× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

ফ্যাক্ট চেক
What happened at Buffs press conference?
google_news print-icon

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে

সাফ
সংবাদ সম্মেলনে সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনার দাঁড়িয়ে থাকার এ ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাফুফে কার্যালয়ে সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে চলছে বিতর্ক। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।  

সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলের ঢাকায় ফেরার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি ও ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও হেড কোচকে পেছনে দাঁড় করিয়ে রেখে চেয়ারে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাফুফে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে খেলোয়াড়দের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রতিবেদন প্রচার করেছে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানাচ্ছেন ফুটবল সমর্থক ও সংগঠকরা। তাদের অভিযোগ জাতীয় তারকাদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।

সাফ বিজয়ীরা বাফুফে কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর থেকে সংবাদ সম্মেলন পুরোটা সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক কাজী নাহিয়ান আরেফীন ও নাজিবুর রহমান নাঈম।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও সর্বডানে হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: নিউজবাংলা

নেপাল থেকে সাফের শিরোপা নিয়ে বুধবার জাতীয় দল যখন বাফুফে ভবনে পৌঁছায় সময় তখন ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে ৭টা। এরপর হয় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের শুরুতেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ফুটবল সমর্থক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেকাতে হিমশিম খাওয়া বাফুফের নিরাপত্তা কর্মীরা সাংবাদিকদেরও নির্ধারিত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন।

শেষ পর্যন্ত ৮টা ৪০ মিনিটে সংবাদকর্মীরা প্রবেশ করেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। দীর্ঘ শোভাযাত্রার ক্লান্তিজনিত কারণে এই কক্ষে সাফজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই ছিলেন অনুপস্থিত। বিশ্রাম নিতে তারা চলে যান ডরমেটরিতে। সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনসহ উপস্থিত ছিলেন দলের তিন-চার জন সদস্য।

শুরুতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাফজয়ী দলের অধিনায়ক ও কোচ চেয়ারে বসেছিলেন। সেখানে বসেই বক্তব্য দেন দুজন। এরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফে সভাপতি সাফের ট্রফি তুলে দেন সাবিনার হাতে।

এ সময় টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে সাবিনা ও রাব্বানী টেবিলের মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। পরে তারা পেছনে সরে একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনকার ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।

সাবিনা ও রাব্বানী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার পর অনুষ্ঠানের অতিথি ও কর্মকর্তাও বক্তব্য দেন।

বুধবার রাতের সংবাদ সম্মেলনটি কাভার করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা জয়। তিনি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন (বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত), ‘বলা হচ্ছে কৃষ্ণা, সাবিনা ও সানজিদা বা মারিয়ারা সেখানে বসার জায়গা পাননি৷ বসতে পারেননি কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনও৷ আদতে ঘটনা ওইরকম নয়৷ সংবাদ সম্মেলনের পোর্ডিয়ামের ঠিক পাশে সোফায় বসে নোট নিয়েছি। আমার ঠিক সামনে বসেছিলেন ছোটন ভাই। কৃষ্ণা, সাবিনা, সিরাত ও মারিয়ারা এসেছিলেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাই বসেছিলেন চেয়ারে। বাকিরা বসতে চায়নি৷

‘বাফুফে ভবনের তিন তলায় কনফারেন্স রুমটা খুব ছোট। এসি চলে না৷ মারিয়া এসেই বললো, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাকে দ্রুত চলে যেতে বলি, কৃষ্ণাও চলে যায়৷ ওই ছোট রুমে আজ সব মিডিয়াকর্মীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাইকে রিকোয়েস্ট করা হলো তারা যেন আসন ছেড়ে মাঝে এসে কথা বলেন। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসনরা বলেছেন, তাদের সুবিধা হয়। সাবিনা ও ছোটন ভাই তাই দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন।’

অন্যদিকে, বাফুফের দাবি খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো ধরনের অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী এবং সাংবাদিকদের অনুরোধে জায়গা বদল করেছেন খেলোয়াড় ও কোচ।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নারী দলের হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: সংগৃহীত

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই ছিলাম। পরিস্থিতি কী ছিল সেটা দেখেন। মন্ত্রী মহোদয় এসেছেন। তারা বসে ছিলেন। সাবিনাও বসা ছিল। সাবিনা সিট ছেড়ে হেড কোচকে জায়গা করে দিয়েছে সেটাও আপনাদের (সাংবাদিকদের) অনুরোধে। আপনারাই বলেছিলেন, হেড কোচ দূরে বসেছেন, তাকে এখানে নিয়ে আসলে ক্যামেরায় পেতে সুবিধা হবে। আপনাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তেমনটাই করা হয়েছে।

‘আমরাও বিষয়গুলো বুঝি যে, অনেক সময় অনেক কিছু হয়ে যায়। তবে আমি অনুরোধ করব আমরা যে একটা দারুণ একটা ফ্লো-র মধ্যে রয়েছি সেটা যেন ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’

বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

এতে দেখা যাচ্ছে, সাবিনা ও হেড কোচ দুজনে চেয়ারে বসেই বক্তব্য দিচ্ছেন।

সাবিনা লিখেছেন, ‘বিষয়গুলোকে নেতিবাচক হিসেবে নেবেন না। এসব নেতিবাচক বিষয় সামনে এনে আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটিকে নষ্ট করবেন না। সবাই ইতিবাচক হওয়ার চেষ্টা করি ও উপভোগ করি। আমার এটুকুই বলার ছিল। সবার প্রতি ভালোবাসা।’

আরও পড়ুন:
মনে হয় শেখ হাসিনা ক্যাপ্টেন ছিলেন: মান্না
খেলোয়াড়দের চুরি যাওয়া টাকা দেবে বাফুফে
তালাবদ্ধ অক্ষত লাগেজ দেয়া হয়েছে: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

আরও পড়ুন

ফ্যাক্ট চেক
Stay at the engineers house to get wifes rights

স্ত্রীর অধিকার পেতে প্রকৌশলীর বাড়িতে অবস্থান

স্ত্রীর অধিকার পেতে প্রকৌশলীর বাড়িতে অবস্থান স্ত্রীর অধিকার দাবিতে কোটালীপাড়ায় এক প্রকৌশলীর বাড়িতে এক নারীর অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা
ওই নারী বলেন, ‘২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর আমার সঙ্গে প্রকৌশলী আহাদ মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঢাকায় বসবাস করতে থাকি। এ খবর দুই পরিবারে জানাজানি হলে ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুনরায় সামাজিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু সে এখন কোনো যোগাযোগ রাখছে না। এজন্য স্ত্রীর অধিকার পেতে এখানে এসেছি।’

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় স্ত্রীর দাবি নিয়ে আহাদ মোল্লা নামে এক প্রকৌশলীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক নারী। স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে এখানেই আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত আহাদ মোল্লা কোটালীপাড়া উপজেলার সিতাইকুন্ড গ্রামের মোস্তফা মোল্লার ছেলে। তিনি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রকৌশলী বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে ওই নারী প্রকৌশলী আহাদ মোল্লার বাড়ির উঠোনে একটি গাছের নিচে অবস্থান নিয়েছেন।

ওই নারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর আমার সঙ্গে প্রকৌশলী আহাদ মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঢাকায় বসবাস করতে থাকি। এ খবর দুই পরিবারে জানাজানি হলে ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুনরায় সামাজিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়।

‘কিন্তু দ্বিতীয়বার বিয়ের কিছুদিন পর হঠাৎ করে আহাদ আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে সে কোনো যোগাযোগ করছে না। নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর দাবি নিয়ে আহাদের বাড়িতে এসে উঠেছি। সে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে এ বাড়িতেই আত্মহত্যা করব।’

এদিকে ওই নারী বাড়িতে এসে ওঠার খবর পেয়ে প্রকৌশলী আহাদ মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে যান।

প্রতিবেশী নেয়ামুল ফকির ও খলিল শেখ বলেন, ‘আহাদ মোল্লার সঙ্গে ওই নারীর সামাজিকভাবে যে বিয়ে হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। বিয়ের পর আহাদ মোল্লা তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করত। এখন তাদের মাঝে কী হয়েছে তা আমাদের জানা নেই।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আহাদ মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। আর আহাদ মোল্লা ঢাকায় থাকায় তার সঙ্গে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Rape victim abducted from Khumek hospital rescued in Jessore

খুমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত ‘ধর্ষণের শিকার’ তরুণী যশোরে উদ্ধার

খুমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত ‘ধর্ষণের শিকার’ তরুণী যশোরে উদ্ধার
ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা ওই তরুণীকে রোববার বিকেলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপহরণ করা হয়। তাকে যশোরের কেশবপুর থেকে উদ্ধারের পর রাত ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে এজাজ আহমেদের ভাইকে আটক করে পুলিশ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল থেকে অপহরণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে তাকে যশোরের কেশবপুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই তরুণীকে থানায় নিয়ে এসে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

ভুক্তভোগী তরুণী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি ছিলেন। রোববার বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালের ওসিসি থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

ওই তরুণী ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন।

ওই তরুণীকে উদ্ধারের আগে অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুজ্জামানকে পুলিশ আটক করে। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের চাচাতো ভাই।

তরুণীকে অপহরণের সময় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

সংস্থাটির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওসিসির সামনে আগে থেকে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ১০ থেকে ১২ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ওই তরুণী ছাড়পত্র নিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসটিতে তুলে নেয়া হয়।

‘ওই সময়ে আমাদের দলের সদস্যদের মারধর করা হয়। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুজ্জামান তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ওই তরুণী আইনি সহায়তার জন্য থানায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়।’

মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে যদি একজন ভিকটিম এসে নিরাপত্তা না পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? একজন প্রভাবশালী ধর্ষণ করবে, আর ভিকটিমকে থানা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এভাবে অপহরণ করে নেয়া হল, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ কী?’

ওই তরুণীকে শনিবার রাত সোয়া ১১টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছিল। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ডুমুরিয়ার শাহপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

ওই তরুণীর ভাই বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ। তখন আমার বোন বিয়ের দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আমার বোনকে সে তাড়িয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘মধুগ্রাম কলেজ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় পাশাপাশি অবস্থিত। আমার বোন কলেজের ছাত্রী হওয়ায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কয়েক বছর ধরে আমার বোনকে ধর্ষণ করে আসছে।

‘বোন ৬ মাস আগে আমাকে ঘটনা খুলে বলে। তবে আমরা সম্মানের ভয়ে কাউকে বলিনি। এখন চেয়ারম্যান বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। আমার বোনও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা এখন আইনি ব্যবস্থা নিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৫৮ বছরের প্রৌঢ় আটক
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা: পুলিশ
তরুণী অন্তঃসত্ত্বা, দুই লাখে প্রেমিককে রেহাই দিলেন ইউপি সদস্য
শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আটক
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করানোর নামে ভাগ্নিকে ধর্ষণ, মামা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Two mothers die every hour in Gaza UN

গাজায় প্রতি ঘণ্টায় দুজন মায়ের প্রাণহানি: জাতিসংঘ

গাজায় প্রতি ঘণ্টায় দুজন মায়ের প্রাণহানি: জাতিসংঘ গাজার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংগ্রহ করছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: ইউএনআরডব্লিউএ
ইউএন উইমেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয় ২৪ হাজার ৬২০ ফিলিস্তিনি, যাদের ৭০ শতাংশই নারী কিংবা শিশু।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে প্রত্যেক ঘণ্টায় দুজন করে মা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে ইউএন উইমেনের শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের আওতাধীন ইউএন উইমেন।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয় ২৪ হাজার ৬২০ ফিলিস্তিনি, যাদের ৭০ শতাংশই নারী কিংবা শিশু।

এতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার মোট জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ তথা ১৯ লাখ মানুষ। ইউএন উইমেনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার মোট জনসংখ্যা ২২ লাখের মতো, যারা তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

গাজায় প্রাণহানির ব্যাপকতা তুলে ধরতে গিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস বলেন, ‘এরা মানুষ, সংখ্যা নয় এবং আমরা তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছি।’

ইউএন উইমেন গাজার নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, জড়িতদের দায়ী করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও সহায়তা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র চান না নেতানিয়াহু
গাজা ছাড়লেন আল জাজিরার ব্যুরো চিফ
ইসরায়েলি বন্দিদের ভিডিও প্রচার করে হামাস বলল, পরিণতিও জানানো হবে
গাজা যুদ্ধের ১০০ দিন: দেশে দেশে বিক্ষোভ
গাজায় ইসরায়েলের হামলা ৪ ঘণ্টা স্থগিত

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
UP chairman who won the boat symbol says women leadership is forbidden

‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ বললেন নৌকা প্রতীকে বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান

‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ বললেন নৌকা প্রতীকে বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনী প্রচারে নারী বিদ্বেষী কথা বলে আলোচনায় মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ একরাম ইজারাদার। কোলাজ: নিউজবাংলা
ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান একরাম বলছেন, ‘আমরা গজবের ভিতর নিয়োজিত আছি এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। জনগণের কোনো শান্তি নেই, সুখ নেই; কারণ নারী নেতৃত্ব হারাম। আমরা নারী নেতৃত্বের অধীনে এখানে রয়েছি।’

বাগেরহাটের মোংলায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে নারী নেতৃত্বকে হারাম বলে আলোচনায় এসেছেন উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ একরাম ইজারাদার।

সম্প্রতি একটি নির্বাচনি জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যটির সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাস।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান একরাম বলছেন, ‘আমরা গজবের ভিতর নিয়োজিত আছি এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। জনগণের কোনো শান্তি নেই, সুখ নেই; কারণ নারী নেতৃত্ব হারাম। আমরা নারী নেতৃত্বের অধীনে এখানে রয়েছি।

‘আমাদের ভোটটা হাবিবুন নাহারকে দিয়ে আমরা দুইবার তাকে প্রতিষ্ঠিত করছি। তাই আমাদের এখানে কোনো সুখ-শান্তি অবস্থান করে নাই। যেটা সত্য কথা, সেটা আপনাদের এখানে আমি বলে গেলাম। উনি একজন নারী; রাজনীতি, সমাজনীতির তিনি বোঝেন কী?’

মোংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বক্তব্যটি শুনেছি। বক্তব্যটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

বিতর্কিত বক্তব্য দেয়া চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদার বলেন, ‘মূলত আওয়ামী লীগ বা নৌকা প্রতীককে উদ্দেশ্য করে আমি এসব কথা বলিনি। জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি এসব কথা বলেছি।

‘এ ছাড়া উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বিভিন্ন সময় তার বরাদ্দ থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছেন। যার কারণে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ইদ্রিস আলী ইজারাদারের নির্বাচন করছি।’

উল্লেখ্য, মোংলা-রামপাল নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ আসনে এবার সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী হাবিবুন নাহারের সঙ্গে নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইদ্রিস আলী ইজারাদারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মামাত-ফুফাত ভাই-বোনের মনোনয়ন লড়াই শেষ, এবার ভোটের লড়াই
৬২ জেলায় প্রস্তুত সেনা, প্রয়োজনে উড়বে বিমানও
ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন কাউন্সিলর মানিক
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেয়া যাবে না: ইসি আনিছুর
ঈগলকে কাউয়া বলে কটাক্ষ, ক্ষমা চাইলেন নৌকার প্রার্থী দারা

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Government is working on empowering women Prime Minister

নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই। রাজনীতি থেকে খেলাধুলা সবক্ষেত্রে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। সাংবাদিকতা থেকে শিল্পকলা সবখানেই নারীরা সফল। প্রশাসন, বিচারালয়, সশস্ত্র বাহিনীসহ সব জায়গায় কাজ করছেন তারা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পাঁচ বিশিষ্ট নারী ও তাদের স্বজনদের হাতে পদক তুলে দেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ইসলাম ধর্মের কথা বলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই। রাজনীতি থেকে খেলাধুলা সবক্ষেত্রে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। সাংবাদিকতা থেকে শিল্পকলা সবখানেই নারীরা সফল। প্রশাসন, বিচারালয়, সশস্ত্র বাহিনীসহ সব জায়গায় কাজ করছেন তারা।’

পাকিস্তান আমলের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আইন ছিল জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশে জাতির পিতা এ আইনগুলো পরিবর্তন করেন। তারপর থেকে আমাদের দেশের মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিতে পারছে, কিন্তু আমি সরকারের এসে দেখি আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো নারী বিচারক নেই।

‘তখন আমি উদ্যোগ নিলাম, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বলেছি, উচ্চ আদালতে কোনো জজ নিয়োগ দেয়া হলে তাতে যদি কোনো নারী জজের নাম না থাকে, আমি কখনও ওই ফাইল সই করব না, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব না। সেই থেকে যাত্রা শুরু।’

ওই সময় একটি আফসোসের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘একটা আফসোস রয়ে গেছে আমার। খুব ইচ্ছা ছিল একজন নারীকে আমি প্রধান বিচারপতি করে যাব, কিন্তু আমাদের সমাজে এত বেশি কনজারভেটিভ, এগুলো ভাঙতে সময় লাগে। সে জন্য করতে পারিনি। এ আফসোসটা থেকে গেল।’

তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার সময় মুসলমান মেয়েরা ঘরে অবরুদ্ধ থাকত। লেখাপড়ার কোনো সুযোগ ছিল না, তবে তার স্বামী সবসময় তাকে সহযোগিতা করেছেন, তার ভাই তাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় উর্দু, বাংলা, আরবি, ইংরেজি, শিক্ষা যেগুলো গ্রহণ করা, সেগুলো তার স্বামীর কাছ থেকে শিখেছেন। স্বামীর কাছে আক্ষরিক জ্ঞান এবং বই পড়ার শিক্ষা গ্রহণ করেন।

‘স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি (বেগম রোকেয়া) তার ভাইয়ের কাছ থেকেও একটি অনুপ্রেরণা পান। তার স্বামীর নামে একটি স্কুল তৈরি করেন। স্কুল তৈরির পরও তাকে অনেক বাধাবিপত্তি মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, স্বামীর নামে যে স্কুল করেছিলেন, সেখানে ছাত্রী পড়ানো যেত না। তিনি নিজের বাড়ির বাইরে গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন। এটা করতে গিয়ে অনেক পরিবারের বাধা এবং অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। তিনি দমে যাননি কখনও। তার সাহসী ভূমিকা সবসময় আমরা স্মরণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল; বিজয় অর্জন করেছিল। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অনেক অবদান আছে।

‘তারা যেমন ট্রেনিংয়ে গেছে, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছে। তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নানা নির্যাতনের শিকার হন। অনেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই নারী স্বাবলম্বী হোক। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান সুদৃঢ় হয়। সব জায়গায় তার কথার মূল্যায়ন হয়। আমরা বলতে পারি, এরই মধ্যে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন অনেকাংশে পূরণ করতে পেরেছি।’

মায়ের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বাবা বেশির ভাগ সময় জেলে ছিলেন। সংসার চালানো, দল সুসংগঠিত করাসহ সব কাজই আমার মা করেছেন।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ নারীকে বেগম রোকেয়া পদক দেন। পদকপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণের একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, প্রত্যেককে চার লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।

আরও পড়ুন:
‘আমার ভোট আমি দেব’ স্লোগান আমরাই তুলেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী
টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর
সৌদির সঙ্গে কনসেশন চুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র জোরদার করবে: প্রধানমন্ত্রী
ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ৪৬তম শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন বৃহস্পতিবার

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Sheikh Hasina is 46th in Forbes list of top powerful women

ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ৪৬তম শেখ হাসিনা

ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ৪৬তম শেখ হাসিনা কাতার ইকনোমিক ফোরামে চলতি বছরের ২৪ মে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ব্লুমবার্গ
ফোর্বসে প্রধানমন্ত্রীর প্রোফাইলে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী, যিনি বর্তমানে তার চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৪৬তম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাময়িকীটি মঙ্গলবার এ তালিকা প্রকাশ করে, যাতে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুল ভন দার লিয়েন।

তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

ফোর্বসের তালিকায় চতুর্থ থেকে দশম অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফট, সিভিএসের সিইও কারেন লিঞ্চ, সিটি গ্রুপের সিইও জেন ফ্র্যাজার, ফিডেলিটির চেয়ারম্যান ও সিইও আবিগালি জনসন, জেনারেল মোটরসের সিইও মেরি বারা ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার মেলিন্ডা গেটস।

ফোর্বস ২০০৪ সাল থেকে শীর্ষ ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করে আসছে। এ তালিকায় স্থান পাওয়া নারীদের দৃশ্যমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আমলে নেয়া হয়।

সাময়িকীটির তালিকায় ৩২তম স্থানে রয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এতে ৪৬তম অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তালিকায় যিনি পড়েছেন পলিটিকস অ্যান্ড পলিসি ক্যাটাগরিতে।

ফোর্বসে প্রধানমন্ত্রীর প্রোফাইলে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী, যিনি বর্তমানে তার চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শেখ হাসিনার সঙ্গে দুটি ইসলামিক দলের নেতাদের বৈঠক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৫ পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমি ব্যবহারে উপজেলায় মহাপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ক্ষমতার জন্য বাইরের চোখ রাঙানি সহ্য করব না: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Kubirs girls are not behind in sports

ক্রীড়ায় পিছিয়ে নেই কুবির মেয়েরা

ক্রীড়ায় পিছিয়ে নেই কুবির মেয়েরা বর্তমানে কুবির মেয়েরা ক্রিকেট, ভলি বল, ব্যাডমিন্টনের মত বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করছে। ছবি: নিউজবাংলা
ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ছেলেদের পাশাপাশি খেলাধুলায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশের নারীরাও। এখন খেলাধুলায় আমাদের মেয়েরা ভালো করছে। বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে মেয়েরাও খেলাধুলায় উৎসাহিত হয়ে আন্তঃবিভাগ ও হল কেদ্রিক বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহন করছে। ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের মেয়েরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সর্বত্তে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা কোনো অংশেই কম নয়। ক্রীড়া আঙ্গিনায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে। অর্থাৎ শঙ্খচিলের মতো বিশ্বের বুকে নিজেদেরকে মেলে ধরেছে নারীরা।

আর এ ক্ষেত্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার্থীরাও কোনো দিক থেকে পিছিয়ে নেই। পরীক্ষার খাতায় যেমন নিজেদেরকে প্রথম তালিকায় রেখেছেন, ঠিক তেমনি ক্রীড়া আঙ্গিনায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন কুবির নারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে উৎসাহী করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ আগ্রহী করতে ব্যাডমিন্টন, কারাম, ভলি বল, ক্রিকেট-ফুটবল সহ নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ক্লাব।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা হল ও নবান ফয়জুন্নেছা হলে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্টগুলোতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহী করতে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করায় ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ দেয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও খেলাধুলায় আগ্রহী হচ্ছে।

ক্রীড়ায় পিছিয়ে নেই কুবির মেয়েরা

মেয়েরা ক্রিকেট, ভলি বল, ব্যাডমিন্টনের মত বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিম আবিদা নৌশিন বলেন, ‘আমরা সাধারণত দেখি মেয়েরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কম করে, স্পোর্টস স্কলারশিপ দিয়ে এই আগ্রহের জায়গাটা মেয়েদের মাঝে আরও প্রবল হয়েছে। আশা করা যায় সামনের দিনগুলোয় এই প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। আরও অনেক মেয়ে নিজ প্যাশন থেকে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করতে চাইবে।’

সম্প্রতি ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ পাওয়া চৈতি চাকমা বলেন, ‘খেলাধুলায় মেয়েদের আগ্রহী করতে বিভিন্ন খেলার টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি ভাইস চ্যান্সেলর স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রদানেরও উদ্যোগ নিয়েছেন উপাচার্য তথা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করি।’

ক্রীড়া কমিটির নারী সদস্য রেইজওয়ানা আফরিন রূম্পা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই প্রথম মেয়েদের খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। সবগুলো বিভাগ থেকে মেয়েদের ডাকা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি আমাদের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও খেলাধুলায় এগিয়ে যাক। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আশা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও এগিয়ে যাবে।’

ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ছেলেদের পাশাপাশি খেলাধুলায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশের নারীরাও। এখন খেলাধুলায় আমাদের মেয়েরা ভালো করছে। বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে মেয়েরাও খেলাধুলায় উৎসাহিত হয়ে আন্তঃবিভাগ ও হল কেদ্রিক বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহন করছে। ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের মেয়েরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আরও পড়ুন:
কুবির দুই স্কলারশিপের তালিকা স্থগিত
স্ত্রীর অভিযোগে শিক্ষককে ক্লাস-প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক সংকটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
নয় মাসেও কমিটি নেই কুবি ছাত্রলীগের
বিনা ছুটিতে সাত মাস ফ্রান্সে, বরখাস্ত কুবির অফিস সহকারী

মন্তব্য

p
উপরে