাকা ফেরত চাই, কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোক করে মারা যান।’

ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ধর্মীয় নেতা ও মসজিদের ইমামদের কথায় বিশ্বাস করে এ এলাকার জেলে, দিনমজুর, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ প্রায় প্রত্যেক পরিবার থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এহসান গ্রুপ।

গ্রাহকদের দাবি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন মূলত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা। এহসান গ্রুপের টাকা তুলে এখন তারা পড়েছেন তোপের মুখে। তারা জানান, তাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেও তারা এখন ভয় পাচ্ছেন।

ইন্দুরকানী উপজেলা থেকেই ৬০০ গ্রাহকের টাকা জমা নিয়েছিলেন ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বুঝতেই পারিনি এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ফাঁদ। বারবার বোঝানো সত্ত্বেও রাগীব আহসান আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।

‘গরিব মানুষজন বিশ্বাস করে আমাদের হাতে টাকা গচ্ছিত রেখেছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমাদের ১০০ জন মাঠকর্মীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান জানান, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (অপরাধ প্রশাসন) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি গ্রাহকরা সুবিচার পাবেন।’

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

হত্যা মামলার আসামি নুরুল আমিন মোর্শেদকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ভাড়া ১০ টাকা বেশি চাওয়ায় এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বেনাপোল পৌর এলাকার হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে রোববার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল বন্দর থানার পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নুরুল আমিন মোর্শেদ। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী গনিপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গনিপুর গ্রামে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন নুরুল আমিন।

নিহত রিকশাচালকের আবুল হোসেন গনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।

ওসি মামুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী রেলস্টেশন থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নুরুল আমিনকে গনিপুর গ্রামে নিয়ে যান আবুল হোসেন। এ সময় নুরুলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে আবুলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ১০ টাকা ভাড়া বেশি চাওয়ায় বাড়ি থেকে দা এনে রিকশাচালকের গলায় কুপিয়ে আহত করেন যাত্রী। এতে তার গলার শ্বাসনালির কিছু অংশ কেটে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম রিকশাচালককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

ময়মনসিংহে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ময়মনসিংহ সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিমের ১ নম্বর আমলি আদালতে রোববার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে আদালতের অতিরিক্ত বিচারক আবদুল হাই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আদালত পরিদর্শক প্রসূণ কান্তি দাস।

সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আজিজুল হক, মো.সারোয়ার, মো. আবুল কালাম ও মো. মঞ্জু।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ঘটনার পরপরই সুমাইয়ার বড় ভাই আলী আকবর ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের আলী আকবর এবং আজিজুল হকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই দুই পরিবারের বসার কথা থাকলেও আজিজুল হক ও তার লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

একপর্যায়ে আজিজুল ও তার লোকজন সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে আলী আকবরের বোন সুমাইয়ার মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত ঘটনায় নারীর ওপর হামলার ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। মেয়েটি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।’

ওসি জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন ইউএনও, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্কুলের টয়লেটে বাকশক্তিহীন ছাত্রীর আটকে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান তাহমিনা বেগম রোববার দুপুর ১টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে আমরা আবারও সবার সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

এর আগে এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আয়া শাহানারা বেগমকে। তবে তিনি আগের মতোই স্কুলের কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলসুম ও আবু হানিফ ভূইয়া।

টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শনিবার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান উল্যাহ চৌধুরী।

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

বরখাস্ত আয়া স্কুলে কীভাবে কাজ করেন এই প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে একজন দপ্তরি ও একজন আয়া। এখন তারা না থাকলে বিদ্যালয়ের যে কাজকর্ম রয়েছে তা কীভাবে হবে? আয়া তার কাজ করলেও হাজিরা খাতায় তার সই দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের টয়লেটে ছাত্রী থাকাবস্থায় তালাবন্ধ করা, স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা ও বাকশক্তিহীন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা না করায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব জমা দিতে হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী বাকশক্তিহীন ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে গেলে তালাবন্ধ করে চলে যান বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার। ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১০টার দিকে টয়লেটের তালা ভেঙে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন:
প্রশাসন-মেয়র সমঝোতায় বরিশালে স্বস্তি
বরিশালে যা কিছু সব ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
বরিশালের ইউএনওর নামে ২ মামলার আবেদন, তদন্তে পিবিআই

শেয়ার করুন